তোলাবাজির খপ্পরে

আপনার বাগান থাকতেই পারে। সেই বাগানে আপনি ফুলের নার্সারি করুন কি সবজী চাষ করুন। ভালো কথা। বাগান পরিচর্যার উদ্দেশে আপনাকে নিজের বাগানে নিজের পয়সায় কেনা মাটিও ফেলতে হতেই পারে। যত খুশি মাটি ফেলুন। তাতে কে বাধা দিচ্ছে? কিন্তু তাই বলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের দাবি মতো দুলক্ষ টাকা তোলা দেবেন না! এ কেমন কথা? মগের মুলুক নাকি? বাগান আপনার হতে পারে। সেই বাগানে মাটি কেনার প্রয়োজনও আপনার হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে আপনি হাজার হাজার টাকার মাটি কিনবেন। আর লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা দেবেন না সেটা হয় কোন যুক্তিতে। আপনার বাগানটা আপনার। কিন্তু তাই বলে যে অঞ্চলে আপনার বাগান কিংবা বসত। সেই অঞ্চলটা তো আর আপনার বাপের সম্পত্তি নয়! সেই অঞ্চলের একটি নির্বাচিত পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ড রয়েছে। সেই পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ড যাদের দখলে। তাদের মর্জির তো একটা দাম রয়েছে। আপনি একতলা বাড়ির মাথায় দোতলা তুলবেন কিংবা বাগানে ফুলের চাষ করার জন্য মাটি কিনে ফেলবেন। আর স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ডের নির্বাচিত শাসকদল ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখবে? তাহলে আর কিসের পরিবর্তন?

বিস্তারিত পড়ুন

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বক্তা মাত্র চার বছরের এক শিশু। দিদিমার সাথে খেলা করতে করতে মিউজিক্যাল কীবোর্ডে চাপ দিয়ে। কী অমোঘ উচ্চারণ! আসুন করোনা নাচ নাচি। সরকার বলেছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ নাচি। ডাক্তার বলছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ শুরু করে দিই। না হলে এই মহামারী সামলানো যাবে না। মিডিয়া বলছে লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা তো কবেই বিশ্ব শুদ্ধ মানুষকে এই করোনা নৃত্যের আসরে নামিয়ে দিয়েছে। নাচের ধরণ কি হবে। নাচের ছন্দ কি হবে। নাচের তাল লয় কখন কোন কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সব আগে থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা বেঁধে দিয়েছে, সেটা যদিও ওপেন সিক্রেট। কিন্তু না, সেসব বিষয় নিয়ে ঘুণাক্ষরেও আলোচনা করা যাবে না। করলে বিগ বসের গোঁসা হবে। বিগ বসের হাতের তালুর ভিতরে এখন গোটা বিশ্ব। মিডিয়া আগেভাগে একেবারে প্রথমেই সতর্ক করে দিয়েছিল। করোনা নৃত্যের ভিতর দিয়েই আমরা পৌঁছিয়ে যাবো এক নতুন পৃথিবীতে। যে পৃথিবীর গাল ভরা নাম “নিউ নরম্যাল”। আমরা যে যতটা করনো নৃত্যে পারদর্শী, সেই তত মহানন্দে এই নতুন বিশ্ব সম্বন্ধ ততধিক উৎসাহিত। মুখে মুখে আমাদের খই ফুটছে তাই নিউ নরম্যাল নিউ নরম্যাল বলে। করোনা নৃত্যের তালে তালে দিনে দিনে নিউ নরম্যাল তাথৈ নৃত্যে জড়িয়ে নিচ্ছে আমাদেরকে। সত্যিই তো করোনা নৃত্য আবিষ্কারের আগের পৃথিবী আর আবিষ্কারের পরের পৃথিবী কি আর এক হতে পারে? বিশ্বায়ন নিয়েও একসময় আমাদের তাথৈ নৃত্য মাতাল হয়ে উঠেছিল। সেই নৃত্যের তালেই কিন্তু করোনা ড্যান্সেরও জন্ম। ফলে বিশ্বায়ন যদি সলতে পাকানোর পর্ব হয়। তবে এই নিউ নরম্যাল খেলা শুরুর প্রথম পর্যায়। কিন্তু খেলাটা কি?

বিস্তারিত পড়ুন

বেআইনী ধারার বেআইনী প্রয়োগ

কথায় বলে পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা। আর যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। কথাদুটি যে কতটা সত্য। বোঝা যাচ্ছে বর্তমান ভারতে। যেভাবেই হোক কোন অভিযোগে পুলিশের খাতায় একবার নাম উঠে গেলেই হলো। দিনের পর দিন আদালতের চক্করে পড়ে থাকো। বছরের পর বছর গড়িয়ে যাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। এবং শেষমেশ স্বসম্মানে বেকসুর খালাস হলেও, দোষী পুলিশ আধিকারিকদের কোন সাজা হবে না। নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায় ভাবে অভিযুক্ত করে আদালতের চক্করে ঠেলে দেওয়ার জন্য। এটা ভারতবর্ষের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলিতেই সম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা। নিরাপরাধ মানুষের জীবনের অতি মূল্যবান সময়গুলি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুবিচার পাওয়ার লড়াইয়েই শেষ হয়ে যায়। প্রতিবছর এইভাবে কত হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষ অন্যায়ের শিকার হয়ে বিনা বিচারে জেলের ঘানি টানে, তার কোন সঠিক হিসাব নেই। অথচ দোষী পুলিশ আধিকারিকদের কোন সাজা হয় না, নিরাপরাধ মানুষকে গারদের ভিতরে আটক রাখার জন্য। আর দেশের ভার যাদের হাতে। তাদের মুখে একটাই বাণী। আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু ভারতবর্ষের আইনের পথটা যে কি ভীষণ রকমের বাঁকা, সেটা ভুক্তোভূগী মাত্রেই জানে। এই অব্দি চিত্রটা ভারতবাসী মাত্রে সকলেই জানেন। ফলে ভারতে এই চিত্র অত্যন্ত স্বাভাবিক। এর ভিতরে কোন বিস্ময় নেই। অন্যায় যাই থাকুক আর নাই থাকুক। ক্ষমতায় থাকলে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশকে ঝুড়ি ঝুড়ি অনৈতিক কাজ করতে হয়। আমরা সকলেই জানি। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঘটনা সব রকমের অন্যায়কেই ছাপিয়ে গিয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের রায়ে সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাওয়া একটি অসাংবিধানিক সরকারী আইনকে বেআইনী ভাবে ব্যবহার করে বহু মানুষকে আদালতের চক্করে ঘোরানোর মতো দুর্নীতি চলছে দিনের পর দিন ধরে। সরকার চুপ করে বসে রয়েছে। আর শাসকদলের অঙ্গুলি হেলনে সরকারী পুলিশ এই বেআইণী কাজ করে চলেছে বছরের পর বছর।

বিস্তারিত পড়ুন

পেগাসাস কেলেঙ্কারি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা

পেগাসাস ইস্যু নিয়ে দেশ উত্তাল। প্রতিটি দেশপ্রেমিক ভারতীয়ই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শাসকদল বিরোধীরা পেগাসাস কেলেঙ্কারিকে হাতে গরম রাজনৈতিক অস্ত্র করে তুলতে উঠে পড়ে লেগেছে। এবং গণতন্ত্রপ্রেমী প্রতিটি মানুষই ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টিতে যথেষ্ঠই ভীত সন্ত্রস্ত। শুধুমাত্র শাসকদলেরই মুখে রা নেই। সরকার এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত কিনা। সেই বিষয়ে সরকার মুখে কুলুপ এঁটেছে। সরকার এই বিষয়ের সাথে কোনভাবেই জড়িত নয়। এমন কোন কথাও সরকার পক্ষ এতদিনেও বলে উঠতে পারেনি। মানুষ জানতে চাইছে, যদি সরকার জড়িত না থাকে। তবে কারা এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত? এতে দেশের নিরাপত্তাই তো সকলের আগে বিঘ্নিত হতে পারে। না, দেশের নিরাপত্তা, দেশবাসীর সুরক্ষা এসব বিষয় নিয়ে সরকারের কোন উদ্বেগ চোখে পড়ছে না। পড়লে সরকার এতদিনের ভিতরে অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করতে পারতো। ঠিক যেমনটি করেছে ফ্রান্স সরকার। ফলে একথা নিশ্চিত। পেগাসাস কেলেঙ্কারির বিষয়টিকে দেশের নিরাপত্তা ও দেশবাসীর সুরক্ষার সাথে জড়িত ভাবতে স্বীকৃত নয় বর্তমান সরকার। আর এইখানেই যে কোন সাধারণ সচেতন দেশবাসী সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হতে বাধ্য। একটি বিদেশী দেশ। তাও আবার ইজরায়েলের মতো একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ। যাদের সাত আট দশকের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তেমন একটি দেশের হাতে আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য রয়ে যাবে। এবং সেই তথ্য কোটি কোটি টাকায় তারা বেচাকেনা করতে থাকবে। এরকম একটা পরিস্থিতি আমাদের দেশের পক্ষে কতটা বিপদজনক সেটা বুঝতে খুব একটা লেখাপড়া জানার দরকার হয় না নিশ্চয়। খুব সাধারণ বুদ্ধিতেই বিষয়টির ভয়াবহতা উপলব্ধি করা সম্ভব।

বিস্তারিত পড়ুন

পেগাসাস ইনস্টল্ড

লোকসভা রাজ্যসভায় হইচই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হবে। ভাগ্য ভালো ইস্তফার দাবির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই। সরকার, বিরোধীমত স্তব্ধ করতে গণতন্ত্রের সব রকমের রক্ষাকবচকে নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মোবাইল ফোনে আড়ি পাতবে, এতো জানাই কথা। হ্যাঁ সেই আড়ি পাতার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরকারের হাতে নাই। নাই বলেই সেই গুপ্তচর প্রযুক্তি আমদানী করতে হয়েছে বিদেশী শক্তির কাছে থেকে। তাও আবার যে সে বিদেশী শক্তি নয়। একেবারে বিশ্বসন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইজরায়েলের কাছ থেকেই। তা হোক। এমন অত্যাধুনিক ডিজিটাল গুপ্তচর প্রযুক্তি ইজরায়েল ছাড়া আর কোন দেশ আবিষ্কার করবে? আর ডিজিটাল ইণ্ডিয়ার রূপকার সেই ডিজিটাল প্রযুক্তির আমদানী করবে না? তাই আবার হয় নাকি? অবশ্যই করবে। ডিজিটাল ইণ্ডিয়া গড়তে এই প্রযুক্তিই তো সব থেকে বড়ো বল ভরসা। ফলে সরকার বিরোধী চিন্তাধারা কোথায় কি চর্চা চলছে, সেসব জানা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। সেই কর্তব্যকর্মে সরকার যে অবিচল এবং অষ্টপ্রহর সজাগ। সে বিষয়ে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। দেশের স্বঘোষিত চৌকিদার যে ফাঁকা আওয়াজ দিয়েছিলেন না। সেকথা আবারো প্রমাণিত হল। দেশের সম্পদ জনতার হাত থেকে নিয়ে দুই একজন বন্ধু কর্পোরেট শিবিরের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও তিনি যেমন অক্লান্ত চৌকিদারী চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়া গণতান্ত্রিক কন্ঠস্বরেরা কোথায় কার সাথে কখন কি শলাপরামর্শ করছে। সেকথা সরাসরি জানতেও সেই চৌকিদারীও যে চলবে অক্লান্ত উদ্যো‌গে, এ আর নতুন কথা কি? ফলে এই চৌকাদারী রাজত্বে চৌকাদারী নিয়েই সমালোচনার তো কোন মানেই হয় না। এখন যদি কেউ প্রশ্ন তোলে জল কেন নীচের দিকে গড়ায়? সূর্য কেন পূর্ব দিকে ওঠে। চোর কেন চুরি করে। মিথ্যেবাদী কেন মিথ্যে কথা বলে। তবে সেই সেই ঘটনার সমালোচনা করার তো কোন অর্থ হয় না। যার যেটা ধর্ম ও প্রকৃতি। সে তো সেটাই করবে। কথায় বলে নিয়তির বিধান খণ্ডাবে কে?

বিস্তারিত পড়ুন

জরুরী অবস্থা

সরকারের সমালোচনা করা আর দেশবিরোধী চক্রান্ত করা সমার্থক হয়ে গেলে গণতন্ত্রই বিপন্ন হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার যতই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসীন হোক না কেন, সরকারেরে প্রণীত আইন গৃহীত নীতিমালা এবং কর্মপ্রণালী সবসময় প্রশ্নের উর্ধে থাকবে এমনটা নাও হতে পারে। সরকারের আইন নীতিমালা এবং কর্মপ্রণালী সব সময় দেশহিতের পক্ষে উপযুক্তই হবে এমন নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারে না। বরং অনেক সময়েই দেখা যায় সেইগুলি দেশ সমাজ ও দেশবাসীর পক্ষে বিপদজনক এবং সমূহ ক্ষতিসাধক হয়েও উঠতে পারে। ফলে সেই সময় সরকার প্রণীত আইন গৃহীত নীতিমালা কিংবা কর্মপ্রণালী নিয়ে আলোচনা সমালোচনার পরিসর থাকা অত্যন্ত জরুরী। সেই পরিসর সংকীর্ণ হয়ে এলে সমগ্র দেশের জন্যেই তা এক অশনিসংকেত স্বরূপ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা আলোচনার উন্মুক্ত পরিসর থাকা অত্যন্ত জরুরী। এবং সেই পরিসর যত বেশি বিস্তৃত থাকে ততই শক্তিশালী হয়ে ওঠে সেই দেশের গণতন্ত্র। ততই সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে সেই দেশের সার্বিক অবস্থা। একটি সরকার কতটা গণতান্ত্রিক সেটি বোঝা যায়, সেই সরকার কতটা বিরুদ্ধ সমালোচনাকে সদর্থক ভাবে গ্রহণ করতে পারে, এবং দরকারে সেই বিরুদ্ধ সমালোচনার উৎস খুঁজে নিয়ে নিজের ভুল নীতির দ্রুত সংশোধন করে নিতে পারে। না, ঠিক এমন একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক সরকার সচারচর দেখা যায় না। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে। অধিকাংশ গণতান্ত্রিক সরকারেরই খুঁটি বাঁধা থাকে দেশের শিল্পমহলের স্বার্থের কাছে। সেই স্বার্থ পূরণ করতেই রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এবং সেই স্বার্থ পুরণের সমান্তরালে রাজনৈতিক দলগুলি লাগামছাড়া দুর্নীতি‌তে অংশগ্রহণ করে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেই। আর সেই অপকর্ম ঢাকার উদ্দেশেই সরকার তার প্রণীত আইন গৃহীত নীতিমালা এবং তার শাসন প্রণালীর কোনরকম বিরুদ্ধ সমালোচনা বরদাস্ত করতে রাজি হয় না। চেষ্টা করে প্রবল ভাবে বিরুদ্ধ সমালোচনার কন্ঠরোধ করতে। সরকার বিরোধী সমালোচনাকে এই কারণেই সময় সময় দেশবিরোধী রাষ্ট্রদ্রোহের চক্রান্ত বলে দেগে দিতে উদ্যত হয়ে ওঠে শাসকশ্রেণী। যেহেতু শাসকশ্রেণীর হাতেই সব ক্ষমতা। ফলে প্রয়োজনে আইনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকার বিরোধী কন্ঠস্বরকে দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলতে থাকে। আর দাবিয়ে দিতে না পারলেই শুরু হয়ে যায় দমন পীড়ন। মানবাধিকার লঙ্ঘণ ইত্যাদি।

বিস্তারিত পড়ুন

মগজে কারফিউ

মগজে কারফিউ জারি হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের হর্তাকর্তা বিধাতারা যা বলবেন, যখন বলবেন, যেভাবে বলবেন, ঠিক তেমনভাবেই ভাবতে হবে ও ভাবাতে হবে আমাদেরকে। অন্য কোন ভাবে ভাবলেই আপনি দেশপ্রেমী নন। অন্য কোন ভাবে ভাবালেই আপনি অবশ্যই দেশদ্রোহী। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদেরই মদতদাতা। অতএব আপনার ভাগ্যে ঘচাং-ফু হয়ে যেতে পারে যেকোন সময়েই। এখন রাষ্ট্রযন্ত্র তো একটি বিমূর্ত সত্তা। রাষ্ট্রযন্ত্রের হর্তাকর্তা বিধাতারা, সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু ক্ষমতা দখল করেই তাঁরা যখন রাষ্ট্রীয় শীলমোহর লাগিয়ে মগজে কারফিউ জারি করে দেন, মুশকিল হয় তখনই। আর তখনই আপনাকে বাঁদর নাচ নাচতে হবে। নাচতে না চাইলেই আপনি রাষ্ট্রের শত্রুর তকমায় ভূষিত হয়ে যেতে পারেন। আর ঠিক এই ভয়টাই সকলের থেকে বেশি করে পেয়ে থাকেন তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষজন। তাই তাদের লক্ষ্য থাকে, কোনভাবেই যেন সরকারী দলের গুডবুক থেকে নিজের নামটা কাটা না যায়। তাই তারাই মগজে কারফিউ জারি হয়ে গেলে, নিজেদের মগজগুলি যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে দেন। এর আরও একটি ভালো দিক রয়েছে, একবার নিজের মগজ জারি করা কারফিউয়ে বন্ধক রাখতে পারলেই, সরকারী উপঢৌকন নিশ্চিত। কারণ সরকার এইসব বন্ধকী মগজগুলিকে কাজে লাগিয়েই সাধারণ জনগণের মগজের উপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে তার জন্য অমূল্য পুরস্কারের বন্দোবস্ত তো রাখতেই হবে।

বিস্তারিত পড়ুন

রাষ্ট্রীয় কারাগার

ঠিক কতটা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছিয়েছি আমরা? সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনা বিশ্বাস ও কর্মের উপরেই কি প্রভুত্ব করতে চাইছে রাষ্ট্র ব্যবস্থা? মানুষের স্বাধীন ব্যক্তিসত্তার উপরেই নেমে আসছে কি পরাধীনতার খাঁড়া? ব্যক্তি মানুষকে কোন বিশেষ গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের হয়েই কি ওকালতি করে যেতে হবে ক্রমাগত? আর উল্টে ন্যায় অন্যায়ের বিষয়ে, উচিত অনুচিতের বিষয়ে, ঠিক বেঠিকের বিষয়ে কোন প্রশ্ন তুললেই জুটে যাবে দেশদ্রোহীর তকমা? এ কোন ভারতবর্ষ? এই ভারতবর্ষ গড়ে তোলার জন্যেই কি প্রাণ দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম থেকে মাস্টারদা? বাঘাযতীন থেকে বিনয় বাদল দীনেশ? এই ভারতবর্ষ গড়ে তুলতেই কি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিবেকানন্দ থেকে নেতাজী? উত্তরটা নিশ্চয়ই সকলেরই জানা। বিশেষ করে বাঙালি জাতির অন্তত জানারই কথা। ভারতবর্ষের মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান যে জাতির, সে জাতি হলো বাঙালি জাতি। আর আজ ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা যে জাতি, সেই জাতিও বাঙালি জাতি। সেই বাংলাই দখল করতে চাইছে যে শক্তি। সেই শক্তিই এক নতুন ভারতের রূপরেখা তুলে ধরছে সকাল থেকে বিকেল। রাত্রি থেকে দিন। যে ভারতবর্ষে মানুষ ঠিক সেই ভাবেই ভাবতে বাধ্য থাকবে, রাষ্ট্র যে ভাবে তাকে ভাবাতে চায়। মানুষ ঠিক সেই কথাটাই বিশ্বাস করতে বাধ্য থাকবে, রাষ্ট্র তাকে দুইবেলা যে কথাগুলো মুখস্থ করিয়ে দেবে। অনেকটা পাঠশালার হেড পণ্ডিতের মতো। লম্বা ছড়ি হাতে প্রতিদিন পড়া মুখস্থ করানোর শিক্ষাদান। আজ রাষ্ট্রই সেই হেড পণ্ডিতের ভুমিকায়। হাতে তারও লম্বা এক ছড়ি। আজ্ঞাবহ গণমাধ্যম আর দলীয় প্রচার। তার বাইরে যেন কেউ কান না দেয়। চোখ না মেলে। হেড পণ্ডিতের কড়া নজর সেই দিকেই।

বিস্তারিত পড়ুন

স্বৈরতন্ত্রের অভিমুখে

দিশা রভি’কে গ্রেফতার করে পাঞ্জাব পুরসভার নির্বাচনে দলীয় বিপর্যয় ঠেকানোর একটা শেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁবেদার গণমাধ্যম জুড়ে রাষ্ট্রদ্রোহের গল্প শুনিয়ে দেশপ্রেমের আবেগ জাগিয়ে দেশপ্রেম ও সরকারপ্রেমকে সমার্থক প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টার ভিতর দিয়ে। আশা করা গিয়েছিল, দিশা রভি’কে নিয়ে দেশজুড়ে রাষ্ট্রদ্রোহের কল্পকাহিনী পাঞ্জাব পুরসভার নির্বাচনে দলকে স্যালাইন জোগাবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে পাঞ্জাববাসী কাঁচকলা দেখিয়ে নির্বাচনে একটি দলকে প্রায় সাফ করে দিয়েছে। দিশা রভিও জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু ভারতবর্ষের রাজনীতির বর্তমান গতি প্রকৃতিতে সরকারী ক্ষমতার আস্ফালন ও তার বিকৃত প্রকৃতি উলঙ্গ হয়ে বেআব্রু হয়ে পড়েছে। সরকার ইচ্ছে করলেই তার পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবহার করে সকল রকমের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে কোন ব্যক্তিতে যে কোন সময় গ্রেফতার করতে পারে। এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে তাঁবেদার গণমাধ্যম জুড়ে সরকারের পক্ষে জনমত জোগার করার খেলা খেলতে পারে। এটাই ২০১৪ পরবর্তী ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় চিত্র। তাতে দিশা রভি’র মত মাত্র একুশ বাইশ বছরের তরুণীকেও সরকার রাষ্ট্রের নামে অত্যাচার করতে ছাড়ে না। চলমান কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে যারাই এগিয়ে আসছে, তাদেরই দিশা রভি’র মতো পরিণতি ঘটতে পারে। যেমন ঘটেছিল সাংবাদিক পুনিয়ার ক্ষেত্রে।

বিস্তারিত পড়ুন

দাঙ্গা বিদ্ধস্ত দিল্লী

ঘটনার তিনদিনের মাথায় মৃত ২৩ জন। আহত ১৮০ হন। সরকারি তথ্যমাত্র। প্রকৃত অবস্থা এখনো পরিস্কার নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কল্পনার অতীত। না, ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে নি। খুব ভালো করে পরিকল্পনা করেই ঘটানো হয়েছে। ঘটানো হয়েছে কেন, সেটি ঘটনা পরম্পরা ভালো করে পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে। বাস্তবে অনভিপ্রেত, বিশেষ করে হিংসাত্মক ঘটনাগুলির পর, যে পক্ষ অধিকত সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছিয়ে যায়, যে পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়, বুঝতে হবে ঘটনার পিছনে মূল পরিকল্পনায় তাদেরই মদত থাকা স্বাভাবিক। এমনটাই সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে দেশে বিদেশে। সে গুজরাট দাঙ্গাই হোক। গোধরা কাণ্ডই হোক। টুইন টাওয়ার ধ্বংসই হোক। পুলওয়ামার মৃত্যু মিছিলই হোক্, দেখতে হবে প্রতিটি ঘটনার ফলে কোন পক্ষের স্বার্থ অধিকতর সুরক্ষিত হয়েছে। কোন পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি দ্রুততর বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তখন আর এটা বোঝা দুঃসাধ্য হবে না, মূল ঘটনাগুলি কাদের স্বার্থে ঘটানো হয়েছিল। প্রতিটি ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে ঘটনোর পিছনে কিছু স্বার্থ জড়িত থাকে। ঘটনার অব্যবহিত পরেই যে সেটি সবসময় পরিস্কার ধরা পড়ে তা নাও হতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে, ঘটনার ফলে কোন পক্ষ অধিকতর সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছিয়ে যায়, সেটি বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তখন কোন রহস্যই আর রহস্য থাকে না।

বিস্তারিত পড়ুন