আত্মনির্ভর সুন্দরবন

বাঁধ ভেঙেছে। ভাঙারই কথা ছিল। স্বাধীন ভারতবর্ষের বয়স আট দশকে পড়েছে। কিন্তু তাতে কি। সুন্দরবন আজও সেই দুয়োরাণী। যেমন ছিল ব্রিটিশ আমলে। আজও কোদাল হাতে মাটি কুপিয়ে আর বালির বস্তা দিয়ে নদীবাঁধের সংস্কৃতিই সুন্দরবনের অধিবাসীদের আত্মরক্ষার শেষ উপায়। একেবারে আত্মনির্ভর ভারতের নিদর্শন। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। আরও বাড়বে। দক্ষিণ মেরুর বরফ গলছে। আরও গলবে। হিমবাহ ভাঙছে। আরও ভাঙবে। ফলে বঙ্গোপসাগরের জল আরও বেশি করে এমনিতেই নীচু নীচু ডাঙাগুলিকে গ্রাস করে নেবে। তার আগে আয়লা আমফান ইয়াস হতে থাকবে। আর মান্ধাত্বার বাবার আমলের পদ্ধতিতে দেওয়া নদীবাঁধ ভেঙ্গে জল উপচিয়ে মানুষের ঘর বসতি জলের তলায় তলিয়ে যেতে থাকবে। বছরের পর বছর। একুশ শতকের তৃতীয় দশকে মানুষ যখন ফাইভ জি টেকনোলজির যুগে প্রবেশ করছে। ঠিক সেই সময়েই সুন্দরবন পড়ে রয়েছে সেই প্রাক ব্রিটিশ যুগে। যখন মানুষ ডাঙায় বাঘ আর জলে কুমীরের সাথে নিজেই যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতো। যখন কোদাল দিয়ে মাটি কেটে নদীর পার উঁচু করে বাঁধ দিয়ে বন্যা থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতো। এখনো করে, করছে। মাঝখানে স্টিমইঞ্জিন আবিষ্কার হয়ে মিউজিয়ামে চলে গিয়েছে। এরোপ্লেন স্যাটিলাইট টিভি ইনটারনেট মোবাইল মানুষের জীবনযাপনের ধরণ আমূল বদলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় হলে সুন্দরবনের অধিবাসীরা আজও ফিরে যায় মোঘল আমলে। কিংবা পাল বংশ সেন বংশ কি তারও আগে যখন বাংলা সবে গড়ে উঠছে। সেই সব দিনের মতো সমুদ্রের লোনা জলের তলায় আজও সুন্দরবনের বিস্তৃত অঞ্চল ডুবে যায়। এক একটা ঘূর্ণীঝড়ের তাণ্ডবে।

বিস্তারিত পড়ুন