গলা অব্দি ভণ্ডামি

এক একটি দৃশ্য থেকে দৃশ্যের জন্ম হয়। জলমগ্ন সুন্দরবনের খবর পরিবেশিত হচ্ছে। নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত। জনজীবন বিপর্যস্ত। সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক লাইভ কমেন্ট্রী করছেন। বলছেন জলস্তর বাড়তে বাড়তে কোমর ছাড়িয়ে গলা অব্দি উঠে আসছে। টিভির দর্শকও গলা অব্দি জলমগ্ন সাংবাদিকের ছবি দেখে শিহরিত। সাংবাদিকের দুই পাশেই গলা অব্দি জলমগ্ন গ্রামবাসীর কয়েকজন। হাতে মড়া মাছ ধরে। মাছ মরে যাবে সেটা স্বাভাবিক। সমুদ্রের লোনাজলে মিষ্টিজলের মাছ শ্বাস নিতে পারবেই বা কি করে। কিন্তু সাংবাদিকের বিবেক? বৃহৎ পুঁজির গোলামীর শর্তই কি বিবেক বিসর্জন দিয়ে নিজের মনুষত্বকে মেরে ফেলে দিয়ে তবেই পেশার দায়িত্ব সামলানো? ঠিক এই প্রশ্নটিই আজকে দেখা দিচ্ছে। যে জায়গায় গলা অব্দি জলমগ্ন সাংবাদিকের ছবি শ্যুট করা হচ্ছিল, সেই জায়গায় শ্যুটিং এর সেই সময় আসলে হাঁটু জল ছিল। সাংবাদিক কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে সেই হাঁটু জলেই হাঁটু মুড়ে বসে গলা অব্দি জলমগ্নতার ছবি শ্যুট করাচ্ছিলেন। যিনি ক্যামেরাম্যান তিনি তাঁর ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাত্রই হাত কয়েক দূরে। যেখানে তখনও জলমগ্ন হয়নি রাস্তার এক অংশ। এই হলো বর্তমানে সাংবাদিকতার বেআব্রু অবয়ব। অন্য এক দৃশ্যে সেই হাঁটু জলে দাঁড়ানো অন্য এক সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান ছবি তুলছিলেন হাঁটু জলে সাঁতাররত দুইজন উদ্ধারকারীর নকল ছবি। যাঁরা হাঁটু জলে সাঁতার দিয়ে গ্রামবাসীর উদ্ধারকর্তা সেজে ছিলেন, তাঁদের কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতেই পারে। কিন্তু যে সাংবাদিক তাঁর ক্যামেরাম্যান নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছিলেন। তাঁর কি উদ্দেশ্য ছিল?

বিস্তারিত পড়ুন