দিবানিদ্রার দিনগুলি

কার স্বার্থে এই লকডাউন? আমরা এদিকে নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করে বসে রয়েছি, আমাদের স্বার্থেই তো লকডাউন। আমরা যাতে আরও কয়টি দিন বেশি বেঁচে থাকি। সেটি নিশ্চিত করতেই না এই লকডাউন। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। না, তাই তো আমরা যেমন ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়েও তর্ক করতে রাজি নই। ঠিক তেমনই লকডাউন কাদের স্বার্থ পূরণ করছে। সেই তর্কেও আমাদের কোন উৎসাহ নাই। ফলে আমরা, আমাদেরকে যেমন শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দুইবেলা। টিভি আর নেটপাঠশালায়। আমরা ঠিক তেমনই লকডাউনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। বরং অবিশ্বাসীদের সাথেই আমাদের যাবতীয় তর্ক। লকডাউন ছাড়া এই অতিমারী ঠেকানোর আর কোন উপায় নাই বলে। প্রতিদিন যত বেশি মানুষেরই মৃত্যু হোক না কেন। আমরা বিশ্বাস করি। লকডাউন না করলে আরও আরও বেশি মানুষ মারা যেত। মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে না বাড়তে থাকলেও আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হয়ে ওঠে। লকডাউন করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে বলে। ফলে লকডাউন নিয়ে আমাদের কোন মাথাবাথ্যা নেই। মৃত্য যতই বেশি হোক। কিংবা মৃত্যু যতই কম হোক। লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আমরা দুই ভিন্ন ফলাফলেই শিরোধার্য্য করে নিয়েছি। ফলে আমরা নিশ্চিত, সরকার আমাদের সাথে রয়েছে। বরং যেখানে যেখানে লকডাউন করতে সরকারের দেরি দেখছি। সেখানেই আমারা অবিলম্বে লকডাউন করার দাবিতে সরব হয়ে উঠছি। আমাদের সামাজিক দেওয়াল জুড়ে।

বিস্তারিত পড়ুন

বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয় কোভিড-১৯

বিশ্বপতি জো বাইডেনের দপ্তরে সম্প্রতি এক তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়েছে। তদন্ত কি নিয়ে? না করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোথা থেকে ও কিভাবে, সেই বিষয় নিয়েই তদন্ত। না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই তদন্তের সাথে যুক্ত নয়। গোটা বিশ্বের হয়ে বিশ্বের এক মাত্র অভিভাবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু কোন কোন সংস্থাকে দিয়ে তারা সেই তদন্তকর্ম সম্পন্ন করেছে। সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে শুধু তদন্তের ফলাফল। স্বভাবতঃই আবিশ্ব মানুষ এই তদন্তের ফলাফল জানার অপেক্ষাতেই এতদিন ধৈর্য্য ধরে দিন গুনেছে্। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করা তদন্তের উপরে তো আর কোন কথা নেই। একেবারে বেদবাক্য। এখন দেখে নেওয়া যাক সেই তদন্তকর্মের রিপোর্টে কি কি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্রেই অবশ্য সেই ফলাফল যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশও করা হয়েছে। বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ারের করা তদন্তের ফলাফল। ছেলেখেলা নয়। যে যে বিষয়গুলি এই তদন্ত রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলির ভিতর প্রথমেই বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস কোনভাবেই বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয়। এখানেই একটু হোঁচট খেতে হবে আমাদের। আমরা যারা এতদিন বিশ্বাস করে এসেছিলাম, বায়োলজিক্যাল ওয়েপন হিসাবেই চীন এই অস্ত্র দিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল, তাদের অবশ্য এই রিপোর্ট হজম করতে বেশ বেগ পেতে হবে। আমাদের ভিতরে যারা আবার নিজামুদ্দিনে ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আউড়িয়ে হিন্দুত্ববাদী দেশপ্রেমে মুহুর্মুহ ভারতমাতা কি জয় বলে দেশ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহীদের খুঁজে বার করতে আসরে নেমে পড়েছিলাম টিভির বিশেষ বিশেষ নিউজ চ্যানেল খুলে রেখে। তাদেরও এই রিপোর্ট হজমে অসুবিধা আছে। যাই হোক বিশ্বপতি’র দপ্তরে জমা পড়া রিপোর্ট। চ্যালেঞ্জ করাও মুশকিলের বিষয়।

বিস্তারিত পড়ুন

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বক্তা মাত্র চার বছরের এক শিশু। দিদিমার সাথে খেলা করতে করতে মিউজিক্যাল কীবোর্ডে চাপ দিয়ে। কী অমোঘ উচ্চারণ! আসুন করোনা নাচ নাচি। সরকার বলেছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ নাচি। ডাক্তার বলছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ শুরু করে দিই। না হলে এই মহামারী সামলানো যাবে না। মিডিয়া বলছে লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা তো কবেই বিশ্ব শুদ্ধ মানুষকে এই করোনা নৃত্যের আসরে নামিয়ে দিয়েছে। নাচের ধরণ কি হবে। নাচের ছন্দ কি হবে। নাচের তাল লয় কখন কোন কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সব আগে থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা বেঁধে দিয়েছে, সেটা যদিও ওপেন সিক্রেট। কিন্তু না, সেসব বিষয় নিয়ে ঘুণাক্ষরেও আলোচনা করা যাবে না। করলে বিগ বসের গোঁসা হবে। বিগ বসের হাতের তালুর ভিতরে এখন গোটা বিশ্ব। মিডিয়া আগেভাগে একেবারে প্রথমেই সতর্ক করে দিয়েছিল। করোনা নৃত্যের ভিতর দিয়েই আমরা পৌঁছিয়ে যাবো এক নতুন পৃথিবীতে। যে পৃথিবীর গাল ভরা নাম “নিউ নরম্যাল”। আমরা যে যতটা করনো নৃত্যে পারদর্শী, সেই তত মহানন্দে এই নতুন বিশ্ব সম্বন্ধ ততধিক উৎসাহিত। মুখে মুখে আমাদের খই ফুটছে তাই নিউ নরম্যাল নিউ নরম্যাল বলে। করোনা নৃত্যের তালে তালে দিনে দিনে নিউ নরম্যাল তাথৈ নৃত্যে জড়িয়ে নিচ্ছে আমাদেরকে। সত্যিই তো করোনা নৃত্য আবিষ্কারের আগের পৃথিবী আর আবিষ্কারের পরের পৃথিবী কি আর এক হতে পারে? বিশ্বায়ন নিয়েও একসময় আমাদের তাথৈ নৃত্য মাতাল হয়ে উঠেছিল। সেই নৃত্যের তালেই কিন্তু করোনা ড্যান্সেরও জন্ম। ফলে বিশ্বায়ন যদি সলতে পাকানোর পর্ব হয়। তবে এই নিউ নরম্যাল খেলা শুরুর প্রথম পর্যায়। কিন্তু খেলাটা কি?

বিস্তারিত পড়ুন

চক্রব্যূহে একা

না এখনই কোন লোকাল ট্রেন নয়। জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। লোকাল ট্রেন চালু করলেই হু হু করে করোনা সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনটাই তাঁর আশংকা। একটা বড়ো অংশের মানুষই মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সহমত হবেন। করোনা সংক্রমণ আরও অনেকটা না কমে আসা অব্দি যারা লকডাউন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপক্ষে। কিন্তু সেই সাথে সমাজের বৃহত্তর জনসাধারণ কিন্তু এই মুহুর্তেই লোকাল ট্রেন চালুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এবং তাঁদের এই দিন গুনতে থাকা কতটা সর্বাত্মক, সেটি দেখা গেল গতকাল। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন স্টেশনে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে রেল অবরোধের ঘটনায়। এই মানুষগুলির কেউই কিন্তু ট্রেনে চড়ে হাওয়া খেতে লোকালে চাপেন না। কিংবা কোলকাতায় বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও শিয়ালদহগামী লোকালে ওঠেন না। দুই চব্বিশ পরগণা সহ কলকাতা সংলগ্ন শহরতলী জুড়ে একাধিক জেলার মানুষের জীবন জীবীকা এই লোকাল ট্রেন নির্ভর। যারা সরকারী বেসরকারী সংস্থায় কাজ করেন। বাড়ি থেকে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করে যাতায়াতের জন্য তাদের অধিকাংশের কাছে লোকাল ট্রেনই এক মাত্র উপায়। কিন্তু শুধুই এই চাকুরী জীবীরাও নন। লোকাল ট্রেন না চললে হকার থেকে শুরু করে ব্যাবসাদার দোকানি ঠিকেলেবার পরিচারিকা ইত্যাদি বহু মানুষের জীবন জীবীকা স্তব্ধ। তাদের জীবন জীবিকা সচল রাখার একমাত্র উপায় এই লোকাল ট্রেন। যতদিন এই লোকাল ট্রেন ঠিকমত চলবে না। ততদিন তাঁদের জীবনও থমকে থাকবে। সঞ্চিত অর্থ ভাঙিয়ে আর কতদিন দুইবেলা আহার জুটবে? সকলেই যে নিয়মিত রেশন থেকে নিখরচায় চাল ডাল গম পাচ্ছেন তাও নয়। আবার শুধুই রেশনের চাল ডালেই সংসার চলার কথাও নয়। সংসারে হাজারো রকমের খরচ রয়েছে। কোথা থেকে সেই খরচের সংস্থান হবে?

বিস্তারিত পড়ুন

নিউনর্ম্যাল

লকডাউন আর সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। একেবারে নতুন দুটি শব্দবন্ধ। যা আমাদের গোটা জীবনটাই প্রায় বদলিয়ে দিচ্ছে। ধীরে ধীরে বদল নয়। দ্রুত লয়ের বদল। অর্থাৎ বিবর্তন নয়। বিপ্লব। যদিও আমরা অনেকেই আশায় আছি। অপেক্ষা করছি। আবার চেনা জীবনের ছন্দে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু যাঁরা একটু বেশি সচেতন। তাঁরা টের পেয়ে গিয়েছেন। আর কখনোই আমরা ২০২০’র আগের জীবনছন্দে ফিরে যেতে পারবো না। কারণ পরিস্কার। লকডাউন আর সোশ্যাল ডিসটেন্সিং-এর মূল প্রবক্তারা আগেভাগেই আরও একটি শব্দবন্ধ হাওয়ায় অর্থাৎ মিডিয়ায় ভাসিয়ে দিয়ে রেখেছেন। নিউনর্ম্যাল। অনেকটা নিয়োলিবারিজমের মতোই। দুটিরই কর্তৃত্ব জনতার হাতে নয়, জনতার স্বার্থেও নয়। বিশ্বায়নের মালিকদের হাতে। তাদেরই স্বার্থে। ২০২০ পরবর্তী বিশ্ব বন্দোবস্ত এই নিউনর্ম্যাল নামেই পরিচালিত হবে। যার একেবারে প্রথম ধাপই হলো টীকাকরণ। অনেকেই বলবেন এ আর নতুন কথা কি? টীকাকরণ তো বহু দিনের ব্যবস্থা। রোগ প্রতিষেধক হিসাবে চিরকালই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঠিক কথা। আমাদের অনেকেরই পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই বিষয়ে। কিন্তু সেই আমরাই যদি একটু খেয়াল করে দেখি। দেখতে পাবো। সারা বিশ্বেই পূর্বে কোনদিনই কখনো বিশেষ কোন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কোন টীকা একই সময়ে আবিশ্ব মানুষকে নিতে হয়নি। এবার কিন্তু নিতে হচ্ছে। না, মানুষ যে সকলেই স্বেচ্ছায় নিচ্ছে তাও নয়। বলতে গেলে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই যে একই সময়ে বিশেষ একটি রোগের প্রতিষেধক হিসাবে আবিশ্ব মানুষের টীকাকরণের বন্দোবস্ত। এটাই সেই নিউনর্ম্যাল বিশ্বব্যবস্থার একেবারে প্রথম ধাপ। যে ধাপে আমাকে আপনাকে সকলকেই পা দিতে হবে। ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায়। আর নিউনরম্যালের এই প্রথম ধাপে একবার পা দেওয়া মানে, এখন থেকে আমাদের জন্য পরপর যে যে ধাপগুলি নির্দিষ্ট করে এগিয়ে দেওয়া হবে। আবিশ্ব প্রত্যেক মানুষকেই পরপর সেই সব ধাপে পা বাড়াতেই হবে। যিনি বা যাঁরা বিরুদ্ধতা করবেন। সমাজ তাদের সমাজচ্যুত করবে। কারণ সমাজকেও এই নিউনর্ম্যাল নতুন ভাবে মডুলেট করতে থাকবে। সহজ বাংলায় যাকে আমরা কান মোচড়ানো বলি। ফলে এই নিউনর্ম্যাল বিশ্ববন্দোবস্তের নিরন্তর মডুলেশনের ভিতর দিয়ে চলতে হবে এখন আমাদের।

বিস্তারিত পড়ুন

দি‌ন আনা দিন খাওয়া ভারত

শুধু মাত্র এক মে মাসেই দেড় কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন এই বছরের করোনার ধাক্কায়। জানুয়ারী থেকে ধরলে যে সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়ায় আড়াই কোটির বেশি। এই তথ্য মিলছে Centre for Monitoring Indian Economy (CMIE) থেকে। কিন্তু এইটাই কি সামগ্রিক চিত্র? এর সাথে অসংগঠিত ক্ষেত্রের ছবিটা যুক্ত করতে পারলে আসল ছবি স্পষ্ট হতো। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কথাই যদি ধরা যায়। চলমান লকডাউনে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজনের কতজন ঠিক মতো রোজগার করতে পারছেন। আর কতজন সেটি পারছেন না, তার হিসেব কে দেবে? গোটা রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে সঠিক পরিসংখ্যান তুলে আনা বাস্তবিক অসম্ভব। ব্যায় সাপেক্ষও বটে। মোটামুটি ভাবে একটা নমুনা পরিসংখ্যানের উপরে ভিত্তি করেই হয়তো সমাগ্রিক একটা চিত্র প্রকাশ করা হয়। বাস্তব পরিস্থিতির সাথে তার মিল অমিল কতটা। সেটা কিন্তু অজানাই রয়ে যায়। এদিকে কয়েকটি বিষয়ে নজর দিলে একটা অনুমান করা সম্ভব হয়। যেমন পরিবহন। পরিবহন বন্ধ থাকা মানে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের একটা বড়ো অংশেরই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া। রাজ্যজুড়ে লোকাল ট্রেন পরিসেবা বন্ধ। ট্রেনের হকার, রেলস্টশনের হকারদের অবস্থা কি এইমুহুর্তে? আন্তর্জেলা বাস পরিসেবা বন্ধ থাকায় বাস টার্মিনাসগুলিতেও হকারদের কেনাবেচা বন্ধ। এদের কি অবস্থা? কিভাবে চলছে সংসার? এদের জন্য আলু পটল চাল ডালের দাম তো আর কমিয়ে দেওয়া হয় নি। হ্যাঁ সরকারী রেশন ব্যবস্থার সুবিধেপ্রাপ্তরা অন্তত অনাহারে মারা যাবে না। কিন্তু অসুখ বিসুখ চিকিৎসা? ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ? ওষুধের দোকানে গেলে দামে তো কোন ছাড় নাই। কি কেন্দ্র কি রাজ্য সরকার, কেউই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের জন্য ন্যূনতম মাসিক রোজগারের ব্যবস্থা করে নি। চালু করে নি ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম স্কীম। এদিকে লকডাউনের সুযোগে বিলিওনীয়ররা আরও বেশি করে ফুলে ফেঁপে উঠে সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকগুন বাড়িয়ে নিয়েছে, এবং নিচ্ছে। মানুষের হাতে কাজ নেই। চাহিদা নিম্নমুখী। উৎপাদন কম। অথচ দেশজুড়ে বেশ কিছু নতুন বিলিওয়নীয়র ধনকুবেরদের তালিকায় নাম উঠিয়ে ফেলেছে। এর রহস্য কি? অর্থনীতির প্রাথমিক শর্তগুলি পুরণ না হওয়া সত্তেও কি করে হাতে গোনা কিছু মানুষের সম্পত্তির পরিমাণ প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে? কলকারখানায় মন্দা। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা। দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার মাইনাসে নেমে গিয়েছে। অথচ শিল্পপতিদের সম্পদ বেড়েই চলেছে। সরকার মানুষের উপরে ক্রমাগত করের বোঝা বাড়িয়েই চলেছে। তবু ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম চালুর কোন সম্ভাবনা নেই ভারতবর্ষে।

বিস্তারিত পড়ুন

লকডাউন জিন্দাবাদ

নিজের ঘরে মড়ক না লাগা অব্দি আমরা মনে করছি, এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না। আমি তো মাস্কের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখেই বাড়ির বার হচ্ছি। পকেট ভর্তি স্যানিটাইজার। ঘন ঘন হস্তমন্থন! মানুষ দেখলেই ভুত দেখার মতো সভয়ে সোশ্যাল ডিস্টেনসিং। মেসির মতো ডজ করে করে মানুষের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে পথে চলছি। করোনা বৎ পথিকেষু ধরে নিয়েই আত্মরক্ষার বন্দোবস্ত! তারপর বাড়ি ফিরেই জামা প্যান্ট ওয়াশিং মেশিনে। সাবান হাতে দুই তিন মিনিট আবারও হস্ত প্রক্ষালন। এর ভিতরে লক ডাউন হলে তো খুবই ভালো। ভাঁড়ার ঘর পরিপূ্র্ণ। রেফ্রিজেরেটর ভর্তি। বাকি সব অনলাইনে! ফলে নো চিন্তা ডু ফুর্তি। হ্যাঁ দেশের অবস্থায় আমিও চিন্তিত। তাই তো সকাল সন্ধ্যায় শ্মশানের ছবি। হাসপাতালের ছবি। অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকে মরা মানুষের ছবি পোস্ট করছি। শেয়ার করছি। নিজের স্ট্যাটাসে সকলকে সাবধানে থাকার ফ্রি অফ কস্ট পরামর্শও দিচ্ছি। তারপরেও অমুকের মৃত্যু তমুকের মৃত্যুতে শোকের ইমোজীও পোস্ট করছি। অর্থাৎ একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্য পালনে আমিও রয়েছি বাকিদের সাথে।

বিস্তারিত পড়ুন

অতঃকিম লকডাউন

আবারো প্রায় পুরোপুরি লকডাউন। গণ পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ। অফিস কাছারী বন্ধ। কলকারখানা প্রায় অচল। দৈনিক আয়ের উপরে জীবিকা নির্বাহী জনসাধারণের অধিকাংশেরই সাড়ে সর্বনাশ। সকলেরই প্রায় একই কথা। লকডাউনই শেষ রাস্তা। হাতে যখন অন্য কোন উপায় নেই। উপায় বলতে প্রথমেই সংক্রমণ কমানো। তারম আগে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের জোগান নিশ্চিত করা। তার আগে গুরুতর অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল। বেড। ডাক্তার। নার্স। ওষুধ পত্র। এবং চিকিৎসা নিয়ে কালোবাজারী রোধ। না এর কোনটিই রাষ্ট্র ও তার প্রশাসক নিশ্চিত করতে পারে নি। এক বছরের উপরে হাতে সময় পেয়েও। তারা সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও কিছু বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত ছিল। যেমন নতুন শিক্ষা নীতি প্রণয়ন। নতুন শ্রম নীতিতে শ্রমিকের কাজের সময় আট ঘন্টা থেকে বাড়িয়ে একেবারে বারো ঘন্টায় তুলে দেওয়া। শ্রমিকদরদী সরকারের কাছ থেকে যেমনটি আশা করা যায়। নতুন কৃষি আইন চালু করে দেওয়া। ভারতবর্ষে কৃষি ব্যবস্থার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে কৃষির নিয়ন্ত্রণ বৃহৎ পুঁজির স্বার্থে চালিত হবে। বিশ্ব অর্থ সংস্থা ও বিশ্ব ব্যাংকের যেটা বহু দশকের দাবি ছিল। সেই দাবি পুরণ করে প্রশাসন ভারতবর্ষকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করে দিল বলা যেতে পারে। সকল ভারতীয়েরই তাতে গর্বিত হওয়া উচিত। এবং এরই সাথে এই পর্বেই সরকার অতিরিক্ত পরিমাণে আক্সিজেন ও ভ্যাকসিন রপ্তানীতে শিল্পমহলকে উৎসাহিত করে আবিশ্ব করোনা মোকাবিলায় সদর্থক ভুমিকা রাখতে পেরেছে। পেরেছে দেশীয় অর্থনীতিতে বিদেশী ডলার নিয়ে আসতে। না, সে অর্থ কাদের জিম্মায় গচ্ছিত সেটি জনতার দেখার বিষয় নয়। বিশ্বে ভারতবর্ষের মহিমা বিস্তারে পূর্বের কোন প্রশাসনই এমন ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। না এখানেই বা শেষ হবে কেন? সরকার কুড়ি হাজার কোটি টাকা খরচ করে নতুন আইনসভা প্রধানমন্ত্রী’র প্রাসাদ। উপরাষ্ট্রপতির বাস ভবন সহ একাধিক প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের জরুরী কাজ অত্যাবশ্যকিয় পরিসেবা আইনে শুরু করে দিয়েছে। না প্রকল্প এলাকায় কোন লকডাউন নেই। থাকবেও না। সেটি হয়তো করোনা মুক্ত জোন কিনা, আমরা জানি না। সব সরকার জানে। সরকার দেশব্যাপী নাগরিকদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যায় বরাদ্দ করেছে। যে অর্থে প্রায় একশো ষোলো কোটি ভারতীয়কে দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন দেওয়া যেত। কিন্তু গেলে ভ্যাকসিন মুনাফার লাল বাতি জ্বলে যেত। তাই সেই পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকার আর কোন হদিশ আমাদের কাছে নেই। অগত্যা, বল এখন রাজ্য সরকারের কোর্টে।

বিস্তারিত পড়ুন

অনলাইন ক্লাস ও লাইনচ্যুত শিক্ষার্থী

এক বছরের উপরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শুধু আমাদের বাংলাতেই নয়। বিশ্বজুড়ে। হাতে গোনা কয়েকটি দেশ বাদে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শুরু হয়েছে জোড়াতালি দেওয়া অন লাইন ক্লাস। কথায় বলে নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। ভালো, কিন্তু অনলাইন ক্লাস করতে ন্যূনতম একটি স্মার্ট ফোন আবশ্যক। আমাদের বাংলায় কত শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে এই স্মার্ট ফেন রয়েছে? কয়েক হাজার কোটি টাকার নির্বাচন শেষ হলো। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে অন লাইন ক্লাস করার জন্যে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার দায় কে নেবে? কেনই বা নেবে। অর্থাৎ এই অনলাইন ক্লাস থেকে এক ধাক্কায় মোট শিক্ষার্থীর একটা বড়ো অংশই বাদ পড়ে গিয়েছে। তাদের জীবন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে বসেছে দুই দুটি বছর। এই মুহুর্তে দেশের মহামারী পরিস্থিতি যে জায়গায় এসে পৌঁছিয়েছে। তাতে চোখ বুঁজে বলে দেওয়া যায়, এই বছরেও অন্তত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বন্ধ তালা খোলা হবে না। অনলাইন ক্লাস চলতে থাকবে। যেমন চলছে। ফলে এই যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী, যাদের হাতে স্মার্ট ফোনও নেই। তারা কিন্তু ব্রাত্য থেকে গেল শিক্ষার অধিকার এবং সুযোগের থেকে। এর দায় কে নেবে? আর কেনই বা নেবে। মহামারী’র সরাসরি প্রভাবে বাংলার শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশেরই এই যে একটা মহাক্ষতি হয়ে গেল। তার একটা মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে আমাদের সমাজে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলেও, এদের একটা বড়ো অংশই কিন্তু আর শিক্ষার চৌহদ্দীতে ফিরে আসতে পারবে না। আর যারা আসবে, তাদেরও বাকিদের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে থাকতে হবে। পরবর্তীতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের গন্তব্য হবে প্রধানত কায়িক শ্রমের বাজারে।

বিস্তারিত পড়ুন

অষ্টম আশ্চর্য্য

ভদ্রলোকের নাম ডেভিড জোনস। পেশায় সাংবাদিক। কাজ করেন ইংল্যাণ্ডের নাম করা দৈনিক ডেইলি মেলে। সেই ডেইলি মেলেই গত বুধবার তাঁর লেখা একটি প্রতিবেদন সারা ফেলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম: “The monstrous monument to Narendra Modi’s ego: As millions suffer in pandemic, India’s narcissistic Prime Minister is building a vast folly at a cost that could fund 40 major hospitals. Now his nation is in uproar”। এই মুহুর্তে যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে। এখন অব্দি ভারতে দুই লক্ষ চৌত্রিশ হাজার সাতশ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বভাবতঃই আসল সংখ্যা তার থেকে অনেক বেশি। দৈনিক সংক্রমণ চার লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। দৈনিক মৃত্যু প্রায় চার হাজারের গণ্ডীতে দাঁড়িয়ে। ডেইলি মেলে যে প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে, তার মূল বক্তব্যের সাথে হয়তো অনেকেই একমত হবেন না। কিন্তু এটা ঘটনা, দিল্লীতেই যেখানে শ্মশানের পর শ্মশানে দিনরাত চিতার আগুন জ্বলছে। শুধু মাত্র একটা অক্সিজেনের সিলিণ্ডারের খোঁজে মানুষ হন্যে হয়ে এই দরজা থেকে ঐ দরজায় ঘুরে মরছে। সেখানে প্রাথমিক হিসাব অনুসারে কুড়ি হাজার কোটি টাকার বাজেটে শুরু হয়েছে দেশ প্রধানের সাধের প্রকল্প। সেন্ট্রাল ভিস্তা। তৈরী হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম সংসদ ভবন সহ এক সামগ্রিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স। যে কমপ্লেক্সে থাকবে দেশের প্রধান মন্ত্রীর বাসভবনও। ডেইলি মেলের এই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যায় বরাদ্দের হিসাবে ধরলেই এই একই টাকায় গড়ে তোলা যেত বিশ্ব মানের চল্লিশটি বৃহৎ হাসপাতাল। যেখানে হয়তো সব রকমের চিকিৎসার সুযোগ থাকতে পারতো। প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যাচ্ছে, প্রায় পঞ্চাশটি ফুটবল স্টেডিয়াম গড়ে তোলার মতো জায়গা জুড়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। যেখানে দৈনিক প্রায় দুই হাজারের কিছু বেশি শ্রমিক কাজ করে চলেছে। এবং মনে রাখতে হবে দিল্লীতে এই মুহুর্তে চলছে লকডাউন। তাহলে এত এত শ্রমিক এক সাথে কি করে দুইবেলা কাজ করে চলেছে? লকডাউনের ভিতরেই। এটি সম্ভব হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় থাকা এই বিস্তৃত অঞ্চলটিকে লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলেই। কিন্তু কি করে সম্ভব হলো সেটি? কোন আইনের বলে? স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্নটি উঠে আসে। তারও উত্তর রয়েছে। কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজকে অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা আইনের ভিতরে নিয়ে এসেছে। ফলে প্রায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে সেন্ট্রাল ভিস্তা নির্মাণের কাজ। এবং মনে রাখতে হবে ভারতবর্ষে করোনা সংক্রমণের এই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতির ভিতরে অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা আইনে কোন হাসপাতাল নির্মাণ কর্মের খবর নাই আমাদের কাছে। কিন্তু গড়ে উঠছে সেন্ট্রাল ভিস্তা।

বিস্তারিত পড়ুন