সবকা সাথ সবকা বিকাশ

সবকা সাথ সবকা বিকাশ। একেবারে যথার্থ কথা। বেদবাক্য। হাসপাতালে যান। দেখতে পাবেন একটু অক্সিজেনের জন্য কাতারে কাতারে রুগী সব কা সাথ। শ্মশানে যান। সেখানেও দেখতে পাবেন। একটা ফাঁকা চিতার জন্য কাতারে কাতারে মড়া পড়ে রয়েছে। চিতার লেলিহান শিখায় বিকাশের অপেক্ষায়। ভারতবর্ষ জুড়ে সবকা সাথ সবকা বিকাশের যজ্ঞ চলছে। একদমই ভাববেন না, এটা করোনা কালের ঘটনা শুধু। সেই নোট বাতিলের রাত্রি আটটার পর থেকেই এই সবকা সাথের খেলা শুরু হয়ে যায়নি? দেখেন নি আপনি? সব কা সাথ লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাতিল নোটের তোড়া হাতে ঘন্টার পর ঘন্টা দেশ কা বিকাশের ডাকে কতজনকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল? না না, আজ আর সে কথা মনে নাই। কি বলেন? অত শত মনে রাখতে গেলে কি আর চ্ছাপ্পানো ইঞ্চীর গল্পের সাথে তাল মেলানো যেত? ঘন্টার পর ঘন্টা গ্রাহকের বাতিল নোটের তোড়া মেলাতে মেলাতে যারা পরপারে গিয়েছিল, ভালোই হয়েছিল। দেশের জন্য আত্মবলি দেওয়া নাগরিকেরও দায়িত্বের ভিতরেই পরে। তো সেই সব কা সাথ সব কা বিকাশের নোট বাতিলে সকলের সাথে অনেকেরই কর্মসংস্থানের পাট চুকে গেল। সব কা সাথ একেবারে রাস্তায়। ওদিকে কালোটাকার কারবারীরা চোরে চোরে মাসতুত ভাই, সব কা সাথ কালো টাকা সাদা টাকা করে নিল। সব কা বিকাশের কি সুন্দর পথ! এতো ছিল শুরুর পর্ব মাত্র। তারপর গুজারাটি ব্যাংকলুঠেরা সব কা সাথ দেশের ব্যাংক লুঠ করে একে একে দেশ থেকে পালিয়ে গেল। আমজনতার জমানো টাকা একেবারে ভোঁভোঁ। সব কা বিকাশের কি অসাধারণ উদ্ভাবন ভাবুন। হ্যাঁ, সেই বছরে দুই কোটি চাকরি? সব কা সাথ, কি রং তামাশাই না হলো। কিংবা প্রত্যেকের ব্যাংক একাউন্টে সুইস ব্যাংক থেকে উদ্ধার করা পঁচাত্তর লক্ষ কোটি টাকার হিস্যা, মাথা পিছু পনেরো লাখ টাকা দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সব কা সাথ একেবারে সরাসরি এপ্রিল ফুল!

বিস্তারিত পড়ুন

বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতি

সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশের মানুষের উপর অর্থনৈতিক শোষণ চালানো একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম। বর্তমানে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে এই কার্যক্রমের সফল প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে অনেকটাই। ক্ষমতার অপব্যবহারেও, এই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রয়াস খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ। শুধুই রাজনৈতিক ভাষণের ভিতর দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো নয়, সরকারী আইন প্রয়োগ করেও এই বিদ্বেষ ছড়ানোর অপপ্রয়াস দেখা যাচ্ছে। আর তারই প্রতিবাদে, সমাজের শুভবোধ সম্পন্ন মানুষ আজকে পথে নামা শুরু করেছে। সংবিধান বিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে হাতিয়ার করে ভারতব্যাপি যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সুখের কথা দেশের ছাত্রসমাজ প্রথমেই তার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছে। পাশে এসে দাঁড়িয়েছে নারীসমাজের একটি বড়ো অংশ। এর ফলেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ এবং দেশ ব্যাপি এন আর সি ও এন পি আর চালু করার বিরুদ্ধে আসমুদ্র হিমাচল ছাত্র যুবা নারী পথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে। সরকার পক্ষ থেকে সেই সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে দ্রুত ফলপ্রসু করে তোলার জন্য যাবতীয় প্রয়াস জারি রয়েছে। আর সেই উদ্দেশেই আন্দোলনরত জনগণের উপর দেশবিরোধী রাষ্ট্রবিরোধী ও বিশ্বাসঘাতক তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের ভিতর সরকারপন্থীদেরকে নানা ভাবে উস্কানী দেওয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশে। এই প্রয়াসে রাজনৈতিক নেতানেত্রী, মন্ত্রী আমলা সকলকেই কাজে লাগানো হচ্ছে খুব নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিক।

বিস্তারিত পড়ুন