যে প্রশ্ন তোলা নিষেধ

চৌঁত্রিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার সাতশো সতেরো। এই মুহুর্ত অব্দি সময়ে কোভিড-১৯ ভাইরাসের শিকার হয়ে প্রাণত্যাগ করেছেন। বিশ্ব জুড়ে। দুইশো কুড়িটি দেশের ষোল কোটি আটান্ন লক্ষ সতেরো হাজার চারশ আটান্ন জন সংক্রমিত রুগীর ভিতরে। এই পরিসংখ্যান ওয়ার্ল্ডমিটারের দেওয়া তথ্য অনুসারে। অনুমান করতে অসুবিধে নাই, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশিই হতে পারে। অনেকেই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। অনেকেই সুস্থতার পথে। কিন্তু এই মুহুর্তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন নিরানব্বই হাজার ছয়শ ঊনআশি জন করোনা সংক্রমিত রুগী। যাদের অবস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের তথ্য অনুযায়ী রীতিমত সঙ্কটজনক। যাঁদের একটা বড়ো অংশ আজ কালের ভিতরেই দেহ রাখতে বাধ্য হবেন। বিশেষত বাড়ি যদি হয় ভারতবর্ষ নামক দেশটিতে। তা হোক। এই যে বিপুল সংখ্যক মানুষ। যাঁদের আজকেও বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দেহত্যাগ করতে হলো। এই চৌঁত্রিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার সাতশো সতেরো জনের ভিতরে কয়টি দেশের রাষ্ট্র প্রধান মারা গিয়েছেন? কয়টি দেশের প্রধানমন্ত্রী মারা গিয়েছেন? কোন কোন বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কিংবা নেত্রী মারা গিয়েছেন? বিশ্বজুড়ে প্রথম একশ জন বিলিওনীয়রের ভিতরে কয়জন কোভিডের স্বীকার হয়ে দেহ রেখেছেন? ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক বিগফার্মাগুলির কয়জন মালিক এই ভাইরাসে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন? আর কত জন মিলিওনীয়র লকডাউনের এই বাজারে বিলিওনীয়র হয়ে উঠেছেন? কোন কোন দেশের সেনাপতি ব্রিগেডীয়র চীফ অফ আর্মি স্টাফ মারা গিয়েছেন? আপনি জানেন? কোন সঠিক তথ্য আছে আপনার নাগালে? হ্যাঁ কিছু কিছু দেশ প্রধানকেও মাঝখানে ভেন্টিলেটরেও চড়তে দেখা গিয়েছিল। দেশের মানুষ লকডাউন মানতে চাইছিলনা বলেই হয়তো। কিন্তু ভেন্টিলেটরে চড়ে তাদের স্বাস্থ্যের কোন অবনতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে শুনতে হয় নি এখন অব্দি। হ্যাঁ লকডাউনের একেবারে প্রাথমিক সময়ে স্পেনের এক রাজকুমারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু তার শ্রীমুখের ছবি দেখা যায়নি সম্ভবত।

বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ

শোয়ার ঘরে কেউ না থাকলে কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে না? রাত যত গভীর হয়। ডবল বেডের বিছানা জুড়ে কষ্টটাও তত দ্বিগুন হতে থাকে। গভীর রাতের সেই কাহিনীতে স্মৃতি যত টাটকা থাকুক না কেন। খুব একটা কাজে আসে কি? বিশেষ করে স্মৃতি দিয়ে মন ভোলানো গেলেও অঙ্গ প্রতঙ্গের নিঃসঙ্গতা ভোলানো কঠিন। ভুক্তভুগী মাত্রেই জানেন। আর জানেন বিগত এক বছরে করোনা এসে যাদের ডবল বেড সিঙ্গল করে দিয়ে গেছে। তারা। এমন আচমকা এই ধাক্কাটা আসার কথা ছিল না যেখানে। কেউই আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু ধাক্কাটা যেদিন ঘাড়ের উপরে এসে পড়লো। চোখের সামনে চোখে অন্ধকার নেমে এল প্রিয় মানুষটির দুই চোখ জুড়ে। আর কোনদিন জড়িয়ে ধরা হবে না। কোনদিন আদর করার উপায় থাকবে না আর। কোনদিন প্রিয় বুকে মাথা দিয়ে মনের অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করা যাবে না। এই হাত এই পা এই বুক এই ঠোঁট সবই রয়ে গেল। শুধু মিলনের উৎসবে সামিল হওয়ার একান্ত আদরের দুটো হাত দুটো পা আস্ত একটা ধুকপুক করা ভালো‌বাসার বুক হারিয়ে গিয়েছে চিরতরে। হারিয়ে গিয়েছে ভালোবাসার আদর ভালোবাসায় ভিজিয়ে নেওয়ার অনুপম দুটি ঠোঁঠও।

বিস্তারিত পড়ুন

মৃত্যুঘন্টা

এই মুহুর্তে অনেকেই করোনা পজেটিভ। অনেকেই নিজ গৃহে অন্তরীন। সংক্রমণ ঠেকাতে আলাদা ঘরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে। তাঁরা মন্দের ভালো। অন্তত অক্সিজেন বিপর্যয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে না এই মুহুর্তে। কিন্তু তাই বলে দুশ্চিন্তার হাত থেকেও রেহাই নেই। থেকে থেকে অক্সিমিটারে রিডিং মেলাচ্ছেন হয়তো বা। কিংবা অনেকেই একটু অক্সিজেনের জন্য হাঁপিয়ে উঠেছেন। মনে মনে মিনিট গুনছেন হয়তো। অমূল্য অক্সিজেনের জন্য। অনেকে হয়তো অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে হাসপাতালে পড়ে রয়েছেন। কেউ বা অচৈতন্য তবু। এই রকম পরিস্থিতিতে সত্যই কি আমরা কেউ ভালো রয়েছি? কেউ কি নিশ্চিত, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবেন? সকলেই হয়তো এক একটা দিন পার করছি ক্যালেণ্ডারের দিকে চোখ রেখে। যাক এই আজকের তারিখেও করোনাকে ফাঁকি দিতে পেরেছি। এ যেন শৈশবের সেই কানামাছি খেলা। এই বুঝি করোনা ছুঁয়ে দিয়ে যাবে। দাঁড় করিয়ে দেবে জীবন আর মৃত্যুর দোরগোড়ায় এক ভয়ঙ্কর ট্রাপিজের খেলায়। কখন যে ভারসাম্যের এদিক ওদিক হয়ে যাবে ঠিক নেই। একদিকে জীবনের মহামূল্যবান অক্সিজেন। উল্টোদিকে প্রতিটি প্রিয় জনের সাথে চির বিচ্ছেদ। বড়ো মায়াময় এই সংসার। এই জীবন। সব কিছুকে নিয়ে সব কিছুকে জড়িয়ে তবেই আমাদের বেঁচে থাকা। মৃত্যু অমোঘ জেনেও তাকে প্রতি মুহুর্তে অস্বীকার করেই আমাদের জীবনসংগ্রাম। প্রিয় মানুষগুলিকে জড়িয়ে নিয়েই এই জীবন। মায়া আর মমতা। স্নেহ আর ভালোবাসার সম্পর্কের গণ্ডীতেই আমাদের বাস। হঠাৎ দ্যুম করে সেই বাসস্থান থেকে আমাদের ছিনিয়ে নিতে দূয়ারে দাঁড়িয়ে করোনা।

বিস্তারিত পড়ুন

নিজের সাথে লুকোচুরি

প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ শুধু করোনার কারণে আর অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। এক একটি মৃত্যু এক একজনের জীবন কাহিনীর পাশে শেষ দাঁড়ি টেনে দিয়ে যাচ্ছে। আবার এক একটি মৃত্যু এক একটি পরিবারকে প্রায় পথের ভিখারিও করে দিয়ে যাচ্ছে হয়ত। আমরা কে আর তার খবর রাখতে যাচ্ছি। সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি অক্সিজেনের অভাবে কিংবা করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেলে একটা পরিবার ভেসে যেতেই পারে। যদি না আত্মীয়স্বজন সর্বতো ভাবে পাশে এসে দাঁড়ায়। তবে এই যুগে আত্মীয়স্বজন যে খুব একটা কাজে আসে তাও নয়। সকলেই যে যার সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত। আত্মীয়স্বজনের সমস্যায় সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো মন মানসিকতা আজকাল অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে যে পরিবারটি তার একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে এই করোনাকালে হারালো, একমাত্র সেই পরিবারই টের পায়। এই যুগে প্রকৃত আত্মীয় প্রায় রূপকথার দেবদূতের মতোই আজগুবি। লাখ লাখ মানুষ যেখানে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। সেখানে কে কার খোঁজ রাখে? মহামারী এইভাবেই মানুষকে বেঁচে থাকার বিভীষিকার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। যে চলে গেল। সে তো গেলই। বরং বেঁচেই গেল বলা চলে। কিন্তু যাদের ফেলে রেখে গেল। তাদের জীবনযাপন এই কঠিন পৃথিবীতে কতটা কঠিন, কতটা কষ্টকর হয়ে উঠছে, সেই খোঁজ রাখার মতো সময়ও আমাদের আজ নেই। সংবাদ শিরোনামে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মহামারীতে মৃত্যু হতে দেখে আমাদের মন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু এই রকম অসহায় পরিবারগুলি যখন সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে প্রায় পথে বসে যায়। তখন তাদের পাশে সমাজকে দাঁড়াতে দেখা যায় না বিশেষ।

বিস্তারিত পড়ুন