দিবানিদ্রার দিনগুলি

কার স্বার্থে এই লকডাউন? আমরা এদিকে নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করে বসে রয়েছি, আমাদের স্বার্থেই তো লকডাউন। আমরা যাতে আরও কয়টি দিন বেশি বেঁচে থাকি। সেটি নিশ্চিত করতেই না এই লকডাউন। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। না, তাই তো আমরা যেমন ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়েও তর্ক করতে রাজি নই। ঠিক তেমনই লকডাউন কাদের স্বার্থ পূরণ করছে। সেই তর্কেও আমাদের কোন উৎসাহ নাই। ফলে আমরা, আমাদেরকে যেমন শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দুইবেলা। টিভি আর নেটপাঠশালায়। আমরা ঠিক তেমনই লকডাউনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। বরং অবিশ্বাসীদের সাথেই আমাদের যাবতীয় তর্ক। লকডাউন ছাড়া এই অতিমারী ঠেকানোর আর কোন উপায় নাই বলে। প্রতিদিন যত বেশি মানুষেরই মৃত্যু হোক না কেন। আমরা বিশ্বাস করি। লকডাউন না করলে আরও আরও বেশি মানুষ মারা যেত। মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে না বাড়তে থাকলেও আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হয়ে ওঠে। লকডাউন করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে বলে। ফলে লকডাউন নিয়ে আমাদের কোন মাথাবাথ্যা নেই। মৃত্য যতই বেশি হোক। কিংবা মৃত্যু যতই কম হোক। লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আমরা দুই ভিন্ন ফলাফলেই শিরোধার্য্য করে নিয়েছি। ফলে আমরা নিশ্চিত, সরকার আমাদের সাথে রয়েছে। বরং যেখানে যেখানে লকডাউন করতে সরকারের দেরি দেখছি। সেখানেই আমারা অবিলম্বে লকডাউন করার দাবিতে সরব হয়ে উঠছি। আমাদের সামাজিক দেওয়াল জুড়ে।

বিস্তারিত পড়ুন

বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয় কোভিড-১৯

বিশ্বপতি জো বাইডেনের দপ্তরে সম্প্রতি এক তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়েছে। তদন্ত কি নিয়ে? না করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোথা থেকে ও কিভাবে, সেই বিষয় নিয়েই তদন্ত। না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই তদন্তের সাথে যুক্ত নয়। গোটা বিশ্বের হয়ে বিশ্বের এক মাত্র অভিভাবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু কোন কোন সংস্থাকে দিয়ে তারা সেই তদন্তকর্ম সম্পন্ন করেছে। সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে শুধু তদন্তের ফলাফল। স্বভাবতঃই আবিশ্ব মানুষ এই তদন্তের ফলাফল জানার অপেক্ষাতেই এতদিন ধৈর্য্য ধরে দিন গুনেছে্। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করা তদন্তের উপরে তো আর কোন কথা নেই। একেবারে বেদবাক্য। এখন দেখে নেওয়া যাক সেই তদন্তকর্মের রিপোর্টে কি কি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্রেই অবশ্য সেই ফলাফল যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশও করা হয়েছে। বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ারের করা তদন্তের ফলাফল। ছেলেখেলা নয়। যে যে বিষয়গুলি এই তদন্ত রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলির ভিতর প্রথমেই বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস কোনভাবেই বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয়। এখানেই একটু হোঁচট খেতে হবে আমাদের। আমরা যারা এতদিন বিশ্বাস করে এসেছিলাম, বায়োলজিক্যাল ওয়েপন হিসাবেই চীন এই অস্ত্র দিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল, তাদের অবশ্য এই রিপোর্ট হজম করতে বেশ বেগ পেতে হবে। আমাদের ভিতরে যারা আবার নিজামুদ্দিনে ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আউড়িয়ে হিন্দুত্ববাদী দেশপ্রেমে মুহুর্মুহ ভারতমাতা কি জয় বলে দেশ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহীদের খুঁজে বার করতে আসরে নেমে পড়েছিলাম টিভির বিশেষ বিশেষ নিউজ চ্যানেল খুলে রেখে। তাদেরও এই রিপোর্ট হজমে অসুবিধা আছে। যাই হোক বিশ্বপতি’র দপ্তরে জমা পড়া রিপোর্ট। চ্যালেঞ্জ করাও মুশকিলের বিষয়।

বিস্তারিত পড়ুন

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বক্তা মাত্র চার বছরের এক শিশু। দিদিমার সাথে খেলা করতে করতে মিউজিক্যাল কীবোর্ডে চাপ দিয়ে। কী অমোঘ উচ্চারণ! আসুন করোনা নাচ নাচি। সরকার বলেছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ নাচি। ডাক্তার বলছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ শুরু করে দিই। না হলে এই মহামারী সামলানো যাবে না। মিডিয়া বলছে লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা তো কবেই বিশ্ব শুদ্ধ মানুষকে এই করোনা নৃত্যের আসরে নামিয়ে দিয়েছে। নাচের ধরণ কি হবে। নাচের ছন্দ কি হবে। নাচের তাল লয় কখন কোন কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সব আগে থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা বেঁধে দিয়েছে, সেটা যদিও ওপেন সিক্রেট। কিন্তু না, সেসব বিষয় নিয়ে ঘুণাক্ষরেও আলোচনা করা যাবে না। করলে বিগ বসের গোঁসা হবে। বিগ বসের হাতের তালুর ভিতরে এখন গোটা বিশ্ব। মিডিয়া আগেভাগে একেবারে প্রথমেই সতর্ক করে দিয়েছিল। করোনা নৃত্যের ভিতর দিয়েই আমরা পৌঁছিয়ে যাবো এক নতুন পৃথিবীতে। যে পৃথিবীর গাল ভরা নাম “নিউ নরম্যাল”। আমরা যে যতটা করনো নৃত্যে পারদর্শী, সেই তত মহানন্দে এই নতুন বিশ্ব সম্বন্ধ ততধিক উৎসাহিত। মুখে মুখে আমাদের খই ফুটছে তাই নিউ নরম্যাল নিউ নরম্যাল বলে। করোনা নৃত্যের তালে তালে দিনে দিনে নিউ নরম্যাল তাথৈ নৃত্যে জড়িয়ে নিচ্ছে আমাদেরকে। সত্যিই তো করোনা নৃত্য আবিষ্কারের আগের পৃথিবী আর আবিষ্কারের পরের পৃথিবী কি আর এক হতে পারে? বিশ্বায়ন নিয়েও একসময় আমাদের তাথৈ নৃত্য মাতাল হয়ে উঠেছিল। সেই নৃত্যের তালেই কিন্তু করোনা ড্যান্সেরও জন্ম। ফলে বিশ্বায়ন যদি সলতে পাকানোর পর্ব হয়। তবে এই নিউ নরম্যাল খেলা শুরুর প্রথম পর্যায়। কিন্তু খেলাটা কি?

বিস্তারিত পড়ুন

স্কুল খোলার ঘন্টা

অবশেষে স্কুল খোলার ঘন্টা কি বাজতে চলেছে? গত বছর মার্চের প্রথমেই স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে স্কুল কলেজের পড়ুয়ারা এক কথায় স্কুলছুট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনলাইন ক্লাসের সুযোগ প্রাপ্ত সৌভাগ্যবানেরা মধ্যবর্তী সময়ে কতটা শিক্ষার্জন করতে পেরেছে সঠিক ভাবে বলা সম্ভব নয়। আর অনলাইন ক্লাসের আওতার বাইরে পড়ে থাকাদের পক্ষে পরবর্তী পড়াশুনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া আদৌ কতটা সম্ভব হবে বলা মুশকিল। এর ভিতরে বিনা পরীক্ষায় প্রায় সকলকে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পাশ করিয়ে দিতে হওয়ায় আরও একটা বড়ো সমস্যা সামনে। এই বিপুল পরিমাণ পাশের সার্টিফিকেট হাতে ধরা পড়ুয়ারা পরবর্তী পড়াশুনা চালিয়ে নিয়ে যেতে চাইলেও তো পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করতে পারবে না রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে বহু ছাত্রছাত্রীকেই পাশের কাগজ হাতে নিয়ে বাড়িতেই বসে থাকতে হবে। ভর্তি’র সুযোগ না পেয়ে। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি প্রায় হাতের বাইরে। সেই অবস্থায় স্কুল খোলার কথা শোনা যাচ্ছে। আপাতত লক্ষ্য পুজোর ছুটির পর। একদিন অন্তর স্কুল খোলা হতে পারে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না, একদিন অন্তর খোলা আর প্রতিদিন স্কুল খোলার ভিতর ঊনিশ বিশ কি পার্থক্য থাকতে পারে। কথা হচ্ছে সকল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের টীকাকরণ সম্পূর্ণ করেই স্কুল খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করার। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ভিতরে সেই লক্ষ্য পুরণের সম্ভাবনাই বা কতটা। প্রশ্ন সেখানেও। যদি আরও আগে থেকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সরকারী প্রকল্পের আওতায় সকল শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মীদের টীকারণ শুরু করা যেত। তাহলে হয়তো নিশ্চিত হওয়া যেতে পারতো, স্কুল খোলার সময়ে সকলেই টীকা নিয়ে করোনা মোকাবিলায় তৈরী। সেক্ষেত্রে অভিভাবকরাও অনেক বেশি নিশ্চিন্তে পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের টীকারণের পরিস্থিতি যে পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। তাতে পুজোর ছুটির ভিতরে প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সহায়কদের টীকাকরণ সম্পূর্ণ হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। সরকার বড়োজোর নিয়ম করতে পারে। কেবলমাত্র যাঁদের টীকাকরণ সম্পূর্ণ, সেই সকল শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী ও সহায়করাই স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রেও অধিকাংশ স্কুল কলেজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মী ও শিক্ষক পাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে পঠনপাঠন স্কুল খুললেই যে রাতারাতি পুরোদমে শুরু করা যাবে, বিষয়টা আদৌ সেইরকম নয়।

বিস্তারিত পড়ুন

ভ্যাক্সিন পাস ভ্যাক্সিন ভিসা

অবশেষে স্থানীয় প্রশাসন থেকে হুকুমনামা জারি হয়ে গিয়েছে। দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার প্রমাণপত্র কিংবা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া দীঘার কোন হোটেলেই কেউ ঘর ভাড়া পাবে না। ঠিক এই সম্ভাবনার কথাই সকলের আশঙ্কায় ছিল। যাঁরা ইতিমধ্যেই দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা অবশ্য এই হুকুমনামার সাথে সহমত হবেন। তাঁরা মনে করবেন। এমনটাই তো হওয়া উচিত। এমনটা হলেই করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে। এবং নিশ্চিন্তে বাইরে চলাফেরা করা যাবে। কিন্তু সেই সাথে তাঁদের এই কথাও স্মরণ করা উচিৎ, যে ভ্যাক্সিন তাঁরা শরীরে ঢুকিয়েছেন। সেই ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থা বলেই দিয়েছে, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও করোনা হতেই পারে। ফলে দীঘার স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা হুকুমনামা মানা হলেও, দীঘা থেকে যে আর করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। শুধু দীঘা কেন। এই তো সবে শুরু। এখন থেকে নানান জায়গায় যাওয়ার বিধিনিষেধ হিসেবে এই ভ্যাক্সিন নেওয়া ও না নেওয়া একটা বড়ো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ কোন দেশে ঢুকতে গেলে যেমন বৈধ ভিসা লাগে। ঠিক তেমনই এখন থেকে নিজের দেশের নানা প্রান্তে যাওয়া থেকে শুরু করে ব্যাংক অফিস আদালত দোকান বাজার পার্ক রেস্তোঁরা ইত্যাদি প্রায় সকল স্থানে প্রবেশ করতে গেলেই এই ভ্যাক্সিন ভিসা স্বরূপ দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার সংশাপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে। ভ্যাক্সিন পাস কিংবা ভ্যাক্সিন ভিসার এই বিষয়টি নিউ নরম্যাল বন্দোবস্তের প্রবক্তারা আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছেন। প্রশাসন শুধু সেটি কার্যকরী করছে, করবে। এর ফলে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছু থাকলো না। প্রয়োজন থাকুক না থাকুক। ইচ্ছা হোক না হোক। প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই যে প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই বাধ্যবাধকতাই ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের বিপুল মুনাফার প্রাণভোমরা।

বিস্তারিত পড়ুন

তরল হীরে ভ্যাক্সিন

রাতভোর লাইন দিয়েও ভ্যাক্সিন মিলছে না অনেক জায়গাতেই। চাহিদার তুলনায় যোগান কম। সরকার বিপুল পরিমাণ চাহিদার তুলনায় মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন পোঁছিয়ে দিতে পারছে না। কারণ সরকার ভ্যাক্সিন তৈরী করছে না। নির্ভর করছে বেসরকারী ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উপরে। চাহিদার তুলনায় যোগান নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও বেশি সংখ্যক ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়া যায়। এদিকে আতঙ্কগ্রস্ত নাগরিক একটা দুটি ভ্যাক্সিনের জন্যে এদিক থেকে ওদিক ছোটাছুটি করছেন। আর ভাগ্যবান যারা ভ্যাক্সিনের একটি ডোজ শরীরে ঢোকাতে সমর্থ হচ্ছেন। তাঁরা আপাতত হাঁফ ছাড়ছেন। যাক একটা তো হলো। দ্বিতীয়টর জন্য হাতে বেশ কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। আর অতি সৌভাগ্যবান যাঁরা দুটি ডোজ নিয়ে ফেলেছেন। তাঁদের তো কথাই নেই। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত বলে মনে হচ্ছে নিজেকে। কিন্তু তাঁদের কজনের জানা রয়েছে, যে ভ্যাক্সিন শরীরে ঢুকিয়ে তাঁরা করোনার রক্ষাকবচ জোগার করে ফেলেছেন বলে বিশ্বাস করছেন। সেই ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিই জানিয়ে রেখেছে। এই ভ্যাক্সিন নিলেই যে করোনা হবে না। তেমন কোন নিশ্চয়তা নেই। অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যে বেশ কয়কেজন চেনা পরিচিত মানুষজনের মৃত্যুর খবরও পেয়ে থাকবেন। যাঁরা একটি বা দুটি ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়েও হঠাৎ করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা গিয়েছেন। মজার কথা, সরকার বা বেসরকারী মিডিয়া। কেউই ভ্যাক্সিন গ্রহীতাদের ভিতরে কতজন করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন। আর কতজন মারা যাচ্ছেন। তার কোন সঠিক তথ্যই আমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন না। অথচ নিয়ম করে এবং ফলাও করে আজ দেড় বছর ধরে প্রতিদিনের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর প্রচারিত হচ্ছে।

বিস্তারিত পড়ুন

কোভিশীল্ড কোভ্যাক্সিন

ভ্যাক্সিনের প্রসঙ্গ উঠলেই এখন রাজ্যবাসীর চোখে দেবাঞ্জন দেবের মুখাবয়ব ভেসে উঠছে। ভ্যাক্সিনের ভায়ালের ছবি দেখলেই জাল ভ্যাক্সিনের বিভীষিকা মনের ভিতর জুড়ে বসছে। আসল ভ্যাক্সিন না নকল ভ্যাক্সিন এই নিয়ে রাজ্যবাসী খুবই সন্ত্রস্ত এখন। আর অপর দিকে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের ভারতব্যাপী সাফল্যে, মানুষ প্রায় নাওয়া খাওয়া ভুলে ভ্যাক্সিনের পিছনে ছুটছে। সরকারী হাসপাতাল থেকে যাঁরা ভ্যাক্সিন নিচ্ছেন তাঁরা বরং নিশ্চিন্ত। যাক এবারে করোনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল ভেবে। শরীরে সরকারের সরবরাহ করা আসল ভ্যাক্সিন ঢুকে গেলেই মানুষের মনবল বেড়ে যাচ্ছে। এগুলি খুবই আশার কথা। এবং কথায় বলে আশায় বাঁচে চাষা। এবারে কয়েকটি তথ্যের দিকে আলোকপাতা করা যাক। ভারতে এখন অব্দি মূলত দুইটি ভ্যাক্সিন ব্যবহার করে প্রায় বত্রিশ কোটির মতো মানুষের টীকাকরণ করা হয়েছে। সেই  ভ্যাক্সিন দুইটি হলো, সিরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশীল্ড। আর ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন। প্রথমটি ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানিজেশন কর্তৃত স্বীকৃত। কিন্তু দ্বিতীয়টির স্বীকৃতি জোটে নি এখনো। আরও খবরে প্রকাশ, ব্রাজিলে এই কোভ্যাক্সিনের বরাত নিয়ে সেই দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। যদিও আমাদের আলোচনা সেই বিষয় নিয়ে নয়। আজকের খবর। ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলিতে কোভিশীল্ড নেওয়া ভারতীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে। অর্থাৎ কোভিশীল্ড নেওয়া ভারতীয়রা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন দেশে প্রবেশের গ্রীনপাস ভিসা পাবেন না। অন্যদিকে কোভ্যাক্সিন নেওয়া ভারতীয়রা হু অনুমোদিত ভ্যাক্সিন না নেওয়ায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই ভিসা পাবেন না। এখন আপনি ভাবুন। যে কোভিশীল্ড কিংবা কোভ্যাক্সিনের আসল ডোজ সরকারী হাসপাতাল বা সরকার অনুমোদিত নাম করা বেসরকারী হাসপাতাল থেকে আপনি শরীরে ঢুকিয়ে কর‌োনা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাচ্ছেন। সেই ভ্যাক্সিন ইউরোপ আমেরিকার উন্নত দেশগুলিতেই স্বীকৃতি লাভে ব্যার্থ এখনো। না, আপনি আমি হয়তো এখনই বিদেশ পারি দিচ্ছি না। আমাদের এই মুহুর্তে কোন দেশের ভিসা জোগারের প্রয়োজনীয়তা নেই হয়তো। কিন্তু এই সংবাদ জানার পরে আমাদের মনের ভিতরে সরকারী টীকাকরণ কেন্দ্র থেকে নেওয়া ভ্যাক্সিনের উপরে কতটা নিশ্চয়তা থাকতে পারে? আমরা যারা দেবাঞ্জন দেবের ভ্যাক্সিন শিবির থেকে ভ্যাক্সিন নিই নি? আমরা যারা আসল ভ্যাক্সিন নেওয়ার আনন্দে কাল অব্দিও মশগুল ছিলাম।

বিস্তারিত পড়ুন

সর্ষের মধ্যেই ভুত

আসুন একটা কথা মন খুলে স্বীকার করে নেওয়া যাক। রাজ্য সরকার ও তার প্রশাসনের ভিতরে অনেক রকমের গলদ রয়ে গিয়েছে। সরকারে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী সমর্থক ও ভোটার, আপনি যেই হোন না কেন। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কে কি বলছে। সেটি বড়ো কথা নয়। শাসকদলের কর্মী সমর্থক ও ভোটার হিসেবে আপনারও দায় রয়েছে এই কথা স্বীকার করে নেওয়ার যে, হ্যাঁ অবশ্যই সর্ষের মধ্যে ভুত রয়ে গিয়েছে। সত্যকে স্বীকার করার ভিতরে কোন পরাজয় নেই। বরং আত্মপ্রত্যয়ের দৃঢ়তাই প্রতিষ্ঠিত হয় তাতে। উল্টে, সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় ভীরুতার দুর্বলতাই প্রকাশ হয়ে পড়ে। ঠিক যেমন হয়েছিল, সারদা কেলেঙ্কারির সময়। গলায় ‘আমরা সবাই চোর’ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে নাগরিক সঙ বের করার দিনে। তাতে দেশবাসীর চোখে খুব যে বিশেষ সম্মানবৃদ্ধি হয়েছিল শাসকদলের, তা কিন্তু নয় আদৌ। সারদার টাকা কোন ম্যাজিকে ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছিল। কারুরই সেদিন বুঝতে বাকি ছিল না। কিন্তু সে ছিল পকেটমারদের হাতসাফাই। রাজনীতির পরিশীলিত পরিভাষায় যাকে বলা হয়, আর্থিক কেলেংকারী। যদিও বেশ কয়েকজন মানুষ আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক অসম্মানের কবলে পড়ে আত্মহননের পথে এগোতে বাধ্য হয়েছিল। সেই দাগ কিন্তু আজও লেগে রয়েছে। এখনো মামলা আদালতে বিচারাধীন। বিচারের রায় প্রকাশের আগে সেই দাগ দূর হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। কয়েকজন মানুষের স্বার্থে সারদায় সাধারণ মানুষের লগ্নীকৃত টাকা হাপিশ হয়ে যাওয়া এক বিষয়। সেও জালিয়াতি। কিন্তু তার অর্থ পরিস্কার। ভারতবর্ষে তেমন ঘটনা নতুনও কিছু ছিল না। কিন্তু কসবায় ও সিটি কলেজের ভুয়ো ভ্যাক্সিন কাণ্ড কিন্তু নজিরবিহীন। এবং তার উদ্দেশ্য কিন্তু অনেক গভীর। একজন দেবাঞ্জন দেব নিশ্চয় জাদুকর ম্যানড্রেক নয়। যে আশে পাশে সকলকেই সম্মোহিত করে রেখে দেবে। তাও আবার দিনের পর দিন ধরে। সরকার থেকে প্রশাসন, নবান্ন থেকে কর্পোরেশন। কেউ টের পাবে না। একজন জালিয়াত নকল আই এ এস সেজে কর্পোরেশনের নিশান লাগানো গাড়ি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াবে। নকল কর্পোরেশনের অফিস খুলে ভুয়ো চাকরীতে লোক নিয়োগ করছে। কর্পোরেশনের আধিকারিকের সই জাল করে ব্যাংকে একাউন্ট খুলছে কর্পোরেশনের নামেই। কেউ যদি মনে করে, সরকার ও প্রশাসনের, নবান্ন ও কর্পোরেশনের কারুর সহায়তা ছাড়া এত দিন ধরে এমন ভয়ানক জালিয়াতি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে মড়া মানুষও হেসে উঠবে।

বিস্তারিত পড়ুন

ভ্যাক্সিন বিভীষিকা

কলকাতাবাসী বেশ কিছুদিন ভাগাড়ের মাংস খেয়ে দিব্যি হজম করে ফেলেছিল। ভাগাড়ের মাংসের বিশাল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা কলকাতাবাসীকে সেই মাংস অন্তত যমালয়ে পাঠাতে পারেনি। কলকাতাবাসীর সহ্যশক্তির তুলনা নাই। ভাগাড়ের মাংস যারা হজম করতে পারে, তাদের জাল ভ্যাক্সিনে আর কতটা ক্ষতি করতে পারবে? বিশেষ করে যদি তা শুধুই জলে ভরা হয়ে থাকে। তাই কলকাতাবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা ততটা উদ্বিগ্ন নই। যতটা জালিয়াতির রকম নিয়ে। জাল পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়াও যে জালিয়াতির কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হতে পারে, সেটা জেনে নগরবাসীর চোখ কপালে উঠে গিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন সেই জালিয়াতি কর্মকাণ্ডে আপাতত ধৃত ব্যক্তিটিকে নিয়েও নয়। আমাদোর প্রশ্ন ভ্যাকসিন জালিয়াতির এই বিশাল কর্মকাণ্ডে কোভিশীল্ডের লেবেল লাগানো যে জাল ভায়ালগুলি হাজারে হাজারে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই জাল ভায়ালগুলি কাদের হাতে তৈরী হচ্ছিল? কোন উদ্দেশে? জাল কোভিশীল্ডের এই কারবার নিশ্চয় একজন দেবাঞ্জন দেবের কাছে বিক্রীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রস্তুত হতে পারে না। আবার যেহেতু খোলা বাজারেও কোভিশীল্ড বা কোভ্যাক্সিন পাওয়া যাবে না। ফলে খোলা বাজারে জাল ওষুধের বাণিজ্য করার জন্যেও এই কারবার নয় নিশ্চয়। তাহলে যে প্রশ্নটা হাতে পড়ে থাকে সেটা বেশ মারাত্মক। সরকারের বিলি করা কোভিশীল্ডের ভিতরেও এই জাল কোভিশীল্ড ঢুকে নেই তো? যাঁরা ভ্যাক্সিনের লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে আনন্দের সেল্ফি তুলে বাড়ি ফিরছেন। করোনাকে জব্দ করার হাতিয়ার হাতে এসে গেছে মনে করে। তাঁরা কিন্তু কেউই ভ্যাক্সিন নেওয়ার আগে ভায়ালের ণত্ব ষত্ব পরীক্ষা করে দেখে নিতে পারছেন না। জাল ভ্যাক্সিন ঢুকলো না আসল ভ্যাকসিন ঢুকলো। সরকারী হাসপাতালই হোক। আর বেসরকারী হাসপাতালই হোক। স্বেচ্ছাসেবী ভ্যাক্সিন ক্যাম্পই হোক। মানুষের পক্ষে কোনভাবেই ভ্যাক্সিনের শিশির লেবেল দেখে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। যে সেই ভ্যাকসিন আসল না নকল। সবটাই কপাল ঠুকে বিশ্বাসের উপরে ভরসা করে বসে থাকা।

বিস্তারিত পড়ুন

ভুয়ো ভ্যাক্সিনেশন প্রকল্প

এবারে ভুয়ো আধিকারিক। ভুয়ো পরিচয়পত্র। ভুয়ো ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প। কলকাতা কর্পোরেশনের নাম নিয়ে। কর্প‌োরেশনের লোগা সহ। এক আধ দিনের ব্যাপারও নয়। প্রতিদিন শ’য়ে শ’য়ে নাগরিক নাম লিখিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সেই ভ্যাক্সিনেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্যাক্সিন নিচ্ছে। নিখরচায় ভ্যাক্সিন। নিশ্চয়ই সরকারী প্রকল্পেই দেওয়া হচ্ছে। এমনটাই বিশ্বাস ছিল স্থানীয় জনগণের। বিশ্বাসে মিলায় ভ্যাক্সিন। তর্কে বহুদূর। ফলে স্থানীয় সাংসদকেও সেই ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পে ভ্যাক্সিন নিতে দেখা গিয়েছে। ঠকেছেন তিনিও। এবং সেইটিই আশ্চর্য্যের! রাজ্যে ক্ষমতাসীন শাসক দলের একজন সাংসদ, তাঁর কাছেও খবর ছিল না। গোটা বিষয়টিই ভুয়ো। অর্থাৎ জনগণ কোন তিমিরে বাস করছে। সেটি এই ঘটনা থেকেই নিশ্চিত বোঝা যায়। আশ্চর্য্যের বিষয় আরও রয়েছে। প্রথমত ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতায়। কোন গণ্ডগ্রামে নয়। দক্ষিণ কলকাতায় কসবা রাজডাঙার ঘটনা। ঝাঁ ঝকঝকে এক্রোপলিস মলের উল্টোদিকে কসবা নিউমার্কেট সংলগ্ন স্থানে এই ভুয়ো ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প চলছিল। গত ১৫ই জুন এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশে একটি অভিযোগও করা হয় নাকি কর্পোরেশন থেকে। এবং সবচেয়ে বড়ো আশ্চর্য্যের বিষয় এখানেই। ১৫ তারিখে করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভুয়ো আধিকারিককে গ্রেফতার করতেই এক সপ্তাহ লেগে গেল? সাতদিন আগে যাকে গ্রেফতার করলে বহু মানুষ এই ভুয়ো ভ্যাক্সিনেশনের খপ্পর থেকে বেঁচে যেতেন। কিন্তু তা হয় নি। খোদ কলকাতার বুকেই এই যদি হয় পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতার নমুনা। তাহলে সারা রাজ্যের পরিস্থিতি ঠিক কি রকম, অনুমান করতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।

বিস্তারিত পড়ুন