সম্পর্কের পরিসর

এক জনের সাথে আরেক জনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পারস্পরিক গণ্ডীর ভিতরে আজকাল নানাবিধ হিসেবনিকেশের ব্যালেন্সশীটের গুরুত্ব বড়ো বেশি। এই রকমারি হিসেবনিকেশের কেন্দ্রে থাকে শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ। শুধুই ব্যক্তিগত সম্পর্কও নয়, যে কোন মানুষের সাথে সামাজিক সম্পর্কের ভিতেও সেই ব্যক্তিস্বার্থের খেলা। ব্যক্তিস্বার্থের বাইরেও যে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। সে সত্য আমরা অনেক দিনই হলো ভুলতে বসেছি। আরও একটা কথা এই বিষয়ে বলা যেতে পারে। মানুষের বুদ্ধি যত ধারালো হয়ে উঠছে, পারস্পরিক সম্পর্কের ভিতরে স্বার্থজনিত নানান ধরনের হিসেব নিকেশের পাল্লাও তত ভারি হয়ে উঠছে। এবং জীবনযাপন যত বেশি আধুনিক হয়ে উঠছে, মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামও তত বেশি কঠিন ও জটিলতর হয়ে পড়ছে। ফলে ব্যক্তিস্বার্থের বিষয়টাই আমাদের জীবনে প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে ওঠায়, প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে হৃদয়ের ভুমিকা দিনে দিনে গৌণ থেকে গৌণতর হয়ে পড়ছে। হৃদয়ের আবেগের জায়গার অনেকটাই দখল করে নিচ্ছে এই স্বার্থবোধ জনিত চাওয়া পাওয়া, দেনা পাওনার হিসাবে নিকেশ। আমাদের বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্র। পরিবার থেকে সমাজ, সর্বত্র এই একই চিত্র। মানুষ এখন খুবই হিসেবী। আর এই হিসেব নিকেশের সম্পর্কের ধারার বাইরে যদি কেউ পড়ে যায়, বা থাকতে চায়। সমাজে সে’ই দলছুট। বাস্তববাদী মানুষের জীবন অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে সে মানুষ আজ সমাজে অচল। অথচ আজ থেকে যত শতক পিছনে যাওয়া যাবে, ততই দেখা যাবে সেই রকমেরই মানুষের ভীড় বেশি। যেখানে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ভিত গড়েই উঠতো মূলত হৃদয়ের দাবিতে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন ধারণের সংগ্রাম অবশ্যই আজকের মতো তীব্র ও ভয়ানক ছিল না। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিও এমন তীক্ষ্ণ ধারালো ছিল না। জীবন যেখানে অনেক বেশি সহজ সরল, মানুষের সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও সেখানে অনেক বেশি হার্দিক। অনেক বেশি আন্তরিক। এবং অন্তরঙ্গ।

বিস্তারিত পড়ুন