এক ভুখণ্ডের মাটিতে

একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, বাঙালি মাত্রেই আমরা সাম্প্রদায়িক। আবার শুধু যে সাম্প্রদায়িক তাও নয়। আমরা গভীর ভাবে জাতপাতেও বিশ্বাসী। আমরা প্রথমেই দেখে নিই, কে হিন্দু কে মুসলিম। তারপরেই দেখি কে নীচু জাত। কে উঁচু জাত। আর এই দেখে নেওয়ার পর্ব শুরু হয়, আমাদের নাম ও পদবী দেখা থেকেই। তারপর পোশাক আশাক দেখেও অনকটা পার্থক্য ধরা পড়ে অনেক সময়েই। আর পড়ে বলেই বাঙালি না হয়েও দেশ প্রধান খুব একটা ভুল বলেননি যে, পোশাক দেখে মানুষ চেনা যায়। এখানে মানুষ বলতে উনি সাম্প্রদায়িক পরিচিতি বোঝাতে চাইলেও, তার সাথে জাতপাতের পরিচিতির ক্ষেত্রেও কথাটা অনেক সময়েই খেটে যায়। কারণ অনেক সময়েই আমরা পোশাক দেখে ছোটো জাত উঁচু জাত অনুমান করে নিই। ঠিক হোক আর বেঠিক হোক। তার আসল কারণ, ছোট জাত হলে আর্থিক সঙ্গতি কম হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে পোশাকে তার ছাপ থাকারও কথা। ঠিক একই কথা খাটে উঁচু জাতের ক্ষেত্রেও। সোজা কথা, বোঝা যাক আর না যাক, আমরা কিন্তু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি। কে কোন সম্প্রদায়ের কে কোন উঁচু কিংবা নীচু জাতের। মানুষের নাম পদবী এবং পোশাকআশাক দেখে। কিন্তু কেন এই প্রবণতা আমাদের? তার প্রধান কারণ একটাই। আমরা বাঙালিরা কোনদিন বাঙালি জাতীয়তায় বিশ্বাসী নই। মাতৃভাষা বাংলা হওয়া, কিংবা বাংলার ভুখণ্ডের মানুষ হওয়াকেই আমরা বাঙালিত্বের শেষ কথা বলে মানতে পারিনি কোনদিন। হিন্দু বাঙালির চেতনায় বাঙালি আবার মুসিলম হয় কি করে। আবার মুসলিম বাঙালি বিশেষত অধুনা যাঁরা নিজেদের বাংলাদেশী বলে মনে করেন। তাঁদের ভিতর একটা বড়ো অংশের মুসলিম বাঙালির চেতনায় হিন্দু বাঙালি আসলে বাঙালি নয়। তারা ইণ্ডিয়ান। উচ্চবর্ণের হিন্দু বাঙালিদের কাছে নিম্ন বর্ণের হিন্দু বাঙালিরাও স্বগোত্র নয় আদৌ। ফলে তাদেরকে নিজ বাঙালি জাতির অংশ মনে করতেও হোঁচোট খেতে হয় রীতিমত। ফলে সোজা কথায় এক আকাশের নীচে এক ভুখণ্ডের মাটিতে বাঙালি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ে এবং উঁচু জাত নীচু জাতে নানা ভাবে বিভক্ত। এবং প্রত্যেক ভাগ এক একটি গোষ্ঠী মানসিকতায় চলে। এই যে গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা। এটি বাঙালির স্বভাব চরিত্র। বাঙালি তাই কোনদিন ক্ষুদ্র গোষ্ঠী চেতনার উর্দ্ধে উঠে বাঙালি জাতীয়তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতেই পরেনি।

বিস্তারিত পড়ুন

নুসরতের গর্ভে কার সন্তান

সাংসদ ও চলচিত্র অভিনেত্রী নুসরতের গর্ভে কার সন্তান, সেই নিয়ে উত্তাল মিডিয়া ও জনতা। এবং আশ্চর্য্যের বিষয় একুশ শতকে পৌঁছিয়েও কারুরই মনে হচ্ছে না, নুসরতের গর্ভে নুসরতেরই সন্তান থাকার কথা। অন্য কারুর সন্তান হতে পারে একমাত্র তখনই নুসরত যদি সারোগেট মাদার হওয়ার বরাত নিয়ে থাকেন। না নিলে কোটি কোটি নারীর মতোই একজন নারীর গর্ভে তাঁর নিজের সন্তানই থাকার কথা। অন্য কারুর সন্তান নয় নিশ্চয়। আমরা সময়ের হিসেবে একুশ শতকে পৌঁছিয়ে গেলেও চেতনার জড়তায় এখনও মধ্যযুগীয় মানসিকতায় আটকিয়ে রয়েছি। গর্ভের মালিকানা নারীর। সেই গর্ভের ভ্রূণের জন্মদাত্রীও নারী। ফলে সেই সন্তান সেই নারীরই আপন সন্তান। তাকে রক্তে মাংসে অস্থিতে মজ্জায় তিলে তিলে গড়ে তোলার দায়িত্ব সেই মায়েরই একান্ত ভাবে। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আজ অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যের ভ্রূণ আপন গর্ভে প্রতিস্থাপিত করে ভাড়াটে মাতৃত্বের দায়ও নিয়ে থাকেন কেউ কেউ। কিন্তু সেটা ব্যতিক্রম। নিয়ম নয়। প্রতিদিন কোটি কোটি নারীর গর্ভে ভ্রূণের জন্ম হচ্ছে। সেই ভ্রূণজাত সন্তান নারীর গর্ভেই বড়ো হয়ে উঠছে। নারীর গর্ভে নারীর সন্তান বড়ো হয়ে উঠলেও সেই সন্তান কার বলে কোলাহল করা একেবারেই মধ্যযুগীয় মানসিকতার সংস্কৃতি। আর দুঃখের বিষয়, এটাই আমাদের সামাজিক ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী আমরা সকলেই। সন্তানের প্রাকৃতিক পরিচয়, তার মাতৃপরিচয়ের নিরূপিত হয়। সেটাই এই বিশ্ব প্রকৃতির নিয়ম। নারী তাঁর আপন শরীর দিয়ে আরও একটি শরীরের জন্ম দিচ্ছে। আর সেই শরীরের পরিচয় জানতে খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে কোন একজন পুরুষকে! কি আশ্চর্য্য এক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছি আমরা। তারপরে সেই সংস্কৃতিকেই সভ্যতা বলে গর্ব বোধ করছি। প্রকৃতির দরবারে এইরকম সীমাহীন অসভ্যতা চলে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। ভাবলেও লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে আসে।

বিস্তারিত পড়ুন

অলিম্পিকের পদকতালিকায় বাঙালি

যতদূর বাংলা ভাষা ততদূর বাংলা। স্বাধীন বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা। এবং উত্তরপূর্ব উড়িষ্যা। ঝাড়খণ্ড বিহারের পূ্র্বাঞ্চল। আসামের শিবসাগর গোয়ালপাড়া আর বরাক উপত্যাকা। এই বিস্তীর্ণ ভুখণ্ডই বাঙালির আদিনিবাস। সারা বিশ্বে বাঙালির দশা প্রায় অনন্য। বিশ্বে খুব কম জাতিই রয়েছে। এমন শতটুকরো হয়ে যাদের দেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও প্রাদেশিক মানচিত্রে খণ্ড বিখণ্ড। এই এতগুলি ভিন্ন মানচিত্রের ভিতরে বিভক্ত বাঙালির মোট জনসংখ্যা প্রায় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার কাছাকাছি। গোটা বিশ্বই যে দেশের কব্জায় আটকিয়ে পড়ে রয়েছে। এমনই তার প্রতাপ। এতই তার ক্ষমতা। পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার। সেই জাতির জনসংখ্যার কাছাকাছি জনসংখ্যা নিয়ে, আর সব কিছুই ছেড়ে দিয়েও। যদি প্রশ্ন করা যায়, বাঙালি অলিম্পিকে কয়টি পদক পাচ্ছে? উত্তরটা কিন্তু একটি মহা শূন্যেই থমকে দাঁড়িয়ে রইবে। বিগত অলিম্পিকগুলির মতোই বাঙালির পদকপ্রাপ্তি শূন্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। দাঁড়িয়ে থাকবেও। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কি আদৌ কোনদিন কোন পদক জিতেছে অলিম্পিকে? না। আমার অন্তত জানা নেই। জানা নেই কয়জন বাঙালি আলিম্পিকে আজ অব্দি পদক জিতেছেন। বা আদৌ জিতেছেন কিনা? কেন বাঙালি অলিম্পিকে পদক পায় না? অনেকেই বলবেন। সেতো অনেক দেশই অলিম্পিকে পদক পায় না। পদক তো হাতে গোনা কয়টি মাত্র দেশই নিজেদের ভিতরে ভাগ করে নেয়। ভালো কথা। তাহলে কি বাঙালির অলিম্পিকে পদক জয়ের কোন দরকার নেইঁ? বাঙালি কি বিশ্ব খেলাধুলোর অঙ্গনে চিরকাল শেষ সারিতে পড়ে থাকবে? না, আসলে এই প্রশ্নগুলি আমারা আদৌ করতে অভ্যস্থ নই। বাঙালির সামাজিক পরিকাঠামোয় আর যাই হোক বিশ্বমানের খেলোয়ার তৈরী হয়ে ওঠে না। হ্যাঁ একথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু না, তার জন্য বাঙালির দুঃখ কি? বাঙালি যে খেলাটি নিয়ে বুক বাজিয়ে থাকে। সেই ক্রিকেটেই কি বাঙালি বিশ্বজয় করতে পেরেছে কোনদিন? হাতে গোনা মাত্র কয়টি দেশ যে খেলাটি খেলে সময় নষ্ট করে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলার ছেলে সৌরভের হাতে একবারই মাত্র সুযোগ এসেছিল। দলনায়ক হিসেবে বিশ্বচ্যম্পীয়ন হওয়ার। কিন্তু সে সৌভাগ্য অধরাই রয়ে গিয়েছে আজো। আর বাঙালির সবচেয়ে বড়ো জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের কথা যত কম বলা যায়। ততই ভালো। এককালে ফুটবলে বাঙালির যে সুনাম ছিল। আজ তার ছিঁটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই। ১৯১১ সালে এগারো জন বাঙালির খালি পায়ে খেলে বুট পায়ের বিদেশীদের হারিয়ে আইএফে শীল্ড জয়ের মতো নজির আর কই? দিনে দিনে বাঙালি ফুটবল বিশ্ব থেকে হঠতে হঠতে পাড়ার প্রতিযোগিতায় এসে পৌঁছিয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন

ডোমের পদে ইঞ্জিনিয়ার

অবশেষে সরকারী হাসপাতালে ছয়টি ডোমের পদে চাকরির প্রত্যাশায় একশ ইঞ্জিনিয়ার সহ কয়েক হাজার গ্র্যজুয়েট পোস্ট গ্র্যজুয়েট কর্মপ্রার্থী আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। যে পদে চাকুরির ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে অষ্টম শ্রেণী পাশ। রাজ্যে সরকারী বেসরকারী চাকরির পরিসর সীমিত হতে হতে কোন অবস্থায় এসে পৌঁছিয়েছে, সেটি বুঝতে আর বেশি কিছু তথ্য জানার প্রয়োজন পড়ে না। পরিবর্তনের পর একদশকে রাজ্যে কোন শিল্প স্থাপন হয়নি। নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সরকারের বিশেষ কোন ভাবনা চিন্তা রয়েছে বলেও জানা যায় না। একদশকীয় শাসনামলে প্রথম প্রথম ঢাক এবং ঢোল ফাটিয়ে বিদেশী লগ্নী নিয়ে আসার কথা বলে প্রচুর মৌ স্বাক্ষরিত হতো বলে জানানো হতো আমাদের। কিন্তু তাতে রাজ্যে শিল্পবাণিজ্যের কতদূর প্রসার হলো। অর্থনীতি কতটা সবল হলো। কর্মসংস্থানের দরজা কতটা হাট করে খুলে গেল। এই বিষয়গুলি এই মুহুর্তে গ্রেটার ইভিল লেসার ইভিল কাজিয়ায় চাপা পড়ে গিয়েছে। সরকারী বিদ্যালয়গুলির হাজার হাজার শূন্যপদের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছে কোটি কোটি কর্মপ্রার্থী। কিন্তু সেখানেও দূর্নীতির ঘুঘু এমন ভাবেই বাসা বেঁধেছে যে, চাকরি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি সরকার আর আদালতের দঁড়ি টানাটানির ভিতরে আটকিয়ে রয়েছে। ফলে গত দশবছরে সরকারী এবং বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান বন্ধ। বদলে চপ শিল্পের উৎকর্ষতার বিষয়ে রাজ্যজুড়ে প্রথম প্রথম বেশ চর্চা শোনা যেত। আজকাল অবশ্য সেই চর্চা ততটা চলছে না মনে হয়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র খুলতে অস্থায়ী সিভিক ভলেন্টিয়র আর টোটো চালানোর বন্দোবস্ত ছাড়া আর বিশেষ কিছু হয়েছে বলে চোখে দেখা যায় না। কিন্তু মজার কথা, তারপরেও শাসকদলের জনসমর্থন আকাশচুম্বী!

বিস্তারিত পড়ুন

অবরুদ্ধ শিক্ষাক্ষেত্র

কথায় বলে চোখ বন্ধ থাকলেই প্রলয় বন্ধ থাকে না। সরকার ক্রমান্বয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয়বরাদ্দ কমাতে কমাতে, শিক্ষাকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি বিলাস সামগ্রীর পর্যায় নিয়ে যেতে চলেছে। আর এই পরিকল্পনা যথেষ্ঠই সাফল্যের মুখ দেখে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। এবং এরই পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধির সাথে সাথেই শিক্ষা বিপুল মুনাফা লাভের এক লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এবং সেখানে ব্যবসায়িক স্বার্থই শিক্ষার গতি এবং প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেও দিয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। অন্যান্য রাজ্যের ভিতরে কেরলা এবং দিল্লীতে একটা বিকল্প প্রয়াস চলছে। সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অধিকতর কার্যকর করে তুলে বেশি করে সরকারী ভর্তুকি দিয়ে এমন একটি অবস্থায় তুলে আনার প্রয়াস চলছে, যাতে অধিকতর শিক্ষার্থী সরকারী প্রতিষ্ঠানমুখী হতে পারে। কিন্তু আমাদের বাংলায় অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। আমাদের নজর রাজ্যরাজনীতির ঘোরপ্যাঁচের ভিতরে এমন ভাবেই আটকিয়ে থাকে। আমরা এই দিকগুলিতে বিশেষ করে নজর দেওয়ার সময় পাই না। অধিকাংশ অভিভাবকদেরই লক্ষ্য থাকে সন্তানকে ইংরেজি মাধ্যমের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভরতি করে দেওয়া। তার জন্যে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহনেও তাঁরা রাজি। ফলে স্বচ্ছল এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের একটা বড়ো অংশই ধনী ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মতোই বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভিড় করছে বেশি করে। আর সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অধিকাংশই মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভাবে, এবং উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে আরও এক বড়ো সমস্যা। অধিকাংশ সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘ দিন ধরে বহু শূন্যপদ খালি পড়ে রয়েছে। উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না সময় মতো। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে প্রায়। আবার অনেক স্কুলে ছাত্রের অভাবেও স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

বিস্তারিত পড়ুন

বঙ্গজীবনে চরিত্রবদল

কোনো একটি জাতিগোষ্ঠির চরিত্র কালের প্রবাহে, সেই জাতিগোষ্ঠির মাতৃভূমির ভৌগলিক অবস্থানের নিরিখে এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির সাথে মেলামেশার আবহে কালে কালে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। চরিত্রের সেই বিকাশের পর্ব থেকে পর্বান্তরে অনেক ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠে জাতিসত্তা। সেই জাতিসত্তার চরিত্রের বদল কিন্তু দুদিনেই হঠাৎ হয় না। প্রায় দুইহাজার বছরের ইতিহাস ব্যাপী এই যে বঙ্গজীবন। এর পরতে পরতে কালের পালে এসে লাগা হাওয়ায় ঘটে গেছে পরিবর্তনের পর পরিবর্তন। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ফলে যে বাঙালির চরিত্রের বদল ঘটবেই তা নয়। আবার ঘটলেও তাকে বাস্তব বলে মেনে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কাম্য না হলেও। এক কালে কালাপানি পেরোলে বাঙালির জাত যেত। পুরুত ডাকিয়ে গোবর খেয়ে রীতিমত যাগযজ্ঞ করে তবেই তার প্রায়শ্চিত্য হতো সম্পূর্ণ। তারপর বাঙালি যখন ইংরেজের বৈভবে দিশাহারা হল, তখন অবস্থা গেল বদলে, সমাজে বিলেত ফেরতের কদর গেল বেড়ে। বিলেত ফেরত না হলে, নামের পাশে বিলাতী ডিগ্রী না ঝুললে পণ্ডিত বলে আর মান্যিগন্যি হওয়া যায় না সমাজে। কি আশ্চর্যম।

বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাসাহিত্যের দূষণ

সরকারের প্রসাদভোগী বুদ্ধিজীবীদের বলয়ে আজকের বাংলাসাহিত্যের অবস্থা কোথায় এসে পৌঁছিয়েছে? এই সময়ের সাহিত্য সমাজ সংসার ও সময়ের প্রশ্ন ও যন্ত্রণাগুলিকে সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে তুলে আনতে চায় কি আর? এই সময়ের বাংলাসাহিত্যের একজন পাঠকের হাতে অবশিষ্ট কি থাকছে শেষমেশ? বিগত কয়েক দশকের সময়সীমায় বাংলার সমাজজীবনের বিবর্তনের ধারার প্রামাণ্য কোন ছবি কি পাওয়া সম্ভব এসময়ের বাংলাসাহিত্যে? অন্য সব কিছু না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলায় বুদ্ধিজীবী শ্রেণীচরিত্র কিভাবে সমাজিক পরিসরে মানবিক মূল্যবোধগুলির ভিতরে ঘূণপোকার চাষ করে চলেছে, সেই সত্যও কি উঠে আসছে আজকের সাহিত্যে? আজকের গল্প উপন্যাস নাটকে? আজকের গল্প উপন্যাসের ভিতরে, আজকের বাংলায় সমাজের মূল প্রশ্নগুলি কজন সাহিত্যিক তুলে আনতে পারছেন? এই সময়ের রাজনীতির ভিতর থেকে যে পচা গলা দুর্গন্ধ নির্গত হয় নিত্যদিন। বাংলাসাহিত্যের কজন কথাসাহিত্যিক সেই দুর্গন্ধের গভীরে গিয়ে পৌঁছাতে চাইছেন? সাহিত্যের পাঠকের কাছে কিন্তু প্রত্যেক লেখকের একটা দায়বদ্ধতা রয়ে যায়। না, পাঠক মনোরঞ্জনের দায়বদ্ধতা নয়। সময়ের কথাকে শাশ্বত সত্যের বেদীতে প্রতিষ্ঠিত করার দায়বদ্ধতা। সেটাই পাঠকের কাছেও লেখকের দায়বদ্ধতা। না, আজকের সাহিত্য সেই দায় এড়িয়ে চলতে চাইছে। অজুহাত হিসাবে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পাঠকের উপরে। বলা হচ্ছে পাঠকের রুচি বদলিয়ে গিয়েছে। সে আর গভীর ভাবে ভাবতে চায় না। সাধারণ পাঠকের বৃহৎ অংশই কোনদিন কোনকালে কোন দেশেই গভীরে গিয়ে ভাবতে রাজি থাকে না। তাকে একটা প্রবল ধাক্কা দিতে হয়। তীব্র ধাক্কায় এমন ভাবেই ঠেলা দিতে হয়। যাতে ভাবতে গররাজি পাঠকও ভাবতে শুরু করে। পাঠককে জোর ধাক্কা দিয়ে এই ভাবতে বাধ্য করানোটাই সাহিত্যের কাজ। একজন সাহিত্যিকের দায় ও দায়িত্ব। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশের সাহিত্যে প্রত্যেক কালেই সেই সাহিত্যিকই সাহিত্যজগতে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেন। যিনি সেই ধাক্কাটা ঠিক সময়ে ঠিকমত দিতে পারেন। তাঁকে যে তাঁর জীবদ্দশায় প্রবল জনপ্রিয় হতেই হবে। তার কোন মানেও নেই। জনপ্রিয়তা কোন সাহিত্যিককে কালোত্তীর্ণ সাহিত্যিক করে তুলতে পারেনি কোনদিন। কোন দেশেই। যুগ বদলের সাথে সাথেই জনপ্রিয়তা উবে যায়। কিন্তু যে সাহিত্যিক তাঁর পাঠককে তার সময় ও সমাজ, জীবন ও জগত সম্বন্ধে সচেতন করে তুলতে পারেন। তিনিই কালকে অতিক্রম করে বহুকালের জন্য সমাজ ও সাহিত্যে আলো হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বিস্তারিত পড়ুন

জনপ্রিয়তার গোলকধাঁধায়

আমাদের সমাজে জনপ্রিয়তাই উৎকর্ষতার মাপকাঠি ধরা হয়। এইটি একটি গোলমেলে বিষয়। অনেক মুশকিলের শুরুই এই প্রবণতা থেকে। সবচেয়ে বড়ো যে মুশকিলটা দেখা দেয়। সেটি হলো মধ্য মেধার দাপট। এবং জনরুচির অবনমন। এই দুইটি মুশকিলের বিষয় পরস্পরকে পুষ্টি জোগাতে থাকে। যার নিদর্শন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির পরতে পরতে শিকড় বিস্তার করতে থাকে। এবং এই শিকড় থেকেই সমাজেদেহে যে পচনের শুরু হয়। সেই পচনের উপরেই গড়ে ওঠে রাজনৈতিক বিষবৃক্ষের পরিসর। যে পরিসর রাষ্ট্রীয় কাঠামো‌রও স্বরূপ নির্ধারণ করতে শুরু করে দেয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রই তখন সেই বিষবৃক্ষের ফলের বলে জনগণের উপরে রাষ্ট্রীয় নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের যাঁতা ঘোরাতে থাকে। এবং যে যাঁতাকল থেকে বেড়োতে চাইলেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ব্যক্তি মানুষের স্বাধীনতা হরণ হতে থাকে। দেশ সমাজ ও জনগণকে সেই যাঁতাকল থেকে উদ্ধার করার প্রক্রিয়ার নামই রাষ্ট্রবিপ্লব। না, আমাদের আলোচনা রাষ্ট্রবিপ্লব নিয়ে নয়। আমাদের আলোচনা জনপ্রিয়তা ও উৎকর্ষতার সম্বন্ধ নিয়ে। কোনকিছু জনপ্রিয় হওয়া মানেই যে সেই’টি উৎকর্ষ নয়, বা কম উৎকর্ষ। বিষয়টি এমন সরলরৈখিকও নয়। অনেক সময়েই জনপ্রিয়তা উৎকৃষ্ট বিষয়ের জন্যেও হতে পারে। তবে দেখা যায় তার পরিসর তুলানামূলক ভাবে সংকীর্ণ।

বিস্তারিত পড়ুন

বাঙালির টিভি সিরিয়াল

একটা সময় ছিল। যখন গ্রাম বাংলার প্রান্তরে কবিগান যাত্রাগান পালাগানের চল ছিল। অধিকাংশই পৌরাণিক কাহিনী ভিত্তিক অশ্রজসজল গীতি আলেখ্য ধর্মী। সমাজ তার নিজের কথা এই সকল মাধ্যমে প্রকাশ করতো। তারপর ব্রিটিশ আসায়, তাদের সাথে এসে পৌঁছালো নাটক সিনেমা থিয়েটর ইত্যাদি। বাংলার সংস্কৃতিও সময়ের হাত ধরে নানান ভাবে বিবর্তিত হয়ে চলেছে। তারপরে টিভির হাত ধরে সংস্কৃতির এক ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটে গিয়েছে। যে পথে বর্তমানে সিরিয়ালই হয়ে উঠেছে বঙ্গসংস্কৃতির প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এবং মুখ্য ধারা। আপামর বাঙালি আজ এই সিরিয়ালের ভিতর দিয়েই বঙ্গসংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ ধরে রেখেছে। গ্রাম বাংলা থেকে মফস্বল আধামফস্বল শহরতলি হয়ে নগর কেন্দ্রিক যে জনজীবন। সেই জনজীবনের সংস্কৃতির একটা প্রধান দিক এই টিভি সিরিয়াল। ফলে টিভি সিরিয়ালের দিকে গভীর ভাবে নজর দিলে। আজকের বঙ্গসংস্কৃতির গতিপ্রকৃতির মুখ্য ধারা সম্বন্ধে একটা আঁচ পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাঙালির জাতিমানসের ধরণ প্রকৃতি এবং রুচি’র একটা প্রামাণ্য ছবিও উঠে আসবে। আমরা বলতে চাইছে একুশ শতকের বাঙালির নাড়ির স্পন্দন পেতে টিভি সিরিয়ালের জুড়ি মেলা ভার। কারণ আপামর বাঙালি এই টিভি সিরিয়ালের দর্শক। সিনেমা থিয়েটর প্রায় উঠে গিয়েছে। উঠে গিয়েছে সঙ্গীত জলসা। গ্রুপ থিয়েটরের নাট্যচর্চার পরিসর অতি সীমিত। তার দর্শকও প্রায় হাতে গোনা। ফলে সব কিছু এসে এখন সিরিয়ালের যুগে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। রমরমিয়ে চলছে শুধু টিভি সিরিয়াল।

বিস্তারিত পড়ুন

মদ ON

মদ খেলেই মানুষ মাতাল হয় না ঠিকই। কিন্তু মাতাল মাত্রেই মদ খায়। এই লকডাউনের সময় মদের নেশায় অভ্যস্ত জনগণের বেশ অসুবিধে হচ্ছে দেখা যাচ্ছে। যখনই অল্প সময়ের জন্য হলেও মদের দোকান খুলছে। মাতাল হোক না হোক মদ পিয়াসী জনগণের দীর্ঘ লাইন পড়ছে দোকানের সামনে। এবং সেখানেও একটা রেশনিং করতে হচ্ছে মদ বিক্রেতাকে। ক্রেতা পিছু মদের বোতল নির্দিষ্ট করে দিতে হচ্ছে। না হলে কয়েক জন বড়লোক ক্রেতা পেটি পেটি মদের বোতল কিনে ফেলে দোকানের স্টক নিঃশেষ করে দিতে পারে। তখন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ মদ পিয়াসীদের শুকনো ঠোঁঠ চাটতে চাটতে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। ভগ্নমনোরথ হয়ে। আমাদের সমাজতান্ত্রিক ভাবনায় সেটি অশোভনও বটে। যত বেশি সংখ্যক মদ পিয়াসীর মুখে হাসি ফোটানো যায় সেটাই কাম্য। সেই জন্যেই একটা রেশনিং ব্যবস্থা করতেই হয়। করা হচ্ছেও। পকেটে টাকা থাকলেই যে পেটি পেটি মদ বাড়িতে স্টক করে ফেলা যাবে তেমনটা নয়। লাইনে দাঁড়ানো সকলকেই যাতে কম বেশি মদ সরবরাহ করা যায়। সেটা দেখতে হচ্ছে। মদ হয়ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ভিতর পড়ে না। কিন্তু আবশ্যকীয় তো বটেই। বিলেতী মদই হোক। আর বাংলা মদই হোক। দেশী হোক বিদেশী হ‌োক, নিয়মিত মদের যোগান না থাকলে বহু বাঙালিরই শরীর ধড়ফড় করে। এবং তাঁদের কথা ভেবেই লকডাউনের ভিতরেই সরকার আবার মদের দোকান খোলার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিয়েছে। মানুষ মদ না পেয়ে শুকিয়ে যাবে এটা হতে পারে না। গতবারের লকডাউন আরও ব্যাপক ছিল। কড়াকড়িও বাড়াবাড়ি রকমের ছিল। সেবারও যেই মাত্র নির্দিষ্ট সময়সীমায় মদের দোকান খোলার ছাড়পত্র দিল সরকার। সেইমাত্র মদের ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনের লাইভ ছবি দেখে আমাদের বুদ্ধির গোড়ায় কিছুটা হলেও জল ঢুকলো।

বিস্তারিত পড়ুন