বাংলাসাহিত্যের দূষণ

সরকারের প্রসাদভোগী বুদ্ধিজীবীদের বলয়ে আজকের বাংলাসাহিত্যের অবস্থা কোথায় এসে পৌঁছিয়েছে? এই সময়ের সাহিত্য সমাজ সংসার ও সময়ের প্রশ্ন ও যন্ত্রণাগুলিকে সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে তুলে আনতে চায় কি আর? এই সময়ের বাংলাসাহিত্যের একজন পাঠকের হাতে অবশিষ্ট কি থাকছে শেষমেশ? বিগত কয়েক দশকের সময়সীমায় বাংলার সমাজজীবনের বিবর্তনের ধারার প্রামাণ্য কোন ছবি কি পাওয়া সম্ভব এসময়ের বাংলাসাহিত্যে? অন্য সব কিছু না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলায় বুদ্ধিজীবী শ্রেণীচরিত্র কিভাবে সমাজিক পরিসরে মানবিক মূল্যবোধগুলির ভিতরে ঘূণপোকার চাষ করে চলেছে, সেই সত্যও কি উঠে আসছে আজকের সাহিত্যে? আজকের গল্প উপন্যাস নাটকে? আজকের গল্প উপন্যাসের ভিতরে, আজকের বাংলায় সমাজের মূল প্রশ্নগুলি কজন সাহিত্যিক তুলে আনতে পারছেন? এই সময়ের রাজনীতির ভিতর থেকে যে পচা গলা দুর্গন্ধ নির্গত হয় নিত্যদিন। বাংলাসাহিত্যের কজন কথাসাহিত্যিক সেই দুর্গন্ধের গভীরে গিয়ে পৌঁছাতে চাইছেন? সাহিত্যের পাঠকের কাছে কিন্তু প্রত্যেক লেখকের একটা দায়বদ্ধতা রয়ে যায়। না, পাঠক মনোরঞ্জনের দায়বদ্ধতা নয়। সময়ের কথাকে শাশ্বত সত্যের বেদীতে প্রতিষ্ঠিত করার দায়বদ্ধতা। সেটাই পাঠকের কাছেও লেখকের দায়বদ্ধতা। না, আজকের সাহিত্য সেই দায় এড়িয়ে চলতে চাইছে। অজুহাত হিসাবে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পাঠকের উপরে। বলা হচ্ছে পাঠকের রুচি বদলিয়ে গিয়েছে। সে আর গভীর ভাবে ভাবতে চায় না। সাধারণ পাঠকের বৃহৎ অংশই কোনদিন কোনকালে কোন দেশেই গভীরে গিয়ে ভাবতে রাজি থাকে না। তাকে একটা প্রবল ধাক্কা দিতে হয়। তীব্র ধাক্কায় এমন ভাবেই ঠেলা দিতে হয়। যাতে ভাবতে গররাজি পাঠকও ভাবতে শুরু করে। পাঠককে জোর ধাক্কা দিয়ে এই ভাবতে বাধ্য করানোটাই সাহিত্যের কাজ। একজন সাহিত্যিকের দায় ও দায়িত্ব। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশের সাহিত্যে প্রত্যেক কালেই সেই সাহিত্যিকই সাহিত্যজগতে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেন। যিনি সেই ধাক্কাটা ঠিক সময়ে ঠিকমত দিতে পারেন। তাঁকে যে তাঁর জীবদ্দশায় প্রবল জনপ্রিয় হতেই হবে। তার কোন মানেও নেই। জনপ্রিয়তা কোন সাহিত্যিককে কালোত্তীর্ণ সাহিত্যিক করে তুলতে পারেনি কোনদিন। কোন দেশেই। যুগ বদলের সাথে সাথেই জনপ্রিয়তা উবে যায়। কিন্তু যে সাহিত্যিক তাঁর পাঠককে তার সময় ও সমাজ, জীবন ও জগত সম্বন্ধে সচেতন করে তুলতে পারেন। তিনিই কালকে অতিক্রম করে বহুকালের জন্য সমাজ ও সাহিত্যে আলো হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বিস্তারিত পড়ুন

নতুন শতকের বাংলা সাহিত্য

একুশ শতকে আমরা পেরিয়ে এলাম পুরো দুটি দশক। একেবারে কম সময় নয়। নতুন শতক শুরুই হয়েছিল বিশ্বব্যবস্থায় আবিশ্ব একদেশীয় আধিপত্যবাদ কায়েমের ভিতর দিয়ে। যে আধিপত্যবাদের জীয়নকাঠি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের জুজু। যে জুজু দেখানো হয়েছিল আমাদেরকে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে প্রায় চার হাজার মানুষকে জীবন্ত দাহ করার ষড়যন্ত্রের সাফল্যের হাত ধরে। আমরাও স্বচক্ষে টিভিতে টুইনটাওয়ার ধ্বংসের জীবন্ত ছবি দেখে সেই একদেশীয় আধিপত্যবাদের গোঁড়া সমর্থক হয়ে পড়লাম। জানতেও গেলাম না টুইনটাওয়ারে আসলে সেদিন কোন বিমান হামলার ঘটনাই ঘটেনি। ঘটলে ওইভাবে টাওয়ার দুটি ভেঙ্গে পড়তো না। অনেকেই আজও জানি না, সেদিন বিকেলেই একই কমপ্লেক্সের সপ্তম টাওয়ারটিকেও প্রশাসন ঐ একই ভাবে ধ্বংস করেছিল। যার প্রস্তুতিতেই সময় লেগে যাওয়ার কথা একাধিক দিনের। না এতসব আমাদের জানতে নেই। আমাদের শুধু রাতদিন সাতদিন টিভির চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদ বেদবাক্য জ্ঞানে হজম করে যেতে হয়। একুশ শতকের সবচেয়ে বড়ো লক্ষ্মণ এটিই। ক্ষমতা যার বা যাদের হাতে। তাদের আজ্ঞাবহ প্রচারযন্ত্রের বশংবদ হয়ে থাকা। ভারতবর্ষের দিকে তাকালেও সেই একই ছবি। যা আরও ভয়াবহ ভাবে সত্য হয়ে উঠেছে গত সাত বছরে। এই শতকের যুগ লক্ষ্মণ তাই, ক্ষমতাকে কোন প্রশ্ন করা চলবে না। ক্ষমতার কাছে নতজানু থেকে ক্ষমতার অঙ্গুলি হেলনে তাথৈ নৃত্যে ব্যস্ত ও খুশি থাকতে হবে। রাতদিন সাতদিন।

বিস্তারিত পড়ুন