ছলনার আশ্রয়ে

১৯১৩! রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি। যদি না হতো। তহলেও কি আমাদের প্রাণে কবি একই ভাবে বিরাজ করতেন? না মনে হয়। অবশ্যই অনেকে প্রতিবাদ করবেন। কেউ কেউ সমর্থনও করতে পারেন। কিন্তু সেই নোবেল জয়ের খবরে কলকাতার সেদিনের বুদ্ধিজীবী মহল যেভাবে রেলের বগী ভাড়া করে বোলপুর ছুটে ছিলেন কবিকে অভিনন্দন জানাতে, সেই ভাবে কি কবিকে বরণ করতে এগোতেন? কবি যদি নোবেল না পেতেন? সেদিন কিন্তু কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে তাঁদের অভিনন্দন স্বীকার করতেই অস্বীকার করেছিলেন আমাদের কবি। তাঁদের সবিনয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, এই অভিনন্দন কবি’র কারণে নয়। এই অভিনন্দন বিদেশী এক পুরস্কার প্রাপ্তির স্বীকৃতিতে। কবি জানতেন ঔপনিবেশিক মানসিকতার দৌড়। তার প্রকৃতি ও ধর্ম। ইউরোপ আমেরিকার দেওয়া কোন স্বীকৃতিকে ঔপনিবেশিক মানসিকতায় আমরা কিভাবে মূল্য দিই। সেকথা টের পেয়েছিলেন আমাদের কবি। তাই সেদিন কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলকে ফিরিয়ে দিতে দুইবার ভাবতে হয় নি রবীন্দ্রনাথকে। ১৯৫২ সাল। মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার প্রথম বড়ো মাইলস্টোন যুগসন্ধিক্ষণের সিনেমা ‘নাগরিক’ এর। পরিচালক ঋত্বিক কুমার ঘটক। পরিবেশকের চক্রান্তে সেই সিনেমা পরিচালকের জীবদ্দশায় মুক্তি পায় নি আর। ১৯৫৫ সালে সেই যুগসন্ধিক্ষণের দ্বিতীয় ছবি পথের পাঁচালী’র ভাগ্যে অবশ্য তেমন কোন দুর্দশা ঘটে নি। বরং বিদেশী সিনেমা জগতে আলোড়ন ফেলে দিয়ে পুরস্কৃত হওয়ায় বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমায় এক বিশাল ব্যক্তিত্ব হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারলেন সত্যজিত রায়। আর সেইরকম বিদেশী কোন স্বীকৃতি না জোটায় স্বদেশেই অপাংতেয় হয়ে পড়ে রইলেন যুগসন্ধিক্ষণের প্রথম পথিকৃত ঋত্বিক।

বিস্তারিত পড়ুন