মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লী সফর

উপনির্বাচন সময় মতো না হলে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে গদি ছেড়ে নেমে আসতে হবে। কিংবা সময় মতো হওয়া উপনির্বাচনেও পরাজিত হলে মুখ্যমন্ত্রীত্ব খোয়াতে হবে। না অতি বড়ো তৃণমূল বিরোধীরাও আশা করে না, উপনির্বাচন হলে সেই নির্বাচনেও পরাজিত হবেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীর একটা বড়ো অংশের ভোটাররা এখনো বিশ্বাস করে। নন্দীগ্রামে কোন না কোনভাবে কারচুপি করে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। আমাদের দেশে মামলা মাত্রেই আদালতে বিচারাধীন থাকে, বা বলা ভালো ঝুলে থাকে। তার নিষ্পত্তি যে কবে হবে সে কথা কেউই আগাম বলতে পারে না। অথচ সকলেই জানে, জাস্টিস ডিলেড জাস্টিস ডিনাইড। না হলে এতদিনে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলাফল ঠিক না বেঠিক সে তথ্য আমাদের জানা হয়ে যেত। ফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও এখন সেই উপনির্বাচনের উপেরই নির্ভর করতে হচ্ছে আপন মুখ্যমন্ত্রীত্বকে রক্ষা করার জন্য। ছয় মাসের ভিতরে কোন উপনির্বাচন থেকে জিতে না আসতে পারলে সংবিধান তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্ব স্বীকার করবে না আর। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা থেকে বিরত রয়েছে এখনো। সামনে তৃতীয় ঢেউয়ের অশনি সংকেত রয়েছে। আর এটাকেই তুরুপের তাস করে খেলতে উৎসাহী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। নন্দীগ্রামের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে পরাজিত হয়েও শুধুমাত্র সংবিধানের সুযোগ নিয়ে ছয় মাস মুখ্যমন্ত্রীত্ব করে যাবে একজন, এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। এখন তাদের লক্ষ্য সম্ভবত যেনতন প্রকরেণ উপনির্বাচনটি ছয় মাসের বেশি পিছিয়ে দেওয়া। বিশেষ করে করোনার মতো এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছে যখন। আর সেটি করতে পারলেই মুখ্যমন্ত্রীত্ব খোয়াতে হবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে। অন্তত যতদিন না তিনি পুনরায় আবার বিধানসভা উপনির্বাচন থেকে বিজয়ী হয়ে আসতে পারছেন। আর অন্তর্বতী সেই সময় পর্বে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদ থেকে দূরে রাখতে পারলে অনেকেরই মানসিক শান্তি।

বিস্তারিত পড়ুন

ভোটযুদ্ধের মেকআপ

না- ভোটের ফল বেড়িয়ে যাওয়ার পর তাঁকে আর ময়দানে দেখা যায়নি। তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর তরুণ বয়সের স্বপ্নের কথা। যখন দেশের জন্য, দশের জন্য কিছু একটা করার বড়ো বাসনা ছিল তাঁর। কিন্তু তখন তাঁর সামনে হয়তো অনুসরণ যোগ্য সেরকম উপযুক্ত কোন নেতা ছিলেন না। যাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনসেবা দেশসেবার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতেন। ফলে তাঁর সেই তরুণ বয়সে তাঁর পক্ষে আর জনসেবা দেশসেবার কাজে নিজেকে সমর্পণ করা সম্ভব হয়েছিল না। যে দুঃখ তাঁকে আজীবন তাড়া করে বেড়িয়েছে নিশ্চিত করেই। কিন্তু তাসত্ত্বেও তখন জনগণের অবসর মুহুর্তকে বিনোদন মুখর করে তুলতেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বোম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রীতে। জনসেবা দেশসেবা না হোক, মানুষের মনে নির্ভেজাল আনন্দ দিয়ে বহু মানুষের বহু তরুণ তরুণীর নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। স্টার থেকে মেগাস্টার। সেসময়ে তাঁর স্টাইলে চুলের ছাঁট, তাঁর ভঙ্গিমায় কথা বলা। তাঁর কায়দায় হাঁটাচলা করতে দেখা যেত বহু উঠতি বয়সের ছেলেকে। সেইসব তরুণের স্বপ্নে তিনি ছিলেন মহাগুরু। বহু তরুণীর হার্টথ্রব। সেই তিনিই যখন জীবনসায়াহ্নের দ্বারে উপনীত হয়ে ভরা জনসভায় জানিয়ে দেন তাঁর সেই তরুণ বয়সের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা। সেই জনসেবা সেই দেশসেবা করার আজীবনের আর্তি। প্রকৃত অনুসরণ যোগ্য নেতার অভাবে যে কাজে এতদিন ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন নি। সেই তিনিই যখন জানিয়ে দেন, অবশেষে এত বছর বয়সে এসে তিনি সেই অনুসরণ যোগ্য একজন মহানেতার দেখা পেয়ে গিয়েছেন। তাই আর বসে থাকা নয়। তাই আর কালক্ষেপ নয়। যাঁর কর্মে উৎসাহিত হয়ে তিনি সেই মহানেতার দলে যোগ দিচ্ছেন, শুধুমাত্র এই বাংলার জন্য কিছু করতে চান বলে। তখন বাঙালি মাত্রেই আমারাও নড়ে চড়ে বসে ছিলাম বইকি। মহাগুরু এবারে মহানেতার দেখা পেয়ে গিয়েছেন। আর কি চাই? এবার তিনি নিশ্চয় তাঁর জন্মভুমিতে ফিরে আসবেন। তাঁর রাজ্যের জন্য কিছু করবেন। কি করবেন সেটা পরিস্কার না বুঝতে পারলেও, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম তিনি এমন কিছু একটা করবেন। যার জন্য তাঁর কথামত বিশেষ একটি দলের হাতে গোটা রাজ্যটিকেই তুলে দেওয়া উচিৎ আমাদের। আমাদের মতো তাঁর অনেক ভক্তই তাঁর কথামত সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলের হাতে নিজ রাজ্যকে তুলে দিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। ময়দানের সেই সভার উদ্যোক্তাদের মনেও নিশ্চয় সেরকমই হিসেব নিকেশ ছিল। তাই মহাগুরু আর মহানেতার সাক্ষাতের সেই মহাজনসভায় কত ভীড় হয়েছিল, সেই নিয়ে মিডিয়া জুড়ে প্রচারও কম হয়নি।

বিস্তারিত পড়ুন

ভাগের বাংলা

সেই ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল। নির্বাচনের আগে দাবি ছিল সোনার বাংলা। নির্বাচনের পরে দাবি উঠল ভাগের বাংলা। এটা কি ঝুলি থেকে বেড়াল বেড়িয়ে পড়ার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়ালো তবে? নির্বাচনের ফল উল্টো হয়ে গেলেই আমরা কি একাধিক বাংলা পেতাম তাহলে? একেবারে হাতে গরম! ভাগ না চাইতেই ভাগের বখরা জুটে যেত আমাদের কপালে? শুধুমাত্র কলকাতাই বা রাজ্য রাজধানী থাকবে কেন? শিলিগুড়ি বিষ্ণুপুর ঝাড়গ্রাম বনগাঁ সিউড়ি কাকদ্বীপ মালদহ যত চাই তত রাজ্যরাজধানী! উত্তরবাংলা গৌড়বাংলা রাঢ়বাংলা মতুয়াবাংলা জঙ্গলবাংলা সুন্দরী বাংলা। কতরকম নতুন নতুন রাজ্য। কতজন নতুন নতুন মুখ্যমন্ত্রী! কতগুলি নতুন নতুন বিধানসভা। কতগুলি নতুন নতুন মন্ত্রীসভা! আমরা সবাই রাজা আমাদের এই ভাগের রাজত্বে। না, বাংলার মানুষ ভাগের দাবিদারদের হাতে রাজ্যকে তুলে দেয় নি। কিন্তু দেয় নি বললেই তো হবে না। ৩৮% মানুষ যাদেরকে ভোট দিয়ে একমাত্র বিরোধী দল হিসেবে অভিষিক্ত করেছেন। সেই দলেরও তো গলার স্বর উঁচু করার একটা ম্যানডেট রয়েছে। ফলে দলের সেনাপতিরা যদি নানান বঙ্গের দাবিতে মুখর হয়ে ওঠে। তবে বলার কিছুই নেই। তাদের দাবির পক্ষে ৩৮% ভোট রয়েছে। ৩৮% বাঙালি রয়েছেন কি মানুষ রয়েছেন। সেটা আর তত বড়ো বিষয় নয়। বড়ো বিষয় এখন ৩৮% ভোট। সেই ভোটের জোরে গলার জোর বাড়ালে গণতন্ত্রে অন্তত বলার কিছু নাই। অনেকে যদিও ভাবতেই পারেন পাগলে কিনা বলে। না, ঠিক তেমনটা ভাবলে বোধহয় নিজেকেই বেকুব বানানো হবে। কারণ যারা বাংলা দখল করতে এসেছিল। তারা এখন এমনি এমনিই বাংলা ভাগ করতে চাইছেন। এমনটা ভাবলে কিন্তু ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনাই ষোলআনা।

বিস্তারিত পড়ুন

২১’র নির্বাচনে লেসার ইভিল তত্ত্ব

নির্বাচন শেষ। মানুষের রায় পরিস্কার। রাজ্য রাজনীতিতে মানুষ স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত। একভাগ রাজ্যকে গোবলয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতির হাতে তুলে দিতে প্রত্যাশী। অন্য ভাগ রাজ্যকে যেভাবেই হোক সেই গোবলয়ের রাজনীতি থেকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। আপাতত নির্বাচনী গাণিতিক হিসাবে এই ভাগের জনসমর্থনেরই পাল্লা ভারী। অর্থাৎ যেভাবেই হোক বাংলাকে গোবলয়ের সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার পক্ষেই জনসমর্থনের পাল্লা ভারী। কিন্তু পাল্লা ভারী হলেও জনসমর্থনের পার্থক্য কিন্তু খুব বেশিও নয়। মাত্রই টেনেটুনে দশ শতাংশ। আপাতত এই দশ শতাংশ বেশি জনসমর্থন রাজ্যকে গোবলয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সমর্থ হলেও। তার মেয়াদ খুব বেশি দিন টেকসই নাও হতে পারে। রাজ্যরাজনীতির অভিমুখ কখন হঠাৎ করে বাঁক বদল করতে পারে, কেউ জানে না। বিশেষ করে মার্জিন যেখানে মাত্র দশ শতাংশ। এই দশ শতাংশ বেশি জনসমর্থনের পিছনে লেসার ইভিল তত্ত্বের একটা বড়ো ভুমিকা রয়েছে। বিশেষ করে গোবলয়ের রাজনীতির হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর জনতা সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে এই লেসর ইভিল তত্ত্বেই আস্থাজ্ঞাপন করেছেন। এই ফল তারই প্রমাণ। অন্যদিকে যাঁরা ‘একুশে রাম ছাব্বিশে বাম’ পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন। তাঁরা এখনো এই ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলায় বিশ্বাসী। ফলে তাঁরা প্রয়োজনে নিজের পায়ে কুড়ল মেরেও পরের যাত্রা ভঙ্গ করার পক্ষপাতি। ২০১৯ এর নির্বাচনেও তাঁরা একই পরিকল্পনার সফল রূপায়ন সংঘটিত করেছিলেন। যার পুরোপুরি ফয়দা তুলে নিয়েছিল অতি ডানপন্থী শিবির। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লেসার ইভিল তত্ত্ব এসে সেই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে আপাতত। লেসার ইভিল তত্বের প্রবক্তাদের কথা একটা বড়ো অংশের মানুষকেই এবারের ভোটে প্রভাবিত করেছে। আর করেছে বলেই। রাজ্যরাজনীতিতে সবচেয়ে পুরানো দুই রাজনৈতিক শিবির বর্তমান বিধানসভায় প্রবেশের অধিকারই হারিয়ে ফেলেছে।

বিস্তারিত পড়ুন

জনসেবার দায়

সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকেই জনসেবার লক্ষ্যে বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে দেখা গিয়েছিল। কাউকে কাউকে একটি দল ছেড়ে অন্য দলের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিতে দেখা গিয়েছিল। মুখে তাদের সকলেরই একটিই বুলি। তাঁরা মানুষের জন্য কাজ করতে চান। এই সকল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ভিতর অনেকেই ছিলেন, রাজনীতিই যাঁদের একমাত্র পেশা। তাঁরা মূলত একটি দলে হাঁফিয়ে উঠে অন্য দলে লাফ দিয়েছিলেন ভোটের আগাম ফলাফল অনুমান করে। যদিও নির্বাচনী ফলাফলে তাঁদের সেই আশায় জনতা জল ঢেলে দিয়েছে। তাঁদের ভিতর অনেকেই নতুন দলের টিকিটে নির্বাচনে জয় লাভও করেছেন। কিন্তু বিধিবাম। তাঁদেরকে সদ্য গঠিত বিধানসভায় শাসক দলের আসনের বদলে এখন বিরোধী দলের আসনে বসতে হবে। তাঁদের কথা থাক।

বিস্তারিত পড়ুন

ধারণা ও বাস্তবতা

অনেকের ধারণা পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কেন্দ্র সরকার ও প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’র মুখ পুড়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেকাবিলায় কেন্দ্র সরকার এবং এই দুইজন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এরকমটা ভাবতে অনেকেরই হয়তো ভালো লাগতে পারে। কিন্তু বিষয়টা যত সহজে ব্যাখ্যা করা শুরু হয়েছে, তত সহজ নয়। একদল মানুষ সত্বঃসিদ্ধ ভাবে ধরেই নিয়েছেন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পর্য্যুদস্ত হয়েছে বিজেপি। তাদের এই ধারণার পিছনে দুটি বিষয় কাজ করছে। এক, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফল। এবং দুই, মিডিয়ায় তোলা নির্বাচনী হাওয়া। ২০১৯ এর নির্বাচন আর ২০২১ এর নির্বাচনকে এক করে গুলিয়ে ফেলা রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাব মাত্র।

বিস্তারিত পড়ুন

৩৮%

৩৮% কিন্তু সংখ্যাতত্বের হিসেবে কম কিছু নয়। বহু দলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের নির্বাচনী হিসেবনিকেশে এই সংখ্যা ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনেক সময়েই পর্যাপ্তেরও বেশি। কিন্তু নির্বাচনী লড়াই যদি দ্বিমুখী হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে এই ৩৮% ভোট পেয়েও আসন সংখ্যার হিসাবে বহু কদম পিছিয়ে পড়তে হতে পারে। একুশের নির্বাচনে ঠিক সেটিই ঘটে গেল। মানুষ কংগ্রেস ও বামফ্রন্টকে ধুয়ে মুছে সাফ করে প্রার্থী বাছাই করল। ফলে এই ৩৮% ভোট পেয়েও সরকার গড়তে পারলো না বিজেপি। দুইশো আসন তো দুরস্ত। একশোর কাছেও পৌঁছাতে পারলো না। আর এখানেই ‘নো ভোট টু বিজেপি’ এই নাগরিক আন্দোলনের কর্মী সমর্থকরা সকলেই খুশি। তারা মনে করছে, তাদের আন্দোলনের সাফল্যেই মানুষ বিজেপিকে হারিয়ে দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী যুদ্ধে বিজেপি’র এই হারকে যারা বড়ো করে দেখে নিশ্চিন্ত হচ্ছেন। তাঁরা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রের গভীরে ঢুকতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলা যেতে পারে।

বিস্তারিত পড়ুন

একুশের নির্বাচনের প্রাপ্তি

অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এই ভেবে যে, যাক এবারে নিশ্চিন্তি। পশ্চিমবঙ্গে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রতিহত করা গিয়েছে। বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে। বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। এখানে হিন্দী হিন্দু হিন্দুস্তান সফল হবে না। এখানে সাম্প্রদায়িক রংবাজি করা চলবে না। বাংলায় আর যাই হোক হিন্দু মুসলিম করা যাবে না। এই রায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের যে অভিযোগে তোলা হচ্ছিল সেই অভিযোগের বিরুদ্ধেও রায়। রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটকে ভাগ করার রাজনৈতিক কৌশলও এই রায় বানচাল করে দিয়েছে। এবং রাজ্য রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোটের নির্ণায়ক ভুমিকা এই রায়ে আবারও প্রমাণিত হয়ে গেল ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির সর্বগ্রাসী থাবা থেকে রাজ্যকে রক্ষা করা গিয়েছে মনে করে আজ অনেকেই স্বস্তিতে নিদ্রার আয়োজন করবেন সন্দেহ নাই।

বিস্তারিত পড়ুন

বাংলা দখলের লড়াই

অবশেষে শেষ হলো সেই ভয়ানক ভোটপর্ব। বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন মাইলস্টোন। যেভাবেই হোক বাংলাকে তুলে দিতে হবে গুজরাটিদের হাতে। পলাশীর যুদ্ধের সময় যেমন তুলে দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশদের হাতে। তুলনাটা অবশ্যই মীরজাফরদের ভালো লাগবে না। তাঁরা বলবেন, যে দল কেন্দ্রে নির্বাচিত সরকার চালাচ্ছে, রাজ্যকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া মানেই গুজরাটিদের হাতে তুলে দেওয়া নয়। বরং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একই দলের হাতে থাকলে বাংলাকে সোনার বাংলা করে দেওয়া যাবে। ঠিক যেমন সোনার গুজরাট সোনার উত্তরপ্রদেশ সোনার মধ্যপ্রদেশ সোনার আসাম সোনার ত্রিপুরা। তেমনই সোনার বাংলা। ডবলইঞ্জিন সরকার। ভারত সরকারের অধিকাংশ সরকারী সংস্থা জলের দরে বেচে দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ। এবারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধিকাংশ সরকারী সংস্থাও জলের দরে বেচে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাবে। আর জনগণের সরকারী সম্পত্তি জলের দরে দুই একজন শিল্পপতির নামে ট্রান্সফার করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে। শেষ হবে ভারত মাতাআআআআআ কি জয় বলে। এখন শিল্পপতিদের অধিকাংশ গুজরাটি কি গুজরাটি নয়, সেই প্রশ্ন তোলাটাই তো প্রাদেশিকতা। আর বাঙালির সন্তানের আর যাই দোষ থাকুক না কেন। প্রাদেশিকতার দোষ থাকতেই পারে না। বিশেষ করে এই সময়ে প্রদেশিকতা দোষে দুষ্ট বাঙালি মাত্রেই যখন দেশদ্রোহী। এখন হিন্দী হিন্দু হিন্দুস্তানের জামানা। এখন আর বাঙালি অবাঙালি করা চলবে না। বাঙালিকেও অবাঙালি হয়ে উঠতে হবে। হতে হবে কেন্দ্রের বশংবদ। বাংলার আলাদা অস্তিত্বের তো আর দরকার হবে না। বাংলা এবারে পুরোপুরি হিন্দুস্তান। এবং হিন্দুত্বই বাঙালির জীবনে এখন থেকে শেষ কথা। বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিগন্ত। রাজ্যে বসবাসকারী হিন্দীভাষীদের কথা মতোই আমাদের চলতে হবে। না হলে দেশপ্রেমের প্রমাণ দেওয়া সম্ভব হবে না।

বিস্তারিত পড়ুন

যা চেয়েছি তাই পেয়েছি

মনে হচ্ছে কয়েকটি দরকারী কথা বলে নেওয়াই ভালো। কবে আছি কবে নেই কেউ জানে না। কিন্তু মুখের কথা একবার বেড়িয়ে গেলে আর হারিয়ে যায় না। থেকে যায়। আমরা কি সত্যিই অক্সিজেন ডিজার্ভ করি? আমরা তো দেশের শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থানের জন্য ভোট দিই নি। ভোট দিই না। আমরা ভোট দিয়েছি রামমন্দিরের পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি বাবরি মসজিদ ভাঙার পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি গুজরাট দাঙ্গার সমর্থনে। আমরা গত বছরের দিল্লীর দাঙ্গার সময়েও হিন্দু মুসলিম করেছি। আমরা ভোট দিয়েছি মোদি এণ্ড কোম্পানীর ব্যাংক লুঠের সিস্টেমের পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের পক্ষে। আমাদের ভোট ডিটেনশন ক্যাম্পের পক্ষে। আমাদের ভোট বাঙালিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পক্ষে। আমাদের ভোট ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে। আমাদের ভোট পোশাক দেখে মানুষ চেনার ফর্মুলার পক্ষে। আমাদের ভোট গণপিটুনির পক্ষে। আমরা রয়েছি আইনের অপব্যবহারের পক্ষে। আমাদের ভোট দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পক্ষে। আমরা রয়েছি সরকারী সম্পত্তি ও সম্পদের লুঠেরাদের সাথে। আমরা জলের দরে সরকারী সম্পত্তি বিক্রী করে দেওয়ার স্বপক্ষেই ইভিএমে আঙুল টিপেছি। আমরা রয়েছি নির্বাচনের পর নির্বাচনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দাতাদের বিপুল ভোটে ক্ষমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার পক্ষে। আমরা রয়েছি রাজনৈতিক খুনোখুনির পক্ষে। আমাদের ভোট, যে দল যত বেশি রাজনৈতিক খুনে দক্ষ তাদের পক্ষে। আমরা ভোট দিচ্ছি মন্দির নির্মানের পক্ষে। আমরা ভোট দিচ্ছি হিন্দী হিন্দু হিন্দুস্তানের পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি নোট বাতিলে দেশের অর্থনীতি প্রবল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পক্ষে। আমাদের ভোট শিল্পপতিদের সম্পত্তি রাতারাতি বৃদ্ধির পক্ষে। আমাদের ভোট চলমান কৃষক আন্দোলনের বিপক্ষে। আমাদের ভোট সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী কেনাবেচার সিস্টেমের পক্ষে। আমরা রয়েছি অনৈতিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার ফেলে দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার গঠনের স্বপক্ষে। আমাদের অবস্থান মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি অন্ধভক্ত রূপে। আমরা ভোট দিয়েছি বিরোধীপক্ষ শূন্য রাজনীতির স্বপক্ষে। আমাদের ভোট গণতন্ত্রের কন্ঠরোধে। আমাদের ভোট আইনের অপপ্রয়োগে। আমাদের ভোট মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে। আমাদের ভোট অন্যায়ের সাথে আপোষের স্বপক্ষে। আমাদের ভোট গায়ের জোরে লুঠপাটের পক্ষে। আমরা দলবদ্ধ শয়তানীর সমর্থনে ভোট দিতে অভ্যস্থ। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত ফৌজদারী মামলার আসামীদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে নিয়ে আসার পক্ষে অবস্থান করি। করি বলেই প্রতিটি নির্বাচনে আমরা পূর্ববর্তী নির্বাচনের থেকে বেশি হারে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের নির্বাচিত করে আইনসভায় পাঠিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ি। এটাই আমাদের ধর্ম।

বিস্তারিত পড়ুন