লিপস্টিক মনস্তত্ত্ব

লিপস্টিকের আবিষ্কর্তা কে? না, জানা নেই তাঁর নাম। কিন্তু সেই লিপস্টিক না হলে পৃথিবী অচল আজ। অনেকেই এমন রয়েছেন। পোশাক যেমন তেমন হোক। কিন্তু লিপস্টিক না লাগিয়ে বাইরে বেরোতে সঙ্কোচ বোধ করেন। আবার অনেকেই রয়েছেন যাঁরা এই লিপস্টিক উৎপাদন থেকে বাণিজ্যের উপরে নির্ভর করে সংসার চালান। ফলে লিপস্টিক না থাকলে বহু মানুষের বহ সমস্যা। মানুষের সৌন্দর্য্য তার রূপে ও ব্যবহারে। একথা মানেন সকলেই। তাই সমাজে মানুষ নিজেকে ঠিকঠাক সাজিয়ে গুছিয়েই সকলের সামনে হাজির করার কথা ভাবে। আমরা কেউই চাই না। যেমন তেমন করে পথে বার হতে। আর এই যে নিজেকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে পথে বাহির হওয়া। এর ভিতরে লিপস্টিকের ভুমিকা নারীজাতির ক্ষেত্রে অপরিসীম। এটা যুগ লক্ষ্মণও বটে। যে মহিলা যতটা বেশি শিক্ষিতা। যতটা বেশি ধনী। তাঁকেই তত বেশি করে লিপস্টিকের শরণাপন্ন হতে হয়। এবং এটাও ঘটনা, সমাজের একদম নীচুতলায় লিপস্টিকের প্রচলন কম। বা কোথাও কোথাও প্রায় নেই বললেই চলে। অর্থাৎ লিপস্টিকের প্রয়োজন শিক্ষার হার এবং অর্থ কৌলিন্যের সাথে বেশ সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। এবং এই বিষয়ে সেলিব্রেটি মহিলাদের জুড়ি মেলা ভার। বস্তুত তাঁরাই সমাজে লিপস্টিকের ব্র্যাণ্ড অ্যাম্বাসেডর। এবং লিপস্টিক বাণিজ্যের বিস্তারে তাঁদের ভুমিকা সমধিক।

বিস্তারিত পড়ুন

নারীজন্মের অসুখ

সমাজ সভ্যতা যখন পিতৃতন্ত্রকে কেন্দ্র করে বিবর্তিত হতে থাকে, তখন নারীজন্মের ভিতরেই একটা অনিশ্চিয়তার বোধ আজীবন সুপ্ত থাকে। এই অনিশ্চিয়তা মেয়েদের অবচেতনেই শুধু নয়। চেতন মনের অন্তরদর্পণেও গভীর ছায়া ফেলে্। সেই ছায়ার আড়াল থেকে অধিকাংশ মেয়েই আর মুক্তি পায় না। পায় না বলেই তাকে পুরুষের ঘর করতে হয়। তাকে পুত্রের ঘর করতে হয়। সে কোনদিন শুধুমাত্র নিজের একটা ঘর বাঁধতে পারে না। অনেকেই আমরা ধারণা করি উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে মেয়েরা অনেক বেশি স্বাধীন। স্বাধীন তো বটেই। কিন্তু পাশ্চাত্য সমাজেও নারীজন্ম সেই পিতৃতন্ত্রের ঘেরাটোপেই আটকিয়ে রয়ে গিয়েছে আজও। ফলে নারীর মনস্তত্বের কেন্দ্রে যে অনিশ্চয়তার অসুখ কম বেশি সুপ্ত থাকে। সেই অসুখ থেকে বোধকরি বিশ্বের কোন সমাজ সভ্যতাই পুরোপুরি মুক্ত নয়। হ্যাঁ এটি অবশ্যই সত্য, পাশ্চাত্য সমাজে মেয়েদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জায়গাটি অধিকতর মজবুত। মজবুত বলেই সেখানে সিঙ্গল মাদারহুডের একটা বড়ো পরিসর গড়েও উঠেছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও এই পরিসর অল্প অল্প করে হলেও পথ খুঁজে পাচ্ছে। কিন্তু সেইখানেই যে নারী এই পিতৃতন্ত্রের যাঁতাকল থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করতে পারছে। বিষয়টি অতটাই সরলরৈখিকও নয় কিন্তু। একজন সিঙ্গল মাদারের মনস্তত্বের ভিতর থেকেও পিতৃতন্ত্রের শিকড় উপড়িয়ে ফেলা সহজ সাধ্য বিষয় নয়। আমাদের সমাজ আমাদের সভ্যতা, আমাদের বেঁচে থাকার পরতগুলি এমন অমোঘ ভাবেই পিতৃতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রীত যে, সেখান থেকে পুরোপুরি বেড়িয়ে আসা বোধহয় অত সহজ কথাও নয়।

বিস্তারিত পড়ুন

যুক্তি ও আবেগ

সাধারণ ভাবেই আমরা যুক্তি’র থেকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি আবেগকে। আর এই বিষয়ে ঘরের মেয়েরা সকলের থেকে এগিয়ে। অধিকাংশ নারীকেই এই বিষয়ে যুক্তি দিয়েও বোঝানো যায় না। আবেগের সাথে তাদের নাড়ির বন্ধন এতটাই দৃঢ় যে, ঘোর বিপদের সময়েও তাঁরা আবেগকেই আঁকড়িয়ে ধরে বসে থাকবেন। তবু যুক্তির শরণাপন্ন হবেন না। হয়তো জল হাওয়া মাটি আকাশের সাথে মানুষের যে মনের বন্ধন। সেই বন্ধনই নারীর প্রকৃতিকে এমন আবেগসর্বস্ব করে তুলেছে। অধিকাংশ সময়ে অধিকাংশ মহিলাই এই আবেগের বশবর্তী হয়ে সংসারে অনেক ধরণের জটিল আবর্তে নিজে পড়ে যান। এবং ঘরের বাকিদেরকেও ঠেলে ফেলে দেন সেই জটিলতায়। যখন কোন যুক্তিই তাঁদেরকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ঠ হয়ে ওঠে না। নিজের ক্ষতি তো করবেনই। সাথে গোটা পরিবারেরও সর্বনাশ ঘটিয়ে ছাড়বেন। না, এমন সর্বনাশা পরিস্থিতি যে অহোরাত্র সংঘটিত হচ্ছে কিংবা হয় তেমনটি নয় আদৌ। কিন্তু যখন হয়, তার ফল হতে পারে মারাত্মক। অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যায় না। আবেগের প্রাবল্যে যুক্তি ভেসে গেলেও, সেটি হয়তো সামাল দেওয়া যায়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে যত সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ততই অবস্থা বিগড়ে যেতে থাকে। এবং সে রকম অভিজ্ঞতা যত কমই হোক না কেন। বিরল নয় আদৌ। আমাদের জনসংখ্যার বিপুল পরিমাণের জন্যেই শতকরা হারে চোখে পড়ে কম।

বিস্তারিত পড়ুন