ঘুষের আমি ঘুষের তুমি

যাদের ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছিল। তাদের কোন শাস্তি হবে কি হবে না, সেটা আর কোন বড়ো বিষয় নয়। মূল বিষয় একটাই। ঘুষ তো নিয়েই নিয়েছেন। যা হয়ে গিয়েছে। তা গিয়েছে। টাকা ফেরৎ দেওয়ার দাবিও কেউ করছে না। আসল প্রশ্ন, চার নেতা জামিন পাবেন কি? এই নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে উতরোল। মানুষের চোখে ঘুষ খাওয়া আজ আর কোন অপরাধ মূলক দোষনীয় কুকর্ম নয়। আমরা জানি, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। ফলে ভোটে জেতা নেতা নেত্রীরা ধোয়া তুলসীপাতা হয়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের মতো দেশ সেবা করবেন। নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মতো দেশবাসীর জন্য জীবন বাজি রাখবেন। এমন উদ্ভট কল্পনা করে কোন নাগরিকই কোন রাজনৈতিক প্রার্থীকে ভোট দেয় না। নেতা নেত্রীরা ভোটে বরং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন। কারচুপি করবেন। রিগিং করবেন। ঝামেলা পাকিয়ে বুথ জ্যাম করে ছাপ্পা ভোট দেওয়াবেন। আর নয়তো হাইটেক প্রযুক্তিতে ইভিএম হ্যাক করে নির্বাচন জিতে নেবেন। এমনটাই প্রত্যাশিত। সেখানেই তো মালুম হবে কোন নেতা কোন নেত্রীর হালুম হুলুম করার ক্ষমতা কতো বেশি। তবেই না আমরা সেই সব অমূল্যরতনদের পিছনে ভিড় বাড়াতে থাকবো। একজন রাজনৈতিক নেতার জনপ্রিয়তার ভিত্তি কি? সততা? নৈতিকতা? সাধুতা? সৎচরিত্র? দেশের ও দশের উন্নতির জন্য জীবনভোর সংগ্রাম করা? না। এর কোনটিই নয়। একজন রাজনৈতিক নেতার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তিই হলো তিনি সরকারী কিংবা বেসরকারী ক্ষমতার বলে কতটা অনৈতিক সুবিধে কতটা অসাধু উপায়ে পাইয়ে দিতে পারেন। সংবিধান ও আইনকে কতটা ঘন ঘন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। সেখানেই একজন রাজনৈতিক নেতার আসল এলেম। আর সেই এলেমের ভিত্তিতেই এক একজন নেতা নেত্রী হেভিওয়েট সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী হয়ে ওঠেন। তখন তাদের জন্য আইনের প্যাঁচ একরকম। আর বুথে বুথে লাইনে দাঁড়ানো ভোটার জনসাধারণের জন্য আইনের প্যাঁচ আর একরকম।

বিস্তারিত পড়ুন