দশচক্রে ঠুঁটো পুলিশ

রাজ্যজুড়ে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা কি? এই বিষয়ে কোন আলোচনা শোনা যায় কি? পুলিশের কাজ কি? ধর্ষককে বিচারের ন্যায়দণ্ডের সামনে হাজির করানো। দেশে একটা সংবিধান রয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করে আইনের নানান ধারা ও উপধারা রয়েছে। ধর্ষণের শাস্তির জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ধর্ষণের কাণ্ডে যুক্ত অপরাধী এবং অভিযুক্তদের খুঁজে পেতে এবং গ্রেফতার করতে দেশজুড়ে পুলিশ রয়েছে। আমাদের রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণের কাণ্ড ঘটে গেলে। সেই ঘটনার সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা ও আদালত গ্রাহ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের সামনে পেশ করা। এইসবই পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব এবং কর্তব্যের ভিতরে পড়ে। পুলিশের কাজ যদি যথাযোগ্য হয়। তাহলে অধিকাংশ ধর্ষকেরই সঠিক বিচার হওয়ার কথা। বিচারের আইন নির্দিষ্ট। সেই আইনের চোখে সঠিক প্রমাণ হাজির করতে পারলেই সঠিক বিচারের একটা আশা থাকে। আশা থাকে বলার কারণ রয়েছে। বিচার ব্যবস্থা সঠিক ভাবে আইনের ব্যবহার করে ধর্ষণ কাণ্ডের অপরাধীদের যথাযোগ্য শাস্তি বিধান করবে কি, করবে না। সেটি বিচারকের উপরেও নির্ভরশীল। বিচারক যদি ন্যায়পরায়ণ এবং সৎ হন। তাহলে, পুলিশ ধর্ষণ কাণ্ডের সঠিক প্রমাণ আদালতের কাছে পেশ করতে পারলে। ধর্ষকের যথাযোগ্য শাস্তি না হওয়ার কোন কারণ নেই। এই বিষয়ে ধর্ষকের পক্ষে যত বড়ো অভিজ্ঞ উকিলই থাকুক না কেন। আদালতে পুলিশের পেশ করা প্রমাণই কিন্তু শেষ কথা। অন্তত তেমনটাই তো হওয়া উচিত।

বিস্তারিত পড়ুন

গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা

মার্চ ৫’ ২০২২। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের দশম দিন। মস্কো সময়ে সকাল দশটা থেকে ঘন্টা খানেকের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে মস্কো। অবরুদ্ধ শহরের জনগণ যাতে নিরাপদ অঞ্চলে রওনা দিতে পারে। এবং সাধারণ মানুষের কাছে যথা সম্ভব জরুরী পরিসেবা পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য। না, এই সংবাদ কোন রুশ সংবাদ সংস্থা থেকে নেওয়া নয়। কারণ, ছাপ্পান্নো ইঞ্চি ছাতির দোর্দণ্ড প্রতাপ ভারতবর্ষে, মার্কিন চোখরাঙানিতে আপাতত রুশিয়া টুডে টিভি চ্যানেলের সম্প্রসারণ বন্ধ। এই সম্প্রসারণ বন্ধ করা হয়েছে, রুশ সামরিক অভিযানের নবম দিন। ফলে প্রচারিত সংবাদের সত্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। আরও একটি সংবাদ জানানোর প্রয়োজন এই মুহুর্তে। মার্কিন সেনেটর লিণ্ডসে গ্রাহামের করা সেই বিখ্যাত টুইট। পুতিন খুনের আহ্বান করে। টুইটার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই টুইট তাদের টুইটারের নিয়ম ও নীতির কোন লঙ্ঘন করছে না। অর্থাৎ পুতিন হত্যার ফতোয়া দেওয়ার অধিকার একজন মার্কিন সেনেটরের যেমন রয়েছে। তেমনই সেই ফতোয়া বিশ্বজুড়ে প্রচার করার অধিকারও টুইটার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। ঠিক যেমন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের নব-নাৎসী সংগঠনের একাউন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। ফেসবুকের যুক্তি। নব-নাৎসীদেরও নিজেদের মত ব্যক্ত করার অধিকার রয়েছে। না, তাই বলে রুশিয়া টুডে টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের বাকি বিশ্বের কাছে সংবাদ পৌঁছিয়ে দেওয়ার কোন অধিকার নেই। যে অধিকার রয়েছে নব-নাৎসী গোষ্ঠীদেরও। এটাই বর্তমান বিশ্বের গণতন্ত্রের সংবিধান। মার্কিন-ন্যাটো শক্তি অক্ষের স্বার্থে সব কিছু পরিচালিত হবে। হতে থাকবে। সেই স্বার্থের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেই মুশকিল। ধোপা নাপিত বন্ধ। বিশ্বজুড়ে খলনায়ক প্রতিপন্ন করে হত্যার ফতোয়া। ফলে দেখা যাচ্ছে ফতোয়া শুধুমাত্র মৌলবাদী তালিবানরাই দেয় না।

বিস্তারিত পড়ুন

মন্ত্রীপুজো

জীবিত মন্ত্রীর নামে স্টেডিয়াম কিংবা মন্ত্রীর আদলে দুর্গা মূর্তি দুই’ই গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক। একটির সমালোচনা করেও অন্যটির সমালোচনা না করা আরো বেশি বিপদজনক। সমালোচনা বা বিরোধীতা করলে দুই ক্ষেত্রেই করা উচিত। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিসরে উল্টোটি ঘটলে সেটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই নিদর্শন। গণতন্ত্রের মুখ্য অভিমুখ যখণ গণ থেকে বিচ্যুত হতে শুরু করে ক্ষমতাতন্ত্রের অভিমুখে ধাওয়া করতে থাকে। তখনই গণতন্ত্রের আসল বিপদের সূচনা। আর তখনই জীবিত মন্ত্রীর নামে স্টেডিয়াম মন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন। আশা করা যেতেই পারে। জীবিত মন্ত্রীর আদলে দেবী দুর্গার মূর্তির উদ্বোধনও মন্ত্রীর নিজের হাতেই হবে। ফলে এই অশনিসংকেতগুলি আসলেই গণতন্ত্রের মৃত্যুঘন্টা বাজাতে শুরু করে দেয়। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি একান্তই নড়বড়ে ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে। এখানে গণতন্ত্র মানে শুধুই ভোটাধিকার। বুথে বুথে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া। আর রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করা। এই দুটি কাজ করে যাওয়াতেই আমাদের বিশ্বাসে গণতন্ত্রের স্থায়ীত্ব। গণতন্ত্রকে আমরা রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করা আর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ইভিএমে বোতাম টেপা’র বাইরে আর ভাবতে বা অনুভভ করতে পারি না। আর সেই অক্ষমতা থেকেই গণতন্ত্রের অভিমুখ  ক্ষমতাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে দেয়। দলতন্ত্র বা ব্যক্তিতন্ত্রই যার বাইরের আবরণ। ফলে দলতন্ত্রের পুজো বা ব্যক্তিতন্ত্রের পুজো শুরু হয়ে যায় গণতন্ত্রের অবরুদ্ধ পরিসরে। যার পরতে পরতে আসলেই ক্ষমতাতন্ত্রের আরাধনা চলতে থাকে। আর সেই ক্ষমতাতন্ত্রের আরাধনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মানুষ যখন তখন যেখানে সেখানে হেনস্থার শিকার হতে পারে। ক্ষমতাতন্ত্র আর যাই হোক বিরুদ্ধাচারণকে সহ্য করতে পারে না।

বিস্তারিত পড়ুন

দলবদলের পালায় নিহত গণতন্ত্র

রাজনৈতিক দলবদলের পালা চলতেই থাকবে। যখন যেখানে মধুভাণ্ড। তখন নেতা থেকে নেত্রী সেখানে সুইচ ওভার করবে। অনেকটা মিউচ্যুয়াল ফাণ্ডের ইনভেস্টারদের মতো। নির্বাচনের আগে এবং পরে। সময় ও সুযোগ বুঝে। দর কষাকষি করে। কখনো সখনো বা সিবিআই কিংবা ইডি’র জুজু দেখেও দল বদল চলতে থাকবে। ফুটবলের দল বদলের মতো রাজনীতির দলবদলেও অর্থের একটা ভুমিকা থাকে। তবে ফুটবলের মতো ঢাক পিটিয়ে নয়। একেবারেই চোখে চোখে ইশারায়। এখন দেশে একটা সংবিধান রয়েছে। রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে দলবদলের যে পালা। সেই পালা সংবিধানের ফাঁক এবং ফোঁকর দিয়ে মঞ্চস্থ হতে থাকে। এবং থাকবেই। কোন রাজনৈতিক দলই সংবিধান সংশোধনের পথে এগোবে না। সব দলই দল বদলে শক্তিহীন হলে বিপক্ষ দলের মুণ্ডুপাত করতে থাকবে। দলত্যাগী সাংসদ বিধায়কদের নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। কিন্তু ভুলেও সংবিধান সংশোধনীর পথে হাঁটবে না। এক দলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদ বিধায়ক কাউন্সিলর পঞ্চায়েত সদস্য দলবদল করতেই পারে। কিন্তু দলবদলের মুহুর্তেই সাংবিধানিক বিধিতে তার নির্বাচিত আসনে পুনর্নিবাচনের বিধি থাকলেই আর কোন অসুবিধা ছিল না। থাকার কথাও নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কোন বিশেষ দলের প্রার্থী হিসাবে যখন ভোটে জিতে সাংসদ বিধায়ক কাউন্সিলর পঞ্চায়েত সদস্য হন, তখন প্রাপ্ত ভোটের প্রতি তার প্রধান দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। তিনি দলবদল করা মানেই তার প্রাপ্ত ভোটের ভোটারদেরও সমর্থন তার সাথেই নতুন দলে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়া নয়। ভোটাররা কিন্তু শুধু তাঁকেই ভোট দেয় না। সেই সাথে তিনি যে দলের প্রার্থী সেই দলকেও ভোট দেয়। এটাই গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতি। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তার আসন নিয়েই দলবদল করলে সেটা সরাসরি ভোটারদের সাথেই তঞ্চকতা করা হয়। এবং গণতন্ত্রেরই কণ্ঠরোধ করা হয়। সর্বপরি অপমানিত হয় দেশের সংবিধান। সেই সংবিধানকেই ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখে দেশজুড়ে এই দলবদলের রাজনীতি চলে আসছে। চলতে থাকবে।

বিস্তারিত পড়ুন

পরীমনিদের বাংলাদেশ

পরীমনি কাণ্ডে আমরা বর্তমান বাংলাদেশের একটা স্পষ্ট ছবি দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশে যে কর্পোরেট শক্তির উদয় হয়েছে। তারাই মূলত রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে। এবং রেখেওছে অনেকটা। সেটা একটা দিক। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অভিমুখে কর্পোরেট শক্তি নিজেদের স্বার্থ বুঝে নিতে চাইবে। সেটা অস্বাভাবিক নয়। এতবড়ো দেশ ভারতবর্ষ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ঢক্কা নিনাদ বাজতে থাকে নিরন্তর। সেদেশেও বর্তমানে কর্পোরেট শক্তির কব্জায়। এখন আবিশ্ব সকল গণতান্ত্রিক দেশই কম বেশি কর্পোরেট পুঁজির কব্জায় থাকে। সেখানেই গণতন্ত্রের স্বার্থকতা। আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্রের উদ্ভব কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থেই। এই কারণেই আমরিকা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করতে থাকে। যাতে গোটা বিশ্বকেই কর্পোরেট পুঁজির কব্জায় রাখা যায়। কিন্তু একটা দেশকে গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে কর্পোরেট পুঁজির কব্জায় রাখা একটা বিষয়। আর একটা দেশকে গণতন্ত্র হোক আর স্বৈরতন্ত্রই হোক যে কোনভাবেই কর্পোরেট শক্তির কব্জায় নিয়ে আসা সম্পূর্ণ পৃথক একটি বিষয়। ষাট সত্তর আশির দশকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে ঠিক এই কাণ্ডই ঘটতো। মার্কিন সামরিক শক্তির মদতে এক একটি দেশকে কর্পোরেট শক্তির কব্জায় নিয়ে আসা হতো। নিকারাগুয়ার বিপ্লব কিউবার বিপ্লব সেই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধাচারণ করতেই গড়ে উঠেছিল। অথচ খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ব্রিটেন জার্মান জাপান দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি গণতান্ত্রিক দেশগুলির ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন ঘটনা ঘটতো না। উন্নত বিশ্বের এই ধনতান্ত্রিক দেশগুলি কর্পোরেট পুঁজির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কর্পোরেট শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকেনি কোনদিন। একুশ শতকে এসে ভারতীয় উপমহাদেশে বিগত শতকের লাতিন আমেরিকা মডেল চালু হয়ে গিয়েছে। ফলে আজকের ভারত বাংলাদেশ সরাসরি কর্পোরেট শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। বা চলে যাওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। পরীমনি কাণ্ডের প্রেক্ষাপট কিন্তু এইখানেই। যেহেতু আজকের বাংলাদেশ প্রায় পুরোপুরি কর্পোরেট শক্তির কব্জায় অবস্থান করছে, তাই সেদেশে গণতন্ত্রের উপরে কর্পোরেট শক্তির স্বার্থ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। এখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন যদি সেই কর্পোরেট শক্তির স্বার্থে আঘাত করে। কিংবা কর্পোরেট শক্তির ইগোতে আঘাত করে ফেলে। জেনে বা না জেনে। বুঝে বা না বুঝে। তবে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে সেই ভুলের মাশুল কোন না কোন ভাবে দিতে হবে। রাষ্ট্রে নির্বাচিত সরকার থাকলেও কর্পোরেট শক্তির বিরুদ্ধাচারণ করা কোন নির্বাচিত সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়।

বিস্তারিত পড়ুন

বেআইনী ধারার বেআইনী প্রয়োগ

কথায় বলে পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা। আর যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। কথাদুটি যে কতটা সত্য। বোঝা যাচ্ছে বর্তমান ভারতে। যেভাবেই হোক কোন অভিযোগে পুলিশের খাতায় একবার নাম উঠে গেলেই হলো। দিনের পর দিন আদালতের চক্করে পড়ে থাকো। বছরের পর বছর গড়িয়ে যাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। এবং শেষমেশ স্বসম্মানে বেকসুর খালাস হলেও, দোষী পুলিশ আধিকারিকদের কোন সাজা হবে না। নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায় ভাবে অভিযুক্ত করে আদালতের চক্করে ঠেলে দেওয়ার জন্য। এটা ভারতবর্ষের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলিতেই সম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা। নিরাপরাধ মানুষের জীবনের অতি মূল্যবান সময়গুলি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুবিচার পাওয়ার লড়াইয়েই শেষ হয়ে যায়। প্রতিবছর এইভাবে কত হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষ অন্যায়ের শিকার হয়ে বিনা বিচারে জেলের ঘানি টানে, তার কোন সঠিক হিসাব নেই। অথচ দোষী পুলিশ আধিকারিকদের কোন সাজা হয় না, নিরাপরাধ মানুষকে গারদের ভিতরে আটক রাখার জন্য। আর দেশের ভার যাদের হাতে। তাদের মুখে একটাই বাণী। আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু ভারতবর্ষের আইনের পথটা যে কি ভীষণ রকমের বাঁকা, সেটা ভুক্তোভূগী মাত্রেই জানে। এই অব্দি চিত্রটা ভারতবাসী মাত্রে সকলেই জানেন। ফলে ভারতে এই চিত্র অত্যন্ত স্বাভাবিক। এর ভিতরে কোন বিস্ময় নেই। অন্যায় যাই থাকুক আর নাই থাকুক। ক্ষমতায় থাকলে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশকে ঝুড়ি ঝুড়ি অনৈতিক কাজ করতে হয়। আমরা সকলেই জানি। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঘটনা সব রকমের অন্যায়কেই ছাপিয়ে গিয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের রায়ে সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাওয়া একটি অসাংবিধানিক সরকারী আইনকে বেআইনী ভাবে ব্যবহার করে বহু মানুষকে আদালতের চক্করে ঘোরানোর মতো দুর্নীতি চলছে দিনের পর দিন ধরে। সরকার চুপ করে বসে রয়েছে। আর শাসকদলের অঙ্গুলি হেলনে সরকারী পুলিশ এই বেআইণী কাজ করে চলেছে বছরের পর বছর।

বিস্তারিত পড়ুন

কুকুরকুণ্ডলী

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর্বে পদ্মশিবিরের সভাপতির গাড়ীর কনভয়ের উপরে রাজ্যের শাসকদলের কর্মীসমর্থকদের হামলার ঘটনা অনেকেই হয়তো ভুলে জাননি এর মধ্যেই। সেই হামলা নিয়ে দুই শিবিরের ভিতর রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও কম হয়নি। আমাদের দেশে এই সব হামলা অবরোধ ভাঙচুড় হলেই এক দল আরেক দলের কর্মীসমর্থকদের দুষ্কৃতী বলে সম্বোধন করে থাকে। এবং হামলা প্রতিরোধ অবরোধের সম্মুখীন হলেই, সেসব বিপক্ষ দলের পোষা গুণ্ডাদের কাজ বলে অভিযোগ করে থাকে। অপর দলটি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টিকে জনবিক্ষোভ জনতার প্রতিরোধ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। আর এইটিকেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে থাকি। ঠিক একই কাণ্ড আজকেই ঘটে গেল। ত্রিপুরার আগরতলায়। শুধু ভুমিকা পাল্টিয়ে গেল। আজ হামলার শিকার হতে হলো ঘাসফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়কে। অভিযোগের তীর ত্রিপুরার শাসকদলের দিকে। এখানেও দুই দলের পরস্পরের ভিতর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ভাষা ও যুক্তি একই। তফাৎ শুধু ডায়মণ্ডহারবারে যে দল হামলার শিকার হয়েছিল। ত্রিপুরায় সেই দলই হামলাকারী। পশ্চিমবঙ্গে যে দলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ছিল। আজ ত্রিপুরায় তারাই হামলার শিকার। অর্থাৎ হামলা ও হামলার শিকার হওয়া। দুইই একই রাজনৈতিক সংস্কৃতির এপিঠ আর ওপিঠ। এক জায়গায় যে হামলার শিকার। অন্য জায়গায় সেই হামলাকারী। এক জায়গায় যে হামলাকারী অন্য জায়গায় সেইই হামলার শিকার। এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপের ভাব ভাষা যুক্তিও যেমন এক। ঠিক তেমনই হামলার পক্ষে যুক্তি সাজাতে হামলাগুলিকে স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ বলে চালানোর সংস্কৃতিও এক এবং অভিন্ন। রাজনৈতিক দলগুলির নাম প্রতীক পতাকার রঙ ভিন্ন হলেও কর্মপদ্ধতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি অভিন্ন। যে যেখানে শাসকদলের ভুমিকায়। সে সেখানেই হিরো। ফলে সে তার আপন গড়ে যে ঘটনাকে স্বত্ঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ বলে চালিয়ে থাকে, সেই একই ঘটনা অন্যদলের এলাকায় ঘটলেই সেটি হয়ে যায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসার ডাক দিয়ে জনমানসে জনদরদী সাজার নাটক। যে নাটকের আরেক নাম রাজনীতি।

বিস্তারিত পড়ুন

সেলিব্রেটিদের সমাজসেবা

মন্ত্রীত্ব হারিয়ে তাঁর বোধদয় হলো, রাজনীতি বাদ দিয়েও সমাজ সেবা করা যায়। যদিও তিনি পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাননি কোনদিন। শোনা যায় প্রতিমন্ত্রীদের টেবিলে কোন ফাইল গিয়ে পৌঁছায় না। কিন্তু মন্ত্রীর ঠাটবাঁট সুযোগ সুবিধে আর্থিক সমৃদ্ধি সবই পাওয়া যায়। ফলে রাজনীতির ময়দানে হাফ মন্ত্রীরও উচ্চদর। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ গাড়ীর বনেটে উপরে বসে সেদিন সেই দর হাতে কলমে দেখিয়েও এসেছিলেন। স্বয়ং রাজ্যপালকে ছুটে আসতে হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে নয়। কেন্দ্রের শাসকদল মনোনীত রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান করে, সেদিন এই হাফ মন্ত্রীকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চোখে ধুলো দিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে হয়েছিল। এতটাই তাঁর প্রতাপ। এতই তাঁর উচ্চদর। সেইমতই তাঁর চলাফেরা। সেইমতই ভাষণ দেওয়া। বিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরকে কথার ধারে একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক সত্তাকে নিরন্তর খরবের শিরোনামে রাখার বিষয়ে, তিনি অনেকের থেকেই কয়েক কদম এগিয়ে। তার আরও একটি কারণ অবশ্যই শিল্পকলা জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা। সেই জনপ্রিয়তা ভাঙ্গিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর তকমাতেই এতদিন মুখে জগৎ মারিতং। সেই তিনিই নাকি, মনে করছেন রাজনীতি ছাড়াও সমাজসেবা করা যায়। না, একথা মন্ত্রীত্ব থাকা কালীন তাঁর একবারও মনে হয়নি। মনে হচ্ছে মন্ত্রীত্ব হারানোর পর থেকেই। তাও পূর্ণ মন্ত্রী নয়। প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রীত্ব যে ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা মহার্ঘ্য। সেটি বুঝতে এই ঘটনাই যথেষ্ঠ। পূর্ণ মন্ত্রী হলে না জানি তাঁর অবস্থা কি হতো। ফলে সদ্য সমাপ্ত মন্ত্রীসভা রদবদলে তাঁর যে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার একটা সাধ ছিল। একথা চোখ বুঁজেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু কথায় বলে। মানুষ ভাবে এক। হয় আর এক। তাঁর দুর্ভাগ্য। তাঁর ভাগ্যেই প্রবাদবচন এমন সত্য করে ফলে গেল। যাও বা একটা হাফ মন্ত্রীত্ব ছিল। এবারের সদ্য সমাপ্ত মন্ত্রীসভা রদবদলে সেটিও হাতছাড়া হয়ে গেল। স্বপ্ন সাধ সাধনা ধুলিস্মাৎ হয়ে নিজের দলের ভিতরেই তিনি আজ অপ্রাসঙ্গিক। তিনি হয়তো জানতেন না। তিনি যে রাজনৈতিক দলের মঞ্চে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। সেই দলের সর্বভারতীয় দিগন্তে, বাংলা থেকে নির্বাচিত বাঙালি প্রতিনিধিদের বেশিদিন উড়তে দেওয়া হয় না। বেশি উড়তে গেলে ডানা ছেঁটে ফেলে দেওয়া হয়। এই কারণেই তাঁর কাছ থেকে তাঁর সাধের মন্ত্রীত্ব ছিনিয়ে নেওয়া। না তাই বলে তাঁকে যে সামান্য সাংসদ হিসেবেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে দলের সকল নির্দেশ এবং দলীয় নেতানেত্রীর হুকুম তামিল করে যেতে হবে। তেমনটা নাও হতে পারে। আর যাই হোক আর পাঁচজন রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের মতো রাজনীতিটাই তাঁর একমাত্র পেশা নয়। রাজনীতিতে তিনি এসেছিলেন, আপন পেশায় লব্ধ প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশব্যাপী জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে। ফলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও তাঁর ভাতের অভাব হবে না। আর সেই বার্তাটুকুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৃত্তে পৌঁছিয়ে দিতেই তাঁর আজকের ফেসবুক পোস্ট। এখন এহেন ভদ্রলোকের রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ কোনদিকে গড়াবে। সে তো সময়ই বলবে। আমরা বরং একটু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি, রাজনীতি ও সমাজসেবার ভিতরে প্রাসঙ্গিক সম্পর্কসূত্রটুকুই।

বিস্তারিত পড়ুন

পেগাসাস ইনস্টল্ড

লোকসভা রাজ্যসভায় হইচই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হবে। ভাগ্য ভালো ইস্তফার দাবির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই। সরকার, বিরোধীমত স্তব্ধ করতে গণতন্ত্রের সব রকমের রক্ষাকবচকে নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মোবাইল ফোনে আড়ি পাতবে, এতো জানাই কথা। হ্যাঁ সেই আড়ি পাতার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরকারের হাতে নাই। নাই বলেই সেই গুপ্তচর প্রযুক্তি আমদানী করতে হয়েছে বিদেশী শক্তির কাছে থেকে। তাও আবার যে সে বিদেশী শক্তি নয়। একেবারে বিশ্বসন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইজরায়েলের কাছ থেকেই। তা হোক। এমন অত্যাধুনিক ডিজিটাল গুপ্তচর প্রযুক্তি ইজরায়েল ছাড়া আর কোন দেশ আবিষ্কার করবে? আর ডিজিটাল ইণ্ডিয়ার রূপকার সেই ডিজিটাল প্রযুক্তির আমদানী করবে না? তাই আবার হয় নাকি? অবশ্যই করবে। ডিজিটাল ইণ্ডিয়া গড়তে এই প্রযুক্তিই তো সব থেকে বড়ো বল ভরসা। ফলে সরকার বিরোধী চিন্তাধারা কোথায় কি চর্চা চলছে, সেসব জানা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। সেই কর্তব্যকর্মে সরকার যে অবিচল এবং অষ্টপ্রহর সজাগ। সে বিষয়ে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। দেশের স্বঘোষিত চৌকিদার যে ফাঁকা আওয়াজ দিয়েছিলেন না। সেকথা আবারো প্রমাণিত হল। দেশের সম্পদ জনতার হাত থেকে নিয়ে দুই একজন বন্ধু কর্পোরেট শিবিরের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও তিনি যেমন অক্লান্ত চৌকিদারী চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়া গণতান্ত্রিক কন্ঠস্বরেরা কোথায় কার সাথে কখন কি শলাপরামর্শ করছে। সেকথা সরাসরি জানতেও সেই চৌকিদারীও যে চলবে অক্লান্ত উদ্যো‌গে, এ আর নতুন কথা কি? ফলে এই চৌকাদারী রাজত্বে চৌকাদারী নিয়েই সমালোচনার তো কোন মানেই হয় না। এখন যদি কেউ প্রশ্ন তোলে জল কেন নীচের দিকে গড়ায়? সূর্য কেন পূর্ব দিকে ওঠে। চোর কেন চুরি করে। মিথ্যেবাদী কেন মিথ্যে কথা বলে। তবে সেই সেই ঘটনার সমালোচনা করার তো কোন অর্থ হয় না। যার যেটা ধর্ম ও প্রকৃতি। সে তো সেটাই করবে। কথায় বলে নিয়তির বিধান খণ্ডাবে কে?

বিস্তারিত পড়ুন

জনতার রাজনীতি

রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা প্রতিশ্রুতি দেবেন। ভোট পাবেন। ক্ষমতায় গিয়ে পৌঁছাবেন। এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। জনতা চোখবুঁজে দেখবে। পাঁচ বছর ধরে চোককান বন্ধ করে থাকবে। পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারে নেতানেত্রীর রোডশোতে গিয়ে ভিড় করবে। জনসভায় গিয়ে নতুন নতুন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনে আসবে। এবং আরও বেশি সংখ্যায় মিথ্যেবাদী রাজনৈতিক প্রার্থীদের নির্বাচনে জিতিয়ে নিয়ে আসবে। এই যে একটি চক্র। এটাই ভারতের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়ায় পাঁচ বছর অন্তর একটি সরকার গড়া হয়। যে সরকার পরিচালনায় তারাই গিয়ে বসেন। যারা বেশি করে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করে নিয়ে আসতে পারেন। এবং জনগণ আশা করবে প্রতিটি নতুন সরকার তাদের দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। আপদে বিপদে জনতার হয়ে কাজ করে চলবে। ফলে ভারতীয় গণতন্ত্রের নামে জয়ধ্বনি দিয়ে গর্ব অনুভব করবে। এটাই প্রকৃত দেশপ্রেম। যাঁরা এমনতর কোন আশায় আর বিশ্বাসী নয়। তাঁরা নিশ্চিত ভাবেই দেশপ্রেমী নন। তাঁদের ভিতরে যাঁরা আবার সরকারের নানবিধ কাজকর্ম রীতিনীতির সমালোচক। তাঁরাই কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহী। এই যে একটি রাজনৈতিক ন্যারেটিভ। এর ভিতর দিয়েই দেশের আপামর জনসাধরণকে আজ দেখা হচ্ছে। বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কে কেমন। কে কতটা দেশপ্রেমিক। এবং কোথায় কোথায় রাষ্ট্র বিরোধী চক্রান্ত চলছে।

বিস্তারিত পড়ুন