দিবানিদ্রার দিনগুলি

কার স্বার্থে এই লকডাউন? আমরা এদিকে নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করে বসে রয়েছি, আমাদের স্বার্থেই তো লকডাউন। আমরা যাতে আরও কয়টি দিন বেশি বেঁচে থাকি। সেটি নিশ্চিত করতেই না এই লকডাউন। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। না, তাই তো আমরা যেমন ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়েও তর্ক করতে রাজি নই। ঠিক তেমনই লকডাউন কাদের স্বার্থ পূরণ করছে। সেই তর্কেও আমাদের কোন উৎসাহ নাই। ফলে আমরা, আমাদেরকে যেমন শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দুইবেলা। টিভি আর নেটপাঠশালায়। আমরা ঠিক তেমনই লকডাউনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। বরং অবিশ্বাসীদের সাথেই আমাদের যাবতীয় তর্ক। লকডাউন ছাড়া এই অতিমারী ঠেকানোর আর কোন উপায় নাই বলে। প্রতিদিন যত বেশি মানুষেরই মৃত্যু হোক না কেন। আমরা বিশ্বাস করি। লকডাউন না করলে আরও আরও বেশি মানুষ মারা যেত। মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে না বাড়তে থাকলেও আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হয়ে ওঠে। লকডাউন করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে বলে। ফলে লকডাউন নিয়ে আমাদের কোন মাথাবাথ্যা নেই। মৃত্য যতই বেশি হোক। কিংবা মৃত্যু যতই কম হোক। লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আমরা দুই ভিন্ন ফলাফলেই শিরোধার্য্য করে নিয়েছি। ফলে আমরা নিশ্চিত, সরকার আমাদের সাথে রয়েছে। বরং যেখানে যেখানে লকডাউন করতে সরকারের দেরি দেখছি। সেখানেই আমারা অবিলম্বে লকডাউন করার দাবিতে সরব হয়ে উঠছি। আমাদের সামাজিক দেওয়াল জুড়ে।

বিস্তারিত পড়ুন

বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয় কোভিড-১৯

বিশ্বপতি জো বাইডেনের দপ্তরে সম্প্রতি এক তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়েছে। তদন্ত কি নিয়ে? না করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোথা থেকে ও কিভাবে, সেই বিষয় নিয়েই তদন্ত। না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই তদন্তের সাথে যুক্ত নয়। গোটা বিশ্বের হয়ে বিশ্বের এক মাত্র অভিভাবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু কোন কোন সংস্থাকে দিয়ে তারা সেই তদন্তকর্ম সম্পন্ন করেছে। সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে শুধু তদন্তের ফলাফল। স্বভাবতঃই আবিশ্ব মানুষ এই তদন্তের ফলাফল জানার অপেক্ষাতেই এতদিন ধৈর্য্য ধরে দিন গুনেছে্। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করা তদন্তের উপরে তো আর কোন কথা নেই। একেবারে বেদবাক্য। এখন দেখে নেওয়া যাক সেই তদন্তকর্মের রিপোর্টে কি কি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্রেই অবশ্য সেই ফলাফল যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশও করা হয়েছে। বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ারের করা তদন্তের ফলাফল। ছেলেখেলা নয়। যে যে বিষয়গুলি এই তদন্ত রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলির ভিতর প্রথমেই বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস কোনভাবেই বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয়। এখানেই একটু হোঁচট খেতে হবে আমাদের। আমরা যারা এতদিন বিশ্বাস করে এসেছিলাম, বায়োলজিক্যাল ওয়েপন হিসাবেই চীন এই অস্ত্র দিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল, তাদের অবশ্য এই রিপোর্ট হজম করতে বেশ বেগ পেতে হবে। আমাদের ভিতরে যারা আবার নিজামুদ্দিনে ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আউড়িয়ে হিন্দুত্ববাদী দেশপ্রেমে মুহুর্মুহ ভারতমাতা কি জয় বলে দেশ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহীদের খুঁজে বার করতে আসরে নেমে পড়েছিলাম টিভির বিশেষ বিশেষ নিউজ চ্যানেল খুলে রেখে। তাদেরও এই রিপোর্ট হজমে অসুবিধা আছে। যাই হোক বিশ্বপতি’র দপ্তরে জমা পড়া রিপোর্ট। চ্যালেঞ্জ করাও মুশকিলের বিষয়।

বিস্তারিত পড়ুন

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বক্তা মাত্র চার বছরের এক শিশু। দিদিমার সাথে খেলা করতে করতে মিউজিক্যাল কীবোর্ডে চাপ দিয়ে। কী অমোঘ উচ্চারণ! আসুন করোনা নাচ নাচি। সরকার বলেছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ নাচি। ডাক্তার বলছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ শুরু করে দিই। না হলে এই মহামারী সামলানো যাবে না। মিডিয়া বলছে লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা তো কবেই বিশ্ব শুদ্ধ মানুষকে এই করোনা নৃত্যের আসরে নামিয়ে দিয়েছে। নাচের ধরণ কি হবে। নাচের ছন্দ কি হবে। নাচের তাল লয় কখন কোন কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সব আগে থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা বেঁধে দিয়েছে, সেটা যদিও ওপেন সিক্রেট। কিন্তু না, সেসব বিষয় নিয়ে ঘুণাক্ষরেও আলোচনা করা যাবে না। করলে বিগ বসের গোঁসা হবে। বিগ বসের হাতের তালুর ভিতরে এখন গোটা বিশ্ব। মিডিয়া আগেভাগে একেবারে প্রথমেই সতর্ক করে দিয়েছিল। করোনা নৃত্যের ভিতর দিয়েই আমরা পৌঁছিয়ে যাবো এক নতুন পৃথিবীতে। যে পৃথিবীর গাল ভরা নাম “নিউ নরম্যাল”। আমরা যে যতটা করনো নৃত্যে পারদর্শী, সেই তত মহানন্দে এই নতুন বিশ্ব সম্বন্ধ ততধিক উৎসাহিত। মুখে মুখে আমাদের খই ফুটছে তাই নিউ নরম্যাল নিউ নরম্যাল বলে। করোনা নৃত্যের তালে তালে দিনে দিনে নিউ নরম্যাল তাথৈ নৃত্যে জড়িয়ে নিচ্ছে আমাদেরকে। সত্যিই তো করোনা নৃত্য আবিষ্কারের আগের পৃথিবী আর আবিষ্কারের পরের পৃথিবী কি আর এক হতে পারে? বিশ্বায়ন নিয়েও একসময় আমাদের তাথৈ নৃত্য মাতাল হয়ে উঠেছিল। সেই নৃত্যের তালেই কিন্তু করোনা ড্যান্সেরও জন্ম। ফলে বিশ্বায়ন যদি সলতে পাকানোর পর্ব হয়। তবে এই নিউ নরম্যাল খেলা শুরুর প্রথম পর্যায়। কিন্তু খেলাটা কি?

বিস্তারিত পড়ুন

স্কুল খোলার ঘন্টা

অবশেষে স্কুল খোলার ঘন্টা কি বাজতে চলেছে? গত বছর মার্চের প্রথমেই স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে স্কুল কলেজের পড়ুয়ারা এক কথায় স্কুলছুট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনলাইন ক্লাসের সুযোগ প্রাপ্ত সৌভাগ্যবানেরা মধ্যবর্তী সময়ে কতটা শিক্ষার্জন করতে পেরেছে সঠিক ভাবে বলা সম্ভব নয়। আর অনলাইন ক্লাসের আওতার বাইরে পড়ে থাকাদের পক্ষে পরবর্তী পড়াশুনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া আদৌ কতটা সম্ভব হবে বলা মুশকিল। এর ভিতরে বিনা পরীক্ষায় প্রায় সকলকে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পাশ করিয়ে দিতে হওয়ায় আরও একটা বড়ো সমস্যা সামনে। এই বিপুল পরিমাণ পাশের সার্টিফিকেট হাতে ধরা পড়ুয়ারা পরবর্তী পড়াশুনা চালিয়ে নিয়ে যেতে চাইলেও তো পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করতে পারবে না রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে বহু ছাত্রছাত্রীকেই পাশের কাগজ হাতে নিয়ে বাড়িতেই বসে থাকতে হবে। ভর্তি’র সুযোগ না পেয়ে। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি প্রায় হাতের বাইরে। সেই অবস্থায় স্কুল খোলার কথা শোনা যাচ্ছে। আপাতত লক্ষ্য পুজোর ছুটির পর। একদিন অন্তর স্কুল খোলা হতে পারে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না, একদিন অন্তর খোলা আর প্রতিদিন স্কুল খোলার ভিতর ঊনিশ বিশ কি পার্থক্য থাকতে পারে। কথা হচ্ছে সকল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের টীকাকরণ সম্পূর্ণ করেই স্কুল খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করার। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ভিতরে সেই লক্ষ্য পুরণের সম্ভাবনাই বা কতটা। প্রশ্ন সেখানেও। যদি আরও আগে থেকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সরকারী প্রকল্পের আওতায় সকল শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মীদের টীকারণ শুরু করা যেত। তাহলে হয়তো নিশ্চিত হওয়া যেতে পারতো, স্কুল খোলার সময়ে সকলেই টীকা নিয়ে করোনা মোকাবিলায় তৈরী। সেক্ষেত্রে অভিভাবকরাও অনেক বেশি নিশ্চিন্তে পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের টীকারণের পরিস্থিতি যে পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। তাতে পুজোর ছুটির ভিতরে প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সহায়কদের টীকাকরণ সম্পূর্ণ হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। সরকার বড়োজোর নিয়ম করতে পারে। কেবলমাত্র যাঁদের টীকাকরণ সম্পূর্ণ, সেই সকল শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী ও সহায়করাই স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রেও অধিকাংশ স্কুল কলেজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মী ও শিক্ষক পাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে পঠনপাঠন স্কুল খুললেই যে রাতারাতি পুরোদমে শুরু করা যাবে, বিষয়টা আদৌ সেইরকম নয়।

বিস্তারিত পড়ুন

সকলেই পাশ অনেকেই প্রথম

এই প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষায় সকলেই পাশ। শুধু তাই নয়। বিশ্ব রেকর্ড করে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী প্রথম! সম্ভবত গিনস বুক অফ রেকর্ডসেও এই রেকর্ড ধরানো যাবে না। এমনই বহর রেকর্ডের। এই প্রথম পরীক্ষায় না বসেই সকলেই পাশ। পরীক্ষায় না বসেই ৭৯ জন প্রথম। না, শুধু যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাধ্যমমিক পরীক্ষা নিতে পারেনি তা নয়। পরীক্ষা নিতে পারেনি দিল্লী বোর্ডও। এমন নয় কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের ভিতরে দক্ষতা ও যোগ্যতার তারতম্য রয়েছে। তারতম্য যেটুকু দেখা যাচ্ছে। সেটি কেরলে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক বেশি করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর বহর নিয়েও কেরল সরকার সুচারু রূপে মাধ্যমিক সমতুল্য পরীক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসলে প্রশ্নটা হলো দক্ষতার। তারও আগে যোগ্যতার। সরকারের সঠিক যোগ্যতা না থাকলে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ব্যর্থ হতে বাধ্য। বা কাজই করবে না। পশ্চিমবঙ্গের এবং কেন্দ্রের সরকার এই বিষয়ে একে অপরকে টেক্কা দিয়ে কোন পরীক্ষাই গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে মুখরক্ষা করতে সকলকেই পাশ করিয়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু এর ফলে পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভিতরেই আট দফার নির্বাচন ও তার প্রচারে করোনা প্রোটকলের দফারফা হয়ে গেলেও কোন অসুবিধে হলো না। কিন্তু কেরলের মতো দক্ষতা ও যোগ্যতায় মাধ্যমিক পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা গেল না। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে। এখন প্রশ্ন হলো কেরল যে কাজটি করে দেখিয়ে দিল। সেই একই কাজ আমাদের রাজ্য সরকার করে দেখাতে পারলো না কেন? উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই যে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন উঠে আসছে, তার পিছনের কারণ কি?

বিস্তারিত পড়ুন

ভ্যাক্সিন পাস ভ্যাক্সিন ভিসা

অবশেষে স্থানীয় প্রশাসন থেকে হুকুমনামা জারি হয়ে গিয়েছে। দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার প্রমাণপত্র কিংবা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া দীঘার কোন হোটেলেই কেউ ঘর ভাড়া পাবে না। ঠিক এই সম্ভাবনার কথাই সকলের আশঙ্কায় ছিল। যাঁরা ইতিমধ্যেই দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা অবশ্য এই হুকুমনামার সাথে সহমত হবেন। তাঁরা মনে করবেন। এমনটাই তো হওয়া উচিত। এমনটা হলেই করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে। এবং নিশ্চিন্তে বাইরে চলাফেরা করা যাবে। কিন্তু সেই সাথে তাঁদের এই কথাও স্মরণ করা উচিৎ, যে ভ্যাক্সিন তাঁরা শরীরে ঢুকিয়েছেন। সেই ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থা বলেই দিয়েছে, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও করোনা হতেই পারে। ফলে দীঘার স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা হুকুমনামা মানা হলেও, দীঘা থেকে যে আর করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। শুধু দীঘা কেন। এই তো সবে শুরু। এখন থেকে নানান জায়গায় যাওয়ার বিধিনিষেধ হিসেবে এই ভ্যাক্সিন নেওয়া ও না নেওয়া একটা বড়ো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ কোন দেশে ঢুকতে গেলে যেমন বৈধ ভিসা লাগে। ঠিক তেমনই এখন থেকে নিজের দেশের নানা প্রান্তে যাওয়া থেকে শুরু করে ব্যাংক অফিস আদালত দোকান বাজার পার্ক রেস্তোঁরা ইত্যাদি প্রায় সকল স্থানে প্রবেশ করতে গেলেই এই ভ্যাক্সিন ভিসা স্বরূপ দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার সংশাপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে। ভ্যাক্সিন পাস কিংবা ভ্যাক্সিন ভিসার এই বিষয়টি নিউ নরম্যাল বন্দোবস্তের প্রবক্তারা আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছেন। প্রশাসন শুধু সেটি কার্যকরী করছে, করবে। এর ফলে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছু থাকলো না। প্রয়োজন থাকুক না থাকুক। ইচ্ছা হোক না হোক। প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই যে প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই বাধ্যবাধকতাই ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের বিপুল মুনাফার প্রাণভোমরা।

বিস্তারিত পড়ুন

নিউনর্ম্যাল

লকডাউন আর সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। একেবারে নতুন দুটি শব্দবন্ধ। যা আমাদের গোটা জীবনটাই প্রায় বদলিয়ে দিচ্ছে। ধীরে ধীরে বদল নয়। দ্রুত লয়ের বদল। অর্থাৎ বিবর্তন নয়। বিপ্লব। যদিও আমরা অনেকেই আশায় আছি। অপেক্ষা করছি। আবার চেনা জীবনের ছন্দে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু যাঁরা একটু বেশি সচেতন। তাঁরা টের পেয়ে গিয়েছেন। আর কখনোই আমরা ২০২০’র আগের জীবনছন্দে ফিরে যেতে পারবো না। কারণ পরিস্কার। লকডাউন আর সোশ্যাল ডিসটেন্সিং-এর মূল প্রবক্তারা আগেভাগেই আরও একটি শব্দবন্ধ হাওয়ায় অর্থাৎ মিডিয়ায় ভাসিয়ে দিয়ে রেখেছেন। নিউনর্ম্যাল। অনেকটা নিয়োলিবারিজমের মতোই। দুটিরই কর্তৃত্ব জনতার হাতে নয়, জনতার স্বার্থেও নয়। বিশ্বায়নের মালিকদের হাতে। তাদেরই স্বার্থে। ২০২০ পরবর্তী বিশ্ব বন্দোবস্ত এই নিউনর্ম্যাল নামেই পরিচালিত হবে। যার একেবারে প্রথম ধাপই হলো টীকাকরণ। অনেকেই বলবেন এ আর নতুন কথা কি? টীকাকরণ তো বহু দিনের ব্যবস্থা। রোগ প্রতিষেধক হিসাবে চিরকালই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঠিক কথা। আমাদের অনেকেরই পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই বিষয়ে। কিন্তু সেই আমরাই যদি একটু খেয়াল করে দেখি। দেখতে পাবো। সারা বিশ্বেই পূর্বে কোনদিনই কখনো বিশেষ কোন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কোন টীকা একই সময়ে আবিশ্ব মানুষকে নিতে হয়নি। এবার কিন্তু নিতে হচ্ছে। না, মানুষ যে সকলেই স্বেচ্ছায় নিচ্ছে তাও নয়। বলতে গেলে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই যে একই সময়ে বিশেষ একটি রোগের প্রতিষেধক হিসাবে আবিশ্ব মানুষের টীকাকরণের বন্দোবস্ত। এটাই সেই নিউনর্ম্যাল বিশ্বব্যবস্থার একেবারে প্রথম ধাপ। যে ধাপে আমাকে আপনাকে সকলকেই পা দিতে হবে। ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায়। আর নিউনরম্যালের এই প্রথম ধাপে একবার পা দেওয়া মানে, এখন থেকে আমাদের জন্য পরপর যে যে ধাপগুলি নির্দিষ্ট করে এগিয়ে দেওয়া হবে। আবিশ্ব প্রত্যেক মানুষকেই পরপর সেই সব ধাপে পা বাড়াতেই হবে। যিনি বা যাঁরা বিরুদ্ধতা করবেন। সমাজ তাদের সমাজচ্যুত করবে। কারণ সমাজকেও এই নিউনর্ম্যাল নতুন ভাবে মডুলেট করতে থাকবে। সহজ বাংলায় যাকে আমরা কান মোচড়ানো বলি। ফলে এই নিউনর্ম্যাল বিশ্ববন্দোবস্তের নিরন্তর মডুলেশনের ভিতর দিয়ে চলতে হবে এখন আমাদের।

বিস্তারিত পড়ুন

দি‌ন আনা দিন খাওয়া ভারত

শুধু মাত্র এক মে মাসেই দেড় কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন এই বছরের করোনার ধাক্কায়। জানুয়ারী থেকে ধরলে যে সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়ায় আড়াই কোটির বেশি। এই তথ্য মিলছে Centre for Monitoring Indian Economy (CMIE) থেকে। কিন্তু এইটাই কি সামগ্রিক চিত্র? এর সাথে অসংগঠিত ক্ষেত্রের ছবিটা যুক্ত করতে পারলে আসল ছবি স্পষ্ট হতো। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কথাই যদি ধরা যায়। চলমান লকডাউনে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজনের কতজন ঠিক মতো রোজগার করতে পারছেন। আর কতজন সেটি পারছেন না, তার হিসেব কে দেবে? গোটা রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে সঠিক পরিসংখ্যান তুলে আনা বাস্তবিক অসম্ভব। ব্যায় সাপেক্ষও বটে। মোটামুটি ভাবে একটা নমুনা পরিসংখ্যানের উপরে ভিত্তি করেই হয়তো সমাগ্রিক একটা চিত্র প্রকাশ করা হয়। বাস্তব পরিস্থিতির সাথে তার মিল অমিল কতটা। সেটা কিন্তু অজানাই রয়ে যায়। এদিকে কয়েকটি বিষয়ে নজর দিলে একটা অনুমান করা সম্ভব হয়। যেমন পরিবহন। পরিবহন বন্ধ থাকা মানে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের একটা বড়ো অংশেরই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া। রাজ্যজুড়ে লোকাল ট্রেন পরিসেবা বন্ধ। ট্রেনের হকার, রেলস্টশনের হকারদের অবস্থা কি এইমুহুর্তে? আন্তর্জেলা বাস পরিসেবা বন্ধ থাকায় বাস টার্মিনাসগুলিতেও হকারদের কেনাবেচা বন্ধ। এদের কি অবস্থা? কিভাবে চলছে সংসার? এদের জন্য আলু পটল চাল ডালের দাম তো আর কমিয়ে দেওয়া হয় নি। হ্যাঁ সরকারী রেশন ব্যবস্থার সুবিধেপ্রাপ্তরা অন্তত অনাহারে মারা যাবে না। কিন্তু অসুখ বিসুখ চিকিৎসা? ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ? ওষুধের দোকানে গেলে দামে তো কোন ছাড় নাই। কি কেন্দ্র কি রাজ্য সরকার, কেউই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের জন্য ন্যূনতম মাসিক রোজগারের ব্যবস্থা করে নি। চালু করে নি ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম স্কীম। এদিকে লকডাউনের সুযোগে বিলিওনীয়ররা আরও বেশি করে ফুলে ফেঁপে উঠে সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকগুন বাড়িয়ে নিয়েছে, এবং নিচ্ছে। মানুষের হাতে কাজ নেই। চাহিদা নিম্নমুখী। উৎপাদন কম। অথচ দেশজুড়ে বেশ কিছু নতুন বিলিওয়নীয়র ধনকুবেরদের তালিকায় নাম উঠিয়ে ফেলেছে। এর রহস্য কি? অর্থনীতির প্রাথমিক শর্তগুলি পুরণ না হওয়া সত্তেও কি করে হাতে গোনা কিছু মানুষের সম্পত্তির পরিমাণ প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে? কলকারখানায় মন্দা। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা। দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার মাইনাসে নেমে গিয়েছে। অথচ শিল্পপতিদের সম্পদ বেড়েই চলেছে। সরকার মানুষের উপরে ক্রমাগত করের বোঝা বাড়িয়েই চলেছে। তবু ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম চালুর কোন সম্ভাবনা নেই ভারতবর্ষে।

বিস্তারিত পড়ুন

যে প্রশ্ন তোলা নিষেধ

চৌঁত্রিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার সাতশো সতেরো। এই মুহুর্ত অব্দি সময়ে কোভিড-১৯ ভাইরাসের শিকার হয়ে প্রাণত্যাগ করেছেন। বিশ্ব জুড়ে। দুইশো কুড়িটি দেশের ষোল কোটি আটান্ন লক্ষ সতেরো হাজার চারশ আটান্ন জন সংক্রমিত রুগীর ভিতরে। এই পরিসংখ্যান ওয়ার্ল্ডমিটারের দেওয়া তথ্য অনুসারে। অনুমান করতে অসুবিধে নাই, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশিই হতে পারে। অনেকেই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। অনেকেই সুস্থতার পথে। কিন্তু এই মুহুর্তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন নিরানব্বই হাজার ছয়শ ঊনআশি জন করোনা সংক্রমিত রুগী। যাদের অবস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের তথ্য অনুযায়ী রীতিমত সঙ্কটজনক। যাঁদের একটা বড়ো অংশ আজ কালের ভিতরেই দেহ রাখতে বাধ্য হবেন। বিশেষত বাড়ি যদি হয় ভারতবর্ষ নামক দেশটিতে। তা হোক। এই যে বিপুল সংখ্যক মানুষ। যাঁদের আজকেও বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দেহত্যাগ করতে হলো। এই চৌঁত্রিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার সাতশো সতেরো জনের ভিতরে কয়টি দেশের রাষ্ট্র প্রধান মারা গিয়েছেন? কয়টি দেশের প্রধানমন্ত্রী মারা গিয়েছেন? কোন কোন বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কিংবা নেত্রী মারা গিয়েছেন? বিশ্বজুড়ে প্রথম একশ জন বিলিওনীয়রের ভিতরে কয়জন কোভিডের স্বীকার হয়ে দেহ রেখেছেন? ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক বিগফার্মাগুলির কয়জন মালিক এই ভাইরাসে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন? আর কত জন মিলিওনীয়র লকডাউনের এই বাজারে বিলিওনীয়র হয়ে উঠেছেন? কোন কোন দেশের সেনাপতি ব্রিগেডীয়র চীফ অফ আর্মি স্টাফ মারা গিয়েছেন? আপনি জানেন? কোন সঠিক তথ্য আছে আপনার নাগালে? হ্যাঁ কিছু কিছু দেশ প্রধানকেও মাঝখানে ভেন্টিলেটরেও চড়তে দেখা গিয়েছিল। দেশের মানুষ লকডাউন মানতে চাইছিলনা বলেই হয়তো। কিন্তু ভেন্টিলেটরে চড়ে তাদের স্বাস্থ্যের কোন অবনতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে শুনতে হয় নি এখন অব্দি। হ্যাঁ লকডাউনের একেবারে প্রাথমিক সময়ে স্পেনের এক রাজকুমারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু তার শ্রীমুখের ছবি দেখা যায়নি সম্ভবত।

বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ

শোয়ার ঘরে কেউ না থাকলে কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে না? রাত যত গভীর হয়। ডবল বেডের বিছানা জুড়ে কষ্টটাও তত দ্বিগুন হতে থাকে। গভীর রাতের সেই কাহিনীতে স্মৃতি যত টাটকা থাকুক না কেন। খুব একটা কাজে আসে কি? বিশেষ করে স্মৃতি দিয়ে মন ভোলানো গেলেও অঙ্গ প্রতঙ্গের নিঃসঙ্গতা ভোলানো কঠিন। ভুক্তভুগী মাত্রেই জানেন। আর জানেন বিগত এক বছরে করোনা এসে যাদের ডবল বেড সিঙ্গল করে দিয়ে গেছে। তারা। এমন আচমকা এই ধাক্কাটা আসার কথা ছিল না যেখানে। কেউই আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু ধাক্কাটা যেদিন ঘাড়ের উপরে এসে পড়লো। চোখের সামনে চোখে অন্ধকার নেমে এল প্রিয় মানুষটির দুই চোখ জুড়ে। আর কোনদিন জড়িয়ে ধরা হবে না। কোনদিন আদর করার উপায় থাকবে না আর। কোনদিন প্রিয় বুকে মাথা দিয়ে মনের অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করা যাবে না। এই হাত এই পা এই বুক এই ঠোঁট সবই রয়ে গেল। শুধু মিলনের উৎসবে সামিল হওয়ার একান্ত আদরের দুটো হাত দুটো পা আস্ত একটা ধুকপুক করা ভালো‌বাসার বুক হারিয়ে গিয়েছে চিরতরে। হারিয়ে গিয়েছে ভালোবাসার আদর ভালোবাসায় ভিজিয়ে নেওয়ার অনুপম দুটি ঠোঁঠও।

বিস্তারিত পড়ুন