অনলাইন ক্লাস ও লাইনচ্যুত শিক্ষার্থী

এক বছরের উপরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শুধু আমাদের বাংলাতেই নয়। বিশ্বজুড়ে। হাতে গোনা কয়েকটি দেশ বাদে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শুরু হয়েছে জোড়াতালি দেওয়া অন লাইন ক্লাস। কথায় বলে নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। ভালো, কিন্তু অনলাইন ক্লাস করতে ন্যূনতম একটি স্মার্ট ফোন আবশ্যক। আমাদের বাংলায় কত শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে এই স্মার্ট ফেন রয়েছে? কয়েক হাজার কোটি টাকার নির্বাচন শেষ হলো। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে অন লাইন ক্লাস করার জন্যে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার দায় কে নেবে? কেনই বা নেবে। অর্থাৎ এই অনলাইন ক্লাস থেকে এক ধাক্কায় মোট শিক্ষার্থীর একটা বড়ো অংশই বাদ পড়ে গিয়েছে। তাদের জীবন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে বসেছে দুই দুটি বছর। এই মুহুর্তে দেশের মহামারী পরিস্থিতি যে জায়গায় এসে পৌঁছিয়েছে। তাতে চোখ বুঁজে বলে দেওয়া যায়, এই বছরেও অন্তত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বন্ধ তালা খোলা হবে না। অনলাইন ক্লাস চলতে থাকবে। যেমন চলছে। ফলে এই যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী, যাদের হাতে স্মার্ট ফোনও নেই। তারা কিন্তু ব্রাত্য থেকে গেল শিক্ষার অধিকার এবং সুযোগের থেকে। এর দায় কে নেবে? আর কেনই বা নেবে। মহামারী’র সরাসরি প্রভাবে বাংলার শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশেরই এই যে একটা মহাক্ষতি হয়ে গেল। তার একটা মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে আমাদের সমাজে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলেও, এদের একটা বড়ো অংশই কিন্তু আর শিক্ষার চৌহদ্দীতে ফিরে আসতে পারবে না। আর যারা আসবে, তাদেরও বাকিদের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে থাকতে হবে। পরবর্তীতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের গন্তব্য হবে প্রধানত কায়িক শ্রমের বাজারে।

বিস্তারিত পড়ুন