আত্মনির্ভর লাশ

নদীতে ভেসে উঠছে লাশ! মাথার উপরে চিল শকুনের চক্কর। লাশের ঢেউ আছড়ে পড়ছে নদীর পারে। শ্মশানে কাঠের অভাব। মৃতদেহের দীর্ঘ লাইন। আর নদীর বুকে লাশের অন্তিম যাত্রা। কিন্তু কোন ঠিকানায়? না সত্যিই কোন নতুন ঠিকানা নেই আর। লাশের আবার ঠিকানা কী? ঠিকানা দিয়ে হবেই বা কি? তাই নদীর জলে ভেসে উঠছে ভারতীয় জনতার লাশ। মৃত্যু, ভাইরাসের কারণেই হোক কিংবা অন্য কোন রোগে। মৃত্যুর পিছনে অক্সিজেনের অভাব যে একটা বড়ো অনুঘটক। সেকথা আজ আর লুকানো যাচ্ছে না যাবে না। গোয়াতেই গত দুই দিনে এক সরকারী হাসপাতালে মাত্র ৪৭ জনের মৃত্যু হয়ে গিয়েছে অক্সিজেনের অভাবে। এই চিত্র শত শত হাসপাতালের। এবং প্রায় প্রতি দিনের। খবরে এমনিতেই সব ঘটনা আসে না। তারপর তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার একটা বিষয়ও তো থাকে। থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। ফলে সময় মতো অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে। অন্তত নদীর জলে লাশের অন্তিম যাত্রার ছবি দেখতে হতো না কাউকেই। কোনভাবেই। একশ আটত্রিশ কোটি’র দেশে শ্মশান কিংবা গোরস্থান কম নেই। কিন্তু আজ অভাব দেখা দিয়েছে। প্রথমিক ভাবে মনে হওয়াই স্বাভাবিক মহামারী কিংবা অতিমারীতে এমনটাই তো হওয়ার কথা। এমনটা গতবছর ইতালীতেও কি ঘটে নি? মৃতদেহ বো‌ঝাই ট্রাকের মিছিলের ছবি ফলাও করে আমাদেরকেও তো দেখানো হয়েছিল। দেখানো হয়েছিল গণ কবরের ছবির প্রদর্শনীও। মিডিয়া জুড়ে। অনেকেই সেই ভয়াবহ দৃশ্যে শিহরিত হয়েছিলাম নিশ্চয়। অনেকেই হয়তো মিডিয়ার প্রচার বলে ঠিক বিশ্বাস করতেও চাই নি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করেছিলাম। বিশ্বাস করে ছিলাম, আমাদের দেশ প্রধানের রাত আটটার প্রতিটি বাণী। কখন কি কি কাজ করতে হবে। কিভাবে করতে হবে। করোনা মোকাবিলায় আমরা তখন প্রত্যেকেই তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিক। তাই আমরা আর খোজ নিতে যাইনি। দেশে নতুন নতুন হাসপাতাল তৈরীর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা? আমারা তো দেখেছিলাম, আমাদের পয়লা নম্বর ঘোর শত্রু সেই চীনে মাত্র কয়েক দিনের ভিতরেই কিভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উহানে দশ হাজার বেডের একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছিল। আমরা কি খোঁজ নিয়েছিলাম, আমাদের সরকার দেশে কয়টি হাসপাতাল নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছে? না, নিই নি। আমরা শুধু বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম। শরীর খারপ হলে স্বশরীরেই কাছে পিঠে’র হাসপাতালে গেলেই একটা বেড পেয়ে যাবো। প্রয়োজন লাগলেই নাকে অক্সিজেনের নল লেগে যাবে। ওষুধের প্রয়োজনে এ দোকান থেকে ও দোকানে ছুটে বেড়াতে হবে না। বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম ছাপ্পান্ন ইঞ্চীর সরকার থাকতে আর চিন্তা কি? ঠিক যে বিশ্বাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনেও আমরা অনেকেই চোখ বুঁজে ডবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষেই সমর্থন জ্ঞাপন করে ছিলাম। ধরেই নিয়েছিলাম, ডবল ইঞ্জিন সরকারই সঠিক ও একমাত্র বিকল্প।

বিস্তারিত পড়ুন

আঠারো আনা লাভ

কতটা নিরাপদ করোনা’র ভ্যাকসিন? জানি কি আমরা? কেউ কি জানে? অন্তত যাঁদের সকলের আগে জানা দরকার। সেই চিকিৎসকদেরকেও নির্ভর করতে হচ্ছে নেহাৎই  বিশ্বাসের উপরেই। কি এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া? কত সুদূরপ্রসারী এর প্রভাব পড়তে পারে আমাদের শরীরে। যাঁদের শরীরে ভ্যাকসিন ঢুকে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রাথমিক পর্বে অনেকেই ভ্যাকসিন নেওয়ার সেল্ফি পোস্ট করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আনন্দের ঢেউ তুলে দিয়েছিলেন। প্রায় যুদ্ধজয়ের উৎসবের মতোন করে। তাঁদের সকলেই সুস্থ আছেন তো এই মুহুর্তে? সকলেই জীবিত আছেন তো আজও? প্রশ্ন তো অনেক। কিন্তু উত্তর? কার কাছে পাওয়া যাবে? সরকারের উপরে ভরসা করার মতো পরিস্থিতি খুব একটা রয়েছে বলে মনে হয় না আর। ভ্যাকসিন ইণ্ডাস্ট্রীর কথায় চোখ বুঁজে ভরসা করা সম্ভব কতটা? তারা তো অর্থলগ্নীর ষোলআনার জায়গায় আঠারো আনা মুনাফা তুলে নেওয়ার বাইরে আর কোন দায়িত্ব নেবে না! সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তর? স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই যেখানে মাসখানেক আগে ভারতবর্ষের করোনা জয়ের খবর প্রচার করে দিয়ে ছিলেন! সত্যি কি তাহলে আমরা করো‌নাকে জব্দ করে ফেলেছিলাম। মাস এই খানেক আগে? ফেললে আজ এই অবস্থা কেন? জাবাবদিহির দায় কার? সরকার না জনতার?

বিস্তারিত পড়ুন

মৃত্যুঘন্টা

এই মুহুর্তে অনেকেই করোনা পজেটিভ। অনেকেই নিজ গৃহে অন্তরীন। সংক্রমণ ঠেকাতে আলাদা ঘরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে। তাঁরা মন্দের ভালো। অন্তত অক্সিজেন বিপর্যয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে না এই মুহুর্তে। কিন্তু তাই বলে দুশ্চিন্তার হাত থেকেও রেহাই নেই। থেকে থেকে অক্সিমিটারে রিডিং মেলাচ্ছেন হয়তো বা। কিংবা অনেকেই একটু অক্সিজেনের জন্য হাঁপিয়ে উঠেছেন। মনে মনে মিনিট গুনছেন হয়তো। অমূল্য অক্সিজেনের জন্য। অনেকে হয়তো অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে হাসপাতালে পড়ে রয়েছেন। কেউ বা অচৈতন্য তবু। এই রকম পরিস্থিতিতে সত্যই কি আমরা কেউ ভালো রয়েছি? কেউ কি নিশ্চিত, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবেন? সকলেই হয়তো এক একটা দিন পার করছি ক্যালেণ্ডারের দিকে চোখ রেখে। যাক এই আজকের তারিখেও করোনাকে ফাঁকি দিতে পেরেছি। এ যেন শৈশবের সেই কানামাছি খেলা। এই বুঝি করোনা ছুঁয়ে দিয়ে যাবে। দাঁড় করিয়ে দেবে জীবন আর মৃত্যুর দোরগোড়ায় এক ভয়ঙ্কর ট্রাপিজের খেলায়। কখন যে ভারসাম্যের এদিক ওদিক হয়ে যাবে ঠিক নেই। একদিকে জীবনের মহামূল্যবান অক্সিজেন। উল্টোদিকে প্রতিটি প্রিয় জনের সাথে চির বিচ্ছেদ। বড়ো মায়াময় এই সংসার। এই জীবন। সব কিছুকে নিয়ে সব কিছুকে জড়িয়ে তবেই আমাদের বেঁচে থাকা। মৃত্যু অমোঘ জেনেও তাকে প্রতি মুহুর্তে অস্বীকার করেই আমাদের জীবনসংগ্রাম। প্রিয় মানুষগুলিকে জড়িয়ে নিয়েই এই জীবন। মায়া আর মমতা। স্নেহ আর ভালোবাসার সম্পর্কের গণ্ডীতেই আমাদের বাস। হঠাৎ দ্যুম করে সেই বাসস্থান থেকে আমাদের ছিনিয়ে নিতে দূয়ারে দাঁড়িয়ে করোনা।

বিস্তারিত পড়ুন

অপারেশন অক্সিজেন

শ্মশানে শ্মশানে চিতার আগুন। গোরস্তানে স্তব্ধ মাটি। মানুষের মৃত্যু নিয়ে জমে উঠেছে ভ্যাকসিনের ব্যবসা। ও তার মুনাফাবাজি। ভারতে ভ্যাকসিনের দাম বিশ্ববাজারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। কেন? ভারতে মানুষের জীবনের মূল্য কি অর্ধেক? সরকার ভর্তুকি দিয়ে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন বিলালেও, সেই ভর্তুকির পয়সা জনতার পকেট কাটা করের টাকা দিয়েই মেটানো হবে। ফলে বিনামূল্যে কিছুই পাওয়া যায় না। বিনামূল্যে বিলানোর বিষয়টি পুরোটাই ধোঁকাবাজির খেল। সেই ভর্তুকির ভ্যাকসিনই হোক আর খোলা বাজারের উচ্চমূল্যের ভ্যাকসিনই হোক। সেই ভ্যাকসিনের লাইনে ভিড় যত বাড়বে। ভ্যাকসিন বাণিজ্যের মুনাফাও তত বেশি ফুলে ফেঁপে উঠবে। ফলে মৃত্যুর আতঙ্ক ছড়ানোর কোন বিকল্পও নেই। মৃত্যভয় যত বেশি চেপে বসবে। ভ্যাকসিনের জন্য লম্বা লাইন তত দীর্ঘতর হতে থাকবে। তাই যেভাবেই হোক মৃত্যুভয়ের স্ক্রিপ্ট একটা খাড়া করতেই হতো। আর সেই কাজে অক্সিজেনের অভাব তৈরী করা গেলে। তার থেকে সোনায় সোহাগা আর হয় না কিছু। ফলে প্রায় একশ চল্লিশ কোটির দেশে বছরে অন্তত আড়াইশো কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বিক্রীর বন্দোবস্ত না করলে চলবে কি করে? এতো অর্থনীতিরই মূলগত প্রশ্ন।

বিস্তারিত পড়ুন

যা চেয়েছি তাই পেয়েছি

মনে হচ্ছে কয়েকটি দরকারী কথা বলে নেওয়াই ভালো। কবে আছি কবে নেই কেউ জানে না। কিন্তু মুখের কথা একবার বেড়িয়ে গেলে আর হারিয়ে যায় না। থেকে যায়। আমরা কি সত্যিই অক্সিজেন ডিজার্ভ করি? আমরা তো দেশের শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থানের জন্য ভোট দিই নি। ভোট দিই না। আমরা ভোট দিয়েছি রামমন্দিরের পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি বাবরি মসজিদ ভাঙার পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি গুজরাট দাঙ্গার সমর্থনে। আমরা গত বছরের দিল্লীর দাঙ্গার সময়েও হিন্দু মুসলিম করেছি। আমরা ভোট দিয়েছি মোদি এণ্ড কোম্পানীর ব্যাংক লুঠের সিস্টেমের পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের পক্ষে। আমাদের ভোট ডিটেনশন ক্যাম্পের পক্ষে। আমাদের ভোট বাঙালিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পক্ষে। আমাদের ভোট ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে। আমাদের ভোট পোশাক দেখে মানুষ চেনার ফর্মুলার পক্ষে। আমাদের ভোট গণপিটুনির পক্ষে। আমরা রয়েছি আইনের অপব্যবহারের পক্ষে। আমাদের ভোট দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পক্ষে। আমরা রয়েছি সরকারী সম্পত্তি ও সম্পদের লুঠেরাদের সাথে। আমরা জলের দরে সরকারী সম্পত্তি বিক্রী করে দেওয়ার স্বপক্ষেই ইভিএমে আঙুল টিপেছি। আমরা রয়েছি নির্বাচনের পর নির্বাচনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দাতাদের বিপুল ভোটে ক্ষমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার পক্ষে। আমরা রয়েছি রাজনৈতিক খুনোখুনির পক্ষে। আমাদের ভোট, যে দল যত বেশি রাজনৈতিক খুনে দক্ষ তাদের পক্ষে। আমরা ভোট দিচ্ছি মন্দির নির্মানের পক্ষে। আমরা ভোট দিচ্ছি হিন্দী হিন্দু হিন্দুস্তানের পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি নোট বাতিলে দেশের অর্থনীতি প্রবল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পক্ষে। আমাদের ভোট শিল্পপতিদের সম্পত্তি রাতারাতি বৃদ্ধির পক্ষে। আমাদের ভোট চলমান কৃষক আন্দোলনের বিপক্ষে। আমাদের ভোট সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী কেনাবেচার সিস্টেমের পক্ষে। আমরা রয়েছি অনৈতিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার ফেলে দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার গঠনের স্বপক্ষে। আমাদের অবস্থান মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার পক্ষে। আমরা ভোট দিয়েছি অন্ধভক্ত রূপে। আমরা ভোট দিয়েছি বিরোধীপক্ষ শূন্য রাজনীতির স্বপক্ষে। আমাদের ভোট গণতন্ত্রের কন্ঠরোধে। আমাদের ভোট আইনের অপপ্রয়োগে। আমাদের ভোট মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে। আমাদের ভোট অন্যায়ের সাথে আপোষের স্বপক্ষে। আমাদের ভোট গায়ের জোরে লুঠপাটের পক্ষে। আমরা দলবদ্ধ শয়তানীর সমর্থনে ভোট দিতে অভ্যস্থ। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত ফৌজদারী মামলার আসামীদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে নিয়ে আসার পক্ষে অবস্থান করি। করি বলেই প্রতিটি নির্বাচনে আমরা পূর্ববর্তী নির্বাচনের থেকে বেশি হারে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের নির্বাচিত করে আইনসভায় পাঠিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ি। এটাই আমাদের ধর্ম।

বিস্তারিত পড়ুন

সবকা সাথ সবকা বিকাশ

সবকা সাথ সবকা বিকাশ। একেবারে যথার্থ কথা। বেদবাক্য। হাসপাতালে যান। দেখতে পাবেন একটু অক্সিজেনের জন্য কাতারে কাতারে রুগী সব কা সাথ। শ্মশানে যান। সেখানেও দেখতে পাবেন। একটা ফাঁকা চিতার জন্য কাতারে কাতারে মড়া পড়ে রয়েছে। চিতার লেলিহান শিখায় বিকাশের অপেক্ষায়। ভারতবর্ষ জুড়ে সবকা সাথ সবকা বিকাশের যজ্ঞ চলছে। একদমই ভাববেন না, এটা করোনা কালের ঘটনা শুধু। সেই নোট বাতিলের রাত্রি আটটার পর থেকেই এই সবকা সাথের খেলা শুরু হয়ে যায়নি? দেখেন নি আপনি? সব কা সাথ লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাতিল নোটের তোড়া হাতে ঘন্টার পর ঘন্টা দেশ কা বিকাশের ডাকে কতজনকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল? না না, আজ আর সে কথা মনে নাই। কি বলেন? অত শত মনে রাখতে গেলে কি আর চ্ছাপ্পানো ইঞ্চীর গল্পের সাথে তাল মেলানো যেত? ঘন্টার পর ঘন্টা গ্রাহকের বাতিল নোটের তোড়া মেলাতে মেলাতে যারা পরপারে গিয়েছিল, ভালোই হয়েছিল। দেশের জন্য আত্মবলি দেওয়া নাগরিকেরও দায়িত্বের ভিতরেই পরে। তো সেই সব কা সাথ সব কা বিকাশের নোট বাতিলে সকলের সাথে অনেকেরই কর্মসংস্থানের পাট চুকে গেল। সব কা সাথ একেবারে রাস্তায়। ওদিকে কালোটাকার কারবারীরা চোরে চোরে মাসতুত ভাই, সব কা সাথ কালো টাকা সাদা টাকা করে নিল। সব কা বিকাশের কি সুন্দর পথ! এতো ছিল শুরুর পর্ব মাত্র। তারপর গুজারাটি ব্যাংকলুঠেরা সব কা সাথ দেশের ব্যাংক লুঠ করে একে একে দেশ থেকে পালিয়ে গেল। আমজনতার জমানো টাকা একেবারে ভোঁভোঁ। সব কা বিকাশের কি অসাধারণ উদ্ভাবন ভাবুন। হ্যাঁ, সেই বছরে দুই কোটি চাকরি? সব কা সাথ, কি রং তামাশাই না হলো। কিংবা প্রত্যেকের ব্যাংক একাউন্টে সুইস ব্যাংক থেকে উদ্ধার করা পঁচাত্তর লক্ষ কোটি টাকার হিস্যা, মাথা পিছু পনেরো লাখ টাকা দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সব কা সাথ একেবারে সরাসরি এপ্রিল ফুল!

বিস্তারিত পড়ুন

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের নতুন পাঠ

না মন খারাপ করে লাভ নেই কোন। অক্সিজেনের অভাবে মানুষের মৃত্যমিছিল চিতার লেলিহান শিখায় আর গোরস্থানের নীরব মাটিতে শেষ আশ্রয় খুঁজে নিক। কারণ এই নিয়তিই আমরা নির্ধারিত করে রেখেছি আমাদের জন্য। তাই আজ শোকের দিন নয়। আজ প্রায়শ্চিত্যের দিন। কথায় বলে পাপ কখনো ধামাচাপা থাকে না। আমাদের দশাও ঠিক তাই হয়েছে। আমরাও যে শক্তির হাতে ক্ষমতার চাবিকাঠি তুলে দিয়েছি। সেই শক্তি তার আপন স্বার্থ পূরণে যা যা করণীয়, ঠিক তাই তাই করে চলেছে বিগত সাত বছর ধরে। করোনাকে বিশ্বসংকট বলে নিজেকে ভোলানো সহজ। কিন্তু তাতেও নিজের নিকটজনের প্রয়োজনে দরকারী অক্সিজেনের জোগান নিশ্চিত করা যায় না। ভারত জুড়ে এই যে মৃত্যু মিছিল। তার আসল কারণ অক্সিজেনের অভাব। আসল কারণ হাসপাতালের অভাব। আসল কারণ হাসপাতালের বেডের অভাব। এইগুলি গত সাত বছরে, এবং বিশেষ করে গত ১৪ মাসে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোকাবিলা করতে পারলে আজকে দৈনিক মৃত্যুর হার অন্তত তিন সংখ্যার গণ্ডী পার করতো না কোনভাবেই। সরকার এর বদলে কি করেছে? অন্তত বিগত ১৪ মাসে? পরিযায়ী শ্রমিকদের পদব্রজে ভারত ভ্রমণ করিয়েছে। সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হওয়া প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলিকে স্তব্ধ করতে দেশবিরোধী আইনের অপপ্রোয়গ করেছে। লকডাউনের সুযোগে কৃষি বিরোধী এবং কৃষক ও জনতা বিরোধী কৃষি আইন চালু করে দিয়েছে। রামমন্দিরের শীলান্যাস করেছে। দেশের সরকারী সংস্থাগুলি জলের দরে বেচে দিয়েছে। হিন্দু মুসলিম বিদ্বেষের চাষাবাদ করেছে। শ্রমিক বিরোধী শ্রমআইন প্রণয়ন করেছে। ক্রমাগত সাংসদ বিধায়ক কেনাবেচা করেছে। আর কেবল ভোটের অংক কষতে কষতে এক একটা রাজ্য দখল করার কাজে ঝাঁপিয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন

ম্যানমেড অক্সিজেনসঙ্কট

খবরের কাগজ খুললেই করোনা আতঙ্ক। কিন্তু তার থেকেও বড়ো আতঙ্ক অক্সিজেনের অভাব। করোনা ম্যান মেড ভাইরাস কিনা, সেটা বিতর্কের বিষয়। কিন্তু দেশব্যাপী অক্সিজেন সঙ্কট যে ম্যান মেড, তাতে কোন বিতর্ক নাই। এক বছরের বেশি সময় হাতে পেয়েও ভারত মাতা কি জয় বলে দেশের একশ চল্লিশ কোটি জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে ন্যূনতম অক্সিজেন মজুত করার কোন ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। ওদিকে হাজার হাজার টন অক্সিজেন রপ্তানি করে কয়েকজন সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়ে নিয়েছে লকডাউনের সময়ে। এখন হাসপাতালের পর হাসপাতালে হাজার হাজার রুগী শুধুমাত্র অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। যাদের সকলেই কিন্তু করোনা আক্রান্তও নয়। এই যে মৃত্যু, এটা রাষ্ট্রীয় খুন। কারণ সরকার জানতো অক্সিজেনের প্রয়োজনের কথা। সরকার জেনে বুঝেও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করে নি। নেয় নি কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা। করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরী এবং প্রাথমিক দুটি বিষয়, অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর। গত এক বছর ধরে সরকার সেই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিলে, আজ করোনায় মারা গেলেও অক্সিজেন কিংবা ভেন্টিলেটরের অভাবে কোন রুগীর মৃত্যু হতো না। ফলে করোনা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিস্কার। করোনা মোকাবিলার ভার সরকার মানুষের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে। সরকারের করোনা মোকাবিলার থেকেও অনেক বড়ো কাজ রয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন