তালিবানী আতঙ্ক

দেশ জুড়ে সকলেরই মাথা ব্যাথার বিষয় হয়ে উঠেছে তালিবানদের আফগানিস্তান দখল। প্রায় গেল গেল রব। আফগানবাসীদের সব গেল সর্বস্ব চলে গেল। নারীর শিক্ষার অধিকার চলে গেল। নারীর বাড়ীর বাইরে যাওয়ার অধিকার চলে গেল। নারী স্বাধীনতা চলে গেল। আফগান রমনীদের নিয়ে দেশজুড়ে এত মানুষের এত আবেগও জমা হয়ে ছিল? আফগানিস্তান আবার বর্বর জুগে ফিরে গেল বলে ভারতীয়দের রাতের ঘুম নষ্ট। সেখানে এখন আফগান যুবকরা সকলেই টেররিস্ট হয়ে উঠবে। ড্রাগ নিতে থাকবে। সুসাইড স্কোয়াডের সদস্য হয়ে বিশ্বজুড়ে টেররিজম ছড়াতে থাকবে। যারা জীবনেও কোনদিন আফগানিস্তানে যায় নি। যাওয়ার সাধও কোনদিন হবে না। তাদেরও আফগানিবাসীর জন্যে চোখের জল যেন বাধ মানছে না। অথচ ২০০১ সালে আমেরিকা আফগানিস্তানে বোমা বর্ষণ শুরু করলে কাউকেই তখন আফগানবাসীদের জন্য চোখের জল ফেলতে দেখা যায়নি। আফগানিস্তানে মুহুর্মুহু মিসাইল বর্ষণ আর বোমারু বিমান থেকে বোমা বর্ষণের লাইভ টেলিকাস্ট দেখতে তখন মানুষের উৎসাহের অভাব ছিল না কোন। যেন সেই বোমা আর মিসাইলে যারা মারা পড়ছিল তারা সকলেই তালিবান ছিল। নয়তো আলকায়দার টেররিস্ট ছিল। সেই সময় মার্কিন বোমা বর্ষণে মানুষের আনন্দ দেখে মনে হতো আফগানিস্তানে সকলেই তালিবানী টেররিস্ট। তালিবান ছাড়া যেন কোন আফগানবসাীর অস্তিত্বই সম্ভব নয়। অর্থাৎ আফগানিস্তানে শুধু তালিবানরাই যেন থাকে। তাই মার্কিন সৈন্যদের হাতে ধ্বংসলীলা যতই তীব্র হচ্ছিল, ভারতবাসীর মনের ভিতরে তাথৈ নৃত্য ততই যেন দ্রুতলয়ে আনন্দ আর উল্লাসের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল। ফলে যেদিন মার্কিন মেরিনের হাতে কাবুলের পতন হলো। আফগানিস্তান আমেরিকার কাছে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো। আমাদের ভারতবর্ষের ভারতীয়রা একটি দেশের পরাধীনতায় আনন্দে ডগমগ হয়ে আমেরিকার নামে জয়ধ্বনি দিতে শুরু করল। বিগত কুড়ি বছর সেই আনন্দেই ভারতীরা মশগুল ছিল। যাক আফগানরা মার্কীন শক্তির পরাধীন রয়েছে। আফগানবাসীদের আর কোন চিন্তা নাই। কোন অভাব নাই। ঘরে ঘরে শিক্ষা। মুখে মুখে খাদ্য। নারীরা সব স্বাধীন হয়ে জীবন যাপন করছে। দেশজুড়ে উন্নয়নের বান ডেকেছে। আমাদের দেশবাসী সুখনিদ্রায় নিশ্চিন্ত ছিল পরম বিশ্বাসে। কিন্তু হঠাৎই সকালে উঠে তালিবানীদের হাতে কাবুলের পতনে সে সুখ নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটে গেল। তাই চারিদিকেই এই গেল গেল রব। যেন প্রায় নিজের ঘরেই আগুন লেগেছে।

বিস্তারিত পড়ুন

বৈবাহিক ধর্ষণ

কি আশ্চর্য্য! আমরা এমন একটি রাষ্ট্রের নাগরিক, যে রাষ্ট্রের আইন বৈবাহিক ধর্ষণকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য করে না। আমরা কি আদৌ সভ্য? এটা কি একটি সভ্য সমাজ? যে সমাজে বৈবাহিক ধর্ষণকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলেই গণ্য করা হয় নয়। কি চমৎকার। হ্যাঁ এটা পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। এককালে এই সমাজে দেবদাসী প্রথার চল ছিল। আজও হয়তো চলে তবে লুকিয়েচুরিয়ে। এককালে পুরুষের বহু বিবাহ প্রথারও চল ছিল। একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী। আজ সেই সব দুষ্ট রোগের আইনানুগ উপশম হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তাই বলে ধর্ষণের মতো একটি মানবতা বিরোধী ভয়ঙ্কর অপরাধকে বৈবাহিক পরিসরে এমন ভাবে ছাড় দিয়ে রাখার অর্থ কি? তাহলে তো ধর্ষণের পরে অনেক ধর্ষকও ধরা পড়ে ধর্ষিতাকে বিবাহে রাজি হয়ে গিয়ে সাজা এড়িয়েও যেতে পারে? আর বিবাহ করার অর্থ কি স্ত্রীকে ধর্ষণ করার অধিকার লাভ? সমাজে বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে কোন আইন না থাকার একটাই অর্থ হয়। সমাজ বৈবাহিক ধর্ষণকে সমর্থন করে। কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমনটি কল্পনা করা যায়? যে রাষ্ট্রে বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে কোন আইন থাকে না। সেই রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক? যে সমাজ বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বলে স্বীকার করে না। সেই সমাজ কতটা মানবিক? এই প্রশ্নগুলি যদি একুশ শতকেও না ওঠে, তবে আর কবে উঠবে?

বিস্তারিত পড়ুন

নুসরতের গর্ভে কার সন্তান

সাংসদ ও চলচিত্র অভিনেত্রী নুসরতের গর্ভে কার সন্তান, সেই নিয়ে উত্তাল মিডিয়া ও জনতা। এবং আশ্চর্য্যের বিষয় একুশ শতকে পৌঁছিয়েও কারুরই মনে হচ্ছে না, নুসরতের গর্ভে নুসরতেরই সন্তান থাকার কথা। অন্য কারুর সন্তান হতে পারে একমাত্র তখনই নুসরত যদি সারোগেট মাদার হওয়ার বরাত নিয়ে থাকেন। না নিলে কোটি কোটি নারীর মতোই একজন নারীর গর্ভে তাঁর নিজের সন্তানই থাকার কথা। অন্য কারুর সন্তান নয় নিশ্চয়। আমরা সময়ের হিসেবে একুশ শতকে পৌঁছিয়ে গেলেও চেতনার জড়তায় এখনও মধ্যযুগীয় মানসিকতায় আটকিয়ে রয়েছি। গর্ভের মালিকানা নারীর। সেই গর্ভের ভ্রূণের জন্মদাত্রীও নারী। ফলে সেই সন্তান সেই নারীরই আপন সন্তান। তাকে রক্তে মাংসে অস্থিতে মজ্জায় তিলে তিলে গড়ে তোলার দায়িত্ব সেই মায়েরই একান্ত ভাবে। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আজ অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যের ভ্রূণ আপন গর্ভে প্রতিস্থাপিত করে ভাড়াটে মাতৃত্বের দায়ও নিয়ে থাকেন কেউ কেউ। কিন্তু সেটা ব্যতিক্রম। নিয়ম নয়। প্রতিদিন কোটি কোটি নারীর গর্ভে ভ্রূণের জন্ম হচ্ছে। সেই ভ্রূণজাত সন্তান নারীর গর্ভেই বড়ো হয়ে উঠছে। নারীর গর্ভে নারীর সন্তান বড়ো হয়ে উঠলেও সেই সন্তান কার বলে কোলাহল করা একেবারেই মধ্যযুগীয় মানসিকতার সংস্কৃতি। আর দুঃখের বিষয়, এটাই আমাদের সামাজিক ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী আমরা সকলেই। সন্তানের প্রাকৃতিক পরিচয়, তার মাতৃপরিচয়ের নিরূপিত হয়। সেটাই এই বিশ্ব প্রকৃতির নিয়ম। নারী তাঁর আপন শরীর দিয়ে আরও একটি শরীরের জন্ম দিচ্ছে। আর সেই শরীরের পরিচয় জানতে খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে কোন একজন পুরুষকে! কি আশ্চর্য্য এক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছি আমরা। তারপরে সেই সংস্কৃতিকেই সভ্যতা বলে গর্ব বোধ করছি। প্রকৃতির দরবারে এইরকম সীমাহীন অসভ্যতা চলে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। ভাবলেও লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে আসে।

বিস্তারিত পড়ুন

বনসাই সংস্কৃতি

শরীর একটা বড়ো ব্যাপার। শরীরটা যতক্ষণ, ততক্ষণই বাকি সব। শরীরটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যেই বাকি সব কিছু। শরীরটাকে টিকিয়ে রাখার জন্যেই জীবনযুদ্ধ। পরস্পর প্রতিযোগিতা হানাহানি। আবার সেই শরীরটাকেই শাখা প্রশাখায় প্রলম্বিত করার জন্যেই বংশবিস্তার। আদতে জীবজগতের আগাগোড়াই আসল গল্পটা একান্তই শারীরীক। মানুষের জীবনও সেইরকমই শরীর সর্বস্ব এক মহাকাব্য। এই শরীরটাকে জানার ভিতর দিয়েই মানুষের জীবনে প্রথম জ্ঞানলাভের সূচনা। সেই জ্ঞানার্জন আজও শেষ হয় নি। আজও যে শরীরের কত কথা অজানা রয়ে গিয়েছে, তার ঠিক নেই। আমরা অনেক সময় মনে করি। শরীর নিয়ে পড়ে থাকাটা প্রাগৈতিহাসিক আদিম ব্যাপার। বরং মনের ভিতরে আরও বেশি করে ঘোরাফেরা করাটাই আধুনিকতা। কিন্তু আমরা ভুলে যাই। মনও শরীরেরই প্রলম্বিত রূপ। এবং মনেরও শরীর রয়েছে। মনের মৃত্যু ঘটলেও শরীর জীবিত থাকতে পারে। কিন্তু শরীরের মৃত্যু ঘটলে মনের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যায়। ফলে শরীরই মনের আধার। মন শরীরের আধার নয়। শরীর অনুভব করে। মন উপলব্ধি করে। দুই মিলেই একটা সম্পূর্ণ বৃত্ত। মনহীন শরীর মূল্যহীন। শরীরহীন মন অলীক।

বিস্তারিত পড়ুন

মুক্তির দিগন্ত

সত্যিই সুন্দরী মহিলাদের দিকে চেয়ে থাকতে কার না ভালো লাগে? যদি সে উঠতি বয়সের তরুণ যুবা হয়। কিন্তু শুধু কি ভরা যৌবনেই সুন্দরী মহিলাদের প্রতি এমন আসক্তির জন্ম হয়? মধ্যবয়সী টাক মাথা ভুঁড়িয়াল দাঁত পড়া পুরুষও কম যায় না। সেই অভিজ্ঞতা সুন্দরী মহিলা মাত্রেরই রয়েছে। পথে ঘাটে বাসে ট্রামে কামাসক্ত দৃষ্টির পুরুষের কোন অভাব নাই। শুধু সুন্দরী মহিলা কেন, মহিলা মাত্রেই পুরুষের দৃষ্টির বেড়াজালে আটকিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েই মেয়েদের জীবন অতিবাহিত হয়। সেটাকে মানিয়ে নিয়ে চলতে চলতে সেটাই কি একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় না? যেদিন কোন পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের আর কোন ক্ষমতা থাকে না। সেই দিনটি কি মেয়েদের জীবনে খুব স্বস্তির? নিশ্চয় নয়। আসলে এ প্রকৃতির খেলা। প্রকৃতি আমাদের এমন এক কামাগ্নিতে বেঁধে রেখে দিয়েছে। তার থেকে কেই বা মুক্তি পায়? হিরো মার্কা চেহারা নিয়ে যে যুবকরা ঘুরে বেড়ায়। কিংবা সাহেবসুবো ধনকুবের কন্দর্পকান্তি পুরুষ। তাঁদের দিকে চেয়ে থাকতে যৌবনবতী থেকে বিগতযৌবনাদের আগ্রহও কি কম কিছু? আসলে এই হলো জগতের নিয়ম। সকলেই যে সকলের প্রেমে পড়ছে তাও তো নয়। কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের মানুষটির প্রতি একটা অতিরিক্ত টান রক্তের ভিতরেই খেলা করতে থাকে। বলা ভালো যতদিন করতে থাকে। ততদিনই যৌবন। ততদিনই এই বিশ্ব প্রকৃতির সাথে আমাদের নিবিড় সংযোগ। সেই সংযোগ আলগা হতে শুরু করাই আসলে বার্ধক্য। এইভাবেই যদি ভাবা যায়, তবে সুন্দরী মহিলাদের দিকে কিংবা কন্দর্পকান্তি পুরুষের দিকে চেয়ে থাকা খুব একটা অনভিপ্রেত বিষয় নয় হয়তো। কারণ এটাই জীবনের ধর্ম। যৌবনের সিম্পটম।

বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিনী বর্ণমালা

কবি শামসুর রহমানের একটি কবিতার নাম, বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা। জানি না কবি যখন কবিতাটি লিখছিলেন। সেই সময়ে তাঁর কোন ধারণা ছিল কিনা, বাঙালি নিজেই সেই দুঃখিনী বর্ণমালাকে সজ্ঞানে বর্জন করার নানান পথ ও উপায়, যুক্তি ও অজুহাত খুঁজে নেবে। কাঁটাতারের উভয় পারেই। সমান উদ্যমে। আপনি ঢাকা কিংবা কলকাতা। যেখানেই যান। কম বেশি সবখানেই দেখবেন পথের দুধারে দুঃখিনী বর্ণমালার দুঃখজনক অনুপস্থিতি। হ্যাঁ, রাষ্ট্রীয় কারণে ঢাকা বা বাংলাদেশে দুঃখিনী বর্ণমালার তবু সকরুণ উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু কলকাতা কিংবা পশ্চিমবঙ্গে দুঃখিনী বর্ণমালা বিদেশী ইংরেজি ও হিন্দুস্তানী হিন্দী এমনকি পাকিস্তানী উর্দুর কাছেও মার খেতে খেতে প্রায় অমেরুদণ্ডী প্রাণী কেঁচোর মতো কাঁচুমাচু হয়ে পড়ে রয়েছে এককোণে। সৌজন্যে আমরা বাঙালি। টলমল পায়ে শিশুর মুখে প্রথম বোল ফোটার আগে থেকেই আমরা শিশুকে তার আইজ, নোজ, হ্যাণ্ড, লেগ, বেলি ও হেডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে থাকি। তারপর ইংলিশ আলফাবেটের সাথে পরিচয়ের সুত্রে হাতেখড়িও হয়ে যায় বাঙালি শিশুর। আমাদের যুক্তি খুব পরিস্কার। শিক্ষাদীক্ষা অর্জনের ভাষা ইংরেজি। বিশ্বায়নের ভাষা ইংরেজি। ভারতীয় সংবিধান সম্বন্ধে একবর্ণ জ্ঞান না থাকায় আমরা জেনে গিয়েছি ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিন্দী। ব্যাবসা বাণিজ্য অর্থনীতির ভাষা ইংরেজি ও হিন্দী। চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি গবেষণা উচ্চশিক্ষা প্রভৃতির ভাষা ইংরেজি। ধন উপার্জনের ভাষা ইংরেজি ও হিন্দী। সমাজে সম্মানজনক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠার ভাষা ইংরেজি। ইনটারনেট সহ বাকি বিশ্বের সাথে সংযোগের ভাষা ইংরেজি। ফলে সমৃদ্ধি ও সংযোগ। মানুষের জীবনে এই দুইটির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আমাদের হেডে বদ্ধমূল এক ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছি আমরা, বাংলা আর যাই হোক সমৃদ্ধি ও সংযোগের ভাষা নয়। বাংলা বিচ্ছিন্নতার ভাষা। বাংলা পিছিয়ে পড়ার ভাষা। জ্ঞান ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের চর্চা বাংলাভাষায় সম্ভব নয়। ফলে বাংলা বর্ণমালার অস্তিত্বের গুরুত্বও শূন্য প্রায়। প্রায়, তার কারণ একটাই। সংস্কৃতিচর্চার দিগন্তে নামডাক অর্জন করতেই যা একটু অ আ ক খ নিয়ে টানাটানির দরকার হয়ে পড়ে। তা না হলে কে আর ঐমুখো হয়।

বিস্তারিত পড়ুন

বঙ্গজীবনে চরিত্রবদল

কোনো একটি জাতিগোষ্ঠির চরিত্র কালের প্রবাহে, সেই জাতিগোষ্ঠির মাতৃভূমির ভৌগলিক অবস্থানের নিরিখে এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির সাথে মেলামেশার আবহে কালে কালে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। চরিত্রের সেই বিকাশের পর্ব থেকে পর্বান্তরে অনেক ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠে জাতিসত্তা। সেই জাতিসত্তার চরিত্রের বদল কিন্তু দুদিনেই হঠাৎ হয় না। প্রায় দুইহাজার বছরের ইতিহাস ব্যাপী এই যে বঙ্গজীবন। এর পরতে পরতে কালের পালে এসে লাগা হাওয়ায় ঘটে গেছে পরিবর্তনের পর পরিবর্তন। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ফলে যে বাঙালির চরিত্রের বদল ঘটবেই তা নয়। আবার ঘটলেও তাকে বাস্তব বলে মেনে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কাম্য না হলেও। এক কালে কালাপানি পেরোলে বাঙালির জাত যেত। পুরুত ডাকিয়ে গোবর খেয়ে রীতিমত যাগযজ্ঞ করে তবেই তার প্রায়শ্চিত্য হতো সম্পূর্ণ। তারপর বাঙালি যখন ইংরেজের বৈভবে দিশাহারা হল, তখন অবস্থা গেল বদলে, সমাজে বিলেত ফেরতের কদর গেল বেড়ে। বিলেত ফেরত না হলে, নামের পাশে বিলাতী ডিগ্রী না ঝুললে পণ্ডিত বলে আর মান্যিগন্যি হওয়া যায় না সমাজে। কি আশ্চর্যম।

বিস্তারিত পড়ুন

সম্পত্তি সমর্পণ

তিনি মেয়র পদ ছাড়লেন। মন্ত্রীত্ব ছাড়লেন। বিবাহিত স্ত্রীকে ছাড়লেন। আপন পুত্র কন্যার থেকে দূরে সরে গেলেন। রাজনৈতিক দল ত্যাগ করলেন। বিধায়ক পদ গেল। নতুন দলে এলেন গেলেন। রাজনৈতিক কেরিয়ার বরবাদ হয়ে যায় যায়। জননেতা ছিলেন। নেতৃত্ব ছাড়লেন। এমন কি তাঁর গডমাদারের আশীর্বাদও হারালেন। তবু তিনি তাঁর একান্ত প্রেমের প্রিয় বান্ধবীকে ত্যাগ করেন নি। সব রকম ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে বুক দিয়ে আগলিয়ে নিয়ে চলেছেন সেই বৈশাখী প্রদীপ। না আলাদীনের আশ্বর্য প্রদীপ খুঁজে পাননি বটে। কিন্তু ভাগ্য তাঁর হাতে বৈশাখী প্রদীপ তুলে দিয়েছে। নিন্দুকেরা যতই পরস্ত্রী বলে প্রচার করুক। জনতা যতই মাতৃবৎ পরদারেষু বলে স্মরণ করিয়ে দিতে উদ্যোগী হোক। তিনি জীবনের মধ্য গগন ছাড়িয়ে আজ তাঁর বৈশাখীকে পেয়ে গিয়েছেন। কে জানে সকল পুরুষই হয়তো মনে মনে সঙ্গোপনে এমন এক বৈশাখী স্বপ্ন লালন করে থাকে হৃদয় গভীরে। কিন্তু সকলের কপালেই যে শিকে ছিঁড়বে তার কোন মানে নেই। তিনি ভাগ্যবান। বিদুষী সুন্দরী রূপসী প্রেয়সী লাভ করেছেন। রূপে গুণে লক্ষ্মী সরস্বতী! এমন ভাগ্য কজনের হয়। সেই সৌভাগ্যকে আমৃত্যু চিরস্থায়ী করতে তিনি অবশেষে সেই কাজটিও সুসম্পন্ন করে ফেললেন। যেটি না করা অব্দি তিনি হয়তো অন্তরে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। সকল সৌভাগ্যবান প্রেমিক পুরুষই যে কাজ সম্পন্ন করেই নিশ্চিন্তি লাভ করে থাকে। যুগে যুগে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। তিনি তাঁর যৎযাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা তুলে দিলেন তাঁর পরম প্রিয় প্রিয় বান্ধবীরই হাতে। এবার আর কোন চিন্তা নেই। শঙ্কা নেই। তাঁর প্রেমের ঘড়া পূর্ণ। সম্পত্তি সমর্পণ করে তিনি তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। চিরন্তন প্রেমিকের মতোই। শাশ্বত প্রেমের শর্ত পূর্ণ করে।

বিস্তারিত পড়ুন

বাঙালির পরীক্ষাভীতি

বাঙালির কি পরীক্ষা ভীতি রয়েছে? আমরা কি পরীক্ষা দেওয়া এড়িয়ে যেতে চাই? পরীক্ষায় বসায় জাতি হিসাবে আমাদের ভিতর কি কোন হীনমন্যতা কাজ করে? এমন কি গণতান্ত্রিক নির্বাচনগুলিতেও দেখা যায়, ভোটারদের নানা ভাবে লোভ দেখিয়ে। মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে। নাহলে বুথ জ্যাম করে। ছাপ্পা ভোট দিয়ে। আরও এগিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে না দিয়ে। ভোট পরীক্ষার বৈতরণী পার হওয়ার প্রাণান্তকর প্রয়াস। মধ্যেখান থেকে প্রাণ যায়, সাধারণ জনগণের। যাঁরা ভোটযুদ্ধে বলি হওয়ার জন্য মাথা গলিয়ে দিতে বাধ্য হয় নানান বাধ্যবাধকতায়। রাজনীতিবিদ থেকে ক্ষমতায় থাকা সরকার। কেউই পাঁচ বছরের নিজ নিজ কর্মফলের উপরে ভরসা করতে রাজি নয়। ভোটারদের কাছে গিয়ে বিগত পাঁচ বছরের জনসেবার খতিয়ান দাখিল করাই তো নির্বাচনে জেতার একমাত্র চাবিকাঠি হওয়া উচিত। সব ভোটারই জানে পাঁচ বছরে তাঁর এলাকার জনপ্রতিনিধির জনসেবার বৃত্তান্ত। সেই জানার উপরে জনপ্রতিনিধিরা কেন ভরসা রাখতে পারেন না? পারেন না বলেই তাঁদের ভিতর নির্বাচনী পরীক্ষায় পরাজয়ের আশংকা কাজ করতে থাকে। তাই সরাসরি পরীক্ষার উপরে ভরসা না করে তাদের লক্ষ থাকে, জনতাকে নানান ভাবে বিভ্রান্ত করে ভোট আদায় করা। সারা বছর লেখাপড়া না করা পরীক্ষার্থী যেমন টুকে পাস করতে চায়। অনেকটা সেই রকম ভাবেই বাহুবলে পেশী বলে ক্ষমতা বলে জোর করে ভোট দখলের গণতন্ত্রেই রাজনীতিবিদদের ভরসা বেশি।

বিস্তারিত পড়ুন

সময়ের দাবি নাগরিক মঞ্চ

আমাদের গণতন্ত্রে একটা নাগরিক মঞ্চ গড়ে তোলা খুব জরুরী। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা ডান বাম মধ্যপন্থী কোন রাজনৈতিক দলের তল্পিবাহক কোন মঞ্চ নয়। যে মঞ্চের কার্যক্রমের উপরে ছড়ি ঘোরানোর কোন সুযোগ ও সুবিধে অধিকার ও ক্ষমতা থাকবে না, ভোটে দাঁড়ানো কোন রাজনৈতিক দলের। এবং কোন রাজনীতিবিদের। নাগরিক মঞ্চের কুশীলবরা কোনভাবেই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এবং নাগরিক মঞ্চকেও বিশেষ কোন এক বা একাধিক রাজনৈতিক দল শিবির ও পক্ষের তল্পি বাহনের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের জবাবদিহির দায় ও দায়িত্ব থাকবে দেশের নাগরিকদের কাছে এবং দেশের সংবিধানের কাছে। তাদের কার্যক্রমের যাবতীয় অভিমুখ পরিচালিত হবে এক এবং একমাত্র সংবিধানের নির্দেশ অনুসারেই। না, সংবিধানে এরকম কোন নাগরিক মঞ্চ গঠনের প্রস্তাবনা দেওয়া নেই। কিন্তু এই রকম নাগরিক মঞ্চ গঠনের বিষয়ে কোন বাধাও নেই। নাগরিক মঞ্চের সকল কার্যাবলি সংবিধানের বিধানকেই অনুসরণ করে চলবে। এবং নাগরিক মঞ্চের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে সংবিধানের বিধিবিধান লঙ্ঘনকারী রাজনৈতিক কার্যক্রম সরকারী নীতিমালা শিল্পবাণিজ্যের পরিকল্পনা ইত্যাদির বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করা। এবং আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি যে মুহুর্তে সংবিধান লঙ্ঘন করবে সেই মুহুর্তেই নাগরিক মঞ্চ সরব হয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠবে। এবং আইনী প্রক্রিয়ায় প্রতিরোধ শুরু করার প্রয়াস করবে। নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা ব্যাতীত অন্যান্য যে কোন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই মঞ্চ প্রতিবাদ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের প্রয়াস জারি রাখবে। বৃহত্তর নাগরিক পরিসরে। দেশের সকল আইন ও বিধিবিধান মেনেই। এবং সংবিধানই হবে তার একমাত্র গাইড।

বিস্তারিত পড়ুন