এক ভুখণ্ডের মাটিতে

একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, বাঙালি মাত্রেই আমরা সাম্প্রদায়িক। আবার শুধু যে সাম্প্রদায়িক তাও নয়। আমরা গভীর ভাবে জাতপাতেও বিশ্বাসী। আমরা প্রথমেই দেখে নিই, কে হিন্দু কে মুসলিম। তারপরেই দেখি কে নীচু জাত। কে উঁচু জাত। আর এই দেখে নেওয়ার পর্ব শুরু হয়, আমাদের নাম ও পদবী দেখা থেকেই। তারপর পোশাক আশাক দেখেও অনকটা পার্থক্য ধরা পড়ে অনেক সময়েই। আর পড়ে বলেই বাঙালি না হয়েও দেশ প্রধান খুব একটা ভুল বলেননি যে, পোশাক দেখে মানুষ চেনা যায়। এখানে মানুষ বলতে উনি সাম্প্রদায়িক পরিচিতি বোঝাতে চাইলেও, তার সাথে জাতপাতের পরিচিতির ক্ষেত্রেও কথাটা অনেক সময়েই খেটে যায়। কারণ অনেক সময়েই আমরা পোশাক দেখে ছোটো জাত উঁচু জাত অনুমান করে নিই। ঠিক হোক আর বেঠিক হোক। তার আসল কারণ, ছোট জাত হলে আর্থিক সঙ্গতি কম হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে পোশাকে তার ছাপ থাকারও কথা। ঠিক একই কথা খাটে উঁচু জাতের ক্ষেত্রেও। সোজা কথা, বোঝা যাক আর না যাক, আমরা কিন্তু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি। কে কোন সম্প্রদায়ের কে কোন উঁচু কিংবা নীচু জাতের। মানুষের নাম পদবী এবং পোশাকআশাক দেখে। কিন্তু কেন এই প্রবণতা আমাদের? তার প্রধান কারণ একটাই। আমরা বাঙালিরা কোনদিন বাঙালি জাতীয়তায় বিশ্বাসী নই। মাতৃভাষা বাংলা হওয়া, কিংবা বাংলার ভুখণ্ডের মানুষ হওয়াকেই আমরা বাঙালিত্বের শেষ কথা বলে মানতে পারিনি কোনদিন। হিন্দু বাঙালির চেতনায় বাঙালি আবার মুসিলম হয় কি করে। আবার মুসলিম বাঙালি বিশেষত অধুনা যাঁরা নিজেদের বাংলাদেশী বলে মনে করেন। তাঁদের ভিতর একটা বড়ো অংশের মুসলিম বাঙালির চেতনায় হিন্দু বাঙালি আসলে বাঙালি নয়। তারা ইণ্ডিয়ান। উচ্চবর্ণের হিন্দু বাঙালিদের কাছে নিম্ন বর্ণের হিন্দু বাঙালিরাও স্বগোত্র নয় আদৌ। ফলে তাদেরকে নিজ বাঙালি জাতির অংশ মনে করতেও হোঁচোট খেতে হয় রীতিমত। ফলে সোজা কথায় এক আকাশের নীচে এক ভুখণ্ডের মাটিতে বাঙালি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ে এবং উঁচু জাত নীচু জাতে নানা ভাবে বিভক্ত। এবং প্রত্যেক ভাগ এক একটি গোষ্ঠী মানসিকতায় চলে। এই যে গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা। এটি বাঙালির স্বভাব চরিত্র। বাঙালি তাই কোনদিন ক্ষুদ্র গোষ্ঠী চেতনার উর্দ্ধে উঠে বাঙালি জাতীয়তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতেই পরেনি।

বিস্তারিত পড়ুন

বিকলাঙ্গ সময়

আপন সন্তানের হাতে খুন হয়ে যেতে কেমন লাগে সেকথা জানিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। তাই তাঁরা জানিয়েও যেতে পারেননি সেকথা। আজকের ব্রেকিং নিউজ। বাবা মা বোন ও ঠাকুমাকে খুন করে বাড়িতেই চার মাস পুঁতে রেখে দিয়ে দিব্যি স্বাধীন জীবন যাপন করছিল বাড়ির ছোট ছেলে। খবর থেকে যতটুকু জানা যাচ্ছে, বড়ো ছেলে এই চার মাস নাকি পালিয়ে ছিল ভাইয়ের হাত থেকে। তাকেও খুনের চেষ্টা করেছিল ছোট ভাই। কিন্তু গায়ের জোরে পেরে ওঠেনি নাকি। কিন্তু ঘটনার চার মাস বাদে ভাইয়ের নামে থানায় খবর দেওয়ার পিছনের আসল কারণটা এখনো পরিস্কার জানা যায়নি। কেন বড়ো ভাই ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার মাস বাদে থানায় গেল। কেন ঘটনার পরেই যায় নি। কেন এতদিন নিশ্চুপ ছিল। এসবই এখন পুলিশি তদন্তের বিষয়। পুলিশ তার কাজ করবে। খুনের মোটিভ কি ছিল। বড়ো ভাইয়ের চারমাস নীরবতা পালনের পিছনে মোটিভ কি ছিল। কিভাবে খুন হলো। ছোটছেলের জীবনের লক্ষ্য কি ছিল। ইত্যাদি ইত্যাদি। সে সব পরের কথা। কিন্তু আপন সন্তানের হাতে কেন খুন হতে হয় বাবা মা সহ বাড়ির অন্যান্যদের। এরকম ঘটনা আজ আর খুব একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় কিন্তু। গত তিন দশকের হিসেবও যদি সঠিক ভাবে নেওয়া যায়। দেখা যাবে সন্তানের হাতে খুন হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এবং এও দেখা যাবে। হঠাৎ উন্মত্ত ক্রোধে দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে খুন করার ঘটনার থেকে অনেক বেশি ঘটে ঠাণ্ডা মাথায় দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনায় সংঘটিত খুনের ঘটনা। আর সেটিই সবচেয়ে বড়ো চিন্তার কথা। রাগের মাথায় কাউকে আঘাত করায় খুনের ঘটনা একরকম বিষয়। আর ঠাণ্ডা মাথায় দিনের পর দিন ধরে কাউকে খুনের পরিকল্পনা করা ও খুন করা সম্পূর্ণ অন্য বিষয় কিন্তু। বিশেষ করে অপরাধ সংঘটিত হয় যখন আপন সন্তানের হাতে। এবং সেই সন্তানের বয়স যত কম হয় আমাদের বিস্ময়বোধ ততই বেশি হয়ে ওঠে।

বিস্তারিত পড়ুন

ফ্রম মী ট্যু উই

‘ফ্রম মী ট্যু উই’। আশা করা যাক। এই নামে কোন ব্লকবাস্টার মুভি উপহার দেবে টলিস্টুডিও। পাত্র এবং পাত্রী’র নাম ভুমিকায় কে কে অভিনয়ের সুযোগ পেতে পারেন? চলুক না হয় সেই নিয়ে আমাদের জল্পনা। এক্সপার্ট অপিনিয়ন। নারী কিংবা পুরুষ। প্রত্যেকেরই তো এই একটি অমোঘ বাসনা। ট্যু বিকাম উই ফ্রম মী। আর সেটাই যখন ঘটে যায়। তখন সে তো এক উৎসব। যেকোন উৎসবই উদযাপনের প্রতীক্ষায় থাকে। এখন সেই প্রতীক্ষায় কে বা কারা কারা যোগ দিতে চান, সে মাথাপিছু মানুষের পার্সোনাল চয়েস। সেই নিয়ে কথা নেই কোন। আপাতত রাজ্যবাসী মুডে রয়েছে। এতদিন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শোভন বৈশাখী রত্না। ফেসবুকের আপডেট ইউর নেম অপশানের বদান্যতায় রাজ্যবাসীর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বৈশাখী শোভন ব্যানার্জী। এবং জয়েন্ট পিপি। অর্থাৎ প্রোফাইল পিকচার। যুগলছবিতে একেবারে ব্রেকিং নিউজ। চ্যানেল থেকে চ্যানেল। সাংবাদিকের বয়ান থেকে লাইভ বাইট। আমরাও উৎসুক। জানার আগ্রহই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায় নাকি। তাই আমরাও জানতে আগ্রহী। আমাদের সেই আগ্রহের কথা সবচেয়ে বেশি জানে নিউজ চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। ফলে সাংবাদিক ক্যামেরাম্যানদের দৌড়। কোন চ্যানেল কোন চ্যানের আগে এক্সক্ল্যুসিভ আপডেট ট্রান্সমিট করতে পারবে। আমরাও রিমোর্ট থেকে আঙুল নাড়াতে পারছি না। শুধুই চ্যানেল আপ চ্যানেল ডাউন বাটমের ভিতর ওঠা নামা করছি। ওঠা নামা করছি রাজনীতি আর পরকীয়ার ভিতরে। কতটুকু রাজনীতি। কতটুকু পরকীয়া। রাজনীতিই হোক আর পরকীয়া। দুটিই হট ফেভারিট আমাদের। কে কখন কার ডাল ছেড়ে অন্য ডালে গিয়ে বসছে। আর কে কখন ঘরে ফিরছে মাথা মুড়িয়ে। ডাল ছাড়া আর ডাল ধরে ঝোলা। এই বিষয়টি কিন্তু রাজনীতি আর পরকীয়া, দুইটিতেই অন্যতম প্রধান বিষয়। তা শোভনবাবু এই বিষয়ে খুবই দক্ষ। পুরানো দল নতুন দল, স্ত্রী আর বান্ধবী। বেশিক্ষণ এক ডালে একঘেয়ে লাগারই কথা। অনেকেরই লাগে। তিনি একা নন। প্রথমও নন। তিনি বারবার ডাল বদলাতেই পারেন। সে তার ফাণ্ডামেন্টাল রাইট। কিন্তু তাঁর ফাণ্ডাটা অন্যখানে। পরকীয়ার দাবিতে তিনি মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন। মেয়রপদ হারিয়েছেন। জননেতা থেকে প্রাক্তন নেতা হয়েছেন। এমনকি স্ত্রী পুত্র কন্যা সব ত্যাগ করেছেন। এত বড়ো ত্যাগী মানুষ এই যুগে বিরল। তিনি বিরলতম বললেও অত্যুক্তি হবে না।

বিস্তারিত পড়ুন

দুধ দিয়ে যায় চেনা

আজ দুধ নিয়ে দুচার কথা। দুধ স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্তনেই উৎপন্ন হয় শুধু। তারও বিশেষ সময় রয়েছে। সন্তানের জন্ম দিলেই দুধের জো‌গান শুরু হয়। ততদিনই সেই জোগান থাকে যতদিন সন্তানের শৈশব মাতৃদুগ্ধের উপরে নির্ভরশীল থাকে। এটা বিশ্ব প্রকৃতির বিধান। অর্থাৎ সেই বিধানে শৈশবদশা কেটে গেলে স্তন্যপায়ী জীবের আর দুগ্ধপানের কোন প্রয়োজন থাকে না। আমরা যদি প্রাণী জগতের দিকে দৃষ্টি দিই। দেখতে পাবো কোন প্রাণীই শৈশব কেটে যাওয়ার পরেও দুগ্ধপান করে না। একমাত্র ব্যতিক্রম শুধু মানুষ। মানুষই সারাজীবন দুধ পান করা থেকে শুরু করে দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। আর সেই কারণেই মানুষ সেই দুধের জোগান নিশ্চিত করে প্রধানত অবলা গরু মোষ ছাগলের কাছ থেকে। ভুলেও বাঘ সিংহ হায়নার দুধ খাওয়ার কথা চিন্তা করে না। হাতি ততটা অবলা নয়। হলে হাতির দুধেও মানুষ ভাগ বসাতো নিশ্চিত। এবং এই দুধের জোগান নিশ্চিত করার জন্যেই মানুষ গরু মোষ ছাগল পালন করে থাকে। যে দুধ বাছুরের জন্য বা মোষের কিংবা ছাগলের বাচ্ছার জন্য উৎপন্ন হয়। মানুষ সেই দুধেও ভাগ বসিয়ে আসছে, যেদিন থেকে মানুষের মগজে বুদ্ধির প্রদুর্ভাব ঘটায় মানুষ অন্যান্য প্রাণীর থেকে অগ্রসর হতে পেরেছে। এখানেই মানুষের অনন্যতা। সে শুধু মায়ের দুধেই সন্তুষ্ট নয়। অবলা প্রাণীর মুখের গ্রাসও কেড়ে না খেলে তার রাতের ঘুম হয় না। আরও একটি বিষয়ে মানুষের বুদ্ধির প্রাচুর্য্য তাকে অনন্য করে তুলেছে। সমগ্র জীবজগতে যেখানে দুধ কেবলমাত্র শৈশবেরই খাদ্য। একমাত্র মানুষই আজীবন সেই দুধ মুখে করে বসে থাকে।

বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাসাহিত্যের দূষণ

সরকারের প্রসাদভোগী বুদ্ধিজীবীদের বলয়ে আজকের বাংলাসাহিত্যের অবস্থা কোথায় এসে পৌঁছিয়েছে? এই সময়ের সাহিত্য সমাজ সংসার ও সময়ের প্রশ্ন ও যন্ত্রণাগুলিকে সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে তুলে আনতে চায় কি আর? এই সময়ের বাংলাসাহিত্যের একজন পাঠকের হাতে অবশিষ্ট কি থাকছে শেষমেশ? বিগত কয়েক দশকের সময়সীমায় বাংলার সমাজজীবনের বিবর্তনের ধারার প্রামাণ্য কোন ছবি কি পাওয়া সম্ভব এসময়ের বাংলাসাহিত্যে? অন্য সব কিছু না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলায় বুদ্ধিজীবী শ্রেণীচরিত্র কিভাবে সমাজিক পরিসরে মানবিক মূল্যবোধগুলির ভিতরে ঘূণপোকার চাষ করে চলেছে, সেই সত্যও কি উঠে আসছে আজকের সাহিত্যে? আজকের গল্প উপন্যাস নাটকে? আজকের গল্প উপন্যাসের ভিতরে, আজকের বাংলায় সমাজের মূল প্রশ্নগুলি কজন সাহিত্যিক তুলে আনতে পারছেন? এই সময়ের রাজনীতির ভিতর থেকে যে পচা গলা দুর্গন্ধ নির্গত হয় নিত্যদিন। বাংলাসাহিত্যের কজন কথাসাহিত্যিক সেই দুর্গন্ধের গভীরে গিয়ে পৌঁছাতে চাইছেন? সাহিত্যের পাঠকের কাছে কিন্তু প্রত্যেক লেখকের একটা দায়বদ্ধতা রয়ে যায়। না, পাঠক মনোরঞ্জনের দায়বদ্ধতা নয়। সময়ের কথাকে শাশ্বত সত্যের বেদীতে প্রতিষ্ঠিত করার দায়বদ্ধতা। সেটাই পাঠকের কাছেও লেখকের দায়বদ্ধতা। না, আজকের সাহিত্য সেই দায় এড়িয়ে চলতে চাইছে। অজুহাত হিসাবে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পাঠকের উপরে। বলা হচ্ছে পাঠকের রুচি বদলিয়ে গিয়েছে। সে আর গভীর ভাবে ভাবতে চায় না। সাধারণ পাঠকের বৃহৎ অংশই কোনদিন কোনকালে কোন দেশেই গভীরে গিয়ে ভাবতে রাজি থাকে না। তাকে একটা প্রবল ধাক্কা দিতে হয়। তীব্র ধাক্কায় এমন ভাবেই ঠেলা দিতে হয়। যাতে ভাবতে গররাজি পাঠকও ভাবতে শুরু করে। পাঠককে জোর ধাক্কা দিয়ে এই ভাবতে বাধ্য করানোটাই সাহিত্যের কাজ। একজন সাহিত্যিকের দায় ও দায়িত্ব। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশের সাহিত্যে প্রত্যেক কালেই সেই সাহিত্যিকই সাহিত্যজগতে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেন। যিনি সেই ধাক্কাটা ঠিক সময়ে ঠিকমত দিতে পারেন। তাঁকে যে তাঁর জীবদ্দশায় প্রবল জনপ্রিয় হতেই হবে। তার কোন মানেও নেই। জনপ্রিয়তা কোন সাহিত্যিককে কালোত্তীর্ণ সাহিত্যিক করে তুলতে পারেনি কোনদিন। কোন দেশেই। যুগ বদলের সাথে সাথেই জনপ্রিয়তা উবে যায়। কিন্তু যে সাহিত্যিক তাঁর পাঠককে তার সময় ও সমাজ, জীবন ও জগত সম্বন্ধে সচেতন করে তুলতে পারেন। তিনিই কালকে অতিক্রম করে বহুকালের জন্য সমাজ ও সাহিত্যে আলো হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বিস্তারিত পড়ুন

জনপ্রিয়তার গোলকধাঁধায়

আমাদের সমাজে জনপ্রিয়তাই উৎকর্ষতার মাপকাঠি ধরা হয়। এইটি একটি গোলমেলে বিষয়। অনেক মুশকিলের শুরুই এই প্রবণতা থেকে। সবচেয়ে বড়ো যে মুশকিলটা দেখা দেয়। সেটি হলো মধ্য মেধার দাপট। এবং জনরুচির অবনমন। এই দুইটি মুশকিলের বিষয় পরস্পরকে পুষ্টি জোগাতে থাকে। যার নিদর্শন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির পরতে পরতে শিকড় বিস্তার করতে থাকে। এবং এই শিকড় থেকেই সমাজেদেহে যে পচনের শুরু হয়। সেই পচনের উপরেই গড়ে ওঠে রাজনৈতিক বিষবৃক্ষের পরিসর। যে পরিসর রাষ্ট্রীয় কাঠামো‌রও স্বরূপ নির্ধারণ করতে শুরু করে দেয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রই তখন সেই বিষবৃক্ষের ফলের বলে জনগণের উপরে রাষ্ট্রীয় নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের যাঁতা ঘোরাতে থাকে। এবং যে যাঁতাকল থেকে বেড়োতে চাইলেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ব্যক্তি মানুষের স্বাধীনতা হরণ হতে থাকে। দেশ সমাজ ও জনগণকে সেই যাঁতাকল থেকে উদ্ধার করার প্রক্রিয়ার নামই রাষ্ট্রবিপ্লব। না, আমাদের আলোচনা রাষ্ট্রবিপ্লব নিয়ে নয়। আমাদের আলোচনা জনপ্রিয়তা ও উৎকর্ষতার সম্বন্ধ নিয়ে। কোনকিছু জনপ্রিয় হওয়া মানেই যে সেই’টি উৎকর্ষ নয়, বা কম উৎকর্ষ। বিষয়টি এমন সরলরৈখিকও নয়। অনেক সময়েই জনপ্রিয়তা উৎকৃষ্ট বিষয়ের জন্যেও হতে পারে। তবে দেখা যায় তার পরিসর তুলানামূলক ভাবে সংকীর্ণ।

বিস্তারিত পড়ুন

লিপস্টিক মনস্তত্ত্ব

লিপস্টিকের আবিষ্কর্তা কে? না, জানা নেই তাঁর নাম। কিন্তু সেই লিপস্টিক না হলে পৃথিবী অচল আজ। অনেকেই এমন রয়েছেন। পোশাক যেমন তেমন হোক। কিন্তু লিপস্টিক না লাগিয়ে বাইরে বেরোতে সঙ্কোচ বোধ করেন। আবার অনেকেই রয়েছেন যাঁরা এই লিপস্টিক উৎপাদন থেকে বাণিজ্যের উপরে নির্ভর করে সংসার চালান। ফলে লিপস্টিক না থাকলে বহু মানুষের বহ সমস্যা। মানুষের সৌন্দর্য্য তার রূপে ও ব্যবহারে। একথা মানেন সকলেই। তাই সমাজে মানুষ নিজেকে ঠিকঠাক সাজিয়ে গুছিয়েই সকলের সামনে হাজির করার কথা ভাবে। আমরা কেউই চাই না। যেমন তেমন করে পথে বার হতে। আর এই যে নিজেকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে পথে বাহির হওয়া। এর ভিতরে লিপস্টিকের ভুমিকা নারীজাতির ক্ষেত্রে অপরিসীম। এটা যুগ লক্ষ্মণও বটে। যে মহিলা যতটা বেশি শিক্ষিতা। যতটা বেশি ধনী। তাঁকেই তত বেশি করে লিপস্টিকের শরণাপন্ন হতে হয়। এবং এটাও ঘটনা, সমাজের একদম নীচুতলায় লিপস্টিকের প্রচলন কম। বা কোথাও কোথাও প্রায় নেই বললেই চলে। অর্থাৎ লিপস্টিকের প্রয়োজন শিক্ষার হার এবং অর্থ কৌলিন্যের সাথে বেশ সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। এবং এই বিষয়ে সেলিব্রেটি মহিলাদের জুড়ি মেলা ভার। বস্তুত তাঁরাই সমাজে লিপস্টিকের ব্র্যাণ্ড অ্যাম্বাসেডর। এবং লিপস্টিক বাণিজ্যের বিস্তারে তাঁদের ভুমিকা সমধিক।

বিস্তারিত পড়ুন

বাঙালির টিভি সিরিয়াল

একটা সময় ছিল। যখন গ্রাম বাংলার প্রান্তরে কবিগান যাত্রাগান পালাগানের চল ছিল। অধিকাংশই পৌরাণিক কাহিনী ভিত্তিক অশ্রজসজল গীতি আলেখ্য ধর্মী। সমাজ তার নিজের কথা এই সকল মাধ্যমে প্রকাশ করতো। তারপর ব্রিটিশ আসায়, তাদের সাথে এসে পৌঁছালো নাটক সিনেমা থিয়েটর ইত্যাদি। বাংলার সংস্কৃতিও সময়ের হাত ধরে নানান ভাবে বিবর্তিত হয়ে চলেছে। তারপরে টিভির হাত ধরে সংস্কৃতির এক ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটে গিয়েছে। যে পথে বর্তমানে সিরিয়ালই হয়ে উঠেছে বঙ্গসংস্কৃতির প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এবং মুখ্য ধারা। আপামর বাঙালি আজ এই সিরিয়ালের ভিতর দিয়েই বঙ্গসংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ ধরে রেখেছে। গ্রাম বাংলা থেকে মফস্বল আধামফস্বল শহরতলি হয়ে নগর কেন্দ্রিক যে জনজীবন। সেই জনজীবনের সংস্কৃতির একটা প্রধান দিক এই টিভি সিরিয়াল। ফলে টিভি সিরিয়ালের দিকে গভীর ভাবে নজর দিলে। আজকের বঙ্গসংস্কৃতির গতিপ্রকৃতির মুখ্য ধারা সম্বন্ধে একটা আঁচ পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাঙালির জাতিমানসের ধরণ প্রকৃতি এবং রুচি’র একটা প্রামাণ্য ছবিও উঠে আসবে। আমরা বলতে চাইছে একুশ শতকের বাঙালির নাড়ির স্পন্দন পেতে টিভি সিরিয়ালের জুড়ি মেলা ভার। কারণ আপামর বাঙালি এই টিভি সিরিয়ালের দর্শক। সিনেমা থিয়েটর প্রায় উঠে গিয়েছে। উঠে গিয়েছে সঙ্গীত জলসা। গ্রুপ থিয়েটরের নাট্যচর্চার পরিসর অতি সীমিত। তার দর্শকও প্রায় হাতে গোনা। ফলে সব কিছু এসে এখন সিরিয়ালের যুগে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। রমরমিয়ে চলছে শুধু টিভি সিরিয়াল।

বিস্তারিত পড়ুন

নিজের সাথে লুকোচুরি

প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ শুধু করোনার কারণে আর অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। এক একটি মৃত্যু এক একজনের জীবন কাহিনীর পাশে শেষ দাঁড়ি টেনে দিয়ে যাচ্ছে। আবার এক একটি মৃত্যু এক একটি পরিবারকে প্রায় পথের ভিখারিও করে দিয়ে যাচ্ছে হয়ত। আমরা কে আর তার খবর রাখতে যাচ্ছি। সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি অক্সিজেনের অভাবে কিংবা করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেলে একটা পরিবার ভেসে যেতেই পারে। যদি না আত্মীয়স্বজন সর্বতো ভাবে পাশে এসে দাঁড়ায়। তবে এই যুগে আত্মীয়স্বজন যে খুব একটা কাজে আসে তাও নয়। সকলেই যে যার সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত। আত্মীয়স্বজনের সমস্যায় সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো মন মানসিকতা আজকাল অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে যে পরিবারটি তার একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে এই করোনাকালে হারালো, একমাত্র সেই পরিবারই টের পায়। এই যুগে প্রকৃত আত্মীয় প্রায় রূপকথার দেবদূতের মতোই আজগুবি। লাখ লাখ মানুষ যেখানে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। সেখানে কে কার খোঁজ রাখে? মহামারী এইভাবেই মানুষকে বেঁচে থাকার বিভীষিকার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। যে চলে গেল। সে তো গেলই। বরং বেঁচেই গেল বলা চলে। কিন্তু যাদের ফেলে রেখে গেল। তাদের জীবনযাপন এই কঠিন পৃথিবীতে কতটা কঠিন, কতটা কষ্টকর হয়ে উঠছে, সেই খোঁজ রাখার মতো সময়ও আমাদের আজ নেই। সংবাদ শিরোনামে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মহামারীতে মৃত্যু হতে দেখে আমাদের মন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু এই রকম অসহায় পরিবারগুলি যখন সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে প্রায় পথে বসে যায়। তখন তাদের পাশে সমাজকে দাঁড়াতে দেখা যায় না বিশেষ।

বিস্তারিত পড়ুন

শঙ্খদর্পণে বাঙালির কাব্যপ্রেম

সদ্য প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ। তাঁকে নিয়ে কবিস্তুতি চলবে এখন এখানে ওখানে হয়তো বা বেশ কিছুদিন। পরবর্তীতে অনেক উদীয়মান কবি হয়তো বা প্রতিষ্ঠিত কবিও অচিরেই একটা দুটো শঙ্খ পুরস্কারে ভুষিত হবেন। সংবাদ শিরোনামে থাকবে তাঁদের নাম। বইমেলায় শঙ্খ পুরস্কার বিজয়ী কাব্যগ্রন্থে কবির স্বাক্ষর সংগ্রহের লাইনও পড়বে ইতি উতি। বাংলা সাহিত্যের হাটে শঙ্খ আরও বেশ কিছুদিন বিরাজ করবেন নানান ভাবে। শঙ্খসাহিত্যের দিগন্ত নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় গবেষক স্বীকৃতি লাভে সফল হবেন আগামীতে অনেকেই। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের শঙ্খজনিত প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে আরও বেশি মার্কস তুলতে। ফলে এটা ঠিক। শঙ্খ ঘোষ আমাদেরকে জড়িয়ে থাকবেন নানান ভাবে। অবশ্য বেশ কিছু শঙ্খভক্তও শঙ্খকেও জড়িয়ে থাকবেন। স্ব স্ব ব্যক্তি পরিসরের ছোট ছোট গণ্ডীতে। কিন্তু এর বাইরেও বৃহত্তর শিক্ষিত লেখাপড়া জানা জনমানসে শঙ্খ আদৌ কোনদিন কোন স্থান করে নিতে পারবেন কিনা, এখনই বলা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় কেন বলছি, তার একটু বিস্তৃত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। নব্বই বছর বয়সী শঙ্খ প্রায় সাত দশকের বেশি সময় বাংলা সাহিত্য সমাজে দুই হাতে তাঁর সাধনার ধন বিলিয়ে গিয়েছেন। এবং এই সাত দশক ব্যাপী সময় সীমায়, বাংলার সাহিত্য সমাজ ও পাঠক সমাজকে কবি অত্যন্ত কাছ থেকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই অবলোকন করে গিয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ শক্তির গভীরতায় তিনি বাংলার পাঠক সমাজকে এবং অবশ্যই বাংলার সাহিত্য সমাজকেও তাঁর অতুলনীয় লেখনীতে বিশ্লেষণ করে গিয়েছেন সময় সময়। আর সেই বিশ্লেষণী শক্তির বলে তিনি বুঝতেও পেরেছিলেন সাহিত্য এবং বিশেষ করে কবিতার বিষয়ে বাঙালির, জাতি হিসাবে অনীহার কথা। এখন বিশেষ করে কবিতার মতো সাহিত্যের একটি ধারার প্রতি একটি জাতির যদি বিশেষ আগ্রহই না থাকে, তবে কবির প্রতিই বা কদিন আর কতখানি আগ্রহ থাকবে, থাকতে পারে সেই জাতির?

বিস্তারিত পড়ুন