হিজাব একটি অজুহাত

হিজাবধারী শিক্ষার্থীদের কলেজে ঢোকা নিষিদ্ধ। ক্লাস করা ও পরীক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ। হ্যাঁ আম্বেদকার প্রণীত সংবিধানের শপথ নেওয়া সরকারের পরিচালিত একটি সরকারী স্কুলে এমনই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। হিজাবধারী শিক্ষার্থীরা অবশ্য হাইকোর্টে আবেদন করেছে। হিজাব পরে কলেজে ঢোকার এবং ক্লাস করা ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যে। আমাদের আলোচনা হিজাব পরার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত কিনা। কিংবা সেই হিজাব পরতে না দেওয়ার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত কিনা। সেই বিষয়ে নয়। কারণ, এর উত্তর যেকোন ভারতীয় নাগরিকের কাছেই রয়েছে। এবং আদালত তার বিচার করবে। আমরা বরং এই হিজাব নিয়ে শুরু হওয়া রাজনীতির দিকেই দৃকপাত করি। সামনেই উত্তরপ্রদেশ উত্তরাখণ্ড সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। ডিসেম্বরেই হরিদ্বারে অনুষ্ঠিত হিন্দু সংসদের মঞ্চ থেকে ভারতবর্ষে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিধর্মী ইসলামকে দেশ ছাড়া করার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার সহ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ঘোষণা দিয়ে রেখেছে এই নির্বাচন আশি বনাম কুড়ির লড়াই। উত্তরপ্রদেশ জুড়ে প্রচার চলছে এই নির্বাচনে বর্তমান শাসকদলের পরাজয় মানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা আবারো ফিরে আসার অশনিসংকেত। ঠিক এরই ভিতরে সুদূর ব্যাঙ্গালোরের একটি কলেজে হিজাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নির্বাচনী গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নাই কোন।

বিষয়টি যদি শুধুমাত্র হিজাব পরে কলেজে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকতো। তবু তার এক রকম অভিঘাত হতো। উল্টে, গলায় গেরুয়া ওড়ানা ঝুলিয়ে মুখে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে সেই কলেজেরই এক দল শিক্ষার্থী হিজাবের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ সংঘটিত করায় বিষয়টির অভিঘাত অনেক বেশি ব্যাপক এবং সর্বাত্মক হয়ে উঠেছে। সরকারী কলেজই হোক আর বেসরকারী কলেজ। হিজাব পরে ঢোকা নিষিদ্ধ হতে পারে। কিন্তু একই সাথে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে ইউনিফর্মের মতো করে একদল শিক্ষার্থী গেরুয়া রঙের ওড়না পরে মিছিল করে কলেজে প্রবশে করছে। বিষয়টি হঠাৎ করে ঘটতে পারে না। অনেক দিনের সংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়া এমন ঘটনা ঘটার কথাও নয়। বিশেষ করে সামনে উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের প্রাক্কালে। এই যে আশি বনাম কুড়ির লড়াই। সেই লড়াইকে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ না রেখে ভারত জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য ও অভিমুখ একটা স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।

আদালতের রায়ে হিজাব পরার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ফিরে পেলেও। এই ঘটনার জের কিন্তু এইখানেই শেষ হয়ে যাবে না। হিজাব পরতে না দেওয়া এবং উল্টে জয়শ্রীরাম ধ্বনী দিয়ে কলেজে প্রবেশ। ইউনিফর্মের মতো করে গেড়ুয়া ওড়ানা গলায় ঝোলানো। এই হলো সেই আশি বনাম কুড়ির লড়াই। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-এর প্রতিবাদে সারা ভারত জুড়ে শুরু হওয়া গণ আন্দোলনকে কটাক্ষ করে যেদিন পোশাক দেখে মানুষ চেনার ফর্মুলা বাতলে দেওয়া হয়েছিল। অত্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক। সেইদিন থেকেই এই আশি বনাম কুড়ির লড়াইয়ে গোটা ভারতবর্ষকে বেঁধে ফেলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ যার সলতে পাকানোর পর্ব ছিল।

তাই বলে পোশাক দেখে মানুষ চেনার বিষয়টি থেকে আশির পক্ষকে মুক্ত করে রাখার কোন পরিকল্পনাই নেওয়া হয়নি। উল্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ এই পক্ষকেও পোশাকের রঙে চেনানোর একটি অন্তঃসলিল প্রক্রিয়া যে শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্যাঙ্গালোরের কলেজটিতে ইউনিফর্মের মতো করে গেরুয়া ওড়না গলায় ঝুলিয়ে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে শিক্ষার্থীদের এক অংশের মিছিল করে কলেজে প্রবেশ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। এই সত্যটুকু অস্বীকার করে চোখ বন্ধ করে বসে থাকার সময় এখন নয়। হয় এই সত্যের পক্ষ নিতে হবে। ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে অস্বীকার করে। আর নয়তো ভারতীয় সংবিধানের সেই মৌলিক কাঠামোকেই সুরক্ষিত করতে এই সত্যের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে। গর্জে উঠতে হবে আশি বনাম কুড়ির ঘোষিত লড়াইয়ের বিরুদ্ধেও।

উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনেই যে এই বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে। তাও নয়। ভারতবর্ষকে একবার যখন আশি বনাম কুড়ির লড়াইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি। তখন সেই লড়াই কিন্তু সহজে থামতে দেওয়া হবে না। কোনভাবেই। সাম্প্রদায়িক ধোঁয়ার আড়ালে যতক্ষণ না অব্দি গোটা দেশের সম্পূর্ণ দখল নেওয়া সম্পন্ন হচ্ছে। ততক্ষণ। এই লড়াইয়ে হাওয়া দেওয়া চলতেই থাকবে। আদালতের রায়ই যে শেষকথা। তেমনটি বিশ্বাস করতে ভালো লাগে। কোন রাষ্ট্রকেই কোন আদালত রক্ষা করতে পারে না। যদি না রাষ্ট্রের নাগরিক সেই রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে। হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। আর সেটিই শেষ প্রশ্ন। আমরা কি ভারতবর্ষের রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে সক্ষম হবো? আমরা কি সত্যিই সেটি চাইবো? চাইছি আজকেও?

৭ই ফেব্রুয়ারী’ ২০২২

বৈবাহিক ধর্ষণ সমাজ ও আইন

আপনার স্ত্রী কি আপনার সম্পত্তি? আপনিও কি মনে করেন আপনি আপনার আপন স্বামীর সম্পত্তি? ভারতবর্ষের সুপ্রীম কোর্ট অবশ্য গতবছর মার্চ মাসে একটি মামলার রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, স্ত্রী কখনোই স্বামীর অধিকৃত সম্পত্তি নয়। শুধু তাই নয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী’র ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাও বেআইনি কার্যকলাপ। এখন সুপ্রীম কোর্টের এই রায় নতুন কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বামী যদি তার নিজের স্ত্রী’র ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে যৌন মিলনে বাধ্য করে, তবে তো সেটি অবশ্যই ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে। এদিকে ভারতীয় আইনে দাম্পত্য ধর্ষণ আবার দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। গত বছরেই কেরল হাইকোর্টের একটি রায়ে বলা হয় বৈবাহিক ধর্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ না হলেও বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যুক্তিগ্রাহ্য একটি কারণ হতে পারে মাত্র। এখন আপনি কি করবেন? কোন দিকে যাবেন? স্ত্রীকে আপন সম্পত্তি মনে করা কিন্তু দেশের সুপ্রীম কোর্টের বিধান অনুযায়ী বেআইনী। এবং স্ত্রী’র ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন মিলনে বাধ্য করাও বেআইনী। এবং সেটি আইনের ভাষায় বৈবাহিক ধর্ষণ। এখন আপনি যদি পর পর এই বেআইনী কাজগুলি করেনও। তাহলেও কিন্তু ভারতবর্ষের আইনে আপনাকে কোন শাস্তি দেওয়ার বিধান নাই। বিষয়টি বেশ মজার। খুব বেশি হলে আপনার স্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে শারীরীক নির্যাতন, ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করতে পারেন। অর্থাৎ পরকীয়া শুরু করলে নিজের স্ত্রী’র হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে একজন স্বামী বুদ্ধি করে পরপর এই পথে এগোতেই পারেন। স্ত্রী’ই তখন বাপ বাপ করে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উঠে পড়ে লাগতে পারে। ভারতবর্ষের আইন কিন্তু আপনার পাশেই।

বিস্তারিত পড়ুন

কৃষক আন্দোলনের ৩৬৫ দিন

আজ বর্ষশেষ। বছরের শেষতম দিন। না আন্তর্জাতিক ক্যালেণ্ডারের হিসেবে নয়। নয় আমাদের বঙ্গাব্দের হিসেবেও। এই হিসেব কৃষকাব্দের। ভারতীয় কৃষক আন্দোলনের আজ তিনশো পঁয়ষট্টিতম দিবস। একটানা ৩৬৫ দিন ভারতীয় কৃষক দিল্লীর সীমানায় রাজপথে বসে রয়েছে। অবস্থান আন্দোলনে। সৌজন্যে সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষক আন্দোলনের প্রধানতম ট্র্যাজেডি এইখানেই। যে কৃষকরা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বে গণতান্ত্রিক অধিকারে দেশের সরকার নির্বাচিত করেছিল। সেই সরকারের প্রণীত কৃষক স্বার্থ বিরোধী তিন আইন রদের দাবিতেই কৃষকদের এই আন্দোলন। হ্যাঁ এটা ঠিক, সরকার প্রধান মাত্র সাত দিন আগেই কৃষক স্বার্থ বিরোধী সেই আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। সেই ঘোষণাই কিন্তু যথেষ্ঠ নয়। সংসদে পাশ হওয়া আইন যতক্ষণ না অব্দি সেই সংসদেই সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বাতিল হচ্ছে। ততক্ষণ কোন ঘোষণাই যথেষ্ঠ নয়। অবশ্যই কৃষকরাও আশাবাদী সরকার সংসদীয় পদ্ধতিতেই তিন আইন বাতিল করবেন। কিন্তু কৃষকদের দাবি তাদের আন্দোলন শেষ হবে তখনই। যখন সরকার কৃষি পণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের উপরে সঠিক আইন প্রণয়ন করবে। যে আইনের অভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার কৃষককে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রধানত ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক। অর্থাৎ যাদের কৃষি জমির পরিমান যথেষ্ঠই কম। ফসলের ন্যূনতম মূল্য না পেয়ে দেনার দায় মাথায় নিয়ে লোকসানের ভারে নুয়ে পড়ে যাঁরা আত্মহননের পথ নির্বাচনে বাধ্য হন। সারা দেশের সকল কৃষকের জন্যেই উৎপাদিত ফসলের উপরে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্য পাওয়ার অধিকার থাকা জরুরী। সরকার কর্তৃক ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণই যথেষ্ঠ নয়। সেই মূল্যের নীচে ফসল ক্রয় দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই গণ্য হওয়া উচিত। আমাদের মতো শহরের ইট কাঠ পাথরে বাস করা অনেকেরই মনে হতে পারে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নীচে ফসল ক্রয় করা যদি অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। তবে তা বিক্রয় করাই বা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না কেন? আর ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে কৃষককেই বা কে মাথার দিব্বি দিয়েছে লোকসানে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করার? আসলে চব্বিশ ঘন্টা মিডিয় নিয়ন্ত্রীত ভাবধারার চর্চা করতে করতে আমাদের খেয়ালই থাকে না, কৃষকের উৎপাদিত শস্য আসলেই পচনযোগ্য পণ্য। সময় মতো বিক্রী না করতে পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে মাথায় দেনার দায় আর লোকসানের বোঝা নিয়েও কৃষককে বাধ্য হতে হয় উৎপাদন মূল্যের কমে এবং সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের থেকে অনেক কমেই উৎপাদিত শস্য বিক্রী করে দিতে। আর এই কারণেই মাঠে ফসলের দাম আর বাজারে উপভোক্তার কাছে ফসলের দামের ভিতরে আকাশ পাতাল পার্থক্য। যার মুনাফা ঘরে তুলে নেয় ব্যবসাদার গোষ্ঠী। অর্থাৎ সরকার কর্তৃক ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইন না করার পিছনে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গুলির স্বার্থ জড়িত। মনে রাখতে হবে, সরকারে পৌঁছানো এবং পৌঁছানোর জন্য লড়াইতে থাকা রাজনৈতিক দলগুলির দলীয় তহবিল স্ফীত করে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলিই। ফলে সেই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করাই যেকোন শাসকদলের প্রধান লক্ষ্য ও কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক এবং সাধারণ জনতা। যাদেরকে বাজার থেকে খাদ্য ক্রয় করতে হয়। বাজারের দখল কিন্তু এই দুই গোষ্ঠীর কারুরই নয়। সেই মালিকানা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির। যাদের স্বার্থরক্ষায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচিত সরকারই অতন্দ্র চৌকিদারিত্ব চালিয়ে যায়। না, এই চৌকিদারিত্ব ব্যক্তিগত ভাবে কোন বিশেষ ব্যক্তির পেটেন্ট করাও নয়। এই কারণেই বলা হয়। যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।

বিস্তারিত পড়ুন

মন্ত্রীপুজো

জীবিত মন্ত্রীর নামে স্টেডিয়াম কিংবা মন্ত্রীর আদলে দুর্গা মূর্তি দুই’ই গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক। একটির সমালোচনা করেও অন্যটির সমালোচনা না করা আরো বেশি বিপদজনক। সমালোচনা বা বিরোধীতা করলে দুই ক্ষেত্রেই করা উচিত। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিসরে উল্টোটি ঘটলে সেটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই নিদর্শন। গণতন্ত্রের মুখ্য অভিমুখ যখণ গণ থেকে বিচ্যুত হতে শুরু করে ক্ষমতাতন্ত্রের অভিমুখে ধাওয়া করতে থাকে। তখনই গণতন্ত্রের আসল বিপদের সূচনা। আর তখনই জীবিত মন্ত্রীর নামে স্টেডিয়াম মন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন। আশা করা যেতেই পারে। জীবিত মন্ত্রীর আদলে দেবী দুর্গার মূর্তির উদ্বোধনও মন্ত্রীর নিজের হাতেই হবে। ফলে এই অশনিসংকেতগুলি আসলেই গণতন্ত্রের মৃত্যুঘন্টা বাজাতে শুরু করে দেয়। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি একান্তই নড়বড়ে ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে। এখানে গণতন্ত্র মানে শুধুই ভোটাধিকার। বুথে বুথে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া। আর রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করা। এই দুটি কাজ করে যাওয়াতেই আমাদের বিশ্বাসে গণতন্ত্রের স্থায়ীত্ব। গণতন্ত্রকে আমরা রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করা আর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ইভিএমে বোতাম টেপা’র বাইরে আর ভাবতে বা অনুভভ করতে পারি না। আর সেই অক্ষমতা থেকেই গণতন্ত্রের অভিমুখ  ক্ষমতাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে দেয়। দলতন্ত্র বা ব্যক্তিতন্ত্রই যার বাইরের আবরণ। ফলে দলতন্ত্রের পুজো বা ব্যক্তিতন্ত্রের পুজো শুরু হয়ে যায় গণতন্ত্রের অবরুদ্ধ পরিসরে। যার পরতে পরতে আসলেই ক্ষমতাতন্ত্রের আরাধনা চলতে থাকে। আর সেই ক্ষমতাতন্ত্রের আরাধনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মানুষ যখন তখন যেখানে সেখানে হেনস্থার শিকার হতে পারে। ক্ষমতাতন্ত্র আর যাই হোক বিরুদ্ধাচারণকে সহ্য করতে পারে না।

বিস্তারিত পড়ুন

দলবদলের পালায় নিহত গণতন্ত্র

রাজনৈতিক দলবদলের পালা চলতেই থাকবে। যখন যেখানে মধুভাণ্ড। তখন নেতা থেকে নেত্রী সেখানে সুইচ ওভার করবে। অনেকটা মিউচ্যুয়াল ফাণ্ডের ইনভেস্টারদের মতো। নির্বাচনের আগে এবং পরে। সময় ও সুযোগ বুঝে। দর কষাকষি করে। কখনো সখনো বা সিবিআই কিংবা ইডি’র জুজু দেখেও দল বদল চলতে থাকবে। ফুটবলের দল বদলের মতো রাজনীতির দলবদলেও অর্থের একটা ভুমিকা থাকে। তবে ফুটবলের মতো ঢাক পিটিয়ে নয়। একেবারেই চোখে চোখে ইশারায়। এখন দেশে একটা সংবিধান রয়েছে। রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে দলবদলের যে পালা। সেই পালা সংবিধানের ফাঁক এবং ফোঁকর দিয়ে মঞ্চস্থ হতে থাকে। এবং থাকবেই। কোন রাজনৈতিক দলই সংবিধান সংশোধনের পথে এগোবে না। সব দলই দল বদলে শক্তিহীন হলে বিপক্ষ দলের মুণ্ডুপাত করতে থাকবে। দলত্যাগী সাংসদ বিধায়কদের নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। কিন্তু ভুলেও সংবিধান সংশোধনীর পথে হাঁটবে না। এক দলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদ বিধায়ক কাউন্সিলর পঞ্চায়েত সদস্য দলবদল করতেই পারে। কিন্তু দলবদলের মুহুর্তেই সাংবিধানিক বিধিতে তার নির্বাচিত আসনে পুনর্নিবাচনের বিধি থাকলেই আর কোন অসুবিধা ছিল না। থাকার কথাও নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কোন বিশেষ দলের প্রার্থী হিসাবে যখন ভোটে জিতে সাংসদ বিধায়ক কাউন্সিলর পঞ্চায়েত সদস্য হন, তখন প্রাপ্ত ভোটের প্রতি তার প্রধান দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। তিনি দলবদল করা মানেই তার প্রাপ্ত ভোটের ভোটারদেরও সমর্থন তার সাথেই নতুন দলে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়া নয়। ভোটাররা কিন্তু শুধু তাঁকেই ভোট দেয় না। সেই সাথে তিনি যে দলের প্রার্থী সেই দলকেও ভোট দেয়। এটাই গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতি। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তার আসন নিয়েই দলবদল করলে সেটা সরাসরি ভোটারদের সাথেই তঞ্চকতা করা হয়। এবং গণতন্ত্রেরই কণ্ঠরোধ করা হয়। সর্বপরি অপমানিত হয় দেশের সংবিধান। সেই সংবিধানকেই ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখে দেশজুড়ে এই দলবদলের রাজনীতি চলে আসছে। চলতে থাকবে।

বিস্তারিত পড়ুন

৮৮৬ টাকা ৫০ পয়সা

৮৮৬ টাকা ৫০ পয়সা। এক সিলিণ্ডার রান্নার গ্যাসের দাম। ঘরে ঘরে দামী দামী খাবারের আয়োজন। তা সে পান্তা ভাতই হোক না কেন। পান্তা ভাত রাঁধার জন্যে গ্যাসের দামে কোন ছাড় মিলবে না। পোলাও কিংবা বিরিয়ানি রাঁধতেও একই দাম দিয়ে সিলিণ্ডার কিনতে হবে। হ্যাঁ ত্রিশ পঁচিশ টাকা ভর্তুকি মিলবে বইকি। ব্যাংকের পাস বইয়ে। এমন সরকার কোথাও গেলে পাবে নাকো তুমি। ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেককেই দামী দামী খাবার খাওয়াচ্ছে দুই বেলা। যা কিছুই রাঁধো না কেন। রান্নার দাম আকাশ ছোঁয়া। না, এতেও সন্তুষ্টু না হলে অসুবিধে নাই। প্রতিমাসেই একবার দুইবার পঁচিশ ত্রিশ টাকা করে গ্যাসের দাম বাড়ছে। বাড়বে। বাড়তেই থাকবে। ফলে মানুষের পাতে যাই পড়ুক। কম দামী খাদ্যবস্তু বলে তাচ্ছিল্য করার দিন শেষ। কারুর পাতেই কম দামী খাদ্যদ্রব্য পড়বে না। প্রত্যেকেই দামী দামী খাদ্যের চরম স্বাদ আস্বাদন করার সুযোগ ও অধিকার দুটিই পাবে। এক কথায় সব কা সাথ সব কা বিকাশ।

বিস্তারিত পড়ুন

বেআইনী ধারার বেআইনী প্রয়োগ

কথায় বলে পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা। আর যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। কথাদুটি যে কতটা সত্য। বোঝা যাচ্ছে বর্তমান ভারতে। যেভাবেই হোক কোন অভিযোগে পুলিশের খাতায় একবার নাম উঠে গেলেই হলো। দিনের পর দিন আদালতের চক্করে পড়ে থাকো। বছরের পর বছর গড়িয়ে যাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। এবং শেষমেশ স্বসম্মানে বেকসুর খালাস হলেও, দোষী পুলিশ আধিকারিকদের কোন সাজা হবে না। নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায় ভাবে অভিযুক্ত করে আদালতের চক্করে ঠেলে দেওয়ার জন্য। এটা ভারতবর্ষের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলিতেই সম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা। নিরাপরাধ মানুষের জীবনের অতি মূল্যবান সময়গুলি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুবিচার পাওয়ার লড়াইয়েই শেষ হয়ে যায়। প্রতিবছর এইভাবে কত হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষ অন্যায়ের শিকার হয়ে বিনা বিচারে জেলের ঘানি টানে, তার কোন সঠিক হিসাব নেই। অথচ দোষী পুলিশ আধিকারিকদের কোন সাজা হয় না, নিরাপরাধ মানুষকে গারদের ভিতরে আটক রাখার জন্য। আর দেশের ভার যাদের হাতে। তাদের মুখে একটাই বাণী। আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু ভারতবর্ষের আইনের পথটা যে কি ভীষণ রকমের বাঁকা, সেটা ভুক্তোভূগী মাত্রেই জানে। এই অব্দি চিত্রটা ভারতবাসী মাত্রে সকলেই জানেন। ফলে ভারতে এই চিত্র অত্যন্ত স্বাভাবিক। এর ভিতরে কোন বিস্ময় নেই। অন্যায় যাই থাকুক আর নাই থাকুক। ক্ষমতায় থাকলে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশকে ঝুড়ি ঝুড়ি অনৈতিক কাজ করতে হয়। আমরা সকলেই জানি। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঘটনা সব রকমের অন্যায়কেই ছাপিয়ে গিয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের রায়ে সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাওয়া একটি অসাংবিধানিক সরকারী আইনকে বেআইনী ভাবে ব্যবহার করে বহু মানুষকে আদালতের চক্করে ঘোরানোর মতো দুর্নীতি চলছে দিনের পর দিন ধরে। সরকার চুপ করে বসে রয়েছে। আর শাসকদলের অঙ্গুলি হেলনে সরকারী পুলিশ এই বেআইণী কাজ করে চলেছে বছরের পর বছর।

বিস্তারিত পড়ুন

কুকুরকুণ্ডলী

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর্বে পদ্মশিবিরের সভাপতির গাড়ীর কনভয়ের উপরে রাজ্যের শাসকদলের কর্মীসমর্থকদের হামলার ঘটনা অনেকেই হয়তো ভুলে জাননি এর মধ্যেই। সেই হামলা নিয়ে দুই শিবিরের ভিতর রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও কম হয়নি। আমাদের দেশে এই সব হামলা অবরোধ ভাঙচুড় হলেই এক দল আরেক দলের কর্মীসমর্থকদের দুষ্কৃতী বলে সম্বোধন করে থাকে। এবং হামলা প্রতিরোধ অবরোধের সম্মুখীন হলেই, সেসব বিপক্ষ দলের পোষা গুণ্ডাদের কাজ বলে অভিযোগ করে থাকে। অপর দলটি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টিকে জনবিক্ষোভ জনতার প্রতিরোধ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। আর এইটিকেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে থাকি। ঠিক একই কাণ্ড আজকেই ঘটে গেল। ত্রিপুরার আগরতলায়। শুধু ভুমিকা পাল্টিয়ে গেল। আজ হামলার শিকার হতে হলো ঘাসফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়কে। অভিযোগের তীর ত্রিপুরার শাসকদলের দিকে। এখানেও দুই দলের পরস্পরের ভিতর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ভাষা ও যুক্তি একই। তফাৎ শুধু ডায়মণ্ডহারবারে যে দল হামলার শিকার হয়েছিল। ত্রিপুরায় সেই দলই হামলাকারী। পশ্চিমবঙ্গে যে দলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ছিল। আজ ত্রিপুরায় তারাই হামলার শিকার। অর্থাৎ হামলা ও হামলার শিকার হওয়া। দুইই একই রাজনৈতিক সংস্কৃতির এপিঠ আর ওপিঠ। এক জায়গায় যে হামলার শিকার। অন্য জায়গায় সেই হামলাকারী। এক জায়গায় যে হামলাকারী অন্য জায়গায় সেইই হামলার শিকার। এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপের ভাব ভাষা যুক্তিও যেমন এক। ঠিক তেমনই হামলার পক্ষে যুক্তি সাজাতে হামলাগুলিকে স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ বলে চালানোর সংস্কৃতিও এক এবং অভিন্ন। রাজনৈতিক দলগুলির নাম প্রতীক পতাকার রঙ ভিন্ন হলেও কর্মপদ্ধতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি অভিন্ন। যে যেখানে শাসকদলের ভুমিকায়। সে সেখানেই হিরো। ফলে সে তার আপন গড়ে যে ঘটনাকে স্বত্ঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ বলে চালিয়ে থাকে, সেই একই ঘটনা অন্যদলের এলাকায় ঘটলেই সেটি হয়ে যায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসার ডাক দিয়ে জনমানসে জনদরদী সাজার নাটক। যে নাটকের আরেক নাম রাজনীতি।

বিস্তারিত পড়ুন

সেলিব্রেটিদের সমাজসেবা

মন্ত্রীত্ব হারিয়ে তাঁর বোধদয় হলো, রাজনীতি বাদ দিয়েও সমাজ সেবা করা যায়। যদিও তিনি পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাননি কোনদিন। শোনা যায় প্রতিমন্ত্রীদের টেবিলে কোন ফাইল গিয়ে পৌঁছায় না। কিন্তু মন্ত্রীর ঠাটবাঁট সুযোগ সুবিধে আর্থিক সমৃদ্ধি সবই পাওয়া যায়। ফলে রাজনীতির ময়দানে হাফ মন্ত্রীরও উচ্চদর। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ গাড়ীর বনেটে উপরে বসে সেদিন সেই দর হাতে কলমে দেখিয়েও এসেছিলেন। স্বয়ং রাজ্যপালকে ছুটে আসতে হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে নয়। কেন্দ্রের শাসকদল মনোনীত রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান করে, সেদিন এই হাফ মন্ত্রীকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চোখে ধুলো দিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে হয়েছিল। এতটাই তাঁর প্রতাপ। এতই তাঁর উচ্চদর। সেইমতই তাঁর চলাফেরা। সেইমতই ভাষণ দেওয়া। বিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরকে কথার ধারে একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক সত্তাকে নিরন্তর খরবের শিরোনামে রাখার বিষয়ে, তিনি অনেকের থেকেই কয়েক কদম এগিয়ে। তার আরও একটি কারণ অবশ্যই শিল্পকলা জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা। সেই জনপ্রিয়তা ভাঙ্গিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর তকমাতেই এতদিন মুখে জগৎ মারিতং। সেই তিনিই নাকি, মনে করছেন রাজনীতি ছাড়াও সমাজসেবা করা যায়। না, একথা মন্ত্রীত্ব থাকা কালীন তাঁর একবারও মনে হয়নি। মনে হচ্ছে মন্ত্রীত্ব হারানোর পর থেকেই। তাও পূর্ণ মন্ত্রী নয়। প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রীত্ব যে ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা মহার্ঘ্য। সেটি বুঝতে এই ঘটনাই যথেষ্ঠ। পূর্ণ মন্ত্রী হলে না জানি তাঁর অবস্থা কি হতো। ফলে সদ্য সমাপ্ত মন্ত্রীসভা রদবদলে তাঁর যে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার একটা সাধ ছিল। একথা চোখ বুঁজেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু কথায় বলে। মানুষ ভাবে এক। হয় আর এক। তাঁর দুর্ভাগ্য। তাঁর ভাগ্যেই প্রবাদবচন এমন সত্য করে ফলে গেল। যাও বা একটা হাফ মন্ত্রীত্ব ছিল। এবারের সদ্য সমাপ্ত মন্ত্রীসভা রদবদলে সেটিও হাতছাড়া হয়ে গেল। স্বপ্ন সাধ সাধনা ধুলিস্মাৎ হয়ে নিজের দলের ভিতরেই তিনি আজ অপ্রাসঙ্গিক। তিনি হয়তো জানতেন না। তিনি যে রাজনৈতিক দলের মঞ্চে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। সেই দলের সর্বভারতীয় দিগন্তে, বাংলা থেকে নির্বাচিত বাঙালি প্রতিনিধিদের বেশিদিন উড়তে দেওয়া হয় না। বেশি উড়তে গেলে ডানা ছেঁটে ফেলে দেওয়া হয়। এই কারণেই তাঁর কাছ থেকে তাঁর সাধের মন্ত্রীত্ব ছিনিয়ে নেওয়া। না তাই বলে তাঁকে যে সামান্য সাংসদ হিসেবেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে দলের সকল নির্দেশ এবং দলীয় নেতানেত্রীর হুকুম তামিল করে যেতে হবে। তেমনটা নাও হতে পারে। আর যাই হোক আর পাঁচজন রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের মতো রাজনীতিটাই তাঁর একমাত্র পেশা নয়। রাজনীতিতে তিনি এসেছিলেন, আপন পেশায় লব্ধ প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশব্যাপী জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে। ফলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও তাঁর ভাতের অভাব হবে না। আর সেই বার্তাটুকুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৃত্তে পৌঁছিয়ে দিতেই তাঁর আজকের ফেসবুক পোস্ট। এখন এহেন ভদ্রলোকের রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ কোনদিকে গড়াবে। সে তো সময়ই বলবে। আমরা বরং একটু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি, রাজনীতি ও সমাজসেবার ভিতরে প্রাসঙ্গিক সম্পর্কসূত্রটুকুই।

বিস্তারিত পড়ুন

পেগাসাস কেলেঙ্কারি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা

পেগাসাস ইস্যু নিয়ে দেশ উত্তাল। প্রতিটি দেশপ্রেমিক ভারতীয়ই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শাসকদল বিরোধীরা পেগাসাস কেলেঙ্কারিকে হাতে গরম রাজনৈতিক অস্ত্র করে তুলতে উঠে পড়ে লেগেছে। এবং গণতন্ত্রপ্রেমী প্রতিটি মানুষই ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টিতে যথেষ্ঠই ভীত সন্ত্রস্ত। শুধুমাত্র শাসকদলেরই মুখে রা নেই। সরকার এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত কিনা। সেই বিষয়ে সরকার মুখে কুলুপ এঁটেছে। সরকার এই বিষয়ের সাথে কোনভাবেই জড়িত নয়। এমন কোন কথাও সরকার পক্ষ এতদিনেও বলে উঠতে পারেনি। মানুষ জানতে চাইছে, যদি সরকার জড়িত না থাকে। তবে কারা এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত? এতে দেশের নিরাপত্তাই তো সকলের আগে বিঘ্নিত হতে পারে। না, দেশের নিরাপত্তা, দেশবাসীর সুরক্ষা এসব বিষয় নিয়ে সরকারের কোন উদ্বেগ চোখে পড়ছে না। পড়লে সরকার এতদিনের ভিতরে অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করতে পারতো। ঠিক যেমনটি করেছে ফ্রান্স সরকার। ফলে একথা নিশ্চিত। পেগাসাস কেলেঙ্কারির বিষয়টিকে দেশের নিরাপত্তা ও দেশবাসীর সুরক্ষার সাথে জড়িত ভাবতে স্বীকৃত নয় বর্তমান সরকার। আর এইখানেই যে কোন সাধারণ সচেতন দেশবাসী সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হতে বাধ্য। একটি বিদেশী দেশ। তাও আবার ইজরায়েলের মতো একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ। যাদের সাত আট দশকের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তেমন একটি দেশের হাতে আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য রয়ে যাবে। এবং সেই তথ্য কোটি কোটি টাকায় তারা বেচাকেনা করতে থাকবে। এরকম একটা পরিস্থিতি আমাদের দেশের পক্ষে কতটা বিপদজনক সেটা বুঝতে খুব একটা লেখাপড়া জানার দরকার হয় না নিশ্চয়। খুব সাধারণ বুদ্ধিতেই বিষয়টির ভয়াবহতা উপলব্ধি করা সম্ভব।

বিস্তারিত পড়ুন