তোলাবাজির খপ্পরে

আপনার বাগান থাকতেই পারে। সেই বাগানে আপনি ফুলের নার্সারি করুন কি সবজী চাষ করুন। ভালো কথা। বাগান পরিচর্যার উদ্দেশে আপনাকে নিজের বাগানে নিজের পয়সায় কেনা মাটিও ফেলতে হতেই পারে। যত খুশি মাটি ফেলুন। তাতে কে বাধা দিচ্ছে? কিন্তু তাই বলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের দাবি মতো দুলক্ষ টাকা তোলা দেবেন না! এ কেমন কথা? মগের মুলুক নাকি? বাগান আপনার হতে পারে। সেই বাগানে মাটি কেনার প্রয়োজনও আপনার হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে আপনি হাজার হাজার টাকার মাটি কিনবেন। আর লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা দেবেন না সেটা হয় কোন যুক্তিতে। আপনার বাগানটা আপনার। কিন্তু তাই বলে যে অঞ্চলে আপনার বাগান কিংবা বসত। সেই অঞ্চলটা তো আর আপনার বাপের সম্পত্তি নয়! সেই অঞ্চলের একটি নির্বাচিত পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ড রয়েছে। সেই পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ড যাদের দখলে। তাদের মর্জির তো একটা দাম রয়েছে। আপনি একতলা বাড়ির মাথায় দোতলা তুলবেন কিংবা বাগানে ফুলের চাষ করার জন্য মাটি কিনে ফেলবেন। আর স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ডের নির্বাচিত শাসকদল ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখবে? তাহলে আর কিসের পরিবর্তন?

বিস্তারিত পড়ুন

দশচক্রে ঠুঁটো পুলিশ

রাজ্যজুড়ে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা কি? এই বিষয়ে কোন আলোচনা শোনা যায় কি? পুলিশের কাজ কি? ধর্ষককে বিচারের ন্যায়দণ্ডের সামনে হাজির করানো। দেশে একটা সংবিধান রয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করে আইনের নানান ধারা ও উপধারা রয়েছে। ধর্ষণের শাস্তির জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ধর্ষণের কাণ্ডে যুক্ত অপরাধী এবং অভিযুক্তদের খুঁজে পেতে এবং গ্রেফতার করতে দেশজুড়ে পুলিশ রয়েছে। আমাদের রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণের কাণ্ড ঘটে গেলে। সেই ঘটনার সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা ও আদালত গ্রাহ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের সামনে পেশ করা। এইসবই পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব এবং কর্তব্যের ভিতরে পড়ে। পুলিশের কাজ যদি যথাযোগ্য হয়। তাহলে অধিকাংশ ধর্ষকেরই সঠিক বিচার হওয়ার কথা। বিচারের আইন নির্দিষ্ট। সেই আইনের চোখে সঠিক প্রমাণ হাজির করতে পারলেই সঠিক বিচারের একটা আশা থাকে। আশা থাকে বলার কারণ রয়েছে। বিচার ব্যবস্থা সঠিক ভাবে আইনের ব্যবহার করে ধর্ষণ কাণ্ডের অপরাধীদের যথাযোগ্য শাস্তি বিধান করবে কি, করবে না। সেটি বিচারকের উপরেও নির্ভরশীল। বিচারক যদি ন্যায়পরায়ণ এবং সৎ হন। তাহলে, পুলিশ ধর্ষণ কাণ্ডের সঠিক প্রমাণ আদালতের কাছে পেশ করতে পারলে। ধর্ষকের যথাযোগ্য শাস্তি না হওয়ার কোন কারণ নেই। এই বিষয়ে ধর্ষকের পক্ষে যত বড়ো অভিজ্ঞ উকিলই থাকুক না কেন। আদালতে পুলিশের পেশ করা প্রমাণই কিন্তু শেষ কথা। অন্তত তেমনটাই তো হওয়া উচিত।

বিস্তারিত পড়ুন

কাফি রাগের তান

তাঁকে ফোন করে কোন লাভ নেই। না, তিনি কোন ব্যাপারেই কোন কথা বলবেন না। শুধু মাত্র কাফি রাগ ছাড়া। এবং সম্পূ্র্ণ ফ্রী’তে তিনি এক কলি কাফি রাগ শুনিয়েও দিলেন। সাংবাধিক যখন রামপুরহাট গণহত্যার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া নিতে চান। আমরা কেউই যদিও নিরোর সেই বেহালাবাদন শুনিনি। ঠিক যেদিন রোম পুড়ছিলো দাউ দাউ আগুনে। কিন্তু আমরা খুবই সৌভাগ্যবান। আমরা নিরোর সেই ভুবন বিখ্যাত বেহালাবাদন শুনতে না পেলেও। আমরা তাঁর কণ্ঠে কাফি রাগের এক কলি অনন্ত শুনতে পেলাম। বিশেষ করে এই আগুনে পোড়া সময়ে। দাউ দাউ আগুনে পশ্চিমবঙ্গও পুড়ছে এক দশকের বেশি সময় ধরে। তিনি ও তাঁর মতো বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা এই সময়ে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চায় মজে রয়েছেন। এটা বাঙালির সৌভাগ্য যে গণহত্যার আগুন পোড়া ছাইয়ের গন্ধ তাঁদের কাছে গিয়ে পৌঁছায় না আর। কারণ বসন্ত আসুক না আসুক। পরিবর্তন এসে গিয়েছে। আর কোন চিন্তা নেই। যাঁর হাতে রঙ তুলি। তিনি ক্যানভাসে বসন্ত আনবেন। যাঁর হাতে সোনালি নিবের কলম। তিনি উপন্যাসে বসন্ত আনবেন। যাঁর কন্ঠে সপ্তসুরের সাগর। তিনি কাফি রাগে বসন্ত আনবেন। আর যাঁরা কবিতা পাঠে ব্যস্ত। কবিসম্মেলন থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী কবিতা উৎসবে। তাঁদের কন্ঠের জাদুতে আর ছন্দের কারুকাজে বসন্ত এসে যাবে। চিন্তা কি।

বিস্তারিত পড়ুন

মন্ত্রীপুজো

জীবিত মন্ত্রীর নামে স্টেডিয়াম কিংবা মন্ত্রীর আদলে দুর্গা মূর্তি দুই’ই গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক। একটির সমালোচনা করেও অন্যটির সমালোচনা না করা আরো বেশি বিপদজনক। সমালোচনা বা বিরোধীতা করলে দুই ক্ষেত্রেই করা উচিত। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিসরে উল্টোটি ঘটলে সেটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই নিদর্শন। গণতন্ত্রের মুখ্য অভিমুখ যখণ গণ থেকে বিচ্যুত হতে শুরু করে ক্ষমতাতন্ত্রের অভিমুখে ধাওয়া করতে থাকে। তখনই গণতন্ত্রের আসল বিপদের সূচনা। আর তখনই জীবিত মন্ত্রীর নামে স্টেডিয়াম মন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন। আশা করা যেতেই পারে। জীবিত মন্ত্রীর আদলে দেবী দুর্গার মূর্তির উদ্বোধনও মন্ত্রীর নিজের হাতেই হবে। ফলে এই অশনিসংকেতগুলি আসলেই গণতন্ত্রের মৃত্যুঘন্টা বাজাতে শুরু করে দেয়। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি একান্তই নড়বড়ে ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে। এখানে গণতন্ত্র মানে শুধুই ভোটাধিকার। বুথে বুথে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া। আর রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করা। এই দুটি কাজ করে যাওয়াতেই আমাদের বিশ্বাসে গণতন্ত্রের স্থায়ীত্ব। গণতন্ত্রকে আমরা রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করা আর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ইভিএমে বোতাম টেপা’র বাইরে আর ভাবতে বা অনুভভ করতে পারি না। আর সেই অক্ষমতা থেকেই গণতন্ত্রের অভিমুখ  ক্ষমতাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে দেয়। দলতন্ত্র বা ব্যক্তিতন্ত্রই যার বাইরের আবরণ। ফলে দলতন্ত্রের পুজো বা ব্যক্তিতন্ত্রের পুজো শুরু হয়ে যায় গণতন্ত্রের অবরুদ্ধ পরিসরে। যার পরতে পরতে আসলেই ক্ষমতাতন্ত্রের আরাধনা চলতে থাকে। আর সেই ক্ষমতাতন্ত্রের আরাধনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মানুষ যখন তখন যেখানে সেখানে হেনস্থার শিকার হতে পারে। ক্ষমতাতন্ত্র আর যাই হোক বিরুদ্ধাচারণকে সহ্য করতে পারে না।

বিস্তারিত পড়ুন

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মাসে পাঁচশো টাকা প্রাপ্তির জন্য পঁচিশ থেকে ষাট বছরের মহিলাদের পথে নামিয়ে দিয়েছে সরকার। দূয়ারে সরকার। অতয়েব বাড়ির মহিলাদের তো আর বাড়িতে বসে থাকার উপায় নাই। স্বহস্তে ফর্ম তুলতে হবে। কে কার আগে ফর্ম তুলবে। তাই ঠেলাঠেলি। সারাদিন লাইনে গুঁতোগুঁতি করে যদি একটা ফর্ম তোলা যায়। তাই যেখানেই দূয়ারে সরকার টেবিল চেয়ার পেতে বসে গিয়েছে। সেখানেই লাখো মহিলার ভিড়। মাসে পাঁচশ টাকা কম কথা নয়। কিছু না করতেই সরকার প্রতিমাসে দিয়ে যাবে। ফলে সরকারের এহেন জনদরদী জনমুখী প্রকল্প থেকে জনতা মুখ ঘুড়িয়ে থাকে কি করে। তাই বাড়ির মহিলারা দলে দলে ভিড় করেছে দূয়ারে সরকারের প্রকল্পে। রাস্তা জুড়ে দীর্ঘ লাইন। ভিড়ে ঠেসাঠেসি। গাদাগাদি। সংক্রমক লকডাউনের সময় মহামারী বিধি শিকেয় তুলে মানুষ মানুষের সঙ্গে আবার স্বাভাবিক নৈকট্যে ফিরে এসেছে। লকডাউনের সোশ্যাল ডিস্টেনসিং মেইনটেন করতে গেলে আর ফর্ম পাওয়া যাবে না। তাই সেসব নিয়ে কেউ আর মাথা ঘামাচ্ছে না। এমন কি মাসে পাঁচশো টাকা জোগার করার ফর্ম তুলতে গিয়েও যদি করোনায় সংক্রমিত হয়ে পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটে যায়, তাতেও পিছপা নয় কেউই। সকলেরই ভরসা করোনা নয়। ফর্ম নিয়েই বাড়ি ফিরতে পারবে। ফলে দূয়ারে সরকার আম জনতার কাছে সাংঘাতিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মাসে মাসে মাগনা পাঁচশো টাকাই বা আসে কোথা থেকে। হোক সে পাঁচশ টাকা। দুই কেজি রুই বড়োজোর দেড় কেজি কাতলার বেশি মাছও নাহয় সে টাকায় কেনা যায় না। তাতে কি? কেউ তো আর মাসে মাসে পাঁচশো টাকা ভিক্ষেও দেবে না। সরকারই নাহয় দিলো। সরকার তো জনগণেরই সরকার। সরকারের কাছ থেকে আবার ভিক্ষে নেওয়া কি? এতো জনগণের হকের টাকা। মাসে মাসে পাঁচশ করে। কম কথা নয়। ভাগ্গিস জনতা পরিবর্তন চেয়েছিল সেই ২০১১তে। বাংলার জনগণের দূরদর্শিতা ইতিহাসে স্থান পেয়ে গিয়েছে। জনতা পরিবর্তন না চাইলে আজ দূয়ারে সরকার আসতো নাকি? ফ্রীতে রেশন। ফ্রীতে চিকিৎসা। ফ্রীতে পাঁচশো টাকা। বাকি লিস্টের কথা নাহয়ে উহ্যই রইল। চিত্রগুপ্তের লিস্ট যত খুলবে তত খুলতেই থাকবে। শেষ হবে না।

বিস্তারিত পড়ুন

মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লী সফর

উপনির্বাচন সময় মতো না হলে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে গদি ছেড়ে নেমে আসতে হবে। কিংবা সময় মতো হওয়া উপনির্বাচনেও পরাজিত হলে মুখ্যমন্ত্রীত্ব খোয়াতে হবে। না অতি বড়ো তৃণমূল বিরোধীরাও আশা করে না, উপনির্বাচন হলে সেই নির্বাচনেও পরাজিত হবেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীর একটা বড়ো অংশের ভোটাররা এখনো বিশ্বাস করে। নন্দীগ্রামে কোন না কোনভাবে কারচুপি করে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। আমাদের দেশে মামলা মাত্রেই আদালতে বিচারাধীন থাকে, বা বলা ভালো ঝুলে থাকে। তার নিষ্পত্তি যে কবে হবে সে কথা কেউই আগাম বলতে পারে না। অথচ সকলেই জানে, জাস্টিস ডিলেড জাস্টিস ডিনাইড। না হলে এতদিনে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলাফল ঠিক না বেঠিক সে তথ্য আমাদের জানা হয়ে যেত। ফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও এখন সেই উপনির্বাচনের উপেরই নির্ভর করতে হচ্ছে আপন মুখ্যমন্ত্রীত্বকে রক্ষা করার জন্য। ছয় মাসের ভিতরে কোন উপনির্বাচন থেকে জিতে না আসতে পারলে সংবিধান তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্ব স্বীকার করবে না আর। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা থেকে বিরত রয়েছে এখনো। সামনে তৃতীয় ঢেউয়ের অশনি সংকেত রয়েছে। আর এটাকেই তুরুপের তাস করে খেলতে উৎসাহী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। নন্দীগ্রামের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে পরাজিত হয়েও শুধুমাত্র সংবিধানের সুযোগ নিয়ে ছয় মাস মুখ্যমন্ত্রীত্ব করে যাবে একজন, এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। এখন তাদের লক্ষ্য সম্ভবত যেনতন প্রকরেণ উপনির্বাচনটি ছয় মাসের বেশি পিছিয়ে দেওয়া। বিশেষ করে করোনার মতো এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছে যখন। আর সেটি করতে পারলেই মুখ্যমন্ত্রীত্ব খোয়াতে হবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে। অন্তত যতদিন না তিনি পুনরায় আবার বিধানসভা উপনির্বাচন থেকে বিজয়ী হয়ে আসতে পারছেন। আর অন্তর্বতী সেই সময় পর্বে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদ থেকে দূরে রাখতে পারলে অনেকেরই মানসিক শান্তি।

বিস্তারিত পড়ুন

কেমন আছো দেবাঞ্জন?

দেবাঞ্জন কেমন আছে? তার পেট থেকে কি কথা বার করা গিয়েছে? পাওয়া গিয়েছে সেই মূল্যবান নামগুলি? যারা কলকাতা কর্পোরেশনের ভেতরে থেকে তাকে নিরন্তর সাহায্য করে যেতো? তার জালিয়াতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে। ভুয়ো আইপিএস আইএএস। ভুয়ো সিবিআই আধিকারিক। ভুয়ো উকিল। অনেকেই চেষ্টা করলে হতে পারে। কিন্তু কলকাতা কর্পোরেশনের নামে আস্ত একটা ভুয়ো অফিস যে কেউ খুলে ফেলতে পারে না। পারে না, সেই অফিসে ভুয়ো নিয়োগপত্রের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করতে। পারে না, ব্যাংকে কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়ো একাউন্ট খুলে ফেলতে। এই কাজগুলি জাদুকর ম্যানড্রেক ছাড়া আর কারুর পক্ষে করে দেখানো সম্ভব হতো না। যদি না কলকাতা কর্পোরেশনের ভিতর থেকে দেবাঞ্জনকে সাহায্য করে যাওয়া হতো। সেই কর্পোরেশনের নামে ভুয়ো ভ্যাক্সিন শিবিরের আয়োজন করতেও ভিতরের লোক লাগে। না, এই ণত্ব ষত্ব গুলি জানতে খুব বেশি আইকিউয়ের প্রয়োজন নাই। একেবারেই সাধারণ জ্ঞানের উপরে নির্ভর করে এই বিষয়গুলি অনুমান করা যায়। এখন অনুমান যে কেউ করতে পারে। কিন্তু প্রমাণ করার ভার নির্দিষ্ট দপ্তরের। বা দপ্তরগুলির। যাদের নাকের ডগার উপরে এই জালিয়াতির কর্মকাণ্ড রমরমিয়ে চলছিল দিনের পর দিন। এটা নিশ্চিত। তারা নাকে সর্ষের তেল দিয়ে দিবা নিদ্রা না দিতে থাকলে। এই কর্মকাণ্ডও দিনের পর দিন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। কলকাতাবাসীর সৌভাগ্য স্থানীয় সাংসদের তৎপরতায় বিষয়টি দিনের আলোয় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তবুও দেরি হয়ে গিয়েছে অনেক।

বিস্তারিত পড়ুন

ডোমের পদে ইঞ্জিনিয়ার

অবশেষে সরকারী হাসপাতালে ছয়টি ডোমের পদে চাকরির প্রত্যাশায় একশ ইঞ্জিনিয়ার সহ কয়েক হাজার গ্র্যজুয়েট পোস্ট গ্র্যজুয়েট কর্মপ্রার্থী আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। যে পদে চাকুরির ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে অষ্টম শ্রেণী পাশ। রাজ্যে সরকারী বেসরকারী চাকরির পরিসর সীমিত হতে হতে কোন অবস্থায় এসে পৌঁছিয়েছে, সেটি বুঝতে আর বেশি কিছু তথ্য জানার প্রয়োজন পড়ে না। পরিবর্তনের পর একদশকে রাজ্যে কোন শিল্প স্থাপন হয়নি। নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সরকারের বিশেষ কোন ভাবনা চিন্তা রয়েছে বলেও জানা যায় না। একদশকীয় শাসনামলে প্রথম প্রথম ঢাক এবং ঢোল ফাটিয়ে বিদেশী লগ্নী নিয়ে আসার কথা বলে প্রচুর মৌ স্বাক্ষরিত হতো বলে জানানো হতো আমাদের। কিন্তু তাতে রাজ্যে শিল্পবাণিজ্যের কতদূর প্রসার হলো। অর্থনীতি কতটা সবল হলো। কর্মসংস্থানের দরজা কতটা হাট করে খুলে গেল। এই বিষয়গুলি এই মুহুর্তে গ্রেটার ইভিল লেসার ইভিল কাজিয়ায় চাপা পড়ে গিয়েছে। সরকারী বিদ্যালয়গুলির হাজার হাজার শূন্যপদের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছে কোটি কোটি কর্মপ্রার্থী। কিন্তু সেখানেও দূর্নীতির ঘুঘু এমন ভাবেই বাসা বেঁধেছে যে, চাকরি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি সরকার আর আদালতের দঁড়ি টানাটানির ভিতরে আটকিয়ে রয়েছে। ফলে গত দশবছরে সরকারী এবং বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান বন্ধ। বদলে চপ শিল্পের উৎকর্ষতার বিষয়ে রাজ্যজুড়ে প্রথম প্রথম বেশ চর্চা শোনা যেত। আজকাল অবশ্য সেই চর্চা ততটা চলছে না মনে হয়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র খুলতে অস্থায়ী সিভিক ভলেন্টিয়র আর টোটো চালানোর বন্দোবস্ত ছাড়া আর বিশেষ কিছু হয়েছে বলে চোখে দেখা যায় না। কিন্তু মজার কথা, তারপরেও শাসকদলের জনসমর্থন আকাশচুম্বী!

বিস্তারিত পড়ুন

সিঙ্গুর সিনড্রম

সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা হলে সিঙ্গুরবাসীর ভাগ্য বদলিয়ে যাবে। এমটাই সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার ও শাসকদলের পক্ষ থেকে মানুষকে বোঝানো হতো। এবং পরিবর্তনের পরবর্তী দশ বছরে সদ্য নির্বাচিত রাজ্য বিধানসভায় প্রবেশের অধিকার হারানোর পরেও অধিকাংশ বামফ্রন্ট সমর্থকদের আজও বলতে শোনা যায়, সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা হলে সিঙ্গুরবাসীর ভাগ্য বদলিয়ে যেত। সম্প্রতি জানা যাচ্ছে, সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব শ্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য মহাশয়, যিনি সম্প্রতি তৃণমূল ত্যাগ করে ঘাসফুলের বদলে পদ্মফুলের মধু খেতে ছুটেছেন। তিনিও নাকি স্বীকার করেছেন, সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা হলে সিঙ্গুরবাসীরই লাভ হতো। মজার বিষয় হলো এহেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যকেই আজকের অবশিষ্ট বামসমর্থকদের সাক্ষি মানতে হচ্ছে। সিঙ্গুর নিয়ে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত কতটা অভ্রান্ত ছিল প্রমাণ করতে। রাজ্যের বামপন্থীদের মুশকিল হলো তাঁরা ‘জানি শালা ঢুঁ মারবেই’ সিনড্রমের শিকার। সিঙ্গুরে কারখানা গড়ার বিরোধীতা করা মানেই, তাঁদের ধারণায় দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থে রাজ্য থেকে বামফ্রন্টকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের সমর্থক। না, সত্যিই তাঁদের পক্ষে আজ আর অনুধাবন করা সম্ভব নয়, অনাবাদী এবং একফসলী জমি ফেলে বহুফসলী কৃষিজমি ধ্বংস করে শিল্প গড়ার মানে চুড়ান্ত অবিমিশ্যকারিতা। বাম নেতৃত্ব মুখে যতই বলে এসেছেন, কৃষি আমাদের ভিত, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। ততবারই তাঁরা ভাবের ঘরে চুরি করেছেন।

বিস্তারিত পড়ুন

ভোটযুদ্ধের মেকআপ

না- ভোটের ফল বেড়িয়ে যাওয়ার পর তাঁকে আর ময়দানে দেখা যায়নি। তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর তরুণ বয়সের স্বপ্নের কথা। যখন দেশের জন্য, দশের জন্য কিছু একটা করার বড়ো বাসনা ছিল তাঁর। কিন্তু তখন তাঁর সামনে হয়তো অনুসরণ যোগ্য সেরকম উপযুক্ত কোন নেতা ছিলেন না। যাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনসেবা দেশসেবার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতেন। ফলে তাঁর সেই তরুণ বয়সে তাঁর পক্ষে আর জনসেবা দেশসেবার কাজে নিজেকে সমর্পণ করা সম্ভব হয়েছিল না। যে দুঃখ তাঁকে আজীবন তাড়া করে বেড়িয়েছে নিশ্চিত করেই। কিন্তু তাসত্ত্বেও তখন জনগণের অবসর মুহুর্তকে বিনোদন মুখর করে তুলতেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বোম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রীতে। জনসেবা দেশসেবা না হোক, মানুষের মনে নির্ভেজাল আনন্দ দিয়ে বহু মানুষের বহু তরুণ তরুণীর নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। স্টার থেকে মেগাস্টার। সেসময়ে তাঁর স্টাইলে চুলের ছাঁট, তাঁর ভঙ্গিমায় কথা বলা। তাঁর কায়দায় হাঁটাচলা করতে দেখা যেত বহু উঠতি বয়সের ছেলেকে। সেইসব তরুণের স্বপ্নে তিনি ছিলেন মহাগুরু। বহু তরুণীর হার্টথ্রব। সেই তিনিই যখন জীবনসায়াহ্নের দ্বারে উপনীত হয়ে ভরা জনসভায় জানিয়ে দেন তাঁর সেই তরুণ বয়সের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা। সেই জনসেবা সেই দেশসেবা করার আজীবনের আর্তি। প্রকৃত অনুসরণ যোগ্য নেতার অভাবে যে কাজে এতদিন ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন নি। সেই তিনিই যখন জানিয়ে দেন, অবশেষে এত বছর বয়সে এসে তিনি সেই অনুসরণ যোগ্য একজন মহানেতার দেখা পেয়ে গিয়েছেন। তাই আর বসে থাকা নয়। তাই আর কালক্ষেপ নয়। যাঁর কর্মে উৎসাহিত হয়ে তিনি সেই মহানেতার দলে যোগ দিচ্ছেন, শুধুমাত্র এই বাংলার জন্য কিছু করতে চান বলে। তখন বাঙালি মাত্রেই আমারাও নড়ে চড়ে বসে ছিলাম বইকি। মহাগুরু এবারে মহানেতার দেখা পেয়ে গিয়েছেন। আর কি চাই? এবার তিনি নিশ্চয় তাঁর জন্মভুমিতে ফিরে আসবেন। তাঁর রাজ্যের জন্য কিছু করবেন। কি করবেন সেটা পরিস্কার না বুঝতে পারলেও, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম তিনি এমন কিছু একটা করবেন। যার জন্য তাঁর কথামত বিশেষ একটি দলের হাতে গোটা রাজ্যটিকেই তুলে দেওয়া উচিৎ আমাদের। আমাদের মতো তাঁর অনেক ভক্তই তাঁর কথামত সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলের হাতে নিজ রাজ্যকে তুলে দিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। ময়দানের সেই সভার উদ্যোক্তাদের মনেও নিশ্চয় সেরকমই হিসেব নিকেশ ছিল। তাই মহাগুরু আর মহানেতার সাক্ষাতের সেই মহাজনসভায় কত ভীড় হয়েছিল, সেই নিয়ে মিডিয়া জুড়ে প্রচারও কম হয়নি।

বিস্তারিত পড়ুন