ইউরোপের স্বাধীনতা

৭ই মার্চ’ ২০২২। ইউক্রেনে রাশিয়ান অভিযানের দ্বাদশ দিন। ইউরোপ জুড়ে তেল আর গ্যাসের মূল্যে আগুন লেগেছে। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা স্যাংশানের সরাসরি প্রভাব পড়া শুরু হয়নি এখনো। আরও কঠোর স্যাংশান জারি করার তোড়জোড় চলেছে। চলেছে হুমকি দেওয়ার ধারাবাহিক পালা। ইউরোপের মানুষের উপরে মুদ্রাস্ফীতির এই অভিশাপ নামিয়ে এনেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। নামিয়ে এনেছে আমেরিকা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জাড়ি করে। ইউরোপের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনেও অতি দ্রুত দুর্ভোগ নেমে আসতে চলেছে। কেউ জানে না। এই দুর্ভোগ কতগুণ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। কেউ জানে না। মানুষ কিভাবে কোন পথে এই দুর্ভোগের সাথে মোকাবিলা করতে পারবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি না করলে। অবস্থা এত দ্রুত খারাপ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তাতে মার্কিন-ন্যাটো শক্তির স্বার্থরক্ষা হতো না। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম ভাবে চরম মুদ্রাস্ফীতি তৈরী করে মানুষকে রাশিয়া বিরোধী করে তোলার এমন সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যেত না। এখন মানুষকে বোঝানো সহজ হয়ে গেল। মানুষের দুর্ভোগের পেছনে রাশিয়া। অথচ এই কৃত্রিম মুদ্রাস্ফীতির ফলে মূলত মার্কিন এবং ইউরোপের ধনকুবেরদের সম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে খুব কম সময়ের ভিতরে। অতিরিক্ত এবং অনৈতিক মুনাফা বৃদ্ধি করে কয়েকজন ধরনকুবেরের সম্পদবৃদ্ধির এমন চমৎকার পরিকল্পনার নাম গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ। রাশিয়ান আগ্রাসান প্রতিরোধ করার অহিংস পদ্ধতি।

বিস্তারিত পড়ুন

গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা

মার্চ ৫’ ২০২২। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের দশম দিন। মস্কো সময়ে সকাল দশটা থেকে ঘন্টা খানেকের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে মস্কো। অবরুদ্ধ শহরের জনগণ যাতে নিরাপদ অঞ্চলে রওনা দিতে পারে। এবং সাধারণ মানুষের কাছে যথা সম্ভব জরুরী পরিসেবা পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য। না, এই সংবাদ কোন রুশ সংবাদ সংস্থা থেকে নেওয়া নয়। কারণ, ছাপ্পান্নো ইঞ্চি ছাতির দোর্দণ্ড প্রতাপ ভারতবর্ষে, মার্কিন চোখরাঙানিতে আপাতত রুশিয়া টুডে টিভি চ্যানেলের সম্প্রসারণ বন্ধ। এই সম্প্রসারণ বন্ধ করা হয়েছে, রুশ সামরিক অভিযানের নবম দিন। ফলে প্রচারিত সংবাদের সত্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। আরও একটি সংবাদ জানানোর প্রয়োজন এই মুহুর্তে। মার্কিন সেনেটর লিণ্ডসে গ্রাহামের করা সেই বিখ্যাত টুইট। পুতিন খুনের আহ্বান করে। টুইটার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই টুইট তাদের টুইটারের নিয়ম ও নীতির কোন লঙ্ঘন করছে না। অর্থাৎ পুতিন হত্যার ফতোয়া দেওয়ার অধিকার একজন মার্কিন সেনেটরের যেমন রয়েছে। তেমনই সেই ফতোয়া বিশ্বজুড়ে প্রচার করার অধিকারও টুইটার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। ঠিক যেমন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের নব-নাৎসী সংগঠনের একাউন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। ফেসবুকের যুক্তি। নব-নাৎসীদেরও নিজেদের মত ব্যক্ত করার অধিকার রয়েছে। না, তাই বলে রুশিয়া টুডে টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের বাকি বিশ্বের কাছে সংবাদ পৌঁছিয়ে দেওয়ার কোন অধিকার নেই। যে অধিকার রয়েছে নব-নাৎসী গোষ্ঠীদেরও। এটাই বর্তমান বিশ্বের গণতন্ত্রের সংবিধান। মার্কিন-ন্যাটো শক্তি অক্ষের স্বার্থে সব কিছু পরিচালিত হবে। হতে থাকবে। সেই স্বার্থের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেই মুশকিল। ধোপা নাপিত বন্ধ। বিশ্বজুড়ে খলনায়ক প্রতিপন্ন করে হত্যার ফতোয়া। ফলে দেখা যাচ্ছে ফতোয়া শুধুমাত্র মৌলবাদী তালিবানরাই দেয় না।

বিস্তারিত পড়ুন

মিডিয়া হাউস এবং মিডিয়া লাইজ

১৯৭৫ সাল। সায়গনের পতন। হোচিমিনের হাতে পরাস্ত হয়ে মার্কিনশক্তি একটি বড়ো শিক্ষা গ্রহণ করে। না, বিশ্বজুড়ে অন্যায় যুদ্ধ সংগঠিত করা থেকে সরে আসার শিক্ষা নয়। আগে বিশ্বজুড়ে মানুষকে টুপি পরিয়ে তারপরে কোন অপকর্মে নামার শিক্ষা। এই শিক্ষাটুকু আমেরিকার আগে ছিল না। ছিল না বলেই ভিয়েতনামে মার্কিন ভণ্ডামির বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন মুলুকের জনগণও গর্জে উঠেছিল। ভিয়েতনামে অন্যায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায়, সারা বিশ্বজুড়েই মানুষ সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটি সম্ভব হয়েছিল এই একটি কারণেই। মানুষের মেধা তখনও স্বাধীন ছিল। মানুষ কিভাবে কোন ঘটনার বিচার করবে। সেই স্বাধীনতাটুকু মানুষ তখনো ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার কাছে বন্ধক রাখা শুরু করে নি। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধে নাস্তানাবুদ হওয়ার পরে। মার্কিন অপশক্তি এই চরম শিক্ষাটুকু গ্রহণ করে। তারা ঠিক করে নেয়। এরপর থেকে যে অপকর্মেই জড়িয়ে পরো না কেন। আগে মানুষকে টুপি পরাও। তারপরে মাঠে নামো। কিন্তু কিভাবে সম্ভব বিশ্বশুদ্ধ মানুষকে টুপি পরানো? সেটি সম্ভব হবে তখনই। যখন অধিকাংশ মিডিয়া হাউসকে কিনে নেওয়া যাবে। মিডিয়া হাউসে, মার্কিন অপশক্তির পক্ষ নেওয়া কর্পোরেট শক্তি অর্থলগ্নী করলেই সেটা সম্ভব। ফলে বিশ্বের বড়ো বড়ো মিডিয়া হাউসে মার্কিন কর্পোরেট শক্তির বিপুল পরিমাণে অর্থলগ্নী করা প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর সবচেয়ে বড়ো সুবিধে। সংবাদ মাধ্যমগুলি তখন পরিচালিত হবে সেই সব কর্পোরেট শক্তির অঙ্গুলি হেলন। তারা কাজ করতে থাকবে মার্কিন অপশক্তির স্বার্থে। তারা প্রশ্ন করবে মার্কিন অপশক্তির টার্গেটে যারাই আসবে। একমাত্র তাদেরকেই। কখনোই মার্কিন অপশক্তির কাজকে প্রশ্ন করবে না। এইভাবে বিশ্বজুড়ে মার্কিন অপশক্তির সমর্থনে একটা জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড়ো শক্তির জায়গাটা একজায়গায়। সেটি ভাষা। ডলারের ওজনে ইংরেজি ভাষার প্রচলন যত বেশি বিস্তৃত হয়েছে। মিডিয়া হাউসের দৌরাত্ম ততবেশি করে বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে। কিন্তু শুধুই মিডিয়া হাউস নয়। মার্কিন শক্তি গোটা বিশ্ব থেকেই ছেঁকে ছেঁকে মেধাশক্তি’র আমদানি করতে শুরু করে দিল। উন্নতমানের প্রযুক্তিগত শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ সুবিধে দিয়ে সারা পৃথিবী থেকেই প্রতিভা ও মেধাগুলিকে আমেরিকায় টেনে নিয়ে আসতে শুরু করলো। যে মেধাগুলিকে মার্কিন অপশক্তির স্বার্থের পক্ষে রাখা ও মার্কিন স্বার্থের সমর্থনে ব্যবহার করাও সহজ হতে শুরু করলো। যাদের নিজ নিজ দেশ ও জাতির স্বার্থের পক্ষ নেওয়ার কথা। তারা সেই থেকে মার্কিন শক্তির পক্ষ নেওয়া শুরু করে দিল। সেটাই স্বাভাবিক। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করলো সেই সেই দেশের সমাজ সংস্কৃতিতে। যে সমাজ সংস্কৃতিতে জন্ম নেওয়া প্রতিভাধর মেধাগুলি প্রায় কলুর বলদের মতো মেধা খাটাতে থাকলো মার্কিন কর্পোরেট শক্তির স্বার্থে। যে শক্তির গাঁটছড়া বাঁধা মার্কিন অপশক্তির সাথে। একটু গভীরে গেলেই দেখা যাবে। মার্কিন অপশক্তি আসলে মার্কিন কর্পোরেট স্বার্থের সম্মিলিত রূপের প্রতিনিধি মাত্র।

বিস্তারিত পড়ুন

দিবানিদ্রার দিনগুলি

কার স্বার্থে এই লকডাউন? আমরা এদিকে নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করে বসে রয়েছি, আমাদের স্বার্থেই তো লকডাউন। আমরা যাতে আরও কয়টি দিন বেশি বেঁচে থাকি। সেটি নিশ্চিত করতেই না এই লকডাউন। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। না, তাই তো আমরা যেমন ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়েও তর্ক করতে রাজি নই। ঠিক তেমনই লকডাউন কাদের স্বার্থ পূরণ করছে। সেই তর্কেও আমাদের কোন উৎসাহ নাই। ফলে আমরা, আমাদেরকে যেমন শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দুইবেলা। টিভি আর নেটপাঠশালায়। আমরা ঠিক তেমনই লকডাউনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। বরং অবিশ্বাসীদের সাথেই আমাদের যাবতীয় তর্ক। লকডাউন ছাড়া এই অতিমারী ঠেকানোর আর কোন উপায় নাই বলে। প্রতিদিন যত বেশি মানুষেরই মৃত্যু হোক না কেন। আমরা বিশ্বাস করি। লকডাউন না করলে আরও আরও বেশি মানুষ মারা যেত। মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে না বাড়তে থাকলেও আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হয়ে ওঠে। লকডাউন করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে বলে। ফলে লকডাউন নিয়ে আমাদের কোন মাথাবাথ্যা নেই। মৃত্য যতই বেশি হোক। কিংবা মৃত্যু যতই কম হোক। লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আমরা দুই ভিন্ন ফলাফলেই শিরোধার্য্য করে নিয়েছি। ফলে আমরা নিশ্চিত, সরকার আমাদের সাথে রয়েছে। বরং যেখানে যেখানে লকডাউন করতে সরকারের দেরি দেখছি। সেখানেই আমারা অবিলম্বে লকডাউন করার দাবিতে সরব হয়ে উঠছি। আমাদের সামাজিক দেওয়াল জুড়ে।

বিস্তারিত পড়ুন

বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয় কোভিড-১৯

বিশ্বপতি জো বাইডেনের দপ্তরে সম্প্রতি এক তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়েছে। তদন্ত কি নিয়ে? না করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোথা থেকে ও কিভাবে, সেই বিষয় নিয়েই তদন্ত। না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই তদন্তের সাথে যুক্ত নয়। গোটা বিশ্বের হয়ে বিশ্বের এক মাত্র অভিভাবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু কোন কোন সংস্থাকে দিয়ে তারা সেই তদন্তকর্ম সম্পন্ন করেছে। সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে শুধু তদন্তের ফলাফল। স্বভাবতঃই আবিশ্ব মানুষ এই তদন্তের ফলাফল জানার অপেক্ষাতেই এতদিন ধৈর্য্য ধরে দিন গুনেছে্। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করা তদন্তের উপরে তো আর কোন কথা নেই। একেবারে বেদবাক্য। এখন দেখে নেওয়া যাক সেই তদন্তকর্মের রিপোর্টে কি কি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্রেই অবশ্য সেই ফলাফল যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশও করা হয়েছে। বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ারের করা তদন্তের ফলাফল। ছেলেখেলা নয়। যে যে বিষয়গুলি এই তদন্ত রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলির ভিতর প্রথমেই বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস কোনভাবেই বায়োলজিক্যাল ওয়েপন নয়। এখানেই একটু হোঁচট খেতে হবে আমাদের। আমরা যারা এতদিন বিশ্বাস করে এসেছিলাম, বায়োলজিক্যাল ওয়েপন হিসাবেই চীন এই অস্ত্র দিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল, তাদের অবশ্য এই রিপোর্ট হজম করতে বেশ বেগ পেতে হবে। আমাদের ভিতরে যারা আবার নিজামুদ্দিনে ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আউড়িয়ে হিন্দুত্ববাদী দেশপ্রেমে মুহুর্মুহ ভারতমাতা কি জয় বলে দেশ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহীদের খুঁজে বার করতে আসরে নেমে পড়েছিলাম টিভির বিশেষ বিশেষ নিউজ চ্যানেল খুলে রেখে। তাদেরও এই রিপোর্ট হজমে অসুবিধা আছে। যাই হোক বিশ্বপতি’র দপ্তরে জমা পড়া রিপোর্ট। চ্যালেঞ্জ করাও মুশকিলের বিষয়।

বিস্তারিত পড়ুন

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স

লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বক্তা মাত্র চার বছরের এক শিশু। দিদিমার সাথে খেলা করতে করতে মিউজিক্যাল কীবোর্ডে চাপ দিয়ে। কী অমোঘ উচ্চারণ! আসুন করোনা নাচ নাচি। সরকার বলেছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ নাচি। ডাক্তার বলছে আসুন সকলে মিলে করোনা নাচ শুরু করে দিই। না হলে এই মহামারী সামলানো যাবে না। মিডিয়া বলছে লেটস্ স্টার্ট করোনা ড্যান্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা তো কবেই বিশ্ব শুদ্ধ মানুষকে এই করোনা নৃত্যের আসরে নামিয়ে দিয়েছে। নাচের ধরণ কি হবে। নাচের ছন্দ কি হবে। নাচের তাল লয় কখন কোন কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সব আগে থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা বেঁধে দিয়েছে, সেটা যদিও ওপেন সিক্রেট। কিন্তু না, সেসব বিষয় নিয়ে ঘুণাক্ষরেও আলোচনা করা যাবে না। করলে বিগ বসের গোঁসা হবে। বিগ বসের হাতের তালুর ভিতরে এখন গোটা বিশ্ব। মিডিয়া আগেভাগে একেবারে প্রথমেই সতর্ক করে দিয়েছিল। করোনা নৃত্যের ভিতর দিয়েই আমরা পৌঁছিয়ে যাবো এক নতুন পৃথিবীতে। যে পৃথিবীর গাল ভরা নাম “নিউ নরম্যাল”। আমরা যে যতটা করনো নৃত্যে পারদর্শী, সেই তত মহানন্দে এই নতুন বিশ্ব সম্বন্ধ ততধিক উৎসাহিত। মুখে মুখে আমাদের খই ফুটছে তাই নিউ নরম্যাল নিউ নরম্যাল বলে। করোনা নৃত্যের তালে তালে দিনে দিনে নিউ নরম্যাল তাথৈ নৃত্যে জড়িয়ে নিচ্ছে আমাদেরকে। সত্যিই তো করোনা নৃত্য আবিষ্কারের আগের পৃথিবী আর আবিষ্কারের পরের পৃথিবী কি আর এক হতে পারে? বিশ্বায়ন নিয়েও একসময় আমাদের তাথৈ নৃত্য মাতাল হয়ে উঠেছিল। সেই নৃত্যের তালেই কিন্তু করোনা ড্যান্সেরও জন্ম। ফলে বিশ্বায়ন যদি সলতে পাকানোর পর্ব হয়। তবে এই নিউ নরম্যাল খেলা শুরুর প্রথম পর্যায়। কিন্তু খেলাটা কি?

বিস্তারিত পড়ুন

আফগানিস্তানে পালাবদল?

অবশেষে মার্কিন মদতপুষ্ট আফগান সরকারের পতন হয়েছে। আফগান রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানি দেশ থেকে পলাতাক। একেবারে শেষ মুহুর্তের খবর, আফগান সেন্ট্রাল ব্যাংকের কোটি কোটি নগদ অর্থ সোনাদানা সহ রাষ্ট্রপ্রধান দেশ ছেড়েছেন। পলাতক রাষ্ট্রপ্রধান অবশ্য দেশছাড়ার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন রক্তপাত বন্ধ করতেই তাঁর এই দেশত্যাগ। খবরে জানা যাচ্ছে, প্রায় বিনা প্রতিরোধে তালিবানরা কাবুল দখল করে নিয়েছে। এবং কাবুল দখলের সময়ে কোন হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। কাবুলের জনজীবনও প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে বলেই সংবাদসূত্রের খবর। তবে সব কিছুই সময়ের সাথে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সাথে পরিবর্তন হতে পারে। আজকেই মার্কিন সময়ে অনুসারে সকালের দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আফগানিস্তান নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বিশেষজ্ঞ মহলের আশা, আফগানিস্তানের নতুন তালিবান সরকার গঠন হলে ইরান পাকিস্তান সহ চীন ও রাশিয়াও সেই সরকারকে স্বীকৃতি দিতে পারে। অবশ্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোন প্রশ্নই নেই বলেই জানিয়েছেন। এই মাসের শেষেই মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই সেনা সরানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। অবশ্য শেষ মুহুর্তে কাবুলে অবস্থানরত মার্কিন কর্মচারীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারো তিন চার হাজার মেরিন সৈন্য পাঠানো হয়েছে পেন্টাগন থেকে। কিন্তু তার ভিতরেই ১৬ই আগস্ট তালিবানদের কাবুল দখল বিশেষ তাৎপর্যের। এবং বিশেষ করে এই রকম সম্পূর্ণ প্রতিরোধ বিহীন ভাবে আফগান প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দখল নেওয়া যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ। বিনা রক্তপাতে তালিবানীদের হাতে কাবুলের আত্মসমর্পণ খুবই অপ্রত্যাশিত ব্যপার। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাশ্চাত্য সংবাদ মাধ্যম যেভাবে তালিবানীদের আক্রমণের বর্ণনা প্রচার করে আসছিল, তাতে করে তালিবানীদের হাতে সাধারণ আফগানবাসী থেকে শুরু করে আফগানিস্তানের সৈন্য সামন্তদের প্রভুত প্রাণহানীর আশংকা ছড়িয়েছিল সকলের মনে। সংবাদ মাধ্যমসূত্রে আবার এও জানা যাচ্ছে, আফগান সৈন্যদের একটা বড় অংশই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তালিবানদের হাতে অস্ত্রসম্ভার তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। তার কারণ স্বরূপ শোনা যাচ্ছে এই সৈন্যদের একটা বড়ো অংশের মাসিক বেতন নাকি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল। সেই বরাদ্দ অর্থ আফগান রাষ্ট্রপতির নিজের পকেটেই নাকি গিয়ে পৌঁছাতো। সাংবাদিকরা এও জানাচ্ছেন মার্কিন মদতপুষ্ট আফগান সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছিল। ফলে সাধারণ জনগণের একটা বড়ো অংশই সরকার পতনে উল্লসিত। এবং যেভাবে প্রায় বিনা রক্তপাত হানাহানিতে কাবুলের দখল নিয়ে নিল তালিবানীরা, তাতে এটা স্পষ্ট যে কাবুলবাসীর সমর্থন তালিবানীদের উপরেই রয়েছে। ফলে দীর্ঘ কুড়ি বছর পরে কাবুল আবার তালিবানীদের হাতে।

বিস্তারিত পড়ুন

অলিম্পিকের পদকতালিকায় বাঙালি

যতদূর বাংলা ভাষা ততদূর বাংলা। স্বাধীন বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা। এবং উত্তরপূর্ব উড়িষ্যা। ঝাড়খণ্ড বিহারের পূ্র্বাঞ্চল। আসামের শিবসাগর গোয়ালপাড়া আর বরাক উপত্যাকা। এই বিস্তীর্ণ ভুখণ্ডই বাঙালির আদিনিবাস। সারা বিশ্বে বাঙালির দশা প্রায় অনন্য। বিশ্বে খুব কম জাতিই রয়েছে। এমন শতটুকরো হয়ে যাদের দেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও প্রাদেশিক মানচিত্রে খণ্ড বিখণ্ড। এই এতগুলি ভিন্ন মানচিত্রের ভিতরে বিভক্ত বাঙালির মোট জনসংখ্যা প্রায় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার কাছাকাছি। গোটা বিশ্বই যে দেশের কব্জায় আটকিয়ে পড়ে রয়েছে। এমনই তার প্রতাপ। এতই তার ক্ষমতা। পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার। সেই জাতির জনসংখ্যার কাছাকাছি জনসংখ্যা নিয়ে, আর সব কিছুই ছেড়ে দিয়েও। যদি প্রশ্ন করা যায়, বাঙালি অলিম্পিকে কয়টি পদক পাচ্ছে? উত্তরটা কিন্তু একটি মহা শূন্যেই থমকে দাঁড়িয়ে রইবে। বিগত অলিম্পিকগুলির মতোই বাঙালির পদকপ্রাপ্তি শূন্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। দাঁড়িয়ে থাকবেও। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কি আদৌ কোনদিন কোন পদক জিতেছে অলিম্পিকে? না। আমার অন্তত জানা নেই। জানা নেই কয়জন বাঙালি আলিম্পিকে আজ অব্দি পদক জিতেছেন। বা আদৌ জিতেছেন কিনা? কেন বাঙালি অলিম্পিকে পদক পায় না? অনেকেই বলবেন। সেতো অনেক দেশই অলিম্পিকে পদক পায় না। পদক তো হাতে গোনা কয়টি মাত্র দেশই নিজেদের ভিতরে ভাগ করে নেয়। ভালো কথা। তাহলে কি বাঙালির অলিম্পিকে পদক জয়ের কোন দরকার নেইঁ? বাঙালি কি বিশ্ব খেলাধুলোর অঙ্গনে চিরকাল শেষ সারিতে পড়ে থাকবে? না, আসলে এই প্রশ্নগুলি আমারা আদৌ করতে অভ্যস্থ নই। বাঙালির সামাজিক পরিকাঠামোয় আর যাই হোক বিশ্বমানের খেলোয়ার তৈরী হয়ে ওঠে না। হ্যাঁ একথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু না, তার জন্য বাঙালির দুঃখ কি? বাঙালি যে খেলাটি নিয়ে বুক বাজিয়ে থাকে। সেই ক্রিকেটেই কি বাঙালি বিশ্বজয় করতে পেরেছে কোনদিন? হাতে গোনা মাত্র কয়টি দেশ যে খেলাটি খেলে সময় নষ্ট করে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলার ছেলে সৌরভের হাতে একবারই মাত্র সুযোগ এসেছিল। দলনায়ক হিসেবে বিশ্বচ্যম্পীয়ন হওয়ার। কিন্তু সে সৌভাগ্য অধরাই রয়ে গিয়েছে আজো। আর বাঙালির সবচেয়ে বড়ো জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের কথা যত কম বলা যায়। ততই ভালো। এককালে ফুটবলে বাঙালির যে সুনাম ছিল। আজ তার ছিঁটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই। ১৯১১ সালে এগারো জন বাঙালির খালি পায়ে খেলে বুট পায়ের বিদেশীদের হারিয়ে আইএফে শীল্ড জয়ের মতো নজির আর কই? দিনে দিনে বাঙালি ফুটবল বিশ্ব থেকে হঠতে হঠতে পাড়ার প্রতিযোগিতায় এসে পৌঁছিয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন

তোতাকাহিনী

আমরা অনেকেই টিভি দেখে কাগজ পড়ে গ্লোবালাইজেশনের নামে জয়ধ্বনি দিয়ে থাকি। এই এক মন্ত্র জপে আমরা নিজেদেরকে আধুনিক বিশ্বের নাগরিক হিসেবে দেখতে চাই। আর এই বিষয়ে আমাদের হাতে তুরুপের তাস। ঔপনিবেশিক ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা। মিডিয়া প্রচারিত তত্ত্বে ইংরেজিই নাকি গ্লোবালাইজেশনের ভাষা। আর আমাদের ঘরে ঘরে ছেলেমেয়েরা সেই ভাষাতেই অধিকতর স্বচ্ছন্দ। আবার এই গ্লোবালাইজেশনকে আমরা প্রতিদিন ইনটারনেটে প্রত্যক্ষও করছি। নিমেষের ভিতর বিশ্বের নানান প্রান্তরের সাথে সংযোগ স্থাপন হয়ে যাচ্ছে নিজের ঘরে বা কর্মক্ষেত্রে বসেই। তারপর রয়েছে অনলাইন শপিং। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে নেটে ঢুকেই কেনাকাটা সারা যাচ্ছে। ফলে আজ আর আমাদেরকে শুধুমাত্র তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক বলে একপাশে সরিয়ে রাখা যাচ্ছে না। আমরাও দিনে দুইবেলা উন্নত বিশ্বের নাগরিকদের সাথে মোলাকাত করতে পারছি। আদান প্রদান করতে পারছি চিন্তা ভাবনা। আর এইসবই আমাদের কাছে গ্লো‌বালাইজেশনের দান বলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। ফলে ঘরে ঘরে এই গ্লোবালাইজেশনের নামে আমরা দুইবেলা জয়ধ্বনি দিয়ে থাকি। এই গ্লোবালাইজেশনকে আমরা তাই আশীর্বাদ স্বরূপ মনে করে এর সমর্থনে গলা ফাটিয়েও থাকি বেশ। কেউ যদি এর বিরুদ্ধে দুই একটা কথাও তোলে। সমস্বরে আমরা অনেকেই প্রায় রে রে করে তেড়ে উঠি। আমাদের কাছে কোন আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপ নেই। কিন্তু এই এক গালভরা গ্লোবালাইজেশন রয়েছে। আমরা একেই দুইবেলা প্রত্যক্ষ করছি ইনটারনেট থেকে সোশ্যাল সাইটে। নেট ব্যাঙ্কিং থেকে অনলাইন শপিং। জুম থেকে ইউটিউবে। মাল্টিন্যাশানল কোম্পানী থেকে ইন্টারন্যাশানাল প্রোডাক্টে। এই যে সারা বিশ্বকে প্রায় হাতের মুঠোয় পাওয়ার সুযোগ। এটিকেই আমরা সাদরে বরণ করে নিয়েছি। প্রতিদিন বিশ্বের সাথে আমাদের সংযোগ বিস্তৃত হয়ে উঠছে। আমরা আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে পড়ছি গ্লোবালাইজেশনের মোহে।

বিস্তারিত পড়ুন

ভ্যাক্সিন পাস ভ্যাক্সিন ভিসা

অবশেষে স্থানীয় প্রশাসন থেকে হুকুমনামা জারি হয়ে গিয়েছে। দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার প্রমাণপত্র কিংবা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া দীঘার কোন হোটেলেই কেউ ঘর ভাড়া পাবে না। ঠিক এই সম্ভাবনার কথাই সকলের আশঙ্কায় ছিল। যাঁরা ইতিমধ্যেই দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা অবশ্য এই হুকুমনামার সাথে সহমত হবেন। তাঁরা মনে করবেন। এমনটাই তো হওয়া উচিত। এমনটা হলেই করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে। এবং নিশ্চিন্তে বাইরে চলাফেরা করা যাবে। কিন্তু সেই সাথে তাঁদের এই কথাও স্মরণ করা উচিৎ, যে ভ্যাক্সিন তাঁরা শরীরে ঢুকিয়েছেন। সেই ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থা বলেই দিয়েছে, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও করোনা হতেই পারে। ফলে দীঘার স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা হুকুমনামা মানা হলেও, দীঘা থেকে যে আর করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। শুধু দীঘা কেন। এই তো সবে শুরু। এখন থেকে নানান জায়গায় যাওয়ার বিধিনিষেধ হিসেবে এই ভ্যাক্সিন নেওয়া ও না নেওয়া একটা বড়ো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ কোন দেশে ঢুকতে গেলে যেমন বৈধ ভিসা লাগে। ঠিক তেমনই এখন থেকে নিজের দেশের নানা প্রান্তে যাওয়া থেকে শুরু করে ব্যাংক অফিস আদালত দোকান বাজার পার্ক রেস্তোঁরা ইত্যাদি প্রায় সকল স্থানে প্রবেশ করতে গেলেই এই ভ্যাক্সিন ভিসা স্বরূপ দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার সংশাপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে। ভ্যাক্সিন পাস কিংবা ভ্যাক্সিন ভিসার এই বিষয়টি নিউ নরম্যাল বন্দোবস্তের প্রবক্তারা আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছেন। প্রশাসন শুধু সেটি কার্যকরী করছে, করবে। এর ফলে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছু থাকলো না। প্রয়োজন থাকুক না থাকুক। ইচ্ছা হোক না হোক। প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই যে প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই বাধ্যবাধকতাই ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের বিপুল মুনাফার প্রাণভোমরা।

বিস্তারিত পড়ুন