৮৮৬ টাকা ৫০ পয়সা

৮৮৬ টাকা ৫০ পয়সা। এক সিলিণ্ডার রান্নার গ্যাসের দাম। ঘরে ঘরে দামী দামী খাবারের আয়োজন। তা সে পান্তা ভাতই হোক না কেন। পান্তা ভাত রাঁধার জন্যে গ্যাসের দামে কোন ছাড় মিলবে না। পোলাও কিংবা বিরিয়ানি রাঁধতেও একই দাম দিয়ে সিলিণ্ডার কিনতে হবে। হ্যাঁ ত্রিশ পঁচিশ টাকা ভর্তুকি মিলবে বইকি। ব্যাংকের পাস বইয়ে। এমন সরকার কোথাও গেলে পাবে নাকো তুমি। ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেককেই দামী দামী খাবার খাওয়াচ্ছে দুই বেলা। যা কিছুই রাঁধো না কেন। রান্নার দাম আকাশ ছোঁয়া। না, এতেও সন্তুষ্টু না হলে অসুবিধে নাই। প্রতিমাসেই একবার দুইবার পঁচিশ ত্রিশ টাকা করে গ্যাসের দাম বাড়ছে। বাড়বে। বাড়তেই থাকবে। ফলে মানুষের পাতে যাই পড়ুক। কম দামী খাদ্যবস্তু বলে তাচ্ছিল্য করার দিন শেষ। কারুর পাতেই কম দামী খাদ্যদ্রব্য পড়বে না। প্রত্যেকেই দামী দামী খাদ্যের চরম স্বাদ আস্বাদন করার সুযোগ ও অধিকার দুটিই পাবে। এক কথায় সব কা সাথ সব কা বিকাশ।

ফলে সকলেই খুশি। অচ্ছে দিনের দেশে দুই বেলা দামী দামী খাদ্যদ্রব্য আহার করে আমাদের দেশপ্রেম সুদৃঢ় হয়েছে। আমরা জেনে গিয়েছে। কে বা কারা দেশশুদ্ধ মানুষকে দুইবেলা এমন দামী দামী খাদ্যদ্রব্য খাওয়াচ্ছে। তাদের প্রতি আমাদের বিশ্বাসের তাই শেষ নেই। তাই লালকেল্লা থেকেই হোক আর সংসদ থেকেই হোক। তাদের কথা মানে বেদবাক্য। তার উপরে আর কোন কথা নেই। সুপ্রীম কোর্টের রায় কিংবা সংবিধান। কোন কিছুই বিতর্কের উর্ধে নয়। কিন্তু যারা আমাদেরকে এমন জাতপাত হীন ভাবে এমন ভেদাভেদ হীন ভাবে এমন সাম্প্রদায়িকতা হীন ভাবে সারাদিন সর্বোচ্চ মূল্যের দামী দামী খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের দেশপ্রেম, দেশবাসীর জন্য তাদের দায়িত্ববোধ এবং অবিচল কর্তব্যপরায়নতা সকল বিতর্কের উর্ধে। তাই তাদের কথাই বেদবাক্য। তাদের সব কাজই দেশসেবা।

সেই দেশসেবা শুধু কি রান্নার গ্যাসের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ? না অতি বড়ো শত্রুও সেকথা বলতে পারবে না। পেট্রোল থেকে ডিজেল। সব কিছুই মহার্ঘ্য এখন। দিকে দিকে ভারতবর্ষের এমন উন্নয়ন এর আগে কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারতো না। আর কিছু না হোক। গদী হারানোর একটা ভয় থাকতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের মতো এমন অকুতোভয় সরকার ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম। তা সে পুলওয়ামার কাণ্ডই হোক কিংবা গলওয়ান। দেশের নিরাপত্তা রক্ষাই হোক আর শত্রু দেশকে চোখরাঙানোই হোক। ভারতবর্ষের ভয়ে এখন বাকি সকলেই কম্পমান। সকলেই ভারতবর্ষকে সমীহ করে চলছে। সবকিছুতেই দেশ এগিয়ে গিয়েছে। আবিশ্ব মহামারীতেও ভারতবর্ষ এখন প্রথম সারিতে। সংক্রমনের পরিসংখ্যানে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে। আর মৃত্যুর পরিসংখ্যানে তৃতীয় স্থানে। খুব বেশি নয়। আর মাত্র লাখ তিনেক মানুষের মৃত্যু হলেই আমরাই বিশ্বে প্রথম স্থানাধিকারী হয়ে উঠবো। সোজা বাংলায় যাকে গোল্ড মেডেল চ্যাম্পিয়ন বলে আর কি। আর হ্যাঁ, এবারের অলিম্পিকেও আমরা একটি সোনা জিতে নিয়েছি। ফলে ভারতবর্ষকে আর অবহেলা করতে পারবে না কেউ। সব কিছুতেই আমরা এগিয়ে চলেছি। এগিয়ে চলবো।

এই যে সর্ষের ভিতরেই ভুত। না, কথাটা ঠিক হালকা চালে নেওয়ার মতোনও না। সর্ষের তেলের ভিতরেও এই এগিয়ে চলার তত্ত্ব মজুত রয়েছে। আরও আরও দুর্বার বেগে তেলের দাম আকাশ ছোঁয়াই বাকি এখন। ফলে উন্নয়ন চলছেই। উন্নয়ন থমকে নেই। বাজারে গেলেই সেই উন্নয়নের আঁচ টের পাওয়া যায়, পকেটে গরম। ফলে কেউই আর পিছিয়ে নেই কারুর থেকে। কেউ বলতে পারবে না তার পকেটে গরম আঁচ পড়েনি। সব কা সাথ সব কা বিকাশ। এবং জাতপাতহীন সাম্প্রদায়িকতাহীন ভাবে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্যেই এক আইন না হোক, এক দাম। এক পয়সা কম নয়। এক পয়সা বেশিও নয়। এক দেশ এক দাম। এই যে একটা সমানাধিকার। সমান দামে সকলেই অগ্নিমূল্যে জিনিস ক্রয় করার পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারছে। পঁচাত্তর বছরে এ এক সত্যই অভিনব অর্জন।

না, এক দিনেই এই অর্জন সম্ভব হয় নি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অনেক দিনের তিল তিল করে গড়ে তোলা অর্থনীতিকে মাত্র সাত বছরের সাধনায় এমন সোনায় সোহাগা’র পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। সম্ভব যারাই করুক। মূল কৃতিত্ব কিন্তু সেই আমজনতার। যারা পুলওয়ামার ঘটনাতেও অবিচল থেকেছে। সরকারের উপরে ভরসা হারায় নি। ২০১৪’র দেওয়া সব অঙ্গীকার মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়াতেও সরকারের প্রতিশ্রুতির উপর থেকে যাদের বিশ্বাস টলে যায়নি। প্রতিদিন প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতেও যাদের সরকারের উপরে রাগটি নেই। ভিটে মাটি চাঁটি করে দিলেও যারা ধর্মের নামে সরকারের পাশ থেকে সরে যাবে না কোনদিন। সেই আম জনতা। যারা পোশাক দেখে মানুষ চেনার ফর্মুলা শিখে নিয়েছে। তারাই কিন্তু আজকের ভারতবর্ষের মূল কারিগর। তারা যদি সরকারের পাশে না থাকতো। তাহলে এমন সব কা সাথ সব কা বিকাশ সম্ভব হতো না কোনদিন। ফলে তারা যতদিন হাসিমুখে ৮৮৬ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনে যাবে। ততদিন ভারতবর্ষের বিকাশ থমকে যাবে না।

১৮ই আগস্ট’ ২০২১

কপিরাইট সংরক্ষিত

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s