ভ্যাক্সিন পাস ভ্যাক্সিন ভিসা

অবশেষে স্থানীয় প্রশাসন থেকে হুকুমনামা জারি হয়ে গিয়েছে। দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার প্রমাণপত্র কিংবা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া দীঘার কোন হোটেলেই কেউ ঘর ভাড়া পাবে না। ঠিক এই সম্ভাবনার কথাই সকলের আশঙ্কায় ছিল। যাঁরা ইতিমধ্যেই দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা অবশ্য এই হুকুমনামার সাথে সহমত হবেন। তাঁরা মনে করবেন। এমনটাই তো হওয়া উচিত। এমনটা হলেই করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে। এবং নিশ্চিন্তে বাইরে চলাফেরা করা যাবে। কিন্তু সেই সাথে তাঁদের এই কথাও স্মরণ করা উচিৎ, যে ভ্যাক্সিন তাঁরা শরীরে ঢুকিয়েছেন। সেই ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থা বলেই দিয়েছে, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও করোনা হতেই পারে। ফলে দীঘার স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা হুকুমনামা মানা হলেও, দীঘা থেকে যে আর করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। শুধু দীঘা কেন। এই তো সবে শুরু। এখন থেকে নানান জায়গায় যাওয়ার বিধিনিষেধ হিসেবে এই ভ্যাক্সিন নেওয়া ও না নেওয়া একটা বড়ো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ কোন দেশে ঢুকতে গেলে যেমন বৈধ ভিসা লাগে। ঠিক তেমনই এখন থেকে নিজের দেশের নানা প্রান্তে যাওয়া থেকে শুরু করে ব্যাংক অফিস আদালত দোকান বাজার পার্ক রেস্তোঁরা ইত্যাদি প্রায় সকল স্থানে প্রবেশ করতে গেলেই এই ভ্যাক্সিন ভিসা স্বরূপ দুই ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়ার সংশাপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে। ভ্যাক্সিন পাস কিংবা ভ্যাক্সিন ভিসার এই বিষয়টি নিউ নরম্যাল বন্দোবস্তের প্রবক্তারা আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছেন। প্রশাসন শুধু সেটি কার্যকরী করছে, করবে। এর ফলে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছু থাকলো না। প্রয়োজন থাকুক না থাকুক। ইচ্ছা হোক না হোক। প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই যে প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতেই হবে। এই বাধ্যবাধকতাই ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের বিপুল মুনাফার প্রাণভোমরা।

আর এইখানেই সেই প্রথম প্রশ্নটা ফিরে আসে। কেন ওষুধ নয়? কেন ভ্যাক্সিন? একটা রোগ এসেছে। সেটি ম্যানমেড হোক কিংবা প্রকৃতিক। সেই রোগ নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারের পিছনে অর্থলগ্নী না করে কেনই বা ভ্যাকসিনের পিছনে অর্থলগ্নী? এইখানে বিশেষজ্ঞ ভাইরোলজিস্ট যাঁরা। অর্থাৎ নানান প্রকার ভাইরাস নিয়ে দীর্ঘকালীন গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে যাঁদের। তাঁরা একটা মূল্যবান তথ্য দিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, এই করোনা যত বেশিই সংক্রমক ভাইরাস হোক না কেন। তা ৮৫% মানুষের শরীরে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতেই পারছে না। এবং পারবেও না। কারণ অধিকাংশ মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধী সাধারণ ক্ষমতাই এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে সমর্থ্য। ফলে বিশ্বে যদি প্রতিটি মানুষই করোনায় সংক্রমিত হয়েও যায়। তবুও মাত্র ১৫% মানুষই টের পাবে যে তাঁর করোনা হয়েছে। এবং মাত্র ২% মানুষের খুব বাড়াবাড়ি হবে। এবং মৃত্যুও ঘটবে তাদের ভিতর অনেকের। কিন্তু সেই মৃত্যুর পরিসংখ্যান দিয়ে এই যে ৮৫% মানুষ যাঁদের ভিতরে করোনা সংক্রমিত হলেও তাঁরা টেরও পাবেন না, সেই সত্য চেপে দেওয়া ঠিক নয়। এমনটাই বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্টদের অভিমত। আর এই তথ্যের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে ভ্যাক্সিনের আসল রহস্য। ভ্যাক্সিনের প্রবক্তারা বলে বেড়াচ্ছেন আধিকাংশ ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নাকি ৮৫% এর বেশি। অর্থাৎ ভ্যাক্সিন নেওয়া মানুষের ৮৫% এর করোনা হবে না। মূল চালাকিটা ঠিক এইখানেই। তাঁরা সেই ৮৫% মানুষের হিসেবটিই ধরে এই কথা প্রচার করে চলেছেন, যে ৮৫% মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার হিসেব আগেই দিয়ে রেখেছেন বিশিষ্ট ভাইরাস বিশেষজ্ঞরাই।

কিন্তু কেন এই লুকোচুরি? বিষয়টি একেবারেই সরল পাটিগণিতের হিসেব। বিশ্বজুড়ে করোনা মোকাবিলায় যদি করোনা নিরাময়ের ওষুধ আবিস্কারের পিছনেই অর্থলগ্নী করা হতো। তাহলে যে ওষুধ তৈরী হতো। সেই ওষুধের বাণিজ্য নির্ভর করতো শুধুমাত্র করোনা সংক্রমণে অসুস্থ হওয়া রোগীদের সংখ্যার উপরেই। অর্থাৎ আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে শয্যা নিলে তবেই আপনি অর্থ ব্যয় করে ওষুধ সেবন করে কিংবা ইনজেকশন নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতেন। এবং স্বভাবতই যতক্ষণ না আপনি করোনায় শয্যাগত হচ্ছেন। ততক্ষণ আপনাকে করোনার ওষুধ বিক্রী করে মুনাফা লাভ করা সম্ভব নয়। আর শুধু যে বিশেষজ্ঞরাই বলছেন তাও নয়। বিশ্ব জুড়ে সকল পরিসংখ্যানও একই কথা বলছে। করোনায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মাত্র ১৫% এর মতো মানুষ। যাঁদের অধিকাংশই বিনা করোনার ওষুধেই সুস্থ হয়ে উঠছেন কদিন রোগভোগের পরে। কেননা করোনার কোন ওষুধ আজ অব্দি আবিস্কৃতই হয় নি। তাহলে সরল পাটিগণিতের অংকটা কিরকম দাঁড়ালো? করোনার ওষুধ আবিস্কার ও প্রস্তুতের পিছনে অর্থলগ্নী করলে সেই ওষুধ বাণিজ্যের বাজার খুব বেশি হলে বিশ্ব জনসংখ্যার ১৫% এর ভিতরে বিস্তার করতে পারতো। কিন্তু আমরা যদি করোনার ওষুধ আবিস্কারের পিছনে অর্থলগ্নী না করে ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ও প্রস্তুতের পিছনে ব্যায় করি, তাহলে ভ্যাক্সিন বাণিজ্য বিশ্বের মোট জনসংখ্যায় বিস্তারিত করা সম্ভব হবে। এবং যত বেশি ডোজ ভ্যাক্সিন দেওয়া যাবে, ততগুণ বাজার বিস্তারিত হবে। ততগুণ মুনাফাও নিশ্চিত হবে। তাই করোনার ওষুধ আবিস্কারের পিছনে অর্থলগ্নী করা হয়নি। করা হয়েছে ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পিছনে। এটাই সেই সরল পাটিগণিত।

কিন্তু এর সাথে দীঘার কি সম্বন্ধ? সম্বন্ধ আছে বলেই দীঘার সংবাদ দিয়েই শুরু করতে হয়েছে। ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ও প্রস্তুত করলেই তো আর হবে না। সেই ভ্যাক্সিন বিশ্বের প্রতিটি মানুষের শরীরে নিয়মিত ব্যবধানে ঢোকানো নিশ্চিত করতে তো হবে। না হলে ভ্যাক্সিন বিক্রী হবে কোন জাদুতে। সকলেই মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে আগেভাগে ভ্যাক্সিন নিতে ছুটবে। এমনটা তো নাও হতে পারে। প্রতিদিন ঘটা করে করোনার মৃত্যুমিছিলের পরিসংখ্যান যতই প্রচার করা হোক না কেন। মানুষ যখন নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছে একটি মহামারী অতিমারী সত্বেও তার পাড়ায় বাড়ি বাড়ি করোনায় ছেয়েও যাচ্ছে না। দিনে দুইবেলা পাড়ায় পাড়ায় মৃত্যুরও বিশেষ খবর নেই। রাস্তাঘাটে মড়া পড়ে গড়াগড়ি দিচ্ছে না। তখন স্বভাবতই মানুষের ভিতরে মৃত্যুভয় কম কাজ করবে। এবং বিশ্বজুড়েই সেটাই হচ্ছে। কারণ এত কম শতাংশ মৃত্যু দিয়ে কোন মহামারী বা অতিমারী প্রমাণ করা যায় না। প্রমাণ করতে হলে পাড়ায় পাড়ায় মৃত্যুমিছিল সংঘটিত করতে হয়। কিন্তু সেটি কি করে সম্ভব? ফলে মিডিয়াজুড়ে মৃত্যুভয় দেখিয়ে বহু মানুষকেই একটা ভ্যাক্সিনের জন্য ছোটাতে পারলেও। প্রতিটি মানুষকে ছোটানো কিন্তু সম্ভব নয়। আর সেটি করতে না পারলে বিশ্বের মোট জনসংখ্যায় ভ্যাক্সিন বাণিজ্য সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে কি করে? খুব সাধারণ বুদ্ধিতেই বোঝা যায়, সেটি সম্ভব করতে গেলে যেভাবেই হোক না কেন রাষ্ট্র ও প্রশাসন কর্তৃক ভ্যাক্সিন পাস বা ভ্যাক্সিন ভিসা বাধ্যতামূলক করে চালু করা প্রয়োজন। একমাত্র তখনই বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতে বাধ্য করা সম্ভব হবে। ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের সম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত ভাবে পূর্ণ করতে গেলে আর কোন বিকল্প পথও খোলা নেই। ঠিক এই কারণেই দীঘার স্থানীয় প্রশাসনের মতোই আগামী দশকগুলিতে বাড়ি থেকে বেড়োতে গেলেই ভ্যাক্সিন পাস বা ভ্যাক্সিন ভিসা বাধ্যতামূলক ভাবে জরুরী করে দেওয়া হবে। না হলে ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের সাম্রাজ্যবিস্তার সম্পূর্ণ হবে না। এবং মুনাফাও লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাবে না।

১২ই জুলাই’ ২০২১

কপিরাইট সংরক্ষিত

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s