সিটিজেনশিপ এমেণ্ডমেন্ট এক্ট

সিএএ। সিটিজেনশিপ এমেণ্ডমেন্ট এক্ট। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯। আপনি জানেন আপনি বাঙালি হিন্দু। তাই আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নাই।  আপনিও খুশি সরকারও খুশি। এবার এনআরসি, এনআরআইসি করার পথটা পাকাপোক্ত ভাবে প্রশস্ত হয়ে গেল। এনআরসি’তে বা এনআরআইসি’তে আপনার মাথাব্যাথা নাই। আপনি আগে ভারতীয় তারপর বাঙালি। কিন্তু সরকার সেটা দেখবে না। সরকারের খাতায় আপনি আগে বাঙালি তারপর ভারতীয় কিনা সেটি প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়।। কারণ আপনার মাতৃভাষা বাংলা। যেটি পার্শ্ববর্তী একটি দেশের মাতৃভাষা। তাই সরকারী খাতায় আপনি ওরিজিন্যাল ইন্ডিয়ান ইনহ্যাবিট্যান্ট কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। যেটি যথেষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়। অর্থাৎ ভারত সরকারের এই আইনে বাংলাভাষী মানেই ডাউটফুল ভোটার। আপনি তো বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী বাঙালি হতেও পারেন। আপনি জানেন না, যাদের মাতৃভাষা বাংলা নয়, হিন্দী, গুজরাটী, মারাঠী, তামিল, তেলেগু, মালায়লাম, উড়িয়া, অসমীয় তারা সকলেই কিন্তু ওরিজিন্যাল ইণ্ডিয়ান ইনহ্যাবিট্যান্ট। কারণ পৃথিবীতে এমন আর একটিও দেশ নাই, যে দেশের মানুষের মাতৃভাষা এইগুলি।  তাই তাদের নাম মাতৃভাষার কারণেই সরাসরি এনআরসি’তে বা এনআরআইসি’তে উঠে যাবে। তারা সকলেই ভারতীয় নাগরিক। তাদেরকে প্রমাণ দেখাতে হবে না, কবে থেকে তাদের পূর্বপুরুষ ভারতে বসবাস করছে। কিন্তু আপনি জানেন কি? এনআরসি’তে বা এনআরআইসি’তে একমাত্র সেইসব বাঙালির নামই উঠবে, যাঁদের কাছে ১৯৪৮ সালের আগে থেকে ভারতে বসবাস করার বৈধ কাগজপত্তর আছে? আগে থাকতে দেখে নিন, আপনার কাছে ১৯৪৮ সালের আগে থেকে ভারতে বসবাসের কোন বৈধ সরকারী নথিপত্র আছে কিনা। থাকলে আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এটা অন্তত প্রমাণ করতে পারবেন, আপনি ভারতীয় নাগরিক। সে আপনার পূর্বপুরুষ যবে থেকেই এই দেশে থাকুক না কেন।

সরকার যেই দেখবে আপনি বাঙালি, আপনার কাছে ১৯৪৮ সালের জুলাই মাসের আগের কাগজ তলব করবে। না দেখাতে পারলেই কিন্তু আপনার ভারতীয় নাগরিকত্ব খারিজ। এবার আপনার ঠিকানা ডিটেনশন ক্যাম্প। হ্যাঁ তখনই শুধু আপনি একবার সুযোগ পাবেন, ভারতে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয়প্রার্থনা করার। কারণ আপনি ধর্মে হিন্দু। যে সুযোগ বাঙালি মুসলিম পাবে না বলেই আপনি এতদিন আহ্লাদে আটখানা হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সিটিজেনশিপ এমেণ্ডমেন্ট এক্টে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখানেও একটি ধারা আছে। এবার ফরেনার্স ট্রাইবুনালে দৌড়াতে হবে আপনাকে। সেখানে গিয়ে আপনাকে প্রমাণ দাখিল করতে হবে, আপনি আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার কারণে নিজ প্রাণ রক্ষার্থে ১৯৪৮ সালের পর ভারতে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছেন। এবং তার স্বপক্ষে আদালত গ্রাহ্য নথিপত্র দাখিল করতে হবে আপনাকে। ঠিকমত নথিপত্র দাখিল করতে না পারলে এবার কিন্তু পাকাপাকি ভাবেই আপনার ঠিকানা আমৃত্যু ডিটেনশন ক্যাম্প। আর যদি সরকারী আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করতে পারেন, অর্থাৎ সিএএতে উল্লেখিত ইসলামী দেশগুলির কোন একটি দেশের পুলিশ থানায় সাম্প্রদায়িক হিংসা বা দাঙ্গার কারণে আপনার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার এফআইআর বা জিডি’ করার সরকারী কাগজ আপনার হাতে থাকে এবং যদি সেই নথিপত্র সরকার গ্রহণ করে তবেই একমাত্র আপনাকে ছয় বছর ভারতবর্ষে থাকার রেসিডেন্সিয়াল পারমিট দেওয়া হবে। সেই পারমিট শেষ হলে তারপর আপনাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। একমাত্র তখনই আপনার সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকার তার মর্জি মতো কোন একসময় আপনাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে পারে। তার আগে নয়। কিন্তু কতদিনের ভিতরে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে তার কোন হদিশ কিন্তু এই সিএএ’তে নেই। তবে যেদিনই দেওয়া হোক, দিলে সেদিন ২০১৯ সালে পাশ হওয়া সিটিজেনশিপ এমেণ্ডমেন্ট এক্ট আপনাকে বাঁচালেও বাঁচাতে পারে। কারণ আপনি তো বাঙালি হিন্দু। আপনার আর চিন্তা কি?

১০ই জুলাই’ ২০২১

কপিরাইট সংরক্ষিত

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s