তোলাবাজির খপ্পরে

আপনার বাগান থাকতেই পারে। সেই বাগানে আপনি ফুলের নার্সারি করুন কি সবজী চাষ করুন। ভালো কথা। বাগান পরিচর্যার উদ্দেশে আপনাকে নিজের বাগানে নিজের পয়সায় কেনা মাটিও ফেলতে হতেই পারে। যত খুশি মাটি ফেলুন। তাতে কে বাধা দিচ্ছে? কিন্তু তাই বলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের দাবি মতো দুলক্ষ টাকা তোলা দেবেন না! এ কেমন কথা? মগের মুলুক নাকি? বাগান আপনার হতে পারে। সেই বাগানে মাটি কেনার প্রয়োজনও আপনার হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে আপনি হাজার হাজার টাকার মাটি কিনবেন। আর লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা দেবেন না সেটা হয় কোন যুক্তিতে। আপনার বাগানটা আপনার। কিন্তু তাই বলে যে অঞ্চলে আপনার বাগান কিংবা বসত। সেই অঞ্চলটা তো আর আপনার বাপের সম্পত্তি নয়! সেই অঞ্চলের একটি নির্বাচিত পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ড রয়েছে। সেই পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ড যাদের দখলে। তাদের মর্জির তো একটা দাম রয়েছে। আপনি একতলা বাড়ির মাথায় দোতলা তুলবেন কিংবা বাগানে ফুলের চাষ করার জন্য মাটি কিনে ফেলবেন। আর স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা ওয়ার্ডের নির্বাচিত শাসকদল ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখবে? তাহলে আর কিসের পরিবর্তন?

বিস্তারিত পড়ুন

দশচক্রে ঠুঁটো পুলিশ

রাজ্যজুড়ে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা কি? এই বিষয়ে কোন আলোচনা শোনা যায় কি? পুলিশের কাজ কি? ধর্ষককে বিচারের ন্যায়দণ্ডের সামনে হাজির করানো। দেশে একটা সংবিধান রয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করে আইনের নানান ধারা ও উপধারা রয়েছে। ধর্ষণের শাস্তির জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ধর্ষণের কাণ্ডে যুক্ত অপরাধী এবং অভিযুক্তদের খুঁজে পেতে এবং গ্রেফতার করতে দেশজুড়ে পুলিশ রয়েছে। আমাদের রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণের কাণ্ড ঘটে গেলে। সেই ঘটনার সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা ও আদালত গ্রাহ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের সামনে পেশ করা। এইসবই পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব এবং কর্তব্যের ভিতরে পড়ে। পুলিশের কাজ যদি যথাযোগ্য হয়। তাহলে অধিকাংশ ধর্ষকেরই সঠিক বিচার হওয়ার কথা। বিচারের আইন নির্দিষ্ট। সেই আইনের চোখে সঠিক প্রমাণ হাজির করতে পারলেই সঠিক বিচারের একটা আশা থাকে। আশা থাকে বলার কারণ রয়েছে। বিচার ব্যবস্থা সঠিক ভাবে আইনের ব্যবহার করে ধর্ষণ কাণ্ডের অপরাধীদের যথাযোগ্য শাস্তি বিধান করবে কি, করবে না। সেটি বিচারকের উপরেও নির্ভরশীল। বিচারক যদি ন্যায়পরায়ণ এবং সৎ হন। তাহলে, পুলিশ ধর্ষণ কাণ্ডের সঠিক প্রমাণ আদালতের কাছে পেশ করতে পারলে। ধর্ষকের যথাযোগ্য শাস্তি না হওয়ার কোন কারণ নেই। এই বিষয়ে ধর্ষকের পক্ষে যত বড়ো অভিজ্ঞ উকিলই থাকুক না কেন। আদালতে পুলিশের পেশ করা প্রমাণই কিন্তু শেষ কথা। অন্তত তেমনটাই তো হওয়া উচিত।

বিস্তারিত পড়ুন

কাফি রাগের তান

তাঁকে ফোন করে কোন লাভ নেই। না, তিনি কোন ব্যাপারেই কোন কথা বলবেন না। শুধু মাত্র কাফি রাগ ছাড়া। এবং সম্পূ্র্ণ ফ্রী’তে তিনি এক কলি কাফি রাগ শুনিয়েও দিলেন। সাংবাধিক যখন রামপুরহাট গণহত্যার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া নিতে চান। আমরা কেউই যদিও নিরোর সেই বেহালাবাদন শুনিনি। ঠিক যেদিন রোম পুড়ছিলো দাউ দাউ আগুনে। কিন্তু আমরা খুবই সৌভাগ্যবান। আমরা নিরোর সেই ভুবন বিখ্যাত বেহালাবাদন শুনতে না পেলেও। আমরা তাঁর কণ্ঠে কাফি রাগের এক কলি অনন্ত শুনতে পেলাম। বিশেষ করে এই আগুনে পোড়া সময়ে। দাউ দাউ আগুনে পশ্চিমবঙ্গও পুড়ছে এক দশকের বেশি সময় ধরে। তিনি ও তাঁর মতো বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা এই সময়ে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চায় মজে রয়েছেন। এটা বাঙালির সৌভাগ্য যে গণহত্যার আগুন পোড়া ছাইয়ের গন্ধ তাঁদের কাছে গিয়ে পৌঁছায় না আর। কারণ বসন্ত আসুক না আসুক। পরিবর্তন এসে গিয়েছে। আর কোন চিন্তা নেই। যাঁর হাতে রঙ তুলি। তিনি ক্যানভাসে বসন্ত আনবেন। যাঁর হাতে সোনালি নিবের কলম। তিনি উপন্যাসে বসন্ত আনবেন। যাঁর কন্ঠে সপ্তসুরের সাগর। তিনি কাফি রাগে বসন্ত আনবেন। আর যাঁরা কবিতা পাঠে ব্যস্ত। কবিসম্মেলন থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী কবিতা উৎসবে। তাঁদের কন্ঠের জাদুতে আর ছন্দের কারুকাজে বসন্ত এসে যাবে। চিন্তা কি।

বিস্তারিত পড়ুন

ইউরোপের স্বাধীনতা

৭ই মার্চ’ ২০২২। ইউক্রেনে রাশিয়ান অভিযানের দ্বাদশ দিন। ইউরোপ জুড়ে তেল আর গ্যাসের মূল্যে আগুন লেগেছে। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা স্যাংশানের সরাসরি প্রভাব পড়া শুরু হয়নি এখনো। আরও কঠোর স্যাংশান জারি করার তোড়জোড় চলেছে। চলেছে হুমকি দেওয়ার ধারাবাহিক পালা। ইউরোপের মানুষের উপরে মুদ্রাস্ফীতির এই অভিশাপ নামিয়ে এনেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। নামিয়ে এনেছে আমেরিকা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জাড়ি করে। ইউরোপের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনেও অতি দ্রুত দুর্ভোগ নেমে আসতে চলেছে। কেউ জানে না। এই দুর্ভোগ কতগুণ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। কেউ জানে না। মানুষ কিভাবে কোন পথে এই দুর্ভোগের সাথে মোকাবিলা করতে পারবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি না করলে। অবস্থা এত দ্রুত খারাপ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তাতে মার্কিন-ন্যাটো শক্তির স্বার্থরক্ষা হতো না। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম ভাবে চরম মুদ্রাস্ফীতি তৈরী করে মানুষকে রাশিয়া বিরোধী করে তোলার এমন সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যেত না। এখন মানুষকে বোঝানো সহজ হয়ে গেল। মানুষের দুর্ভোগের পেছনে রাশিয়া। অথচ এই কৃত্রিম মুদ্রাস্ফীতির ফলে মূলত মার্কিন এবং ইউরোপের ধনকুবেরদের সম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে খুব কম সময়ের ভিতরে। অতিরিক্ত এবং অনৈতিক মুনাফা বৃদ্ধি করে কয়েকজন ধরনকুবেরের সম্পদবৃদ্ধির এমন চমৎকার পরিকল্পনার নাম গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ। রাশিয়ান আগ্রাসান প্রতিরোধ করার অহিংস পদ্ধতি।

বিস্তারিত পড়ুন

গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা

মার্চ ৫’ ২০২২। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের দশম দিন। মস্কো সময়ে সকাল দশটা থেকে ঘন্টা খানেকের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে মস্কো। অবরুদ্ধ শহরের জনগণ যাতে নিরাপদ অঞ্চলে রওনা দিতে পারে। এবং সাধারণ মানুষের কাছে যথা সম্ভব জরুরী পরিসেবা পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য। না, এই সংবাদ কোন রুশ সংবাদ সংস্থা থেকে নেওয়া নয়। কারণ, ছাপ্পান্নো ইঞ্চি ছাতির দোর্দণ্ড প্রতাপ ভারতবর্ষে, মার্কিন চোখরাঙানিতে আপাতত রুশিয়া টুডে টিভি চ্যানেলের সম্প্রসারণ বন্ধ। এই সম্প্রসারণ বন্ধ করা হয়েছে, রুশ সামরিক অভিযানের নবম দিন। ফলে প্রচারিত সংবাদের সত্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। আরও একটি সংবাদ জানানোর প্রয়োজন এই মুহুর্তে। মার্কিন সেনেটর লিণ্ডসে গ্রাহামের করা সেই বিখ্যাত টুইট। পুতিন খুনের আহ্বান করে। টুইটার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই টুইট তাদের টুইটারের নিয়ম ও নীতির কোন লঙ্ঘন করছে না। অর্থাৎ পুতিন হত্যার ফতোয়া দেওয়ার অধিকার একজন মার্কিন সেনেটরের যেমন রয়েছে। তেমনই সেই ফতোয়া বিশ্বজুড়ে প্রচার করার অধিকারও টুইটার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। ঠিক যেমন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের নব-নাৎসী সংগঠনের একাউন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। ফেসবুকের যুক্তি। নব-নাৎসীদেরও নিজেদের মত ব্যক্ত করার অধিকার রয়েছে। না, তাই বলে রুশিয়া টুডে টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের বাকি বিশ্বের কাছে সংবাদ পৌঁছিয়ে দেওয়ার কোন অধিকার নেই। যে অধিকার রয়েছে নব-নাৎসী গোষ্ঠীদেরও। এটাই বর্তমান বিশ্বের গণতন্ত্রের সংবিধান। মার্কিন-ন্যাটো শক্তি অক্ষের স্বার্থে সব কিছু পরিচালিত হবে। হতে থাকবে। সেই স্বার্থের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেই মুশকিল। ধোপা নাপিত বন্ধ। বিশ্বজুড়ে খলনায়ক প্রতিপন্ন করে হত্যার ফতোয়া। ফলে দেখা যাচ্ছে ফতোয়া শুধুমাত্র মৌলবাদী তালিবানরাই দেয় না।

বিস্তারিত পড়ুন

মিডিয়া হাউস এবং মিডিয়া লাইজ

১৯৭৫ সাল। সায়গনের পতন। হোচিমিনের হাতে পরাস্ত হয়ে মার্কিনশক্তি একটি বড়ো শিক্ষা গ্রহণ করে। না, বিশ্বজুড়ে অন্যায় যুদ্ধ সংগঠিত করা থেকে সরে আসার শিক্ষা নয়। আগে বিশ্বজুড়ে মানুষকে টুপি পরিয়ে তারপরে কোন অপকর্মে নামার শিক্ষা। এই শিক্ষাটুকু আমেরিকার আগে ছিল না। ছিল না বলেই ভিয়েতনামে মার্কিন ভণ্ডামির বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন মুলুকের জনগণও গর্জে উঠেছিল। ভিয়েতনামে অন্যায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায়, সারা বিশ্বজুড়েই মানুষ সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটি সম্ভব হয়েছিল এই একটি কারণেই। মানুষের মেধা তখনও স্বাধীন ছিল। মানুষ কিভাবে কোন ঘটনার বিচার করবে। সেই স্বাধীনতাটুকু মানুষ তখনো ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার কাছে বন্ধক রাখা শুরু করে নি। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধে নাস্তানাবুদ হওয়ার পরে। মার্কিন অপশক্তি এই চরম শিক্ষাটুকু গ্রহণ করে। তারা ঠিক করে নেয়। এরপর থেকে যে অপকর্মেই জড়িয়ে পরো না কেন। আগে মানুষকে টুপি পরাও। তারপরে মাঠে নামো। কিন্তু কিভাবে সম্ভব বিশ্বশুদ্ধ মানুষকে টুপি পরানো? সেটি সম্ভব হবে তখনই। যখন অধিকাংশ মিডিয়া হাউসকে কিনে নেওয়া যাবে। মিডিয়া হাউসে, মার্কিন অপশক্তির পক্ষ নেওয়া কর্পোরেট শক্তি অর্থলগ্নী করলেই সেটা সম্ভব। ফলে বিশ্বের বড়ো বড়ো মিডিয়া হাউসে মার্কিন কর্পোরেট শক্তির বিপুল পরিমাণে অর্থলগ্নী করা প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর সবচেয়ে বড়ো সুবিধে। সংবাদ মাধ্যমগুলি তখন পরিচালিত হবে সেই সব কর্পোরেট শক্তির অঙ্গুলি হেলন। তারা কাজ করতে থাকবে মার্কিন অপশক্তির স্বার্থে। তারা প্রশ্ন করবে মার্কিন অপশক্তির টার্গেটে যারাই আসবে। একমাত্র তাদেরকেই। কখনোই মার্কিন অপশক্তির কাজকে প্রশ্ন করবে না। এইভাবে বিশ্বজুড়ে মার্কিন অপশক্তির সমর্থনে একটা জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড়ো শক্তির জায়গাটা একজায়গায়। সেটি ভাষা। ডলারের ওজনে ইংরেজি ভাষার প্রচলন যত বেশি বিস্তৃত হয়েছে। মিডিয়া হাউসের দৌরাত্ম ততবেশি করে বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে। কিন্তু শুধুই মিডিয়া হাউস নয়। মার্কিন শক্তি গোটা বিশ্ব থেকেই ছেঁকে ছেঁকে মেধাশক্তি’র আমদানি করতে শুরু করে দিল। উন্নতমানের প্রযুক্তিগত শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ সুবিধে দিয়ে সারা পৃথিবী থেকেই প্রতিভা ও মেধাগুলিকে আমেরিকায় টেনে নিয়ে আসতে শুরু করলো। যে মেধাগুলিকে মার্কিন অপশক্তির স্বার্থের পক্ষে রাখা ও মার্কিন স্বার্থের সমর্থনে ব্যবহার করাও সহজ হতে শুরু করলো। যাদের নিজ নিজ দেশ ও জাতির স্বার্থের পক্ষ নেওয়ার কথা। তারা সেই থেকে মার্কিন শক্তির পক্ষ নেওয়া শুরু করে দিল। সেটাই স্বাভাবিক। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করলো সেই সেই দেশের সমাজ সংস্কৃতিতে। যে সমাজ সংস্কৃতিতে জন্ম নেওয়া প্রতিভাধর মেধাগুলি প্রায় কলুর বলদের মতো মেধা খাটাতে থাকলো মার্কিন কর্পোরেট শক্তির স্বার্থে। যে শক্তির গাঁটছড়া বাঁধা মার্কিন অপশক্তির সাথে। একটু গভীরে গেলেই দেখা যাবে। মার্কিন অপশক্তি আসলে মার্কিন কর্পোরেট স্বার্থের সম্মিলিত রূপের প্রতিনিধি মাত্র।

বিস্তারিত পড়ুন

হিজাব একটি অজুহাত

হিজাবধারী শিক্ষার্থীদের কলেজে ঢোকা নিষিদ্ধ। ক্লাস করা ও পরীক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ। হ্যাঁ আম্বেদকার প্রণীত সংবিধানের শপথ নেওয়া সরকারের পরিচালিত একটি সরকারী স্কুলে এমনই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। হিজাবধারী শিক্ষার্থীরা অবশ্য হাইকোর্টে আবেদন করেছে। হিজাব পরে কলেজে ঢোকার এবং ক্লাস করা ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যে। আমাদের আলোচনা হিজাব পরার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত কিনা। কিংবা সেই হিজাব পরতে না দেওয়ার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত কিনা। সেই বিষয়ে নয়। কারণ, এর উত্তর যেকোন ভারতীয় নাগরিকের কাছেই রয়েছে। এবং আদালত তার বিচার করবে। আমরা বরং এই হিজাব নিয়ে শুরু হওয়া রাজনীতির দিকেই দৃকপাত করি। সামনেই উত্তরপ্রদেশ উত্তরাখণ্ড সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। ডিসেম্বরেই হরিদ্বারে অনুষ্ঠিত হিন্দু সংসদের মঞ্চ থেকে ভারতবর্ষে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিধর্মী ইসলামকে দেশ ছাড়া করার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার সহ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ঘোষণা দিয়ে রেখেছে এই নির্বাচন আশি বনাম কুড়ির লড়াই। উত্তরপ্রদেশ জুড়ে প্রচার চলছে এই নির্বাচনে বর্তমান শাসকদলের পরাজয় মানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা আবারো ফিরে আসার অশনিসংকেত। ঠিক এরই ভিতরে সুদূর ব্যাঙ্গালোরের একটি কলেজে হিজাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নির্বাচনী গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নাই কোন।

বিষয়টি যদি শুধুমাত্র হিজাব পরে কলেজে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকতো। তবু তার এক রকম অভিঘাত হতো। উল্টে, গলায় গেরুয়া ওড়ানা ঝুলিয়ে মুখে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে সেই কলেজেরই এক দল শিক্ষার্থী হিজাবের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ সংঘটিত করায় বিষয়টির অভিঘাত অনেক বেশি ব্যাপক এবং সর্বাত্মক হয়ে উঠেছে। সরকারী কলেজই হোক আর বেসরকারী কলেজ। হিজাব পরে ঢোকা নিষিদ্ধ হতে পারে। কিন্তু একই সাথে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে ইউনিফর্মের মতো করে একদল শিক্ষার্থী গেরুয়া রঙের ওড়না পরে মিছিল করে কলেজে প্রবশে করছে। বিষয়টি হঠাৎ করে ঘটতে পারে না। অনেক দিনের সংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়া এমন ঘটনা ঘটার কথাও নয়। বিশেষ করে সামনে উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের প্রাক্কালে। এই যে আশি বনাম কুড়ির লড়াই। সেই লড়াইকে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ না রেখে ভারত জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য ও অভিমুখ একটা স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।

আদালতের রায়ে হিজাব পরার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ফিরে পেলেও। এই ঘটনার জের কিন্তু এইখানেই শেষ হয়ে যাবে না। হিজাব পরতে না দেওয়া এবং উল্টে জয়শ্রীরাম ধ্বনী দিয়ে কলেজে প্রবেশ। ইউনিফর্মের মতো করে গেড়ুয়া ওড়ানা গলায় ঝোলানো। এই হলো সেই আশি বনাম কুড়ির লড়াই। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-এর প্রতিবাদে সারা ভারত জুড়ে শুরু হওয়া গণ আন্দোলনকে কটাক্ষ করে যেদিন পোশাক দেখে মানুষ চেনার ফর্মুলা বাতলে দেওয়া হয়েছিল। অত্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক। সেইদিন থেকেই এই আশি বনাম কুড়ির লড়াইয়ে গোটা ভারতবর্ষকে বেঁধে ফেলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ যার সলতে পাকানোর পর্ব ছিল।

তাই বলে পোশাক দেখে মানুষ চেনার বিষয়টি থেকে আশির পক্ষকে মুক্ত করে রাখার কোন পরিকল্পনাই নেওয়া হয়নি। উল্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ এই পক্ষকেও পোশাকের রঙে চেনানোর একটি অন্তঃসলিল প্রক্রিয়া যে শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্যাঙ্গালোরের কলেজটিতে ইউনিফর্মের মতো করে গেরুয়া ওড়না গলায় ঝুলিয়ে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে শিক্ষার্থীদের এক অংশের মিছিল করে কলেজে প্রবেশ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। এই সত্যটুকু অস্বীকার করে চোখ বন্ধ করে বসে থাকার সময় এখন নয়। হয় এই সত্যের পক্ষ নিতে হবে। ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে অস্বীকার করে। আর নয়তো ভারতীয় সংবিধানের সেই মৌলিক কাঠামোকেই সুরক্ষিত করতে এই সত্যের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে। গর্জে উঠতে হবে আশি বনাম কুড়ির ঘোষিত লড়াইয়ের বিরুদ্ধেও।

উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনেই যে এই বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে। তাও নয়। ভারতবর্ষকে একবার যখন আশি বনাম কুড়ির লড়াইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি। তখন সেই লড়াই কিন্তু সহজে থামতে দেওয়া হবে না। কোনভাবেই। সাম্প্রদায়িক ধোঁয়ার আড়ালে যতক্ষণ না অব্দি গোটা দেশের সম্পূর্ণ দখল নেওয়া সম্পন্ন হচ্ছে। ততক্ষণ। এই লড়াইয়ে হাওয়া দেওয়া চলতেই থাকবে। আদালতের রায়ই যে শেষকথা। তেমনটি বিশ্বাস করতে ভালো লাগে। কোন রাষ্ট্রকেই কোন আদালত রক্ষা করতে পারে না। যদি না রাষ্ট্রের নাগরিক সেই রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে। হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। আর সেটিই শেষ প্রশ্ন। আমরা কি ভারতবর্ষের রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে সক্ষম হবো? আমরা কি সত্যিই সেটি চাইবো? চাইছি আজকেও?

৭ই ফেব্রুয়ারী’ ২০২২

দিবানিদ্রার দিনগুলি

কার স্বার্থে এই লকডাউন? আমরা এদিকে নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করে বসে রয়েছি, আমাদের স্বার্থেই তো লকডাউন। আমরা যাতে আরও কয়টি দিন বেশি বেঁচে থাকি। সেটি নিশ্চিত করতেই না এই লকডাউন। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। না, তাই তো আমরা যেমন ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়েও তর্ক করতে রাজি নই। ঠিক তেমনই লকডাউন কাদের স্বার্থ পূরণ করছে। সেই তর্কেও আমাদের কোন উৎসাহ নাই। ফলে আমরা, আমাদেরকে যেমন শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দুইবেলা। টিভি আর নেটপাঠশালায়। আমরা ঠিক তেমনই লকডাউনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। বরং অবিশ্বাসীদের সাথেই আমাদের যাবতীয় তর্ক। লকডাউন ছাড়া এই অতিমারী ঠেকানোর আর কোন উপায় নাই বলে। প্রতিদিন যত বেশি মানুষেরই মৃত্যু হোক না কেন। আমরা বিশ্বাস করি। লকডাউন না করলে আরও আরও বেশি মানুষ মারা যেত। মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে না বাড়তে থাকলেও আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হয়ে ওঠে। লকডাউন করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে বলে। ফলে লকডাউন নিয়ে আমাদের কোন মাথাবাথ্যা নেই। মৃত্য যতই বেশি হোক। কিংবা মৃত্যু যতই কম হোক। লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আমরা দুই ভিন্ন ফলাফলেই শিরোধার্য্য করে নিয়েছি। ফলে আমরা নিশ্চিত, সরকার আমাদের সাথে রয়েছে। বরং যেখানে যেখানে লকডাউন করতে সরকারের দেরি দেখছি। সেখানেই আমারা অবিলম্বে লকডাউন করার দাবিতে সরব হয়ে উঠছি। আমাদের সামাজিক দেওয়াল জুড়ে।

বিস্তারিত পড়ুন

বৈবাহিক ধর্ষণ সমাজ ও আইন

আপনার স্ত্রী কি আপনার সম্পত্তি? আপনিও কি মনে করেন আপনি আপনার আপন স্বামীর সম্পত্তি? ভারতবর্ষের সুপ্রীম কোর্ট অবশ্য গতবছর মার্চ মাসে একটি মামলার রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, স্ত্রী কখনোই স্বামীর অধিকৃত সম্পত্তি নয়। শুধু তাই নয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী’র ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাও বেআইনি কার্যকলাপ। এখন সুপ্রীম কোর্টের এই রায় নতুন কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বামী যদি তার নিজের স্ত্রী’র ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে যৌন মিলনে বাধ্য করে, তবে তো সেটি অবশ্যই ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে। এদিকে ভারতীয় আইনে দাম্পত্য ধর্ষণ আবার দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। গত বছরেই কেরল হাইকোর্টের একটি রায়ে বলা হয় বৈবাহিক ধর্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ না হলেও বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যুক্তিগ্রাহ্য একটি কারণ হতে পারে মাত্র। এখন আপনি কি করবেন? কোন দিকে যাবেন? স্ত্রীকে আপন সম্পত্তি মনে করা কিন্তু দেশের সুপ্রীম কোর্টের বিধান অনুযায়ী বেআইনী। এবং স্ত্রী’র ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন মিলনে বাধ্য করাও বেআইনী। এবং সেটি আইনের ভাষায় বৈবাহিক ধর্ষণ। এখন আপনি যদি পর পর এই বেআইনী কাজগুলি করেনও। তাহলেও কিন্তু ভারতবর্ষের আইনে আপনাকে কোন শাস্তি দেওয়ার বিধান নাই। বিষয়টি বেশ মজার। খুব বেশি হলে আপনার স্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে শারীরীক নির্যাতন, ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করতে পারেন। অর্থাৎ পরকীয়া শুরু করলে নিজের স্ত্রী’র হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে একজন স্বামী বুদ্ধি করে পরপর এই পথে এগোতেই পারেন। স্ত্রী’ই তখন বাপ বাপ করে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উঠে পড়ে লাগতে পারে। ভারতবর্ষের আইন কিন্তু আপনার পাশেই।

বিস্তারিত পড়ুন

কৃষক আন্দোলনের ৩৬৫ দিন

আজ বর্ষশেষ। বছরের শেষতম দিন। না আন্তর্জাতিক ক্যালেণ্ডারের হিসেবে নয়। নয় আমাদের বঙ্গাব্দের হিসেবেও। এই হিসেব কৃষকাব্দের। ভারতীয় কৃষক আন্দোলনের আজ তিনশো পঁয়ষট্টিতম দিবস। একটানা ৩৬৫ দিন ভারতীয় কৃষক দিল্লীর সীমানায় রাজপথে বসে রয়েছে। অবস্থান আন্দোলনে। সৌজন্যে সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষক আন্দোলনের প্রধানতম ট্র্যাজেডি এইখানেই। যে কৃষকরা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বে গণতান্ত্রিক অধিকারে দেশের সরকার নির্বাচিত করেছিল। সেই সরকারের প্রণীত কৃষক স্বার্থ বিরোধী তিন আইন রদের দাবিতেই কৃষকদের এই আন্দোলন। হ্যাঁ এটা ঠিক, সরকার প্রধান মাত্র সাত দিন আগেই কৃষক স্বার্থ বিরোধী সেই আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। সেই ঘোষণাই কিন্তু যথেষ্ঠ নয়। সংসদে পাশ হওয়া আইন যতক্ষণ না অব্দি সেই সংসদেই সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বাতিল হচ্ছে। ততক্ষণ কোন ঘোষণাই যথেষ্ঠ নয়। অবশ্যই কৃষকরাও আশাবাদী সরকার সংসদীয় পদ্ধতিতেই তিন আইন বাতিল করবেন। কিন্তু কৃষকদের দাবি তাদের আন্দোলন শেষ হবে তখনই। যখন সরকার কৃষি পণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের উপরে সঠিক আইন প্রণয়ন করবে। যে আইনের অভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার কৃষককে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রধানত ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক। অর্থাৎ যাদের কৃষি জমির পরিমান যথেষ্ঠই কম। ফসলের ন্যূনতম মূল্য না পেয়ে দেনার দায় মাথায় নিয়ে লোকসানের ভারে নুয়ে পড়ে যাঁরা আত্মহননের পথ নির্বাচনে বাধ্য হন। সারা দেশের সকল কৃষকের জন্যেই উৎপাদিত ফসলের উপরে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্য পাওয়ার অধিকার থাকা জরুরী। সরকার কর্তৃক ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণই যথেষ্ঠ নয়। সেই মূল্যের নীচে ফসল ক্রয় দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই গণ্য হওয়া উচিত। আমাদের মতো শহরের ইট কাঠ পাথরে বাস করা অনেকেরই মনে হতে পারে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নীচে ফসল ক্রয় করা যদি অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। তবে তা বিক্রয় করাই বা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না কেন? আর ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে কৃষককেই বা কে মাথার দিব্বি দিয়েছে লোকসানে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করার? আসলে চব্বিশ ঘন্টা মিডিয় নিয়ন্ত্রীত ভাবধারার চর্চা করতে করতে আমাদের খেয়ালই থাকে না, কৃষকের উৎপাদিত শস্য আসলেই পচনযোগ্য পণ্য। সময় মতো বিক্রী না করতে পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে মাথায় দেনার দায় আর লোকসানের বোঝা নিয়েও কৃষককে বাধ্য হতে হয় উৎপাদন মূল্যের কমে এবং সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের থেকে অনেক কমেই উৎপাদিত শস্য বিক্রী করে দিতে। আর এই কারণেই মাঠে ফসলের দাম আর বাজারে উপভোক্তার কাছে ফসলের দামের ভিতরে আকাশ পাতাল পার্থক্য। যার মুনাফা ঘরে তুলে নেয় ব্যবসাদার গোষ্ঠী। অর্থাৎ সরকার কর্তৃক ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইন না করার পিছনে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গুলির স্বার্থ জড়িত। মনে রাখতে হবে, সরকারে পৌঁছানো এবং পৌঁছানোর জন্য লড়াইতে থাকা রাজনৈতিক দলগুলির দলীয় তহবিল স্ফীত করে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলিই। ফলে সেই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করাই যেকোন শাসকদলের প্রধান লক্ষ্য ও কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক এবং সাধারণ জনতা। যাদেরকে বাজার থেকে খাদ্য ক্রয় করতে হয়। বাজারের দখল কিন্তু এই দুই গোষ্ঠীর কারুরই নয়। সেই মালিকানা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির। যাদের স্বার্থরক্ষায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচিত সরকারই অতন্দ্র চৌকিদারিত্ব চালিয়ে যায়। না, এই চৌকিদারিত্ব ব্যক্তিগত ভাবে কোন বিশেষ ব্যক্তির পেটেন্ট করাও নয়। এই কারণেই বলা হয়। যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।

বিস্তারিত পড়ুন